তাসকিনের দুরন্ত প্রত্যাবর্তন

ক্রিকেট যে অনশ্চিয়তার খেলা মিরপুরে আবারও সত্যি হলো সেটা। ৪৫ ওভার পর্যন্ত আধিপত্য ধরে রেখেও শেষ পর্যন্ত পারলো না লড়াকু আফগানরা। ম্যাচের শেষ দিকে অনেক নাটক আর উত্তেজনার জন্ম হলো। যে নাটকে শেষ পর্যন্ত জয়ী বাংলাদেশই। ৭ রানে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচটি জিতে ১-০তে সিরিজে এগিয়ে গেল টাইগাররা। সাকিবের দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর শেষমুহূর্তে যে তাসকিন গতির ঝড় তুললেন, তাতেই আফগানরা কুপোকাত হয়ে গেল। নিষাধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার ম্যাচটির শুরুটা খুব একটা সুখকর না হলেও শেষ দিকটা রাঙিয়ে হাসিমুখেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলেন বাংলাদেশ পেসার তাসকিন আহমেদ। দিবা রাত্রির ম্যাচে ২৬৬ রানের টার্গেট ছোট নয়। কিন্তু লড়াকু আফগানদের কাছে সেটা খুব বড় বলে মনে হয়নি ম্যাচের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে। যদিও শুরুটা খুব ভালো ছিল না তাদের। ২৪ বল খেলে ৯ রান করে সাকিবের বলে ফিরতে হয় ওপেনার নুরিকে। শাহজাদ ফিরেন ৩১ রানে, মাশরাফির বলে। ৪৬ রানে ২ উইকেট। এরপর বাংলাদেশকে হতাশায় ডোবান রহমত শাহ ও হাশতমউল্লাহ। ৪৬ থেকে এ জুটি রান নিয়ে যান ১৯০ এ। রহমত শাহ ৭১ ও হাসমতউল্লাহ ৭২ করে ফিরে যাবার পরও ম্যাচ আফগানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ৫ উইকেটে ২৩০। ২৭ বলে আফগানদের দরকার ৩৬ রান। মানে ম্যাচ পুরোপুরি আফগানদের অনুকূলে। কিন্তু ক্রিকেট যে অনিশ্চয়তার খেলা। সেটা আবারও সত্যি হলো। নিজের প্রথম ৬ ওভারে প্রচুর রান খরচ করেও কোনো উইকেট না পাওয়া তাসকিন জ্বলে উঠলেন নিজের সপ্তম ওভারে, দুই উইকেট নিয়ে। ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের জন্য শেষ চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ানো মোহাম্মদ নবী ও আসগরকে। তাসকিনের এ জোড়া অঘাতেই ম্যাচ চলে আসে বাংলাদেশের অনুকূলে। শেষ ১২ বলে আফগাননদের দরকার ছিল ২১ রান, হাতে ৩ উইকেট। রশীদ খানকে ৭ রানে ফিরিয়ে ম্যাচের মোড় আরেকটু ঘুরিয়ে দেন রুবেল। শেষ ওভারে আফগানদের দরকার পড়ে ১৩ রান। নিজে না করে মাশরাফি বল তুলে দেন তাসকিনের হাতে। এ ওভারেও জ্বলে ওঠানে তাসকিন। এ ওভারেও ২ উইকেট! রান দেন মাত্র ৫। যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জয়নায়ক হয়ে দুরন্ত প্রত্যাবর্তনই করেন তাসকিন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

86 − = 77