দ্রুত গতিতে চলছে বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর কাজ

পদ্মা সেতুর সব কার্যক্রম এখন দৃশ্যমান। চলছে পুরোদমে কাজ আর পদ্মা সেতুর ভিত ক্রমশ প্রসারিত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই পদ্মার বুকে ৩৭ পিলার স্থাপন হয়ে গেছে। এই পিলার স্থাপনের গতি বাড়াতে জার্মানি থেকে আনা ২০ কিলোজুল ক্ষমতার হ্যামার এখন মাওয়ার পথে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী বিশাল হ্যামারের চালানটি লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে। ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এটি মাওয়ায় পৌঁছার কথা রয়েছে। আরও নতুন খবর হচ্ছে- চীন থেকে ১ হাজার টন ক্ষমতার ফ্লোটিং ক্রেন মাওয়া আসছে ৮ অক্টোবর। এসব ভারি যন্ত্রপাতি আসার পর পদ্মা সেতুর কাজে গতি আরও বেড়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এদিকে মাওয়ার কুমারভোগের ওয়ার্কশপে আরেক বিস্ময়! এখানে ইতোমধ্যেই সেতুর এক স্প্যান সমপরিমাণ ১৫০ মিটার দীর্ঘ সুপারস্ট্রাকচার জোড়া লাগানো প্রায় সম্পন্ন। স্টিলের বিশাল এই সুপারস্ট্রাকচার ফিটিং নিয়ে চীনের বিশেষজ্ঞ দল কাজ করে যাচ্ছে। সদ্য চীন থেকে আসা দু’টি স্প্যান পরিমাণ এই সুপারস্ট্রাকচার ফিটিংয়ের কাজ এখানে চলছে। সুপারস্ট্রাকচার স্থাপনে কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ডিসেম্বরেই পদ্মা সেতু দৃশ্যমান হবে। প্রথমে জাজিরা প্রান্তে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর এই সুপারস্ট্রাকচার স্থাপন হবে। সে লক্ষ্যেই শুধু এই দু’পিলারই নয় আশপাশের পিলারগুলোতেও পাইল স্থাপনের কাজ চলছে হরদম। পদ্মায় এই পাইল স্থাপন ছাড়াও জারিরা প্রান্তে সেতু সংযোগ কাজসহ অন্যান্য ধাপেও নির্মাণযজ্ঞ এগিয়ে চলেছে। বর্ষার পানি কমতে থাকায় নদী শাসনসহ নানা কাজে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। স্রোতের তীব্রতা হ্রাস পাওয়ায় এখন মাওয়া প্রান্তে নতুন নতুন কাজ শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে পদ্মা সেতু পুনর্বাসন প্রকল্পের চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পাঁচটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী জানুয়ারি থেকেই বিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস শুরু এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসা দান শুরু হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের কুমারভোগ, কুমারভোগ-শিমুলিয়া, মেদিনীম-ল, যশলদিয়া, শরীয়তপুরের পশ্চিম নাওডোবা ও পূর্ব নাওডোবা এবং বাঘরকান্দি পুনর্বাসন কেন্দ্রে। কেন্দ্রগুলোর বরাদ্দকৃত প্লটে বসবাস শুরু হয়েছে। তাই পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে এখন প্রাণের স্পন্দন। এই সাত পুনর্বাসন কেন্দ্রে তিন ধরনের প্লট রয়েছে। আড়াই শতাংশ, পাঁচ শতাংশ এবং সাড়ে সাত শতাংশ জমি নিয়ে তৈরি করা হয়েছে সুপরিকল্পিত এই প্লট। এই পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে রয়েছে নানা ধরনের সুবিধা। তাই এখানে বসবাসরতরা বেজায় খুশি। এদিকে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের কারণে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার গাছ কাটতে হয়েছে। সেতু কর্তৃপক্ষও পরিবেশ অধিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী ৬ লক্ষাধিক গাছ রোপণ অনুমোদিত হয়। সামাজিক বন বিভাগ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ গর্ত, জৈব সার, পলি মাটি ও অন্যান্য প্রযোজ্য নিয়মাবলি মেনে ইতোমধ্যেই প্রায় ৩ লাখ গাছ রোপণ করা হয়েছে। এভাবেই এগিয়ে চলছে বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর কাজ। এমনিই হবে আমাদের পদ্মা সেতু।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 6 = 3