নোবেল পুরষ্কার এবং বঞ্চিত নবী হযরত মোহাম্মদ!!!

আগেই বলেছিলাম ‘নোবেল’ নামে যে পুরষ্কারটি নাসারাদের দেশ সুইডেন এবং নরওয়ে থেকে প্রদান করা হয় তা পুরোটাই ইসলামের বিরুদ্ধে ইহুদি নাসারাদের ষডযন্ত্র। নয়তো পুরষ্কার প্রদান শুরুর সেই ১৯০১ সাল থেকে শুরু করে আজকে ২০১৬ সাল হয়ে গেলো, পাক্কা ১১৫ বছর; কত অগা মগা এই পুরষ্কার পেয়ে গেলো কিন্তু বিশ্বনবী, আশেকে রাসুল, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ মানব, পেয়ারে নবী মোহাম্মদ তাঁর প্রাপ্য ৫ টি নোবেলের একটিও পেলেন না।
বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য, চিকিৎসা কোথায় মোহাম্মদ অবদান রাখেন নি? কেন একজন উপযুক্ত ব্যক্তিকে তাঁর প্রাপ্য নোবেল থেকে বঞ্চিত করে রাখা হচ্ছে বছরের পর বছর? অথচ ইসলাম অনুযায়ী সুদ খাওয়া হারাম; সেই সুদখোর ইসলামের শত্রু ইউনুসকে কিন্তু ঠিকই নোবেল দেওয়া হয়েছে! নোবেল দেওয়া হচ্ছে না শুধু শ্রেষ্ঠ নবী মোহাম্মদকে!

মুমিন মুসলমানেরা দাবী করেন, বিজ্ঞান আধুনিক যুগে যা আবিষ্কার করছে তার সবই কুরানে লিখা আছে ১৪০০ বছর আগে। যেমন;- চাঁদের কোনো আলো নেই এটা বিজ্ঞান বলছে এইতো সেদিন আগে কিন্তু কুরানে এই কথা লিখা আছে কত আগে!
এভাবেই কুরান পড়ে পড়ে নাস্তেক আর নাসারা বিজ্ঞানীরা সব আবিষ্কার করে ফেলছে আর নোবেল জিতে নিচ্ছে কিন্তু এই কুরান যাঁর মাধ্যমে পৃথিবীতে এসেছে সেই মোহাম্মদকে এখনও নোবেল দেওয়া হলো না। বিজ্ঞানের এই ক্যাটাগরি হিসাব করলে মোহাম্মদ পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা এবং চিকিৎসা বিজ্ঞান এই ৩ ক্যাটাগরিতে মোট ৩টা নোবেলের দাবী রাখেন।
তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি রাস্তার ক্যানভাসারদেরও আগে আবিষ্কার করেছেন এক ওষুধেই সর্বরোগের নিবারণ! কালোজিরা মৃত্যু ব্যতীত সর্বরোগের দাওয়াই! দাউদ, ঘা, একঝিমা, চুলকানি, খাউজানি সবকিছুর

এখন নিন্দুকেরা বলবেন, কুরান আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন, দ্বীনের নবী মোহাম্মদ উসিলা মাত্র। কিন্তু এই ওহী যিনি ধারণ করে পৃথিবীর জন্য ডেলিভারি দিলেন সেই মোহাম্মদের মেধা মূল্যায়নের সাধ্য কি কোনো মানুষের আছে? যেসব প্রতিভাধর ব্যক্তিরা নোবেল জিতছেন তাঁদের প্রতিভা এবং মেধার মালিকও তো মহান আল্লাহতালা! তাহলে তাঁরা নোবেল জিতলে মোহাম্মদ কেন জিতবেন না?

কুরান যে সকল বিজ্ঞানের উৎস সেটা তো স্বয়ং জুকারবার্গও স্বীকার করেছেন। জুকারবার্গ সেদিন ফেসবুকে লাইভে এসে বলেছেন,”একসময় আমি নাস্তিক ছিলাম। একদিন ফাজলামি করে নাপাক অবস্থায় কুরান পড়তে নিয়েছিলাম একটা ব্লগ লিখব বলে। সেখানে একটা সুরা পড়ে আমার মাথায় আইডিয়া এসে যায় ফেসবুক আবিষ্কারের। তারপর সেই সুরার আইডিয়া কপি মেরে বানিয়ে ফেললাম ফেসবুক। সেইদিনের পর থেকে আমি ইসলামের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

