ভাবুন, ভাবুন, ভাবাটা প্র্যাকটিস করুন

যখন কেউ বিশেষ করে আমাদের মত অনলাইন একটিভিস্টরা সরকারের তথা আওয়ামীলীগের সমালোচনা করে তখন একদল এই বলে তেড়ে আসেন; তাহলে আওয়ামীলীগের বিকল্প দেখান। তাঁরা মনে করেন দেশে আওয়ামীলীগের বিকল্প নাই। হ্যাঁ, তাদের কথা সত্য যে এই মুহুর্তে আওয়ামীলীগের বিকল্প নাই। আওয়ামীলীগের বিকল্প হিসেবে জামাত বিএনপি কিংবা স্বৈরাচার এরশাদ গঙদের ভাবা যায় না। তাই বলে কি দিনের পর দিন আওয়ামীলীগ যা ইচ্ছে তাই করে যাবে, আর আমরা মুখ বুঝে সব সয়ে যাব?

একদল বলতে চান, আওয়ামীলীগের সমালোচনা না করে তাদের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরতে। হ্যাঁ, উন্নয়ন যে একেবারে হচ্ছে না তা নয়। কিন্তু হাজার হাজার উন্নয়নের বিপরীতে সরকার স্বেচ্ছাচার কি মেনে নিতে হবে চোখ বুঝে? আর উন্নয়নের জন্যই তো সরকার। উন্নয়নের জন্য কি বিরুধী দল কাজ করবে? এরপর, উন্নয়নের নামে কী পরিমাণ লোটপাট হচ্ছে তা পরিসংখ্যান দিয়ে বুঝানোর প্রয়োজনে আছে কি?

হ্যাঁ, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বিশেষ করে ৭৫ পরবর্তী সময়ের সরকারগুলো দেশের স্বার্থ রক্ষার চেয়ে তাদের এবং তাদের দোসরদের আখের গোছানোয় ব্যস্ত থেকেছে। দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিনষ্ট করেছে। কিন্তু বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার দ্বিতীয়বারের বারের মত ক্ষমতায় থেকে কতটুকু দেশের উন্নয়ন ও স্বার্থ রক্ষা করে চলেছে সেটাও চিন্তার বিষয় নয় কী?

২০০১ পরবর্তী সময়ে জামাত বিএনপি জোটের ক্ষমতার সময়ে আমরা প্রত্যক্ষ করেছিলাম সংখ্যালঘু নির্যাতনের ভয়ংকর চিত্রগুলোকে। কিন্তু, সেই চিত্র কি আজও আমাদের নিত্য জীবনের অবিচ্ছেদ্য হয়ে আছে না! জামাত বিএনপি জোটের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে তাদের হাত ধরে দেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটেছে। উদীচীর সমাবেশে, সিনেমা হল সহ সারাদেশের ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলার ঘটনায় জামাত বিএনপি জোটের ব্যর্থতা অনস্বীকার্য। তখনকার সময়ে বাঙলা ভাইয়ের অস্বীত্বকে অস্বীকার করার যে রাজনৈতিক প্রবণতা ক্ষমতাসীনদের ছিল তাও নিন্দনীয়। কিন্তু, সেই বাঙলা ভাইদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় কিন্তু আওয়ামিলীগ কিংবা ফখরুদ্দীনের সরকার আনেনি। জামাত বিএনপি ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থাতেই বাঙলা ভাই গ্যাঙদের গ্রেফতার করা হয়েছিল, বিচার সম্পন্ন করা হয়েছিল, আর ফখরুদ্দিন এসে তা কার্যকর করেছিল। এদিকে অভিজিৎ রায় হত্যাকান্ডের দুই বছর হতে চলল, কিন্তু এখন পর্যন্ত মামলার চার্জশীটই তৈরি হয়নি। বিচার যে কবে হবে, তা কল্পনার অতীত হয়ে গেছে। এই হত্যাকান্ড নিয়ে তখনকার নেতা-মন্ত্রী এমনকি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে “বাঙলা ভাই মিডিয়ার সৃষ্টি” বক্তব্যের পার্থক্য কতটুকুন?

সবচেয়ে লজ্জাজনক ব্যপার হলো, যে দলটির নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই দলটির শাসনামলেই দেশে একের পর এক অসাম্প্রদায়িক মুক্তমনা ও মুক্তচিন্তার লেখক প্রকাশকদের খুন হতে হয়েছে। অথচ, এই দলটির হাত ধরেই ৭২-এ দেশের জন্য একটি অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান রচিত হয়েছিল। শুধু কী তাই! এই দলটিই ছিল একমাত্র দল যারা তাদের নিজেদেরকে অসাম্প্রদায়িক হিসেবে দাবী করত। সেই অসাম্প্রদায়িক দলটি আজ ঘোষনা দিয়ে মদীনা সনদ বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই মদীনা সনদ যে কত ভয়ংকর তা হলি আর্টিজানে হামলা এবং ইদানিংকালের চাপাতির ব্যবহারের মধ্য দিয়েই প্রমানিত হচ্ছে।

বাদ দিন মুক্তমনা ব্লগার হত্যার বিষয়গুলো। সাগর রুনি থেকে শুরু করে খাদিজার উপরে হামলার দায় কী ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামীলীগের উপর বর্তায় না? সরকার ঘরে ঘরে দেশের প্রতিটি জায়গায় নিরাপত্তা দিতে পারবে না। খুব ভাল কথা, তাই বলে বিচারগুলো কী এগিয়ে নেবার দায়িত্ব কি সরকারের না! হ্যাঁ, বিশ্বজিৎ হত্যার বিচারের রায় হয়েছে, কিন্তু কার্যকর হচ্ছে কই? উপরন্তু আসামীরা নির্দ্বিধায় আজকাল আওয়ামীলীগের সভা সমাবেশে যোগদান করছে বলে খবর পাওয়া যায়। এগুলো কী আসলেই গুড গভর্নেন্স বা ভাল সরকারের গুনাগুন?

যারা এ ধরনের অবস্থাকে বিকল্প নেই বলে জায়েজ করার চেষ্টায় লিপ্ত, তাদের কাছে দুটি প্রশ্ন রেখে গেলাম; ১। বিকল্প নেই কেন? ২। আওয়ামীলীগের মত একটি দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় বিকল্পই বা খুজতে হবে কেন?

ভাবুন, ভাবুন, ভাবাটা প্র্যাকটিস করুন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

42 + = 45