বিদ্যুৎপ্রতিমন্ত্রীর এনালাইসিস সঠিক নয়।

bdnews24.com এ 09-10-2016 প্রকাশিত প্রতিবেদন-
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রচারণাকারীদের বেশিরভাগই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের মুখে থাকা জামায়াত ইসলামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎপ্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।
বাংলাদেশের উন্নয়নের গতি রোধ করার জন্যই তারা এমনটি করছে বলে মনে করেন তিনি।
শনিবার রাতে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “আমরা এনালাইসিস করে দেখলাম, আপনি ফেইসবুকে গেলেই দেখবেন কোনো না কোনো ভাবে তারা (জামায়াত) এটার সাথে যুক্ত।”
“যারা (রামপাল নির্মাণে) নিবৃত করছেন, তারা অধিকাংশই জামায়াত সংশ্লিষ্ট। বাংলাদেশে উন্নয়নের যে গতি এসেছে, যেভাবে হোক এটা (তাদের) থামাতে হবে‍! ”
শেখ হাসিনার হাত দিয়ে বাংলাদেশ কখনই যেন বিশ্বে সবার ওপরে না দাঁড়াতে পারে সেজন্যই জামায়াত সংশ্লিষ্টরা এ কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন বিপু।

তার এনালাইসিস সঠিক নয়-

মাননীয় বিদ্যুৎপ্রতিমন্ত্রী সমীপে-
*সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রচারণাকারীদের বেশিরভাগই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের মুখে থাকা জামায়াত ইসলামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎপ্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। শেখ হাসিনার হাত দিয়ে বাংলাদেশ কখনই যেন বিশ্বে সবার ওপরে না দাঁড়াতে পারে সেজন্যই জামায়াত সংশ্লিষ্টরা এ কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন বিপু।

– মন্ত্রী মহোদয় ও তার দলের সংশ্লিষ্টরা এরকম কথা অন্যান্য ক্ষেত্রেও বলে থাকেন। সেসব কথার বেশ কিছু সত্যতাও আছে। সবক্ষেত্রে এই কথা বললেই তা মানুষ সত্য মনে করেনা। জামায়াতকে সাথে নিয়ে জামায়াতি আদর্শের সংশ্লিষ্ট আন্দোলনের পরিনতি কি হয় তার অভিজ্ঞতা দেশের মানুষের আছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীর আড়ালে তারা খুনি যুদ্ধাপরাধীদের জেলের তালা ভেঙ্গে মুক্ত করতে যেয়ে দেশের মানুষকে আন্দোলনের নামে অত্যাচার করেছে, তারপরও তাদের মতলব ব্যর্থ হয়েছে। এরপরও জামায়াতের লোকজন যদি সাগর-রুনি হত্যার বিচার চায় তাহলে কি আমরা বলবো যেহেতু জামায়াত বিচার চেয়েছে তাই এই হত্যার বিচার চাওয়া বৈধতা হারিয়েছে?

মাননীয় বিদ্যুৎপ্রতিমন্ত্রী, আপনিও ভালো করে জানেন যে যারা এই রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে, তারা তাদের ক্ষুদ্র সামর্থ্য নিয়েই এই দাবীর প্রতি মানুষের সমর্থন পাচ্ছেন, মন্ত্রীর দল আওয়ামী লীগই বরং একসময় বিএনপি-জামায়াতের সরকারের বিরুদ্ধে এই আন্দোলনকারীদের এশিয়া এনার্জি বিরোধী আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন। মন্ত্রী ভালো করেই জানেন প্রথম থেকেই যারা এই আন্দোলনের সুচনা করেছেন তারা মোটেও জামায়াত সংশ্লিষ্ট নন। বরং আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট অনেক মানুষের এই আন্দোলনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থন আছে। এই ইস্যুতে জনমত দেখে যদি বিএনপি-জামায়াত লাভের গুড় খেতে আসে সেই দায় আনু মুহাম্মাদ দের নয়।

