বিশ্ব সাহিত্যে যে ১০০ টি বই আপনাকে পড়তেই হবে (আট)

৭১। ‘কোমা’ লেখক- রবিন কুক। বোস্টন মেমোরিয়াল হাসপাতালে রহস্যজনক এক ঘটনার তদন্তে নামে মেডিকেল কলেজের ছাত্রি সুজান হুইলার। কিন্তু মাঠে নামতেই অজ্ঞাত একদল লোক তাকে বিরত রাখতে মরিয়া হয়ে ওঠে। হুমকি আর মৃত্যুকে উপেক্ষা করা সুজান যখন সেই চক্রের নাগাল পেয়ে যায়, তখনই ঘটে যায় অভাবনীয় এক ঘটনা।
রবিন কুক তার কোন এক ইন্টারভিউতে বলেছিলেন, “আমি এমন লেখক নই যে ডাক্তার, বরঞ্চ আমি এমন ডাক্তার যে লেখালেখিও করে।” আসলেই তাই। এমন সব ব্যাখ্যা আর এমন সব কথোপকথন লেখক এখানে এনেছেন যা পুরাপুরি বুঝতে হলে হাসপাতালের সাথে আপনার কিছু না কিছু সম্পর্ক থাকতেই হবে।

৭২। ‘বয়েজ ফ্রম ব্রাজিল’ লেখক– ইরা লেভিন। লেখক জীবনে ইরা লেভিন লিখেছেন অসংখ্য সিনেমার স্ক্রিপ্ট, নাটক,গান, আর উপন্যাস, যার মধ্যে বেশিরভাগই পেয়েছে পাঠক এবং দর্শকপ্রিয়তা। নাজি হন্টার ইয়াকভ লিভারম্যান হঠাৎ মাঝরাতে একটা ফোন কল পায়। ব্রাজিল থেকে এক যুবক তাকে ফোনে জানায়, এইমাত্র সে প্রাক্তন নাজিদের এক গোপন মিটিঙে আড়ি পেতে জানতে পেরেছে “এনজেল অফ ডেথ নামে” দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়কার কুখ্যাত এক প্রাক্তন নাজি নেতা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চুরানব্বইটি হত্যাকান্ড ঘটানোর প্ল্যান করেছে। লিবারম্যান প্রথমে অবিশ্বাস করলেও তার সাথে কথা বলার মাঝখানে যুবক খুন হয়ে গেলে তদন্তে নামে সে। তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে এমন এক লোহমর্ষক সত্যা যা বদলে দিবে ইতিহাসের গতি ধারাকে, পৃথিবীর বুকে আবারো ফিরিয়ে আনবে নারকীয় হিটলার যুগ। লিবারম্যান তার সমস্ত শক্তি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে একসময় আক্ষরিক অর্থেই মুখোমুখি হয় স্বয়ং হিটলারের।

৭৩। ‘দ্য শার্লোকিয়ান’ লেখক- গ্রাহাম মুর। শার্লোক হোমসকে খুন করা হলো, আর কাজটি করলেন তার স্রষ্টা আর্থার কোনান ডয়েল! তারপর নিজেই অবতীর্ণ হলেন একটা হত্যারহস্যের কুলকিণারা করতে। ওদিকে হ্যারল্ড হোয়াইট অভিজাত শার্লোক হোমস সোসাইটি বেকার স্টৃট ইরেগুর্লাসে অভিষিক্ত হতেই খুন হলো এক ডয়েল-বিশেষজ্ঞ। হোমস ভক্তদের কাছে হলিগ্রেইল হিসেবে পরিচিত ডয়েলের হারানো ডায়রির মিশনে জড়িয়ে পড়লো হ্যারল্ডসহ আরো কয়েকজন শার্লোকিয়ান। অসংখ্য বই পড়ার জ্ঞান আর নিজের অভিনব একটি দক্ষতা কাজে লাগিয়ে হ্যারল্ড ডায়রি আর খুনির সন্ধানে নামলো।

৭৪। ‘দান্তে ক্লাব’ লেখক- ম্যাথিউ পার্ল। ঘটনা শুরু হয় শান্তশিষ্ট বোস্টন শহর থেকে। সেখানে বছরে ২-১ খুন সাধারন ঘটনা। কোন কোন সময় সারাবছরই রক্তপাতহীনভাবে কেটে যায়।খুন হলে নিতান্তই নিম্নশ্রেণীর মানুষদের হয়। সুতরাং সেগুলো ধাতে না ধরলেও হয়। কিন্তু বলা নেই কওয়া নেই খুন হয়ে গেল ম্যাসাচুসেটস্‌ আদালতের সর্বোচ্চ পদস্থ ব্যক্তি!খুন হওয়ার ৪দিন পর উদ্ধার হয় তার পোকায় খাওয়া বীভৎস লাশ। নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হল শান্ত শহরটি। গৃহযুদ্ধের বিভীষিকায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর পর শোক শেষ হতে না হতেই বোস্টন শহরে এ কি ধরনের ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড শুরু হল? হত্যাগুলো যেমন অভিনব তেমনি বীভৎস।আর লক্ষ্যবস্তুগুলো সব শহরের গন্যমান্য ব্যক্তিরা। ক্রমশ স্পষ্ট হতে থাকে সবগুলো হত্যাকাণ্ডই মহাকবি দান্তের ইনফার্নো’র অনুপ্রেরণায় করা হয়েছে। মারাত্মক এক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায় দান্তের সাহিত্যকর্ম। অদৃশ্য সেই সিরিয়াল খুনিটা কে আর কেনই বা সে এসব করছে সেই রহস্যের সমাধান করতে এগিয়ে এলেন হারভার্ড কেন্দ্রিক দান্তে ক্লাবের কয়েকজন পণ্ডিত ব্যক্তি এবং বিখ্যাত কবি লংফেলো ।এই রহস্যের জট খুলতে নেমে তারা নেমে পড়েন এক অভিযানে।

