মুসলমান মনস্তত্ত্ব – প্রথম খণ্ড

মুসলমান পুরুষেরা বোরকা ও হিজাব নিয়ে বড্ড সচেতন। পৃথিবীকে বোরকা দিয়ে ঢেকে দিতে পারলে মুসলমান পুরুষদের মত সুখী আর কেউ হতে পারবে না। মুসলমান পুরুষেরা নিজেদের ব্যবহার আচার আচরণ স্বভাব চরিত্র পোশাক নিয়ে ততোটা সচেতন নন, যতোটা মুসলমান নারীদের জোরপূর্বক বোরকা পরিধান করার ক্ষেত্রে।

মুসলমান পুরুষের এ-ক্ষেত্রে কুযুক্তি উপস্থাপন করে যে, ধর্ষণের হার কমবে। অর্থাৎ মুসলমান পুরুষেরা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি চরিত্র সম্বন্ধে অবগত যে তাদের হৃদয়ে ধর্ষক ঘর পেতে বসে থাকে। কিন্তু ঘটনা হল, এই বোরকা হিজাব কই থেকে এলো? অবশ্যই মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ থেকে। সেই গ্রন্থে কি বলা আছে, বোরকা নিয়ে পুরুষদের এত চিন্তিত হতে হবে? না, বলা নেই। তাহলে মুসলমান পুরুষেরা বোরকা নিয়ে এত উত্তেজিত কেনো? নিশ্চয়ই, তারা নিজেদের অর্থাৎ মুসলমান পুরুষের অন্তরের চিন্তাজগত সম্বন্ধে অবগত।

মুসলমান পুরুষেরা ধর্ষণের পরিসংখ্যান নিয়ে সব সময়ই দুশ্চিন্তায় থাকে। তারা নিজেদের অপরাধ অন্যায় ঢাকবার জন্য আমেরিকা, জার্মানির নাম উল্লেখ করে। জ্ঞানের ক্ষেত্রে মুসলমানেরা ভয়াবহ রকমের অশিক্ষিত, কুশিক্ষিত। সংকীর্ণ চিন্তাধারা, ক্ষুদ্র হৃদয়ই মুসলমানদের আসল পরিচয়।

মুসলমানেরা ভুলে যায়; সম্ভবত ইচ্ছাকৃত ভুলতে হয়, কিংবা মূর্খতায় অভাবনীয় সাফল্য থাকবার কারণে তারা আমেরিকা ও জার্মানির উদাহরণ টানেন। মুসলমানেরা জানে, বাঙলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বে ধর্ষণে নারীর দোষ তুলে ধরা হয় এবং পোশাককে মুখ্য করে ধর্ষককে রাজার আসনে বসানো হয়। তেমনই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে ধর্ষণ কিংবা এসিড নিক্ষেপ কিংবা যৌন হয়রানীর কারণ দর্শানোর ক্ষেত্রে পুরুষেরা নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে। চরিত্র সে-এক বায়বীয় পদার্থ; ভবিষ্যতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা যাবে। অর্থাৎ শত শত বছর ধরে পুরুষেরা ধর্ষণকে এমনভাবে উপস্থাপন ও বাস্তবায়ন করে রেখেছে যে সমাজের দৃষ্টিতে লজ্জা, অপবাদ, ঘৃণিত ইত্যাদি অসঙ্গতিপূর্ণ শব্দের সমষ্টি।

বাঙলাদেশ যেহেতু তথাকথিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সেহেতু জনগনের নিরাপত্তা, ব্যক্তি স্বাধীনতা, সুবিচার নিশ্চিতকরণ অদৃশ্য শক্তির প্রার্থনা করার মতই কাল্পনিক বিষয়। অতএব, এতোসব জটিলতা, ঝামেলা, সমস্যা পেরিয়ে পুলিশের কাছে গিয়ে ধর্ষণের রিপোর্ট লেখানো দুরূহ ব্যাপার। সেই সাথে উল্লেখ করা জরুরি যে, দেশীয় পুলিশ প্রশাসনও যেহেতু নিরপেক্ষ নয় এবং বিভিন্ন অপরাধের সাথে যুক্ত সেহেতু দরিদ্র, উন্নয়নশীল দেশে কোঠকাচারি থেকে ভিক্টিম দূরে থেকে থাকে।

