দন্ড

.html” target=”_blank” rel=”noopener”> photo wwwwwwwwwwwwwR_zps40aafd1f.jpg

হোহ্ হোহ্ শব্দ তুলে হেঁসে উঠলো একুশোর্ধ্ব যুবকটা, পরপরই তরুণীটির বুক থেকে ওড়নাটা ছিনিয়ে নিয়ে বললো, ‘ না, আমার কোনো বোন নেই।’
তরুণীটি ভয়ে আর্ত হয়ে গেলো আরো- ‘আপনার কি মা’ও নেই?’
একুশোর্ধ্ব যুবকটা কিছুই বললো না আর- শুধু পায়ে পায়ে সে এগুতে থাকলো তরুণীটির দিকে, মুখে তার ক্রুর হাসি।
শ্লথ পায়ে পিছু সরছিলো তরুণীটি- হঠাৎ নিশ্চল হয়ে গেলো সে, পেছনের কঠিন দেয়ালটা পিঠের সঙ্গে ঠেকে গেছে কার ভীষণ। সঙ্গে সঙ্গে অসম্ভব ভয়ার্ত আর প্রার্থী চোখে তাকালো সে যুবকটার চোখে, এবং পরপরই ধাম্ করে কেঁপে উঠলো সে অস্বাভাবিক- আপাতত যুবকটার সম্পূর্ণ দৃষ্টি এখন তার ওড়নাবিহীন বুকটার উপর। শীতার্ত অশীতিপর বৃদ্ধার মতো ঠক্ ঠক্ করে কাঁপতে থাকলো সে তখন থেকেই।
যুবকটা আস্তে করে হাত বাঁধালো তরুণীটির বুকে।
প্রচণ্ড এক চিৎকার দিতে চাইলো তরুণীটি, কিন্তু হলো না- স্রেফ ঘড় ঘড় টাইপ একটা আওয়াজ ছাড়া আর কিচ্ছু বেরুলো না গলা থেকে তার।
সঙ্গে সঙ্গে ঝট করে একটা টান দিলো যুবকটা- বুকের ঠিক মধ্যখান দিয়ে অনেকটা নিচ পর্যন্ত ফেড়ে গেলো তরুণীটির শরীরাচ্ছাদিত বস্ত্র। এবং পরক্ষণেই যুবকটা চিৎ করে শুইয়ে ফেললো তাকে মেঝেতেই…।
একদম চুপ করে গেলো তরুণীটি- নেই, আপাতত এমনি করে আত্মসম্মানটাকে বিলিয়ে দেয়া ছাড়া আর কিছুই করবার নেই তার, কিচ্ছু করার নেই।

কাজটা শেষ করেই বেশ আয়েশী ভাব নিয়ে উঠে দাঁড়ালো যুবকটা। বস্ত্র পরিধান করতে করতে হঠাৎ তার মনে হলো, এতোদিন পত্র-পত্রিকায় দেখে আসা ধর্ষণ-ঘটনাগুলো বোধহয় এভাবেই ঘটে। বিশেষ করে তার মতো প্রেম প্রত্যাখ্যান সমস্যার দারুণ সমাধান এটা- এতে যেমন উচিৎ শোধ তোলা সম্ভব, অসাধারণ ফুর্তিও এতে। বিবস্ত্র তরুণীটি মেঝেতে পড়ে কোঁকাচ্ছে তখনও- মেঝে ভিঁজে যাচ্ছে রক্তে…।
কিন্তু দৈবাৎই, যুবকটা যেনো অন্য রকম একটা কণ্ঠস্বর শুনতে পেলো- কেমন চেনা, কেমন নিত্য চেনা! পরপরই থমকে ফিরে তাকালো যুবকটা তরুণীটির দিকে এবং সঙ্গে সঙ্গেই থ’ হয়ে গেলো সে- সদ্য ধর্ষিতা হওয়া অষ্টাদশী সুশ্রী তরুণীটির মুখে চল্লিশোর্ধ্ব বয়সী চামড়ায় মোড়া একুশোর্ধ্ব যুবকটার মায়ের মুখ, অবিকল যুবকটার মায়ের চেহারা!
সঙ্গে সঙ্গে ঝোড়ো বেগে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়লো যুবকটা তার নিজ বাড়ির উদ্দেশে।

যুবকটা খুঁজে পেলো না তার মাকে- বাবার সাথে বিয়ে হবার পর থেকে অসম্ভব গৃহাবদ্ধ হয়ে অসাধারণ পর্দাবলম্বী গৃহিণী রূপে যে মানবীটির নিত্য বসবাস এই বাড়িতে, এই সংসারে- সেই মানবীটিকে!

তারপর, ক্রমে ক্রমে পেরুতে থাকলো দিন।
সপ্তাহ, পক্ষ, …।


পরিচিত রাস্তাঘাটগুলোতে এখন নিয়মিতই দেখা যায় পরিচিত তাকে।
অবোধ বালকদের সামনে পড়লে তারা খল খল আওয়াজ তুলে হাসে আর বারংবার দৃষ্টি নিয়ে যায় তার দিকে ফিরিয়ে, উঠতি বয়সের তরুণীদের চোখে পড়লে তারা মুখ ঢাকে লজ্জায়, প্রবীণ- প্রবীণারা দেখলে গালি ছোড়ে তারা মুখ ভরে…।

বদ্ধ পাগল হয়ে যাওয়া একুশোর্ধ্ব যুবকটা সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে পথে পথে ঘোরে ফেরে এখন নিত্য একাকী!

ছবি: ইন্টারনেট থেকে
উল্লেখ্য: গল্পটি অন্য কিছু ব্লগ সাইটে র্পর্বপ্রকাশিত

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “দন্ড

  1. কিছু কিছু শব্দচয়নের কারনে
    কিছু কিছু শব্দচয়নের কারনে পড়তে একটু ছন্দপতন হলেও আপনার লেখার স্টাইলটা ভালো। নিয়মিত আশা করছি আপনার লেখা। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. “কিছু কিছু শব্দচয়নের কারনে
      “কিছু কিছু শব্দচয়নের কারনে পড়তে একটু ছন্দপতন হলেও আপনার লেখার স্টাইলটা ভালো”

      কোন্ কোন্ শব্দের কারণে পড়তে আপনার ছন্দপতন হয়েছে জানতে পারলে উপকৃত হতাম।
      ধন্যবাদ

  2. গল্প কি চলবে আরো, নাকি এখানেই
    গল্প কি চলবে আরো, নাকি এখানেই ইতি?
    চালিয়ে যান :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 50 = 58