৭৫। ‘আততায়ী’ লেখক- কেন ফলেট। তার নাম ফেলিক্স। রাশিয়া থেকে লন্ডনে এসেছে একজন রুশ কূটনীতিককে খুন করতে, সে খুন দুনিয়ার ইতিহাস বদলে দেবে। কারিগরি ফলাতে ওস্তাদ, আস্তিনে হরেক অস্ত্র, কিন্তু তার বিরুদ্ধে সার বেঁধে দাঁড়িয়ে পড়েছে পুরো ইংলিশ পুলিশ, মেধাবী ও প্রতাপশালী একজন লর্ড এবং তরুণ উইনস্টন চার্চিল নিজে।

৭৬। ;ম্যাক্সিমাম রাইড’ লেখক- জেম প্যাটারসন। অদ্ভুত কিছু চরিত্র। মানুষ আর পাখির সংমিশ্রণের এইসব চরিত্র বিপদে পড়ে যায় একদল পাগলাটে বিজ্ঞানীর কারণে। দলের কনিষ্ঠ সদস্য অ্যাঞ্জেলকে অপহরণ করে তারা। স্কুল নামের জেলখানায় নিয়ে যায় তাকে। দলনেতা ম্যাক্সিমাম নামে তার দলবল নিয়ে। মুখোমুখি হয় আরেকটি ভয়ংকর মানুষরুপি নেকড়ে দলের। শুরু হয় দু দলের লড়াই। বিশেষ করে ফ্যান্টাসী কাহিনী যারা পছন্দ করেন তাদের জন্য বেস্টসেলার লেখক জেমস প্যাটারসনের এই বইটি ভাল লাগবে।

৭৭। ‘কট’ লেখক– হারলান কোবেন। নিজের বাড়ি থেকে হঠাৎ উধাও হয়ে গেলো কিশোরী হেইলি ম্যাকওয়েইড। যৌন অপরাধের বিষাক্ত চক্রান্তে ফেঁসে গেলো ড্যান মার্সার। প্রতিশোধের জন্যে ঠাণ্ডা মাথায় খুনের পরিকল্পনা করলো এড গ্রেসন। আর এ সবকিছুর সাথে জড়িয়ে পড়লো সাংবাদিক ওয়েন্ডি টাইনস। ওর তদন্তে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে শুরু করলো হিংসা, বিদ্বেষ আর খুনের এক ভয়ংকর ষড়যন্ত্র।

৭৮। ‘দ্য হবিট’ লেখক- জে আর আর টোলকিন। দ্য হবিট প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৩৭ সালের সেপ্টেম্বরে। দ্য লর্ড অফ দ্য রিংস’-এর গল্পের সঙ্গে রয়েছে এর যোগসূত্র। উপন্যাসটি ঘরকুনে হবিট বিলবো ব্যাগিনসের রোমাঞ্চকর অভিযান নিয়ে। হলিউডের রূপালি পর্দাতেও সফল টোলকিনের উপন্যাস দুটি।

৭৯। ‘দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই’ লেখক- জে ডি সালিংগার। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫১ সালে। ‘দ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই’ শুরুতে ছিল কেবলই প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। অনেকের মতেই বিতর্কিত এক উপন্যাস এটি। বিশ্বের প্রায় সবগুলো প্রচলিত ভাষাতেই মুদ্রিত হয়েছে উপন্যাস, প্রতি বছর বিক্রি হয় প্রায় আড়াই লাখেরও বেশি কপি।

৮০। ‘দ্য ন্যারো রোড টু দ্য ডিপ নর্থ’ লেখক- রিচার্ড ফ্লানাগান। উপন্যাসে আখ্যান নির্মিত হয়েছে মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম, আর প্রেক্ষাপটে এসেছে ভালোবাসা ও মৃত্যুর যুদ্ধ আর সত্যের নানা ও বিচিত্র রকমফের যা ঔপন্যাসিকের মুন্সিয়ানা ও এক অভাবিতময় জীবনবেদ ও জীবনদর্শন প্রকাশ করে। লেখকের প্রথম উপন্যাস ‘আ টেরিবল বিউটি’ (A TERRIBLE BEAUTY), ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

46 − 36 =