পর্নোগ্রাফিক নিষ্ঠুরতা ! (পর্ব-১)

অনুর্ধ ১৮ ব্যক্তিবর্গ পোষ্টটি পড়া হতে বিরত থাকুন !!

অবশেষে আটক হলো ডিএসইউ গ্রুপের এডমিনরা !! ৮ মিনিট , ২৯ মিনিটের মতো বহু মানুষের ব্যক্তিগত গোপন ভিডিও এরা গ্রুপের লক্ষ লক্ষ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে সর্বনাশের মাত্রা আরও বাড়িয়েছে |
কিছু মজার ব্যাপার শেয়ার করি | গত মাসে যখন ৮ মিনিট নামক ভিডিওটি বের হয় , তখন আমার আশেপাশের বন্ধুগণ দেখি সবাই মিলে ডিএসইউ ডিএসইউ করে হৈ হুল্লোর করছে | এই অধম তখনো জানে না যে এই ডিএসইউ নামক জিনিসটা কী , খায় না মাথায় দেয় ! তাই কৌতুহলবশত জিজ্ঞেস করতেই তারা আরও হো হো করে হাসতে শুরু করলো এই বলে যে আমি এখনো ডিএসইউ কী এটা জানি না !! তাদের কথা শুনে মনে হয়েছিলো যে ডিএসইউ কোন সিলেবাসভুক্ত পাঠ্য বিষয় যা প্রত্যেকেরই জানা আবশ্যক | যাহোক পরবর্তীতে তাদের সুবাদে জানতে পারি ওটা একটি গ্রুপ যেখানে মানুষের ব্যক্তিগত গোপন ভিডিওগুলো ফাস করা হয় | বন্ধুর ফেসবুক আইডি থেকে ওই পেইজের কিছু পোষ্ট দেখে আমার চক্ষু চড়কগাছ !! সহজভাবে যাকে বলা যায় বাংলা পর্ণ সাইট | বিভিন্নভাবে বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষগুলোর অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ভিডিওগুলো এডমিনরা লিক করে সবার সামনে তুলে ধরে | এর আগেও নাকি ২৯ মিনিটের একটি ভিডিও নিয়ে অনেক তোলপার করেছিলো গ্রুপটি | এই গ্রুপের মেম্বার অনেক বেশী হওয়ায় যেকোন ভিডিও মুহুর্তের মধ্যেই পুরো ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে |

যাহোক এমন একটা গ্রুপ সম্পর্কে আগে থেকেই অবশ্য আমার জ্ঞান না থাকাটাই স্বাভাবিক | আসলে কৈশর পার হয়েছে রাজনীতি-হানাহানিতে , আর যৌবন শেষ প্রায় ব্লগিং আর ডিপির নেশায় | তার মানে আমি এই বলছি না যে আমি কখনো পর্ণ দেখিনি | হুমম দেখেছি এবং কতোবার তা হাতেগোনা হিসেব করে বলে দেয়ার মতো | তবে এটুকু পরিষ্কার বলতে পারি পর্ণগ্রাফিক ভিডিওগুলো কখনো আমার পছন্দের তালিকায় ছিলো না | একদম শুরুটা এখনো মনে আছে | আমি তখন সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র | যদিও আজকালকার পঞ্চম ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়া ছেলেমেয়েদের কাছে চুমুচুমাদির দৃশ্য তেমন কোন কিছুই নয় কিন্তু আমার মানসিকতা তখনো এমন যে টিভিতে একটু নায়ক নায়িকার হাত ধরা দৃশ্য দেখলেই চ্যানেল পাল্টে দিতাম | কেমন যেন একটু লজ্জা লজ্জা লাগতো | শুধু আমার না আপনি যদি আজ থেকে আরও ২০ বছর আগের কথাই চিন্তা করেন তো সবার মানসিকতাই এমনই ছিলো যে মানসিকতায় আপনার আমার বাবা-মা বড় হয়েছে | বলা বাহুল্য যে আমাদের সময় এতো হাতে হাতে ক্যামেরা ফোন ছিলো না | তবু দেখতাম স্কুলের বন্ধুরা এমপি ফোর এ কিসব নিয়ে যেন বেশ মজমা মেরে বেড়াতো | তাছাড়া কয়েকবার এমনও দেখেছি যে স্কুলে কিসের যেন সিডি নিয়ে ধরা পড়েছে কয়েকজন | সিডিগুলো নাকি চওড়া দামে বিক্রিও হয় | আমার তখন খুব জানতে ইচ্ছে হতো যে কী এমন আছে ঐ সিডিতে যার জন্য স্কুলের শিক্ষকরা বিচার করে ! এমনি কৌতুহল থেকে একদিন ক্লাসের অভিজ্ঞ এক বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম | সে আমাকে একটি লাইট যুক্ত কলম দিয়ে পঞ্চাশটা টাকা নগদ বাগিয়ে নিলো | বললো বাসায় গিয়ে রুমে একা যেন কলমের লাইটা কোন পরিষ্কার ওয়ালে ফেলি | তাহলেই নাকি সব বুঝবো | তবে সতর্ক করলো কেউ যেন টের না পায় | আমি তো বেশ এক্সাইটেড ! কি জিনিস মনে হয় আছে ! কলমটা বেশ যত্ন করে ব্যাগের এক চিপায় লুকালাম | বাসায় গিয়ে প্রতিদিনের চিরচেনা রুমটাতে দরজা লাগিয়ে বসলাম | ব্যাগ থেকে কলমটা কাপা কাপা হাতে বের করি আর দরজার দিকে তাকাই যে কেউ এসে নক করে কিনা ! মনে তখন আমার কতো কী যে চলছে | এই এক্ষনি কী যে চোখের সামনে দৃশ্যমান হবে | ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ লাইটের বাটনে চাপ দিলাম | আর অমনি এমন একখানা ছবি ওয়ালে ভেসে ওঠলো যা দেখার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না | আজীবন যেখানে নারীকে তিনটি রুপে সম্বোধন করতাম , অন্য কেউ হলে লজ্জায় লুটিপুটি খাওয়া , আর নিজেদের মধ্যে দিদি নয়তো আম্মু , সেখানে আজ এমন একটি নতুন রূপ বেশ হতবাক করে দিলো আমায় | গুটি কয়েকবার আরও লাইটি জ্বালিয়ে নিভিয়ে পরখ করে দেখলাম | ততক্ষণে আমি লজ্জায় পুরো লাল | তারপর কী করবো এটা দিয়ে এই ভাবতে ভাবতে এক পর্যায়ে পাছে মা না দেখে ফেলে এই ভয়ে রুমের জানালা দিয়ে দিলাম এক ঢিল | তারপর আর এসব বিষয় নিয়ে তেমন ঘাটাতাম না | তবে ভিডিও প্রথম দেখার সুযোগ হয়েছিলো যখন অষ্টম কী নবম শ্রেণীর ছাত্র | ঘণিষ্ট কয়েকজন বন্ধুর তাড়নায় পড়ে ব্যাপারগুলো বেশ আনন্দদায়ক হয়ে ওঠেছিল | তাদের সাথে বেশ হা করেই দেখতাম ভিডিওগুলো | নাদান ছিলাম , বিবেকহীন অমানুষ ছিলাম |

তবে এটা ঠিক যে যখন থেকে আমি মাল্টিমিডিয়াযুক্ত ফোন ব্যবহার করি , কখনোই পর্ণ ভিডিও আমার ফোনে ঠাই পায় নি | ব্যাপারটা কী আসলে মেমোরিতে এসব জিনিস রাখার মতো জায়গা আমার কখনোই ছিলো না | সবসময়ই আমার মেমোরির সিংহভাগ সফটওয়্যার আর ফটোগ্রাফির জন্যই বরাদ্দ ছিলো | তাছাড়া যখন আমি দশম শ্রেণীর ছাত্র তখন থেকেই ডিপির মতো একটি পরম বন্ধু পেয়েছি এ জীবনে | তারপর থেকেই এই অধম কমলাকান্ত | পর্ণ ভিডিও থেকে শুরু করে এই টাইপ ব্যাপারগুলো বেশ অসস্থিকর লাগতো | আর এখনকার যা অবস্থা তাতে তো সভ্য সমাজের মতে আমি অটিস্টিক !! আশেপাশের কাউকে যখন দেখি দলবেধে বড় স্ক্রিনে পর্ণ ভিডিও দেখে নানা রকম রিএ্যাকশন দিচ্ছে , আমি তখনো আউট অফ সার্কেল হয়ে এটা ভাবি যে মানুষ কী করে পারে এতোটা নিজেকে বিকিয়ে দিতে !! কিংবা যদি কাউকে একটু ছিহঃ বলে এসব বিরোধী কোন জ্ঞান দিতে যাই তো সবাই এক কথায় বলে বসে, তুই দূরে যা তো ভাই , দেখতে দে !!

