দেবীর বিসর্জন ও নির্লজ্জদের কটূক্তি !

আজ বিজয়া দশমী।দেবী দূর্গার বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দুদের সর্ব বৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান দূর্গা পুজো।কিন্তু কেন এই পুজো করা হয়?এ পুজো থেকে কি প্রাপ্তিই বা তারা লাভ করে?
?oh=19ab644b3e89c34e3a60ca8814b035ba&oe=58C73397″ width=”500″ />

ধর্মীয় গ্রন্থ মতে ব্রহ্মার বরদান পেয়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল অসুররাজ মহিষাসুর।যুদ্ধে অসুরবাহিনীর কাছে পরাস্ত হয়ে সিংহাসন হারিয়েছিলেন দেবতা ইন্দ্র।স্বর্গে দেবতাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়ে গিয়েছিল।কিন্তু কেউই মহিষাসুরকে রুদ্ধ করার কোনও কৌশল খুঁজে পাচ্ছিলেন না। কারণ ব্রহ্মার বরদান অনুযায়ী কোনও পুরুষ বা কোনও দেবতা মহিষাসুরকে বধ করতে পারবে না।

সমস্যার সমাধানের জন্য ভগবান বিষ্ণুর দ্বারস্থ হন দেবতারা।ভগবান বিষ্ণুর পরামর্শে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের ত্বেজ থেকে জন্ম হয় মহামায়া এই আদ্যাশক্তির। হিন্দুশাস্ত্র মতে, কাত্যায়ণ ঋষির আশ্রমে দেবী দূর্গার জন্ম হয়েছিল বলে তাঁর আর এক নাম কাত্যায়ণী। আশ্রমেই শুক্লসপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী এই তিনদিন আরাধনার মাধ্যমে দেবীর আবাহন করেন ঋষি কাত্যায়ণ। চতুর্থিদন অর্থাত দশমীতে মহিষাসুরবধ করেন দেবী।

অসুর কুলের হাত থেকে নিজেদের ধরণী পুনরায় ফিরে পাবার আনন্দই মূলত এই পূজার উদেশ্য।এই দিক থেকে এই পূজার উদ্দেশ্য শতভাগ সাফল্য মন্ডিত।কিন্তু এই পুজো শুধুই কি আনন্দের জন্য?শাস্ত্র বিজ্ঞদের মতে মোটেও তা নয় বরং নিজের অসুরত্ব দমন করার একটি মাধ্যমও এই পুজো।ভক্তি ভরে দেবীকে আরাধনা করা, নিজের চিত্তকে দেবীর পায়ে অর্পণ করা, পৃথিবী ও প্রাণীর কল্যাণ প্রার্থনা করাও এই পুজোর উদ্দেশ্য।

কিন্তু আনন্দের দিকটা পরিপূর্ণতা পেলেও ভক্তির দিকটা কি এখানে পরিপূর্ণতা পাই? সকলে যে উৎসাহ উদ্দিপনা নিয়ে আনন্দ করে সেই উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে সবাই কি দেবীর ভক্তি করে? বরং তার উল্টোটাই ঘটে।ভক্তির দিকটা পরিলক্ষিত হয় গুটিকয়েক বয়োজেষ্ঠ ও ঠাকুর পুরোহিতের মধ্যে যা আসলেই কাম্য নয়।

সব থেকে খারাপ যে দিকটি পরিলক্ষিত হয় তাহলো দেবীর বিসর্জন চিত্র।বছর ঘুরে যার আগমনে ধরাতে আনন্দের ফোয়ারা বয়ে যাই বিসর্জন ক্ষনে সেই তাকেই করাহয় কলুষিত। বিদায় জানানোর জন্য যে ভক্তি ও সংযম প্রয়োজন তা কারোরই মধ্যে থাকে না। অনেকটাই দায়সারা হয়ে পড়ে।

শাস্ত্র মতে প্রতিমা বিসর্জন দেয়ার সময় প্ৰতিমাকে মাথার উপর নিতে হবে।বিশেষ ক্ষেত্রে অন্য কোনো মাধ্যম দ্বারা কাজটি করা যেতে পারে বৃহৎ প্রতিমার ক্ষেত্রে।বুক সমান জলে দাঁড়িয়ে নব হস্ত ব্যাশে সাতবার প্রদক্ষিণ করে ধীরে ধীরে প্রতিমাকে জলের মধ্যে নিমজ্জিত করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে বিসর্জনে এ নিয়মের ধারের কাছেও কেও যাই না। প্রতিমাকে কোনোভাবে তুলেনিয়ে জলের মধ্যে ছুড়ে ফেলাকে বিসর্জন মনে করে।

কেন এই অবহেলা এটাকি সেই আরাধ্যের অপমান নয়। নিজেরাই যদি নিজেদের আরাধ্যাকে অপমান করি তাহলে অন্যে তাদের কি সম্মান দেবে।এই বিষয়টি নিয়ে ইদানিং কালে বিশেষ একটি ধর্মের কিছু লোক নির্লজ্জের মতো নিচু ভাষায় কটূক্তি করে। সে বিষয়টা নিয়ে কি কখনো ভেবেছেন ?না ভেবে থাকলে এখুনি ভাবুন।

আজ দেবীর বিসর্জন যারা নিজেদের বাড়িতে পুজো করছেন অথবা সম্মিলিত ভাবে পূজা করছেন, যারা পূজা কমিটির সাথে জড়িত আছেন তারা নিজেদেরকে শুধরান। আজ থেকে আর দেবীকে অপমান নয় বরং সম্মান ও ভক্তির সাথে বিদায় দিন। কল্যাণ হোক সকলের। শুভ বিজয়া।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “দেবীর বিসর্জন ও নির্লজ্জদের কটূক্তি !

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 4 =