সৌদি রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে আইএসের রেফারেন্স ও ইসলামের বাল্মিকি’রা…

&f=1″ width=”400″ />

রামের জন্মের আগেই নাকি বাল্মিকি রামায়ন লিখেছিলেন! একবার কল্পনা করুন আপনার জন্মের আগেই আপনার আত্মজীবনী লেখা হয়ে গেলো। তারপর হয়ত আপনার জন্মই হলো না কিংবা জন্ম নেবার আগেই পৃথিবী যুদ্ধ করতে করতে ধ্বংস হয়ে গেলো- সমস্যা হচ্ছে, এই যে আপনার আগমনী আখ্যান প্রকাশিত করা হয়েছে- তাতে তো অনেকেই ‘আপনি’ সেজে আবির্ভূত হতে পারেন! ‘ইমাম মাহদী’ যেন আরেক রামচন্দ্র যার বার্তা লেখা হয়ে গেছে শত শত বছর আগে! হাদিসগুলোর লেখা হয়েছিল কথিত নবী মুহাম্মদের মৃত্যুর দুই-আড়াইশো বছর পর। এই সময়কালের মধ্যে ইসলামের অন্তঃকলহ চিরন্তন হয়ে পড়ে। শিয়া ও সুন্নী এই দুই বড় গ্রুপ লিখিত হাদিসগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়লে তাদের কায়েমি স্বার্থগুলো চোখে পড়ে। আরবদের রাজতন্ত্র শাসন নির্মূল করার অভিপ্রায়ে ফের খেলাফায় রাশিদিনি প্রতিষ্ঠার যে ভবিষ্যত বাণী সম্বলিত হাদিস পাওয়া যায় তা নিশ্চিত করেই সৌদি রাজকৃপাধন্য আলেম-ওলামারা ‘জাল’ বলেই রায় দিবেন। একইভাবে খিলাফতের পতন পরিবর্তী মুসলমানদের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার জন্য আল্লার ইচ্ছায় খেলাফত শাসন বিলপ্তির যে ভবিষ্যত বাণী পাওয়া যায় তা আসলে ‘আল্লাহ শাসন’ নিশ্চিহৃ হয়ে যাবার একটা ‘যৌক্তিক ব্যাখ্যা’ মুসলিমদের কাছে খাড়া করার অভিপ্রায়। খলিফাদের যুগে তাদের পক্ষে ও তাদের বিপক্ষের শত্রুরা যারা ক্ষমতার দাবীদার নিজেদের স্বার্থে মিথ্যা বলে হাদিস তৈরি করেছেন। এরকমটা যে ঘটেছিল সেটা ইসলামিস্টরা ‘জাল হাদিস’ নামে অভিহত করে নিজেরাই স্বীকার করে নিয়েছেন। এছাড়া শিয়াদের হাদিসগুলোকে সুন্নীরা সন্দেহের চোখে দেখে। সুন্নীদের হাদিসগুলো শিয়ারা প্রত্যাখান করেছে। এ কারণে সুন্নী ও শিয়াদের হাদিসগুলোতে বিশেষ ব্যক্তি, বংশ, আত্মীয়তা গুরুত্ব পেয়েছে। উদাহরণ দেই, ইমাম হোসেনের মৃত্যু কিভাবে হবে জিব্রাইলের কাছ থেকে নবী মুহাম্মদ অগ্রিম জেনেছিলেন বলে কিছু হাদিসে উঠে এসেছে। হাদিস অনুসারে নবী মুহাম্মদ ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইনের (হোসেনের) মৃত্যুর বর্ণনা দিলে সাহাবীরা এই হত্যাকান্ড কে ঘটাবে জানতে চাইলে নবী মুআবিয়া পুত্র ইয়াজিতের কথা বলেন। অথচ মুআবিয়া তখনো বিয়েই করেননি। মুআবিয়া এটা শুনে বিয়ে করতে অস্বীকার করলে নবী তাকে তার শপথ থেকে বিরত করেন। এ ধরণের হাদিস তৈরি করে আসলে মুসলমানদের প্রবোধ দেয়া হয়েছে যে, যা-ই ঘটেছে সবই আল্লাহর ইচ্ছায়…। নবী পরিবারের নিগৃহত হবার বিষয়ে মুসলমানদের মনে কোন সন্দেহ বা প্রশ্ন যাতে না উদয় হয় তার জন্য এরকম হাদিসের মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে ‘সবই আল্লাহ পূর্বে ঠিক করে রেখেছিলেন’! কিন্তু শিয়াদের ইতিহাস থেকে জানা যায় আবু সুফিয়ান ও তার পুত্র মুআবিয়া শুরু থেকে নবী মুহাম্মদের প্রতি প্রতিশোধ নিতে বংশ পরম্পরায় প্রচেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন। মুহাম্মদের হাতে আবু সুফিয়ানের পরিবারের সদস্যদের হত্যার প্রতিশোধ, নিজেদের স্বজনদের প্রতি নিপীড়নের প্রতিশোধ ইয়াজিদ নিয়েছিলেন মাত্র। ইয়াজিদ মুহাম্মদের নাতিকে হত্যা করার পর বলেছিলেন, আমার পূর্বপুরুষরা যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে তারা দেখতেন যে, কিভাবে আমি মুহাম্মাদের পরিবার ও (তাঁদের গোত্র) বনি হাশিমের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিয়েছি। মূলত এইসব হাদিস ও বক্তব্য শিয়া সুন্নীর পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক অবস্থান। এসব কারণেই মুহাম্মদের নাতি কারবালায় নিমর্ম হত্যা শিকার হলেও সুন্নি মুসলিমরা মহরমকে সেভাবে পালন করে না। ১০ মহরমকে তারা কথিত পৃথিবী সৃষ্টি, আদমের স্বর্গচ্যুত বা অন্যান্য নবীদের রোগমুক্তি বা বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়াকে বড় করে বিবেচনা করে থাকে। শিয়ারা দাবী করে থাকে আলীকেই মুহাম্মদ তার উত্তরাধিকার নির্বাচন করে গিয়েছিলেন ঘোষণা দিয়ে। তারা দাবী করেন মুহাম্মদ বলেছেন, প্রত্যেক নবীরই একজন উত্তরসুরী থাকে, আর আমার উত্তরসুরী হচ্ছে আলী ইবনে আবু তালিব। (আরজাহুল মাতালেব, পৃঃ-৪৬; তারিখে বাগদাদ, ১১তম খণ্ড, পৃঃ-১৭৩; মুয়াদ্দাতুল কুরবা, পৃঃ-৫০, কানজুল উম্মাল, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃঃ-১৫৮; ইয়ানাবীউল মুয়াদ্দাত, পৃঃ-১৩৩, তারিখে ইবনে আশাকীর শাফায়ী, ৩য় খণ্ড, পৃঃ-৫; শাওয়াহেদুত তানজিল, ২য় খণ্ড, পৃঃ-২২৩)।

