ভূমি কমিশন(সংশোধিত)- পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি সংগঠনের নামে সাম্প্রদায়িক উস্কানি

গত ০৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন(সংশোধিত) বিলটি ২০১৬ পাশ হয়। অপরদিকে একই দিন খাগড়াছড়ি আলুটিলা বিশেষ পর্যটন জোন প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা। আর এই দুই ইস্যুতে পাহাড়ে প্রতিবাদের নামে পার্বত্য পরিস্থিতি উত্তাল করতে সংগঠনের আগে বাঙালি নাম ব্যবহার করে মিছিল করছে সমতল হতে পুনর্বাসিত সেটেলাররা।

এখন কথা হচ্ছে এই বাঙালি গণপরিষদ, বাঙালি ছাত্র পরিষদ এরা কারা ? এবং এই বাঙালী নাম ব্যবহৃত সংগঠনের ব্যানারে পার্বত্য এলাকার সকল বাঙালিদের সামগ্রিক অংশগ্রহণ আছে কিনা ?

আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে, গত ১০ জানুয়ারি রাঙ্গামাটিতে মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম স্থগিতের দাবিতে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ডাকা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের কর্মসূচীতে এই বাঙালি সংগঠনগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রাঙ্গামাটির কোর্ট বিল্ডিং, বনরুপা বাজার, দোয়েল চত্বরসহ পুরো রাঙ্গামাটিতে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া রক্তপাতের মত ঘটনা ঘটে। সেসময় এই বাঙালি সংগঠনের ব্যানারের কর্মীরা অধিক সংখ্যক চাকমা বসতি এলাকা আসামবস্তিতে হামলার উদ্দেশ্যে প্রবেশ করতে গেলে স্থানীয় বাঙালিদের প্রতিরোধের মুখে ফিরে যায়। তারও কিছুদিন পর রাঙ্গামাটি কলেজে সামান্য তর্কাতর্কীকে ইস্যু করে এই বাঙালি সংগঠনের ব্যানারের কর্মীরা কলেজ গেইটে কয়েকটি চাকমা দোকানকে ভাংচুরের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উস্কানি ছড়ায়। কিন্তু সেদিনও সেখানকার স্থানীয় বাঙালি দোকানদারদের প্রতিরোধে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তাহলে আপনারা একটু বিবেচনা করুন, এই যে বাঙালি নাম ব্যবহারকারী সংগঠনগুলোকে স্থানীয় বাঙালিরা কেন বারবার প্রতিরোধ করছে ? যেহেতু পার্বত্য প্রত্যেক সহিংস ঘটনার কারন ভূমি বিরোধ, ধর্ষণ এবং পাহাড়ি ও বাঙালি কেন্দ্রিক তাহলে স্থানীয় বাঙালিরা কেন সেই বাঙালি সংগঠনগুলোর কার্যক্রম প্রতিরোধ করে তাদের বিরোধিতা করছে। যেখানে জাতিয়ত্ব সহিংসতা বা সংঘাত হচ্ছে সেখানে তো স্থানীয় বাঙালিদের সেইসব বাঙালি নাম ব্যবহৃত সংগঠনগুলোর পক্ষে অবস্থান করার কথা, কিন্তু তা না করে সেই স্থানীয় বাঙালিরা কেন পাহাড়িদের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে ? এর কারন স্থানীয় বাঙালিরা খুব ভালো করে জানেন এই বাঙালি নাম ব্যবহৃত সংগঠনগুলো আসলে কোন বাঙালি জাতিয়ত্ব সংগঠন না, এরা হচ্ছে সামরিক শাসক এরশাদ ও জিয়ার সরকারের সমতল হতে পাহাড়ে উৎক্ষেপিত বহিরাগত বাঙালি। পারভাঙ্গাবাসির নাম দিয়ে যাদের রেশন সুবিধা, জায়গা-জমি, বাসস্থানের লোভ দেখিয়ে সমতল হতে পাহাড়ে পুনর্বাসন করা হয়েছিল। যাদের কে অভিধানিক শব্দে সেটেলার বলা হয়। এখন এই সেটেলার অধিক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকারি অধিক সুযোগ-সুবিধা নিতে ও প্রশাসনিক সুবিধা নিয়ে এজেন্ডারি বাস্তবায়নে এই সংগঠনগুলো গড়ে তোলা হয়েছে। সংগঠনের আগে বাঙালি নাম ব্যবহার করা হয়েছে শুধুমাত্র জাতিগত সহানুভূতি ও সুবিধা নেয়ার জন্যই। সমতল হতে পাহাড়ে পুনর্বাসিত এই সেটেলাররা যে খাস জায়গা দখলের নামে শুধুমাত্র পাহাড়িদের জায়গা জমি দখল করছে তা কিন্তু না, এখানে বসবাসকারী পাহাড়ি ছাড়াও স্থানীয় বাঙালিদের ভূমি দখল করে বসতি স্থাপন করছে। যার প্রেক্ষিতে স্থানীয় বাঙালিরাও এদের বিরোধী অবস্থান নেয়।

