কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ

বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে কতখানি উন্নয়নের শিখরে নিয়ে গেছেন, তা বুঝতে এই একটি উদাহরণই যথেষ্ট নয় কি! আমাদের রাজধানী ঢাকায় ফ্লাইওভার এবং মেট্রোরেলের যে কর্মযজ্ঞ চলছে, তা শেষ হলে আমরাই চিনতে পারবো না আমাদের। পদ্মা সেতু শেষ হলে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পরিধিটা বেড়ে যাবে আরো। উন্নয়নের পথে আমরা যেভাবে পথ অতিক্রম করছি, তাতে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে ২০৪১ পর্যন্ত সময়েরও দরকার হবে না। ‘প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’-নারীর ক্ষমতায়নে অসাধারণ অবদানের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আরো দুটি অসামান্য পুরস্কার পেলেন। নিঃসন্দেহে তিনি আবার বিশ্বসভায় বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন। এই সম্মাননাকে বাংলাদেশের নারীদের জন্য সত্যিকারের পরিবর্তনের স্বীকৃতি। তিনি এই অ্যাওয়ার্ড বাংলাদেশের জনগণের উদ্দেশে উত্সর্গ করেন। কেবল প্রধানমন্ত্রীই নন, আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টাও। সুদূরপ্রারী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বিশ্বের সড়কে পৌঁছে দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে ‘ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ফর আইসিটি’ পেয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষের জন্য ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ উদ্যোগ বাস্তবায়নে অসামান্য অবদান ও প্রতিযোগিতামূলক টেকসই উন্নয়নের একটি হাতিয়ার হিসেবে আইসিটির প্রতি তার অঙ্গীকার ও অসাধারণ নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা এ পুরস্কার পান। তিনিও ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের সম্ভবনাময় শক্তি দেশের সব তরুণের উদ্দেশে এই পুরস্কার উত্সর্গ করেন। এসব পুরস্কারই আমাদের বলে দেয়, আগামীর বাংলাদেশ কোন দিকে যাচ্ছে। আমরা যে উন্নয়নের মহাসড়কে আগাচ্ছি, এটা চ্যালেঞ্জ নিয়েই বলে দেওয়া যায়। ত্রিশ লাখ প্রাণের আত্মত্যাগে, নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। এরপর থেকেই এগিয়ে চলেছে দেশ নানারকম সমস্যা ও সংকটের মধ্য দিয়ে। সমস্যার সঙ্গে আবার যোগ হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। রাজনৈতিক দুর্যোগ তো আছেই। যেটুকু অগ্রগতি সম্ভাবনা ভেসে ওঠে, তারও বারোটা বাজিয়ে দেয় এই রাজনৈতিক সংঘাত। সুখের কথা এতসব সমস্যা মোকাবিলা করেও মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ অতিক্রম করেছে ৪৫টি বছর। ইতোমধ্যে অনেক কিছুতে সুনামও অর্জন করেছে। খাদ্যে স্বনির্ভর হয়েছে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় অগ্রসর অবস্থানে বাংলাদেশ। তৈরি পোশাক শিল্পে, নারীর ক্ষমতায়নে, বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রশংসনীয়। ক্রিকেটে, হিমালয় পর্বত আরোহণে সব স্থানেই বাংলাদেশ উজ্জ্বল। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় ভূমিকাও গর্ব করার মতো। এর সবই হচ্ছে আমাদের অর্জন। যুদ্ধাপরাধের বিচারে বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা তৈরি হয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনার পক্ষেই মানুষের অবস্থান। পদ্মা সেতু নির্মাণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে। সত্যি কথা বলতে গেলে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জোরদার উদ্যোগ দেশের ঈর্ষণীয় অগ্রগতিতে শক্তি যুগিয়েছে। দেশ আজ দৃঢ়প্রত্যয়ী যে, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 2 =