সেই কৃতজ্ঞতার ফলস্বরুপ আমরা ইদানীং দেখতে পাচ্ছি, মুমিনদের রিপোর্ট গ্রাহ্য করে জুকারবার্গ ফেসবুক থেকে নাস্তিকদের আইডি, ফেসবুক পেইজ ব্যান করে দিচ্ছেন, নাস্তিকদের পোস্ট ফেসবুক থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন।

বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের জীবনের এক বিস্ময়কর ঘটনা।
আইনস্টাইন ‘আপেক্ষিকতা’ নিয়ে চিন্তা করতে যেয়ে কূলকিনারা হারিয়ে ফেলেছিলেন। তারপর একটু নড়াচড়া করার জন্য হাত দেন কুরানে। কিছুক্ষণ কুরান পড়ে তিনি বুঝে যান এসব আউল-ফাউল ‘থিওরি অফ রিলেটিভি’ হেনতেন গবেষণা যা আছে সবই ভুয়া। একমাত্র এবং জিহাদ এবং দ্বীন ইসলাম কায়েমই জগতের একমাত্র সত্য। সেদিনই তিনি আবিষ্কার করে ফেলেন জিহাদের যুগান্তকারী সূত্র E=mc2.
এখানে,
E=Energy; তার মানে শক্তি প্রদর্শন বা জিহাদ।
m=Mohammad(মোহাম্মদকে স্মরণ করে)
c=chapati(চাপাতি)।
c=cut(কোপাকুপি)।

বলপূর্বক চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ইসলামের শত্রুদের কুপিয়ে খুন করে জিহাদ কায়েম করতে হবে। আইনস্টাইনের এই জিহাদ কায়েমের সূত্র ফলো করেই বাংলাদেশে জিহাদী ভাইয়েরা একের পর এক নাস্তিক, শিক্ষক, প্রকাশক, কাফের মূর্তি পূজারীদের ধর্মগুরুদের কুপিয়ে জিহাদ করে যাচ্ছেন এই দেশে।
তার ফলাফলও আমরা দেখতে পাচ্ছি, জাপানিরাও ইদানীং কুরানে আগ্রহী হয়ে উঠছে। বিডিনিউজে পড়লাম এক জাপানি অধ্যাপক বাংলাদেশে আসার আগে কুরান শিখে আসতে চাচ্ছেন ভয়ে। যেন- জঙ্গিরা ধরলে কুরানের সুরা বলে রক্ষা পান। এভাবেই পৃথিবীর সবাইকে কুরানের শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে।
এ তো গেলো বিজ্ঞানে মুহম্মদের অবদান।

এবার দেখা যাক শান্তির জন্য তিনি কি করেছেন? এই প্রশ্নটা ভুল! প্রশ্নটা করা উচিত এভাবে,’শান্তির জন্য মুহম্মদ কি করেন নি?’
তামাম দুনিয়ায় ফ্রান্সের প্যারিসে, নিসে, বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে, আমেরিকাতে, আফগানিস্তানে, পাকিস্তানে, চাদে, সোমালিয়াতে, তিউনিশিয়াতে, বাংলাদেশে সারা পৃথিবীতেই মুহম্মদের অনুসারীরা একের পর এক হামলা চালিয়ে মানুষ খুন করছে। পৃথিবীর মানুষদের জাগতিক দুঃখ কষ্ট থেকে মুক্তি দিচ্ছে। ইসলাম পৃথিবীকে শান্তির ফ্যাক্টরি বানিয়ে রেখেছে। চোখ বুজিলে দুনিয়া আন্ধার…
পৃথিবীর কোন মানুষটি শান্তির জন্য এত অবদান রাখতে পেরেছেন আর? তাহলে মোহাম্মদ কেন শান্তিতে নোবেল পাবেন না?

এবার আসা যাক সাহিত্যে।
মুহম্মদ পৃথিবীতে ইসলাম এনেছিলেন বলেই বাংলাদেশে হাজার হাজার কবির সৃষ্টি হয়েছে। সেদিন ওয়াজে এক হুজুর গান করছেন;-
“আমার আল্লাহর বাংলা,
আমি আল্লাহকে ভালোবাসি…
চিরদিন আল্লাহর আকাশ, আল্লাহর বাতাস,
আমার প্রাণে…..
আর এক হুজুর গান করছেন;-
“ও রে হেলিকপ্টারওয়ালা…
তুই আমারে নিয়ে যা মদিনায়!
তুই আমারে…তুই আমারে…তুই আমারে,
নিয়ে যা মদিনায়…
ও হেলিকপ্টারওয়ালা……
ইসলাম পৃথিবীতে না আসলে এমন হাজার হাজার স্বভাব কবির জন্ম হতো না।
তাই সাহিত্যে নোবেলেরও সবচেয়ে বড় দাবীদার মুহম্মদই।