যেহেতু মন্ত্রী মহোদয়েরা প্রায়ই জবাবদিহিতার আবরণে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষে গনমাধ্যমে যে সাফাই দেন তাতেই বরং স্পষ্ট হয়, মন্ত্রী যাদের দিকে আঙুল তুলেছেন সেই জাতীয় কমিটির আন্দোলনে জামায়াত সংশ্লিষ্টতা নেই। জামায়াত বিএনপি নিজেরা এই ইস্যুতে আন্দোলন করলে সেই দায় জাতীয় কমিটির নয়। বরং আনু মুহাম্মদ যখন স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের সুযোগ নেই, তখন থেকেই এবং আরো আগে থেকেই বেশ কিছু জামায়াত বিএনপি সমর্থক জাতীয় কমিটিকে সরকারের দালাল এবং আন্দোলনকে সরকারের পাতানো খেলা বলে কুৎসা করছেন। উভয় পক্ষের আক্রমণে প্রতীয়মান হয় জাতীয় কমিটি সঠিক পথে আছে। জামায়াত সংশ্লিষ্ট হলে বরং আন্দোলনের সর্বনাশ হত। সর্বনাশ যে হয়নি তা বোঝা যায় বিজ্ঞাপন করে সেমিনার করে মন্ত্রী বিরুদ্ধতার বিরুদ্ধে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করছেন। নাহলে এসব পাত্তাই দিতেন না। উলটো আরো দমন পীড়ন চালাতেন।

আর রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন যে উন্নয়ন বিরোধী নয় তার প্রমান মন্ত্রী নিজেই, কারন তার মন্ত্রণালয় রামপাল ২য় পর্যায়ের বিদ্যুতকেন্দ্রের প্রকল্পে কয়লা ব্যবহার বাতিল করেছে। মাননীয় মন্ত্রী, জামায়াতের ক্ষমতা নাই বাংলাদেশ কে ধ্বংস করার। আমাদের ভয় আপনাদের দলের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে, যাদের অপকর্মের দায়ে বাংলাদেশ ডুবলে জামায়াতিরা ক্ষমতা পায়, সে ইতিহাস তো দেখা আছে। তাই আপনাদেরই কর্তব্য যাতে আপনাদের কারনে বাংলাদেশ ডুবে না যায়।

*বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যারা এ বিদ্যুৎকেন্দ্রর বিরোধিতা করছেন, তারা নিশ্চয়ই জানেন এ বিদ্যুৎকেন্দ্র দিয়ে ক্ষতি হবে কী- হবে না।”

– জি, মন্ত্রী যথার্থই বলেছেন। তিনিও নিশ্চয়ই জানেন এ বিদ্যুৎকেন্দ্র দিয়ে ক্ষতি হবে কী- হবে না। আমার পরিচিত কট্টর আওয়ামী সমর্থক সাধারণ নাগরিক ওলি চাচার মতে- পাচ-দশ বছর কিছু না হলেও এর পর থেকে সুন্দরবনের ক্ষতি হতে থাকবে ।

* ঢাকা শহরের আশেপাশে সাড়ে ৪০০ ইটভাটা রয়েছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, “এগুলোতে অতি নিম্নমানের কয়লা পোড়ানো হয়। এসব কয়লায় প্রায় ১০ শতাংশ সালফার তৈরি হয়।
“এসব ব্রিকফিল্ড থেকে যে সালফার বের হয়, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে তার এক হাজার ভাগের এক ভাগও যদি হত- তাও আমি বলতাম…।”
রামপালবিরোধীদের দিকে ইঙ্গিত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “তারা যে হিসাব দেয়, সে হিসাবে ঢাকা শহরে কোনো মানুষ বসবাস করতে পারত না; চিড়িয়াখানার সব প্রাণী মারা যেত।”

– মন্ত্রী মহোদয়, সারাদেশ তো আর ম্যানগ্রোভ বন নয়। আর এই অজুহাতে আপনি জেনে শুনে দূষণে প্রশ্রয় দিবেন? নাকি অন্যান্য দূষণ কমানোর উদ্যোগ নিবেন? ঢাকা কেন পুরো পৃথিবীই যে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বসবাসের অনুপযোগী দূষিত হয়ে পড়ছে, যার জন্য আপনারা জলবায়ু তহবিলের সাহায্য নিচ্ছেন,আবার দূষণ বৃদ্ধির ব্যবসা করছেন।

*রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই রামপাল বিদ‌্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতা করা হচ্ছে বলে মন্তব‌্য করেন তিনি।

– জী মাননীয়। আপনারাও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই রামপাল বিদ‌্যুৎকেন্দ্রের পক্ষে বলে মন্তব্য করলাম। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের বাইরে রাষ্ট্র, সমাজ হয়না। দেখতে হবে সেই উদ্দেশ্য সৎ না অসৎ ? মহৎ না মতলব? সতর্কতা না ষড়যন্ত্র? উপকার না ক্ষতি?

সালেক সূফি সমীপে-

*সভায় বিদ্যুৎকেন্দ্র বিশেষজ্ঞ ও অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটির প্রজেক্ট অফিসার সালেক সূফি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, “রামপালের চিমনি হবে ২৭০ মিটার উচ্চতার। আর এ প্রকল্প আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির হওয়ায় এমনিতেই তেমন একটা ধোঁয়া দেখা যাবে না। যে একটা চিমনি থেকে ধোঁয়া বের হবে, তাতে একটা বন ধ্বংস করবে বলে যে দাবি- তা অজ্ঞতা।
“রামপালে মাত্র শুন্য দশমিক ৬ শতাংশ সালফারের কয়লা ব্যবহার করতে হবে।”
সালেক সূফি বলেন, “আমি পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে ক্রিটিক্যাল ও সুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্র দেখেছি। রামপাল হবে আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল। তাই এটাতে পৃথিবীর অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের চেয়ে কম ক্ষতি হবে।”

– জি জনাব সুফি, আপনার মতে এটাতে পৃথিবীর অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের চেয়ে কম ক্ষতি হবে। ক্ষতি হবেই। সেই ক্ষতির দুর্ভোগ বুঝতে ২০-২৫ বছরের জায়গায় ৪০-৫০ বছর লাগবে। বিকল্প জ্বালানী, দীর্ঘমেয়াদী টেকসই প্রযুক্তি বাদ দিয়ে, যে খরচে উৎপাদন করা হবে তার তুলনায় বাজার দরের দ্বিগুন দামে ওই বিদ্যুত কিনে রাষ্ট্রের অর্থ ভর্তুকি দিয়ে বিশেষ গোষ্ঠীকে অনৈতিক মুনাফার সুযোগ দিয়ে আপনার বলা কম ক্ষতি মানতে হবে? আরো আরো কম ক্ষতি করে এই দামের অর্ধেক দামে কেনার মত বিদ্যুত উৎপাদনের বিশেষজ্ঞ ও উদ্যোক্তা তো আপনাদের মাঝেই আছে।

* যুক্তরাষ্ট্রে এখনও ৪০ ভাগ বিদ্যুৎ কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আসে বলে জানান মোনাশ ইউনিভার্সিটির প্রকল্প কর্মকর্তা সালেক সূফি ।

– তার মানে আগে আরো বেশী আসতো । এখন কমিয়ে ফেলছে। সকলেই কমাচ্ছে। ভারত ও কমাচ্ছে। তাহলে আপনারা উলটো বাড়াবেন কেন? যেখানে প্রতিদিনই পৃথিবী নতুন প্রযুক্তিতে প্রবিষ্ট হচ্ছে, সেখানে আপনারা পুরনোতে যাবেন? আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল হলেও কম ক্ষতি হলেও সেটাতো কয়লায়? সেজন্য যুক্তরাষ্ট্রে এখনও ৪০ ভাগ কয়লা বিদ্যুৎ আরো কমবে, বৃদ্ধি হবেনা। আপনারাও কয়লা বাতিল করুন। যেমন রামপাল ২য় প্রকল্পে বাতিল করেছেন।
http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article1224590.bdnews

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 4 = 5