এবার মূল বিষয়ে আসি, “পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন (সংশোধনী) ২০১৬” পাশ করা নিয়ে পাহাড়ে এই বাঙালি সংগঠনগুলো কেন এত উদ্বিগ্ন এবং কেন বিরোধিতা করছে ? পার্বত্য শান্তিচুক্তির কয়েকটি ধারাবলী ও সংশোধিত আইনের কয়েকটি বিষয় তাহলে দেখা যাক-

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটির সাথে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ১৯৯৭ সালে সম্পাদিত চুক্তিতে র্পাবত্য চট্টগ্রামে বিরাজমান ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করার লক্ষে র্পাবত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশন গঠন, কার্যাবলী ইত্যাদি বিষয়ে উক্ত চুক্তির ‘ঘ’ খন্ডের ৪, ৫ ও ৬ ধারায় উল্লেখ আছে।

চুক্তির ‘ঘ’ খন্ডের ৪ ধারায় ভূমি কমিশনের কার্যাবলী, ক্ষমতা এখতিয়ার ইত্যাদি বিষয়ে উল্লেখ আছে:

“৪। জায়গা-জমি বিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তি কল্পে একজন অবসর প্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি কমিশন (ল্যান্ডকমিশন) গঠিত হইবে। পূনর্বাসিত শরনার্থীদের জমিজমা বিষয়ক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা ছাড়াও এই যাবৎ যেইসব জায়গা-জমি ও পাহাড় অবৈধভাবে বন্দোবস্ত ও বেদখল হইয়াছে সেই সমস্ত জমি ও পাহাড়ের মালিকানা স্বত্ব বাতিলকরণের পূর্ণ ক্ষমতা এই কমিশনের থাকিবে। এই কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে কোন আপিল চলিবেনা এবং এই কমিশনের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত বলিয়া বিবেচিত হইবে। ফ্রীঞ্জল্যান্ড (জলেভাসাজমি) এর ক্ষেত্রে ইহা প্রযোজ্য হইবে।”

চুক্তির ‘ঘ’ খন্ডের ৫ ধারায় কাদের নিয়ে কমিশন গঠিত হবে সে বিষয়ে উল্লেখ আছে:

“৫। এই কমিশন নিম্নোক্ত সদস্যদেরলইয়াগঠনকরাহইবেঃ
(ক) অবসরপ্রাপ্তবিচারপতি ;
(খ) সার্কেলচীফ (সংশ্লিষ্ট);
(গ) আঞ্চলিকপরিষদের চেয়ারম্যান/প্রতিনিধি ;
(ঘ) বিভাগীয়কমিশনার/অতিরিক্ত কমিশনার ;
(ঙ) জেলাপরিষদের চেয়ারম্যান (সংশ্লিষ্ট)।”

চুক্তির ‘ঘ’ খন্ডের ৬ ধারায় ভূমি কমিশনের মেয়াদ ও ইহা কোন আইনের ভিত্তিতে ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি করবেন সে বিষয়ে উল্লেখ আছে:
“৬। (ক) কমিশনের মেয়াদ তিন বৎসর হইবে। তবে আঞ্চলিক পরিষদের সাথে পরামর্শে মেয়াদ বৃদ্ধি করা যাইবে।
(খ) কমিশনপার্বত চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি অনুযায়ী বিরোধ নিষ্পত্তি করিবেন।”

উক্ত র্পাবত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিধান আলোকে‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি নিষ্পত্তি কমিশন আইন, ২০০১’ পাশ করা হয়। কিন্তু আইনগত বাধ্যবাদকতা থাকা সত্বেও আইনটি পাশ করার পূর্বে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সাথে কোন আলোচনা করেনি। ফলে আইনটির অনেকধারা চুক্তির বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হয়। আঞ্চলিক পরিষদের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে সুনির্দিষ্ট বিষয় উল্লেখ করে আইনের ত্রুটি দূর করতে আইনটি সংশোধনের সুপারিশ করা হয়।