অপরদিকে মুসলমানদের অপ্রিয় দুটি রাষ্ট্র আমেরিকা ও জার্মানি। অথচ মুসলমানদের প্রিয় দুটি রাষ্ট্র সৌদি আরব ও পাকিস্তান হওয়া সত্ত্বেও তারা সেখানে থাকার স্বপ্ন দেখে না। কারণ তারা জানে, সভ্য দেশে অসভ্য মানুষ কিছুদিন থাকলেও সভ্য হওয়ার সম্ভবনা থেকে থাকে।

জার্মানিতে যতো ধর্ষণের ঘটনা ঘটে থাকে তা পুলিশের কাছে লিপিবদ্ধ থাকে। এখানে পুলিশ মানুষের বন্ধু। বাঙলাদেশের মত আক্ষরিক অর্থে নয়। মানুষ বিপদে পড়লে পুলিশের কাছে যাবে, পুলিশ সমস্যার সমাধান করবে, অন্যায়ের সুবিচার পাওয়ার জন্য যা কিছু করার প্রয়োজন পুলিশ করবে।

জার্মানি নারীতান্ত্রিক দেশ নয়; কিন্তু এখানে নারীদের পর্যাপ্ত পরিমাণে সম্মান ও মতের শ্রদ্ধা, পোশাকের স্বাধীনতা আছে। ধর্ষণ শুধু মুসলমানেরা করে তা নয়। ধর্ষণ যে কোন ধর্ম বর্ণ গোত্রের যে কেউ করতে পারে। কিন্তু পার্থক্য হচ্ছে; এখানে কোন নারীর উপর আক্রমণ, অত্যাচার, ধর্ষণ হলে কেউ বলে না বোরকা না পরার কারণেই ধর্ষণ, মেয়েমানুষের আবার চাকুরী কী, পোশাক অশ্লীল ছিল, খোলামেলা পোশাকই সমস্যা, স্তন-নিতম্ব খুলে রেখেছিল ইত্যাদি! অর্থাৎ এতে বোঝা যায় জার্মানরা সভ্য বলেই অপরাধ ও অপরাধীকে চিহ্নিত করতে পারে; যা মুসলমান বিশ্বের মানুষেরা পারে না।

এখানে কোন নারী ধর্ষণের শিকার হলে, সে পুলিশের কাছে গিয়ে বিচার চায়। মুসলমান দেশগুলিতে পুলিশের কাছে যাওয়াও একটা ভয়াবহ দুঃসাহসিক পদক্ষেপ। গত বছর জার্মানিতে ৫৩৭ টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যেখানে বাঙলাদেশে দু’মাসেই ৫৩৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে থাকে এবং হাজারটি অপ্রকাশিত থেকেই যায়। জার্মান পুলিশের তথ্যমতে, ইতিমধ্যে ৫৩৭টি ধর্ষণের ৪০১ টি সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। বাঙলাদেশে কতোটি? এর উত্তর আপনাদের কাছেই আছে।

(চলবে)

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “মুসলমান মনস্তত্ত্ব – প্রথম খণ্ড

  1. এখানে ধর্মগত ব্যাপারের চেয়ে
    এখানে ধর্মগত ব্যাপারের চেয়ে বেশি ব্যাপার হচ্ছে আরব জাতির জিনেটিকাল ফ্যাক্টর। জিনগত কারনে যৌনতা ও হিংসার হারের যে পার্থক্য হয় জাতি থেকে জাতিতে, সেটার ডেটা দেখলে বুঝবেন ব্যাপারটা। ধর্মের প্রাধান্যটা বেশি হচ্ছে দুনিয়াকে হিজাবে আটকানোর ব্যাপারে কেবল। তাও এজন্য যে মুসলমানদেরকে জন্মের পর থেকে যেভাবে ভয় দেখানো হয়। আগে তাদেরকে বুঝাতে হবে যে তাদের ভয়টা অমূলক, বিছানার তলে থাকা anti-monitor এর ভয় এর মতো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

41 − 38 =