হ্যা আপনি ১৮+ হলে আপনি এসব দেখতে পারেন এটা হয়তো আপনার অধিকার কিন্তু তাই বলে আপনি বিবেকের ডাক কী শুনবেন না ! আমার বিবেক মোটেও এগুলো সায় দেয় না | কারণ আপনি যখন বড় পর্দায় এইচডি ভিডিও দেখে মজমা মারছেন , তখনো হয়তো সেই ভিডিওর নারীটি অন্ধকার ঘরে বসে বিক্রিত জীবনের যন্ত্রনায় চোখের জল ফেলছে | ভাবছেন বিদেশীরা তো এগুলো টাকার বিনিময়ে স্বেচ্ছায় করছে তাহলে সমস্যা কী ! তবে বলবো আপনি এব্যাপারে অজ্ঞ | পতিতারাও তো স্বেচ্ছায় টাকার বিনিময়ে দেহ বিক্রি করে | কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন কেন কিংবা তার এ কাজের শুরুটা কী করে হলো ! কিংবা তাদের এমন কর্মকাণ্ডে জড়ানোর পিছনে ঢেকে থাকা ঘটনাটা জানলে কী আপনি আদৌ তাদের পতিতা বলে সম্বোধন করতে পারবেন !! বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে শতকরা ৯০% পর্ণ ভিডিওর নারী চরিত্র বিভিন্নভাবে এসবের সাথে এমনভাবে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয়েছে যে তারা চাইলেও মুক্ত হতে পারে না | কিছুদিন আগে এ ব্যাপারে একটি তথ্য পেয়েছিলাম যে বিদেশী পর্ণ তারকাদের দিয়ে বর্তমানে অনেকটাই জোড়পূর্বক প্যাচে ফেলে এই ভিডিওগুলো করানো হয় | এমন হয়েছে অনেক সময় যে অনেক পর্ণ তারকা মুক্তি না পেয়ে আত্নহত্যা করেছে | এবার আপনি একটু ভাবুন , আপনি যে ভিডিওটি দেখে পুরাই যৌনানুভূতির উন্মাদ চূড়ায় পৌছে গেছেন , সেই ভিডিওর নারী চরিত্রটি বর্তমানে মৃত | অর্থাৎ আপনি একজন মৃত নারীর নগ্ন ভিডিও দেখে মজা নিচ্ছেন !! কী এখনো বিবেক সায় দেয় এগুলো দেখার জন্য !!!

সানি লিওন কিংবা মিয়া খলিফার উদাহরণ দিয়ে বাকী ১০% এর কথা বলতে চাইছেন ? কিছুদিন আগে সানি লিওন তার একটি ইন্টারভিউ এ বলেছিলো , সে তার অতীত অর্থাৎ পর্ণ জীবন নিয়ে গর্বিত | কারণ সে যদি সত্যিই এমন না হতো , তাহলে হয়তো বলিউড কখনোই তার দিকে তাকিয়েও দেখতো না | অর্থাৎ তার অভিনয়ে যথেষ্ট পারদর্শীতা থাকলেও তার এরূপ অশালীন কর্মকাণ্ড ছাড়া তার কোন স্থান নেই | শুধু সানি লিওন কেন আপনার প্রিয় বলিউড তারকাটি যার প্রেমে আপনি দিওয়ানা , তারও হয়তো এমন কিছুই ডিরেক্টরের বা সিলেকশন বোর্ডের সাথে করতে হয়েছে | কিন্তু হয়তো তা পড়ে আছে লোক চোখের আড়ালে | সব কিছুই তো আর প্রকাশ হয় না , কিছু আমরা জানতে পারি আর কিছুটা সবসময়ই লোক সমাজের আড়ালে থেকে যায় | বিদেশী পর্ন তারকাদের জীবনের জটিলতা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ বিস্তারিত পরবর্তী ব্লগে আলোচনা করবো | আশা করি তখন ব্যাপারগুলো আরও পরিষ্কার হবে |