উক্ত ২০০১ সালের ভূমি কমিশনের আইনটিতে অনেকগুলো ত্রুটির মধ্যে অন্যতম ত্রুটি ছিল সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে কমিশনের চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতা। উক্ত আইনের৭ (৫) ধারামতে, “৭৷(৫) চেয়ারম্যান উপস্থিত অন্যান্য সদস্যদের সহিত আলোচনার ভিত্তিতে ধারা ৬(১) এ বর্ণিত বিষয়াদিসহ উহার এখ্তিয়ারভুক্ত অন্যান্য বিষয়ে সর্বসম্মতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে, তবে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব না হইলে চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তই কমিশনের সিদ্ধান্ত বলিয়া গণ্য হইবে৷”

সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে কমিশনের চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতাসহ আইনের অন্যান্য ত্রুটিগুলো দূর করতে অনেক আন্দোলন ও বৈঠকের পর গত ১ আগষ্ট ২০১৬ তারিখে আঞ্চলিক পরিষদের সুপারিশগুলোর আলোকে আইনটি সংশোধনের নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মন্ত্রীসভায় গৃহীত হয়। এরপর ৮ আগষ্ট ২০১৬ রাস্ট্রপতি কতৃক ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ’ পাশ করেন এবং তারপর দিন ৯ আগষ্ট তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

উক্ত সংশোধনীর পর ভূমি কমিশনের সদস্য হিসেবে সার্কেল চীফ (সংশ্লিষ্ট) নিজে কমিশনে উপস্থিত থাকতে পারবেন অথবা তাঁর প্রতিনিধি পাঠাতে পারবেন। অনেকগুলি পরিবর্তনের মধ্যে অন্যতম হলো সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে কমিশনের চেয়ারম্যানের একক ক্ষমতার বিলুপ্তি। এখন এই সংশোধিত আইন আনুসারে, “ ৭৷(৫) চেয়ারম্যান উপস্থিত অন্যান্য সদস্যদের সহিত আলোচনার ভিত্তিতে ধারা ৬(১) এ বর্ণিত বিষয়াদিসহ উহার এখ্তিয়ার ভুক্ত অন্যান্য বিষয়ে সর্বসম্মতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে, তবে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব নাহইলে [চেয়ারম্যানসহ সংখ্যাগরিষ্ট সদস্যদের গৃহীত সিদ্ধান্তই কমিশনের সিদ্ধান্ত বলিয়া গণ্য হইবে৷]”

অর্থাৎ এই সংশোধিত আইন অনুসারে কমিশনের চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত কমিশনের সিদ্ধান্ত বলে আর গণ্য হবেনা। উল্লেখিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সিদ্ধান্তই এখন কমিশনের সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হবে।

উক্ত সংশোধিত আইনের ধারা ৬ এর উপ-ধারা (১) (ক) তে উল্লেখ করা হয়েছে পুনর্বাসিত শরণার্থীদের ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ এবং অবৈধ বন্দোবস্ত ও বেদখলহওয়া ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা এবং উপধারা (১)(গ) তে বলা হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রচলিত আইন, রীতি ও পদ্ধতি বহির্ভূতভাবে জলে ভাসা ভূমিসহ (ফ্রীঞ্জ ল্যান্ড) কোনভূমি বন্দোবস্ত প্রদান বা বেদখল করা হইয়া থাকিলে উহা বাতিলকরণ এবং বন্দোবস্তজনিত বা বেদখল জনিত কারণে কোনো বৈধ মালিক ভূমি হইতে বেদখল হইয়া থাকিলে তাহার দখল পুনর্বহাল।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মাধ্যমে পাহাড়ে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসান ঘটে। এই চুক্তির বিধান অনুযায়ী পাহাড়ের ভূমির অধিকার নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইন পাশের মাধ্যমে এই কমিশন গঠন করা হয়। উক্ত ভূমি কমিশন আইনটি সংশোধনের পূর্বে, কমিশনের চেয়ারম্যানের একান্ত সিদ্ধান্তেই চুরান্ত হিসেবে গণ্য হত এবং তাদের এই অবৈধ দখলে কমিশনের চেয়ারম্যানের কোন হস্তক্ষেপ ছিলনা বলে এই পুনর্বাসিত সেটেলাররা কমিশনের প্রতিও অনুগত ছিল। কিন্তু এখন সংশোধিত আইন কার্যকর হলে পুনর্বাসিত সেটেলারদের এতদিন অবৈধভাবে বন্দোবস্ত ও বেদখল করা পাহাড়িদের জায়গা জমির মালিকানা বা স্বত্ব বাতিল হয়ে যাবে। ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে অবৈধ বন্দোবস্ত ও বেদখল হওয়া ভূমি এবং পানিতে ভাসা ভূমিসহ যে কোন ভূমিকে সন্নিবেশিত করায় পুনর্বাসিত সেটেলাররা এখন খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছে পাহাড়ে তাদের এতদিন অবৈধভাবে বন্দোবস্ত ও বেদখল করা পাহাড়িদের জায়গা জমি মালিকানা স্বত্ব বাতিল হয়ে যাবে ও ভূমির আসল মালিকের স্বত্ব বা মালিকানা ও দখল পুনর্বহাল করা হবে।

