মেঘবৃতা

হে মেঘবৃতা,আর কতকাল তোমার দৃষ্টিবানে ভিজবো। বৃষ্টিযুগ শুরু হয়ে গেলে আমি লতা গুল্মের মত লালিত হতে থাকি তোমার প্রাসাদের চত্বরে কতকটা স্নেহে কতকটা অবহেলায় । তাকিয়ে তুমি খুশি হও অথচ কাছে ডাকার নাম গন্ধ নেই । আমার লেখা তোমার খারাপ লাগেনা এমন ভাব দেখালেও ওটা যে লোক দেখানো তা আমি জানি । বরং লেখা পড়ে তোমার বুক কেঁপে যায় সর্বনাশের আশায় কিন্ত মানতে তুমি রাজি নও । কি সব লোক দেখানো, সমাজ দেখানো তাচ্ছিল্যে আমায় তুমি দূর আকাশের দেশে কিম্বা দূর নক্ষত্রের কাছে মানে ঐ সব নীহারিকাদের ভিড়ে পাঠিয়ে দাও যেন আমি এই ঘোর বর্ষায় ভিজে একসার হই । যেন বর্ষাতি ছাড়া ছপ ছপ পানির মধ্যে পথহারা বালকের মত ঘুরতে থাকি ।

‘তুমি কোন বাড়ীর ছেলে গো ?’ এমন মাতৃ-মাসী সহানুভূতিতে কি মন ভরে ? আর এ সময় কেউ যদি অমন করে একলা দুপুরে আমায় ডেকে নিয়ে হাত পা ছড়িয়ে বাদামের খোসা ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে তার সুখ দুঃখের ঝাপি খুলে দেয় , যদি বুকের কপাট খুলে জানিয়ে দেয় তার একান্ত ব্যথা ! তোমার ভাল কি লাগবে তাহলে ? আর এতে যদি তোমার মনে মেঘ করে তবে তুমি এসে কেন আমায় এ বৃষ্টির মহাকাল থেকে উদ্ধার করে নাও না ??

তোমার অক্রোধ মুখে কেন এই উদ্গত শঙ্কা ? হায় ! মন জগতের রহস্যময়তা ! মানুষকে কেন তুমি দ্বিধার এমন তন্ত জালে জড়ালে !

হায় মেঘবৃতা ! কতকাল আর আমায় ভেজাবে তোমার দ্বিধার ঘূর্ণিজলে ?

তুমি মেঘের ওপারে দূরদেশের কেউ ? মেঘের ভেলায় ভাসতে ভাসতে কি ভুলে যাও একজন মানুষ তোমার সাথে ছায়ার মত মাখামাখি হয়ে থাকে অহোরাত্র । তুমি তো ভাসতে ভাসতে ঠিকই জায়গা করে নিয়েছ হাইরাইজের মার্বেল মেঝের ড্রয়িং রুম কিম্বা বেডরুমের ফ্লাটবাড়িতে । আর ভুলে যাও যে কেউ একজন মেঘের কার্নিশে ঝুলে আছে তোমার জন্য । ইতস্তত মেঘগুলি ক্ষনিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা এনে শহরের উপর ভেসে বেড়ায় আর আমি তোমায় দেখব বলে তোমার মেঘের পাড়ায় ইতস্তত ঘুরে বেড়াই ।

কি সব জড়ানো প্যাঁচানো তন্তময় জীবন আমাদের ! জালের টানে টানে চারিদিকে জেরবার অবস্থা । এই বৃষ্টিময় সন্ধ্যায় কেমন জড়িয়ে পেঁচিয়ে জটিল হয়ে যাচ্ছে আমাদের ইচ্ছেগুলো ।ইচ্ছেগুলোর কোন সরল রৈখিক উপস্থাপন আর হয়ে ওঠেনা ।

ছেড়া মেঘের দল, রুগ্ন মেঘের দল মেঘের ওপারে বসত বাড়ি বানায় । মেঘের শিয়রে বেড়ে ওঠে মেঘ কন্যারা । মেঘের ঘরবাড়ির মধ্যে আমিও ভাসতে থাকি মেঘদুতের মত ।

এক মেঘময় জীবন নিয়ে সতত বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ি তোমার প্রাসাদের আঙিনায় কি এক বিভোর স্বপ্নে ।

তুমি কি তা জানো হে , বৃষ্টিকন্যা ??

এই অঘ্রানের রাতে যখন শিশিরের শব্দে ঘুম ভাঙ্গে

ঘুম ভাঙ্গে বৃষ্টির ঘ্রানে, বৃষ্টির মৃদু ছাটে

আর ভিজে যায় আমার বালিশ তোশকের কোমল পেলবতা, ভিজে যায় চোখের পল্লব, নরম ঠোঁঠ ।

চোখের পাদানিতে বৃষ্টির ছাটে জল জমে আর আমি বর্ষাতি বিহীন বর্ষায় হাঁটু জলে আমি ছপ ছপ করে হাঁটি ।হাঁটতে হাঁটতে তোমার আয়ত দুচোখে আটকে যাই ।আটকে যাই এক বৃষ্টি দিনে ।

সারাদিন এই বৃষ্টির অবিরাম বৃষ্টি বিহারে আমার ও খুব ইচ্ছা করে তোমার কাছে বসে কোন এক বৃষ্টির গান শুনি অথবা বৃষ্টির গল্প নিদেনপক্ষে বৃষ্টির কবিতা ।

কিন্ত আমার কথা কি তোমার অমনভাবে মনে হয় ?

হে রহস্যময়তা, হে বৃষ্টিকন্যা

এসো, আদুল বৃষ্টির মধ্যে পথ চলতে চলতে ভালবাসার গল্প বলি

অথবা দুজনে মেঘের মত ভাসতে ভাসতে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ার স্বপ্ন দেখি ।।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

54 − 53 =