আজকে আপনি ডিএসইউ এর আট মিনিট দেখে খুব মজা নিচ্ছেন ? এদিকে বাড়ির বাইরে থাকা আপনার সহোদরাটি কী নিরাপদ ? এমন পেইজের এডমিনদের একটু পারদর্শীতা আর আপনার জীবনের নারী চরিত্রটির একটু অসতর্কতা যেকোন সময় হয়ে দাড়াতে পারে জীবনের জন্য বিশাল হুমকি | আপনি আজ বাহবা দিয়ে এডমিনকে উৎসাহ দিচ্ছেন ? কাল আপনার উৎসাহে তারা গিয়ে বাইরের বিভিন্ন শপিং মলের ওয়াশরুমে গিয়ে হিডেন ক্যামেরা লাগাবে আপনার জন্য আরও আনন্দদায়ক ভিডিও আনতে | এমন ফাদের শীকার কিন্তু যেকোন সময় আপনার জীবনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নারী ব্যক্তিত্বও হতে পারে !! তাই সময় থাকতে রুখে দাড়ান এসব গ্রুপ পেইজ এবং ব্যক্তির বিরুদ্ধে | মনে রাখবেন আজ আপনি অন্যকে দেখে হাসলে কাল আপনিও এমন পরিস্থিতির শীকার হতে পারেন যখন অন্যরা আপনার উপর হাসবে |

হ্যা এটা ঠিক যে অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ভিডিও করাটা নিঃসন্দেহে বিকৃত মস্তিষ্কের প্রমাণ | তবে তার মানে এই না যে আপনি তার এই সুযোগ নিয়ে গোটা দেশে এটা ছড়িয়ে দিবেন | যেমন ধরুন একজন বাতুল রাস্তায় উলঙ্গ হয়ে ঘুরছে | এই মুহুর্তে আপনার কী উচিত তাকে পোশাক পরিয়ে দেয়া কিংবা চিকিৎসা সাহায্য করা নাকি সেটা ভিডিও করে চারিদিকে ছড়িয়ে দেয়া ? বিবেক কী বলে ?

সচরাচর অন্তত বাংলাদেশের এমন কখনোই হয় না যে ভিকটিমরা নিজেদের ভিডিও নিজেরা স্বেচ্ছায় ছড়িয়ে দেয় | হ্যা তবে একদল বখাটে এমন কাজ করে ঠিকই তবে সেক্ষেত্রেও কিন্তু অপর আরেকজন ভিকটিম হয় | একজন ছড়িয়ে দিলেও ভিডিওর অপর চরিত্রের কিন্তু সর্বনাশটা ঠিকই হয় |

যাহোক সেদিন গ্রুপ মেম্বার পর্যবেক্ষণ করতে ডিএসইউ এর গ্রুপে ঢুকলাম আমার একাউন্ট দিয়ে | পোষ্টগুলো দেখা যায় না তবে ফ্রেন্ডলিস্টের কে কে গ্রুপে আছে দেখা যায় | দেখে তো আমি পুরাই অবাক | আমার একাউন্টের বহু চেতনাবাদী বাংলাদেশের অনেক বিশেষ ব্যক্তিত্ব দেখলাম সেখানে | নর নারী নির্বিশেষে সবাই দেখি এড আছে | এমনকি কিছু পরিচিত মেয়েও দেখলাম যারা মুখে দিব্বি এসব অশ্লীলতার বিরুদ্ধে কথা বলে অথচ গ্রুপে দিব্বি এক্সেস করে বেড়াচ্ছে | খুব অবাক হলাম | কাক ভদ্দলোকে দেশটা ভরে গেছে | মান সম্মান বিবেক বিসর্জন দিয়ে চেতনার আড়ালে এখন দিব্বি মানুষ নোংরামি জগতে উকি দিয়ে বেড়াচ্ছে |

যাহোক লিখাটা পড়ে যদি ব্যাপারগুলো কিছুটা বুঝতে পারেন তো আজ থেকেই এসব কর্মকাণ্ড ত্যাগ করুন | এতোদিন যা করেছেন ভুলে গিয়ে আজ থেকেই না হয় শুরু করুন | পর্ন সাইট এবং সাইট এডমিনদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ান | নিজে এসব অশ্লীলতা এবং অশ্লীল জিনিস দেখা ত্যাগ করুন | মনে রাখবেন আপনার আজকের এতটুকু চেষ্টাই আগামীতে দিতে পারে একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ ….

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 75 = 81