এখন আপনি যদি অন্যায়ভাবে বা জোরপূর্বক যদি কারো জায়গা-জমি দখল না করে থাকেন তাহলে তো এই কমিশনের বিরোধিতা করা বা এই সংশোধনী আইন নিয়ে ভয় পাওয়ার কথা না। সমতল হতে পুনর্বাসিত এই সেটেলাররা পাহাড়ে অন্যায় ও অবৈধ দখল করেছে বলেই আজকে তারা এই সংশোধনী নিয়ে এত আতংক এবং বাঙালি নাম ব্যবহৃত সংগঠনের ব্যানারে পাহাড়ে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি করতেই বাঙালি উচ্ছেদের ইস্যু তুলে মিছিল মিটিং এর নামে সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়াচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলটি ১৫৫০ সালের দিকে প্রণীত বাংলার প্রথম মানচিত্রেও বিদ্যমান ছিল। তবে এর প্রায় ৬০০ বছর আগে ৯৫৩ সালে আরাকানের রাজা এই অঞ্চল অধিকার করেন। ১২৪০ সালের দিকে ত্রিপুরার রাজা এই এলাকা দখল করেন। ১৫৭৫ সালে আরাকানের রাজা এই এলাকা পুনর্দখল করেন, এবং ১৬৬৬ সাল পর্যন্ত অধিকারে রাখেন। মুঘল সাম্রাজ্য ১৬৬৬ হতে ১৭৬০ সাল পর্যন্ত এলাকাটি সুবা বাংলার অধীনে শাসন করে। ১৭৬০ সালে ব্রিটিস ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই এলাকা নিজেদের আয়ত্তে আনে। ১৮৬০ সালে এটি ব্রিটিশ ভারতের অংশ হিসাবে যুক্ত হয়। ব্রিটিশরা এই এলাকার নাম দেয় চিটাগাং হিল ট্র্যাক্ট্‌স বা পার্বত্য চট্টগ্রাম। এটি চট্টগ্রাম জেলার অংশ হিসাবে বাংলা প্রদেশের অন্তর্গত ছিল। ১৯৪৭ সালে এই এলাকা পূর্ব পাকিস্তানের অংশ হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এটি বাংলাদেশের জেলা হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৮০ এর দশকের শুরুতে পার্বত্য চট্টগ্রামকে তিনটি জেলা- রাঙামাটি, বান্দরবান, ও খাগড়াছড়িতে বিভক্ত করা হয়।

১৯৪৭ সালে যে পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী জনসংখ্যা ছিল শতকরা ৯৭ ভাগ(%), ৬১ সালে তা কমে ৮৫ ভাগে(%) দাঁড়ায় এবং সর্বশেষ ১৯৯১ সালের আদমশুমারিতে ছিল ৫০ ভাগ(%)। আর ১৯৯৭-এ শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তীতে পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী জনসংখ্যা হয়ে যায় শতকরা ৪৮ ভাগ আর বাঙালি শতকরা ৫২ ভাগ।

এই সমীকরণ থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় সমতল হতে কি পরিমাণ বাঙালিদের পাহাড়ে পুনর্বাসিত করা হয়েছে এবং স্বেচ্ছায় স্থানান্তরের মাধ্যমে পুনর্বাসন সুবিধা নিয়েছে। তাই সচেতন নাগরিক সমাজ ও মহলের কাছে প্রত্যাশা থাকবে পার্বত্য এলাকায় সেইসব বাঙালি গণপরিষদ বা বাঙালি ছাত্র পরিষদের নামে যারা সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান গ্রহণের জন্য। এবং ১৯৯৭ এর পূর্ববর্তী যে রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি ছিল তার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে।

-সংশোধিত

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 5