মেঘ জেনেছে এ রাষ্ট্রে খুনির বিচার হয় না

আমি মেঘের কথা বলছি। ওই যে আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি, যাদের কে বাসায় ঢুকে হত্যা করা হয়েছিল। হ্যা সেই সাগর-রুনির একমাত্র সন্তান মেঘ। কি দোষ ছিল বাচ্চাটার? সেতো কখনও কারও কোন ক্ষতি করেনি। তাহলে ওকে কেন নিজের চোখে দেখতে হলো বাবা- মায়ের হত্যাদৃশ্য। ভাবুন একটা ঘরে আপনার চোখের সামনে কাউকে খুন করা হলো আর সারারাত আপনাকে বসে থাকতে হলো সেই লাশের সাথে। কেমন লাগবে আপনার? আমি নিশ্চিত আপনি কোনদিন সেই দগ্ধ স্মৃতি ভুলতে পারবেন না। আপনাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াবে ঘুমে, জাগরণে। মেঘও কিন্তু ভুলতে পারেনি! ভাবুন একটা বাচ্চা কি ভয়াবহ স্মৃতি নিয়ে বেড়ে উঠছে। এ দায় অবশ্যই রাষ্ট্রকে নিতে হবে। এ দায় নিতে হবে আমাকে এবং আপনাকেও।

মেঘ জেনেছে সে এমন একটা দেশে জন্ম নিয়েছে সে দেশে খুব সহজেই খুন করে ফেলা যায় একটা মানুষকে। মেঘ জেনেছে এ রাষ্ট্রে খুনির বিচার হয় না

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি তো শিশু বান্ধব। বিভিন্ন ছবিতে শিশুদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর মুহূর্ত দেখে শিশুদের প্রতি আপনার ভালোবাসার প্রমান মেলে। মনে আছে একটা অনুষ্ঠান কভার করতে গিয়েছিলাম আপনার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিটিউটে। সেখানে আপনি বলেছিলেন আপনার নাতীকে নিজ হাতে রান্না করে খাওয়ানোর কথা, এবং নাতীর সাথে আপনার অন্তরঙ্গতার কথা। মেঘও তো আপনার নাতীর বয়সীই হবে বোধহয়। আমি জানি মেঘ যে সারারাত তার বাবা- মায়ের লাশ সামনে নিয়ে বসেছিলো এটা আপনার মমতাময়ী হৃদয়কে অবশ্যই নারা দিয়ে যায়। কারণ আপনি শেখ হাসিনা, আপনি মা। তাহলে কেন আপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটা নির্দিষ্ট সময় বেধে দিচ্ছেন না সাগর রুনির হত্যাকারীদের সনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার? আপনার এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাগর- রুনির হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা হবে। গ্রেফতার তো দূরে থাক কাউকে সনাক্তই করতে পারেনি প্রশাসন। তাহলে আত্মবিশ্বাস তিনি কোথায় পেয়েছিলেন, কেনই বা সে আত্মবিশ্বাস কর্পূরের মত উবে গেল? আমি মেঘের হয়ে আপনার কাছে আন্তরিক আবেদন জানাচ্ছি, বিচারহীনতা যে বাংলাদেশের সংস্কৃতি এই ধারণা নিয়ে শিশুদের বেড়ে উঠতে দেবেন না।

সাগর সরোয়ার ছিলেন মাছরাঙা টিভির বার্তা সম্পাদক আর রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার সাংবাদিক। কত নতুন পুরাতন হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রতিদিন পত্রিকায় নিয়মিত লেখা আসে, অথচ সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড পত্রিকার পাতা থেকে উধাও হয়ে গেছে মৃত্যুর দু-চার দিন পরেই। হয়তো একদিন কেউ মনেই রাখবেনা সাগর-রুনি নামে কেউ ছিলো! কোন পত্রিকা অফিসে নতুন চাকরি নেওয়া ছেলেটা জানবেই না সাগর- রুনি নামে পৃথিবীতে কেউ ছিলো, তারা সাংবাদিকতা করতো,তারা নিজেদের মুল্যবান জীবন উৎসর্গ করেছিল এই সাংবাদিকতার জন্যই।

পত্রিকা সম্পাদকদের উচিৎ ছিলো সাগর- রুনিকে নিয়ে প্রতিদিন লেখা কারণ সাগর রুনি সাংবাদিকতার জন্য জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছে।খুন হওয়ার পর থেকে যতদিন বিচার না হয় ততদিন পর্যন্ত সরব থাকা উচিৎ ছিলো সমস্ত মিডিয়াকে।এটা সাগর- রুনির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে না সমস্ত সাংবাদিকদের কথা ভেবে হলেও করা উচিৎ ছিলো। আজ তারা মরলেন বিচার হলোনা খুনিরা আরেকটু সাহসী হয়ে উঠল। কাল আপনি মরবেন বিচার হবেনা খুনিরা আরেকটু সাহসী হয়ে উঠবে, পরশু আরেকটু। এভাবে ক্রমে ক্রমে খুনিরা এতটাই সাহসী হয়ে উঠবে যে সাংবাদিকদের নিজস্বতা বলে কিছু থাকবেনা। জিম্মি হয়ে যাবে খুনিদের হাতে, পত্রিকায় কি লেখা হবে না হবে তা নির্ধারণ করে দেবে এই ঘাতকেরাই। তাই আমার আকুল আবেদন সাংবাদিকতা পেশাটা বাঁচানোর জন্য হলেও একটা আন্দোলন গড়ে তুলুন। সমস্ত পত্রিকার সামান্য একটু জায়গা উৎসর্গ করুণ নির্মম মৃত্যুর শিকার ওই সাংবাদিক দম্পতির জন্য। যতদিন বিচার না হয় ততদিন লিখে শুধু একটা লাইন লিখুন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচার চাই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 2 =