গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে কৃষি ভিত্তিক শিল্প প্রসারে

কৃষি ভিত্তিক শিল্প প্রসারে নেওয়া হচ্ছে নানামুখী পদক্ষেপ। যেহেতু বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। দেশে শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটলেও এখনও কৃষিই গ্রামীণ মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস বা পেশা। তাই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রসারের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই লক্ষ্যে দেশেরবিভিন্ন স্থানে কৃষিভিত্তিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে।সেগুলোতে কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণে হিমাগার তৈরিসহ অন্যান্য কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে হবে।টেকসই শিল্পখাত বিকাশে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দিতে সরকার জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬ ঘোষণা করেছেন। এ নীতি শিল্পখাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ভূমিকা রাখবে। এ নীতি ঘোষণা করা হলেও শিল্পায়নের স্বার্থে এতে নতুন কিছু সংযোজনের প্রয়োজন হলে সরকার এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেবে। শিল্পখাতে গতি আনতে নতুন শিল্পনীতির আলোকে সম্ভাবনাময় শিল্পগুলোতে ক্লাস্টারের আওতায় নিয়ে আসার পাশাপাশি প্রযুক্তি স্থানান্তরের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ওষুধ, চামড়া, প্রকৌশল, ইলেক্ট্রনিক, প্লাস্টিক, কেমিক্যালসহ উদীয়মান শিল্প খাতগুলোর উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিল্পনীতি-২০১৬ নীতিতে উচ্চ-অগ্রাধিকার ও অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করায় দেশের শিল্পায়নে গতি আসবে। শিল্পনীতির যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য একে একটি আইনী কাঠামোতে রূপ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জ্ঞানভিত্তিক শিল্পের প্রসারে শিল্পনীতির আলোকে একটি গবেষণা ও উন্নয়ন সেল গঠনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। নতুন শিল্পনীতিতে সুনির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন না হলে জাতীয় অর্থনীতিতে এর সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। জাতীয় শিল্পনীতি-২০১৬-এর আলোকে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদন, শ্রমিক নিরাপত্তা জোরদারে শতভাগ শিল্প কারখানাকে বীমার আওতাভুক্তকরণ এবং এসএমই উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে স্বল্পমূল্যে জমি, জ্বালানি ও ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে করা হয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে স্থাপিত এসব এআইসিসির মাধ্যমে কৃষকরা নিজেরাই নিজেদের মাঝে তথ্যসেবা গ্রহণ ও বিতরণের কাজটি করছেন। এসব কেন্দ্রে প্রশিক্ষণসহ যাবতীয় আইসিটি উপকরণ (কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, মডেম, ক্যামেরা ইত্যাদি) সরবরাহ করা হয়েছে। কৃষি তথ্য সার্ভিস থেকে কৃষি পরামর্শ গ্রহীতাদের অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে প্রান্তিক জনগণের মাঝে তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধি হয়েছে। বর্তমানে দেশব্যাপী ৪৯৯টি কেন্দ্র তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে প্রতিটি এআইসিসি থেকে দৈনিক ২২-২৫ জন মানুষ তথ্যসেবা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন। কৃষিকে আর কৃষকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কোন অবকাশ নেই। আজ কৃষি একটা শিল্প আর এ শিল্পে অংশগ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে দেশের প্রতিটি মানুষের। তাই আসুন আমরা প্রত্যেকে কৃষিতে কিছু না কিছু অবদান রাখি। বাড়ির ছাদ, ঘরের বারান্দা, সামনের উঠোন অথবা কোন ফসলি জমি যেখানেই সম্ভব গড়ে তুলি ছোট্ট একটি কৃষি খামার আর অবদান রাখি সামান্যতম হলেও দেশের খাদ্য ঘাটতি মোচনে। আর এভাবে আমরা সবাই এগিয়ে আসলে দেশের উন্নয়ন সময়ের ব্যপার মাত্র। এ লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব সামনের দিকে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 30 = 37