এখন অনেকেই বলতে পারেন, মরণোত্তর নোবেল দেওয়া হয় না। কিন্তু এটা ভুল। ২০১১ সালে নোবেল কমিটি ব়্যাল্ফ স্টাইনম্যানকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করেন। কিন্তু নোবেল কমিটির এটা জানা ছিলো না এর তিনদিন আগেই তিনি শেষ বিদায় নেন পৃথিবী থেকে। স্টাইনম্যানের পক্ষ থেকে তাঁর পরিবার নোবেল গ্রহণ করেন।
তাহলে স্টাইনম্যান নোবেল জিতলে মোহাম্মদ কেন জিতবেন না! মোহাম্মদ কি কম স্টাইনম্যানের চেয়ে?

পৃথিবীর সকল বিজ্ঞানমনষ্ক, শান্তিবাদী এবং সাহিত্যপ্রেমী মানুষেরই উচিত মোহাম্মদের নোবেল বিজয়ের জন্য জোর দাবী তোলা। আর যদি মোহাম্মদ নোবেল জিতে যান তাহলে মোহাম্মদের পক্ষ হয়ে এই নোবেল পুরষ্কার গ্রহণ করার একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি হতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে মদিনার সনদ প্রতিষ্ঠা, ইসলাম কায়েম, মুক্তচিন্তাকে ফ্যাশন উপাধি দেওয়া, ব্লগার কোপানো হালাল করে দেওয়াসহ ইসলাম প্রচারে তিনি যে পরিমাণ অবদান রেখেছেন তার তিল পরিমাণও অন্য কোনো দেশের রাষ্ট্র প্রধান রাখতে পারেন নি।
আমরা অবশ্যই মোহাম্মদের হয়ে শেখ হাসিনার হাতে নোবেল দেখতে চাই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১১ thoughts on “নোবেল পুরষ্কার এবং বঞ্চিত নবী হযরত মোহাম্মদ!!!

  1. দুনিয়ার সকল মুমিন বাইরে আবেদন
    দুনিয়ার সকল মুমিন বাইরে আবেদন করতে আসি… হুদাই মুমিন না, কারণ কুরান হক্কলের জন্নতপ্রাপ্তির পথ, দুনিয়ার হক্কল ইমানদার ইনসান এই আবেদন রাখুন, যাতে মুহাম্মদ (সাঃ) কে নোবেল দেওয়া যায়।

  2. ধার্মিক পাগলগুলো কিছুদিন আগে
    ধার্মিক পাগলগুলো কিছুদিন আগে “ইসলাম শান্তির ধর্ম” ঘোষনা দিয়ে ইউনেস্কোর এক ভুঁয়া সার্টিফিকেট যে হারে অনলাইনে শেয়ার করে নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়ে বুঝিয়েছে আমাদের, ইউনেস্কোর উচিত এই ধরনের সার্টিফিকেট দিয়ে ইসলামকে পুরুস্কৃত করা উচিত; সেইসব ধার্মিক শুয়োরগুলো মুহাম্মদের নামে নোবেল দাবী করতেই পারে যে কোন সময়।

    ইস্টিশনে স্বাগতম। আপনার স্যাটায়ার চমৎকার হয়েছে।

    1. বিমানের পাখায় বসে ইফতারি করার
      বিমানের পাখায় বসে ইফতারি করার ছবি যেখানে হাজার দশেক শেয়ার হয় সেখানে এই সার্টিফিকেট যে শেয়ার হবে সেটা তো স্বাভাবিকই। মজার ব্যাপার ছিলো বাংলাদেশের প্রথম সারির মিডিয়া কালেরকন্ঠও এটাকে নিউজ করেছিলো। সেখানে আর এই ধর্মান্ধদের কতোটা দোষ দেওয়া যায়!
      ধন্যবাদ আপনাকে। 🙂

  3. নাস্তিক কাফেরদের প্রবর্তিত
    নাস্তিক কাফেরদের প্রবর্তিত পুরস্কার মুহাম্মদ কেন পাবে ? তার চাইতে সৌদি আরব একটা পুরস্কার চালু করতে পারে , যার নাম হবে শান্তি পুরস্কার , আর সেটা প্রথমে পেতে পারে নবী মুহাম্মদ।

  4. সৌদির পুরষ্কার যদি আবার
    সৌদির পুরষ্কার যদি আবার ইরানের শিয়া, ইয়েমেন, আহমদিয়া এরা না মানে? এটা মুসলিম জাহানে আরও বিভেদ সৃষ্টি করবে। হা হ হা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

17 + = 22