প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম!

আজ দেশ ও জাতির জন্য এক উজ্জ্বল দিন, বিশেষ দিন, অসাধারণ দিন। কেন উজ্জ্বল, কেন অসাধারণ আমি জানি না। কিন্তু ঢাকায় আজকে যা হইতেছে, সব দেইখা তাই উপলব্ধি হইতেছে। আমার ধারনা তার এই সফরে নিশ্চয়ই এমন কিছু কাজ আদায় কইরা আসছেন, এমন অবিস্মরণীয় ব্যাপার ঘটায়া ফিরছেন যার কারণে দেশের জিডিপি এই বছর ৫% বাইড়া যাবে। আগামী বছরের বাজেট হবে ৫ লাখ কোটি টাকা!

আজকে ঢাকার মোড়ে মোড়ে জ্যাম, আজকে ঢাকার মোড়ে মোড়ে প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন। আজকে বিজয়স্বরণী থাইকা শুরু কইরা উত্তরা পর্যন্ত অনড় জ্যাম। মানুষ আটকা, ঠায় দাড়াইয়া তাদের প্রাণপ্রিয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য। আজকে জনতা উনারে অনুমতি থাকলে কোলে তুইলা নাচবে। উনি নাকি পুরস্কার পাইছেন, অনেককিছু কইরা আসছেন। আমি জানি না উনি কি কি সম্মাননা বা পুরস্কার পাইছেন। আপনারা জানেন তো?

ফিরা যাই বহু বছর আগে। ৭৪-৭৫ এ। তখনও এইদেশের এক মহান সন্তান জীবিত ছিলেন। যার হাজার দুর্বলতা থাকলেও কেউ তারে অন্তত খারাপ লোক বলবে না এখনো। কারণ, উনি মানুষের জন্য বুকে মায়া ধারণ করতেন। উনার প্রধান গুন ছিলো, উনি সাধারণ মানুষের কথা শুনতেন। উনার কথাও মানুষ মন দিয়া শুনতো। কিন্তু হঠাত কইরা কি জানি হইছিলো উনার। উনার চারপাশে অনেক মানুষ থাকতো। কেবল সাধারণ মানুষের সামনে দাঁড়ানো বন্ধ কইরা দিলেন প্রায়, সাধারন মানুষ, যাদের কারণে উনি হইতে পারছিলেন প্রায় মহামানব, তারা আর উনার নাগাল পাইতো না। জনগনের কেউ কেউ তখনো উনার সাক্ষাত পাইতে চাইতেন। উনার কথা শুনতে চাইতেন। কিন্তু অনেক্ক অনেক ভীড় ছিল উনার চারপাশে। আর থাকারই তো কথা। তখন উনি অনেক উচ্চপদে। আর উচ্চপদে গেলে আশেপাশে থাকে উচ্চপদের মানুষ, উচ্চস্তরের নেতা কর্মীরা। সাধারণ মানুষদের সাধারণ কথাবার্তা শোনা তখন অর্থহীন হয়।

আজকেও এয়ারপোর্টের পথে লম্বা লাইন, কতশত মানুষ এয়ারপোর্টে আজ ছুইটা যাইতে চায়। তারা নগরীর মোড়ে মোড়ে লাগায় জ্যাম, মাঝরাস্তায় গ্যাঞ্জাম লাগায়… কিন্তু মাননীয়া শেখ হাসিনা, আপনি জাইনা রাখেন, এদের কেউ আপনার জন্য না। এরা কেউ আপনার বিপদে দাঁড়াবে না। ইতিহাস সাক্ষী, এই দেশের আরেক মহামানবের দুঃসময়েও কেউ পাশে দাঁড়ায় নাই। কারণ, যারা সত্যি দাড়াইতো, তাদের সাথেই তৈরী হইছিলো উনার দুরত্ব। মানুষ এমন এক প্রজাতি, যারা নিজেরাই মহামানব তৈরী করে, আবার টাইনা নিচে নামায়…

স্বাধীনতার পর দেশের প্রাপ্তি অনেক। অপ্রাপ্তির লিস্টও কম না। গত দশ বছরে বা গত দুই সপ্তাহে আপনি নিজে কি কি করছেন নিজেরে প্রশ্ন করেন। নিজে কি এতেই সন্তুষ্ট? দেশ আসলে আরো অনেক আগাইতে পারতো, যা আগাইছে তাও দুনিয়া আগাইছে বইলাই। ডিজিটাল বাংলাদেশ বলেন আপনি, আবার ডিজিটাল সেন্সরশীপ চলে। সেই কথা থাক। ইন্টারনেটের ব্যবহারই দেখেন। ইন্টারনেট ব্যবহারের ইনডেক্সে বাংলাদেশ একদম তলানীতে। পাকিস্তানের মত দেশ ফোর-জি নেটওয়ার্কে চইলা গেছে। আমরা আসবো কবে? যারা এয়ারপোর্টে আজ ছুইটা যাইতে চায়, তারা কেউ জানে না আপনি কি করছেন। ওরা জানেন আপনারে মাথায় তুলতে হবে। এই মাথায় তোলা সংস্কৃতি বাদ দ্যান।

আপনি বহু বছর হইলো সাধারণ মানুষের কাতারে নাই। যাদের সাথে আপনি কথা বলেন, তারা কেউ সাধারণ মানুষের কাতারে না। আপনার চারদিকেও আজ অসাধারণ সব চরিত্র, যারা নিজেদের সাধারণ অনুভূতি, বোধ অনেকদিন আগেই হারাইছে। তাদের কেউ আপনাকে এইটা বলে না আপনার এমপি-ই দেশের প্রধান ইয়াবা ব্যবসায়ী, দেশের পুলিশই দেশের সবচেয়ে দুধর্ষ ঘুষখোরদের ধারণ করে। সামান্য পুলিশ ভেরিফিকেশনে টাকা, জিডি এন্ট্রিতে টাকা, দিবসে দিবসে চাদা, সকল টেন্ডার কিভাবে জানি আপনার দলের নেতাকর্মীরাই পায়। আপনার দলে এত ব্যবসায়ী, টেন্ডারবাজ লোকজনের সমাগমের কারণ কি?

আমি এতকিছু জানি না। আমি কেবল জানি আপনি আপনাকেও সম্ভবত আর সাধারণ মানুষ মনে করতেছেন না। কিন্তু আপনি সাধারণ মানুষের কাতারে নাইমা আসলে ভালোলাগতো। যেই বৃদ্ধা এখন মৃত্যুশয্যায় তার কথা শোনেন আপনি? যেই শিশুটা ফার্মগেট ওভারব্রিজের উপরে আজকে শুইয়া থাকে, তার অনুভূতি আপনার কাছে পৌঁছাবে না। আপনি আপনার আশেপাশের কিছু মানুষের কথাই শুনবেন হয়তো, আর তাদের হট্টগোল দেখে আনন্দ উপভোগ করবেন, যারা আজকে সবাই এয়ারপোর্টের পথে। যাদের সবাই আজ উইড়া যাইতে চায় এয়ারপোর্টে…

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + = 12