তোমার খোলা হাওয়া

এখানে কি হচ্ছিলো ব্যাপারটা বুঝে নিয়ে শফিক কাছে এগিয়ে আসা ওদের বলল- তোমরা জানো উনি কে? উনার সুপারিশে আমি এই ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার এর চাকরি পাইছি।

সুপারভাইজার বিগলিত ভঙ্গিমায় বলতে লাগলো- সরি স্যার, বুঝেনইতো। চাকরি করি। চারদিকে জঙ্গি আক্রমন। কখন কি হয়। সাবধান থাকি। ভুল হইছে স্যার, মানুষ চিনি নাই।

যখন তখন বৃষ্টি নামে এ শহরে। ইলশেগুঁড়ি মুষলধারা এসব তো আছেই, সাথে থাকে তীব্র হাওয়ার সাথে তির্যক হয়ে আসা বৃষ্টির ছাঁট , স্থানীয়রা বলে বাছার । স্থানীয়রা এই বর্ষার সাথে এতটাই অভ্যস্থ যে তারা বলে “বাইরা মেঘ করের” অথবা “অখন যে পানি অর,কমি যাক ইখটু বাদে বাইর অইতাম”। কিন্তু আমার তাগিদ ছিল ঘরে ফেরার। হালকা চৈনিক ছাতা মেলে ধরে থই থই বৃষ্টিতেই রাস্তায় বেরোলাম। চৌহাট্টা পয়েন্টে আসার আগেই বাছারের ঝাঁপটায় ছাতাখানা ছত্রখান হয়ে গেলো। দৌড়ে গিয়ে মানরু শপিং সিটির বিস্তৃত লবিতে দাঁড়ালাম। নানান ব্রান্ডের শোরুম গুলো সাড়ে আটটা নাগাদ বন্ধ করা হয়, এখন রাত্রি এগারোটা। শুনশান লবিতে নাইট শিফটের সিকিউরিটি গার্ড আর তাদের সুপারভাইজার গোছের একজন বসে গল্প করছে। অর্ধভেজা আমাকে দেখেই তারা দুজনে একত্রে চিৎকার করে উঠলো- এইখানে দাঁড়ানো যাবেনা, নাইমা যান । আমি বললাম- সিঁড়ির ওপর দাঁড়ায়? তাতেও তাদের আপত্তি। শেষমেশ একটু উষ্মা নিয়া কইলাম-ঠিকাছে তাইলে আমারে ঘাড়ে ধাক্কা দিয়া নামায়ে দেন, আমি দেখতে চাই আপনারা কি কি পারেন। ক্ষিপ্ত গার্ড হনহনিয়ে তার জন্য নির্ধারিত খুপরি ঘরের দিকে গেল,অনুমান করি ডাণ্ডা আনতে গেলো।

এরই মাঝে দেখি নিচতলার এন আর বি ব্যাংকের বন্ধ গেট খুলে শফিক এগিয়ে আসছে আমার দিকে। শফিকের এখনো ব্যাংকে থাকার কারন জানলাম-জুন ক্লোজিং, তাই আজকে এত লেট। এখানে কি হচ্ছিলো ব্যাপারটা বুঝে নিয়ে শফিক কাছে এগিয়ে আসা ওদের বলল- তোমরা জানো উনি কে? উনার সুপারিশে আমি এই ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার এর চাকরি পাইছি।

সুপারভাইজার বিগলিত ভঙ্গিমায় বলতে লাগলো- সরি স্যার, বুঝেনইতো। চাকরি করি। চারদিকে জঙ্গি আক্রমন। কখন কি হয়। সাবধান থাকি। ভুল হইছে স্যার, মানুষ চিনি নাই।
হালারপুত তোমাগো সরির গুষ্টি কিলাই। সিকিউরিটির গুষ্টি কিলাই। মানুষ চিনতে যখন তোমাগো ভুল হয় জঙ্গি চিনবা কেমনে?- বলেই দ্রুত রাস্তায় নেমে আসলাম।

প্রতিবছরের মত এবারও জুনের শেষ দিনের ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। হেঁটে যেতে যেতে সম্পূর্ণ সিক্ত হলাম। আমার পোশাক ভেদ করে বর্ষিত বারিধারা অন্তর্বাসের অন্দরে চলে যাচ্ছে। কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল বসন্তের সোনালী রোদ ঝরা বিকেলে খোলা হাওয়ায় পাইচারি করছি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 7 =