কল্পনার প্রেম

সেদিন প্রথমবারের মতো দেখেছিলাম তোমায়।
কলেজের সবুজ বেষ্টনীতে বসেছিলে।

নীল পরীরা যেভাবে ডানা জাপটে বসে থাকে।
আমি দূর থেকে অপলক নেত্রে তাকিয়ে ছিলাম।
বসন্তের বাতাসে মৃদু হাসি হাসছিল তোমার চোখগুলো।
আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম।
হয়তো এটাই প্রথম ভালোবাসার ক্ষীন আভা ছিলো।
দিনের পর দিন কেটে গেল।
কেটে গেল কয়েকমাস….
তোমার সাথে আমি কথা বলার সাহস পাইনি।
একদিন আমার বন্ধু আকাশ এসে একটা মেয়ের ছবি দেখালো,
জিজ্ঞেস করলো মেয়েটাকে চিনিস? যে ছবিটা ছিল তোমারই !
তার প্রশ্নের উত্তরে আমি বললাম চিনি না।
তার মুখ ফসকে তোমার নামটা বের হয়ে এলো।
সেবার-ই প্রথম তোমার নাম জানলাম আমি।
কিছুদিন পর তোমার সাথে খুব ভাল বন্ধুত্ব হলো।
কিন্তু এই বন্ধুত্বের বন্ধনের চেয়ে আরেকটু কাছের করে পেতে চাইতাম তোমাকে।
তুমি সবই বুঝতে…
বাধা দিতে আমায়।
একদিন বিকেলে হাঁটতে বের হয়েছিলাম তোমার সাথে।
তোমাকে প্রতিনিয়ত খুব রাগানোর চেষ্টা করতাম আমি। কিন্তু তুমি কখনই রাগতে না।
দীর্ঘদিন মনে জমিয়ে রাখা ভালোবাসার প্রকাশ ঘটালাম। অর্থাৎ প্রপোজ করলাম তোমায়।
তুমি বলেছিলে আমার বিয়ের উপযুক্ত সময় হওয়ার আগেই তোমার বিয়ে হয়ে যাবে।
আমি বলেছিলাম তিনটি বছর অন্তত অপেক্ষা করো।
তুমি বললে তা কখনও হয় কী?
এভাবেই প্রতিটা বিকেল কাটতো ভবিষ্যতের কাল্পনিক আঁকিবুকি নিয়ে।
একদিন হঠাৎ তুমি আমার সাথে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে।
তার ঠিক চারদিন পর তুমি আমাকে বললে, তোমাকে ভুলে যেতে।
কিন্তু তা আমার পক্ষে সম্ভব ছিলো না।
এর কয়েকদিন পর জানলাম তোমার বিয়ে হয়ে গেছে।
সবকিছু খুব কম সময়ের মধ্যেই যেনো শেষ হয়ে গেলো…
তোমার মুখের শেষ বাক্য টা ছিলো ভালো থেকো।
আমিও বারবার বলে যাচ্ছিলাম তুমিও ভালো থেকো।
তুমি ভালো থাকলেই আমি ভালো থাকবো।
আমার সুখ, স্মৃতি, ভলোবাসা সবকিছু ভালো থাকবে।
তুমি তখনও বোঝনি কতটা ভালোবাসতাম তোমাকে। সত্যিই বোঝনি।
আমার হৃদয়ের রক্তে ভেজা চিঠিটা তোমার পায়ে ফেলে চলে গেলাম দূরে… বহুদুরে।
ভালো থেকো তুমি………

-(সম্পুর্ণ কাল্পনিক) –
#অচিনপুরের_আইয়ুব

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

87 − = 85