এত কিছুর বলার মূল উদ্দেশ্য আপনাদের হাদিস-সীরাত সম্পর্কে একটা ধারণা দেয়ার জন্য। এই হাদিস-সীরাত, কুরআন নবী মুহাম্মদের যুগ থেকে তার মৃত্যু পরবর্তী শত শত বছর স্বীয় স্বার্থে বিষবৃক্ষের চাষ করা হয়েছে। সেই বিষয়বৃক্ষগুলোর ছায়াতেই আজকে তালেবানম আইএসের জন্ম। সৌদি রাজ পরিবার ছিল এইসব জিহাদী দলের আগমনের পূর্বে ইসলাম কায়েম ও প্রসারের একমাত্র সোর্স। সেই রাজতন্ত্রের বাইরে থাকা শক্তি, মক্কা-মদিনার হিস্যা থেকে বঞ্চিত, হজের মুনাফা থেকে বঞ্চিতরা ইমাম মাহদির আগমণকে তাদের মুক্তির পথ হিসেবে দেখেছে। শিয়ারা বিশ্বাস করে সৌদি রাজতন্ত্র পতন হয়ে ফের খিলাফত কায়েম হবে এবং সেটা হবে তাদের মধ্য থেকেই একজনের হাত ধরে, কারণ হাদিসে আছে সেই ব্যক্তি হবেন মুহাম্মদের পরিবারের একজন- তিনি সেই কথিত ‘ইমাম মাহদি’। তবে এরকম সিদ্ধান্তে আসবেন না যে এরকম বিশ্বাস কেবল শিয়ারা করে থাকে। সুন্নী মুসলিমরাও তার বাইরে নয়। যে কারণে খোদ সৌদি আরবেই দেখা যায় ঘরের শত্রু বিভিষণ অথ্যার্ৎ, রাজতন্ত্রের ভীত কাঁপিয়ে দিতে সেখানেও ভিন্নমতালম্বীরা গোপন ঘাপটি মেরে আছে যারা বিশ্বাস করেন আল্লাহ’র বিধান অনুযায়ী এখন রাজতন্ত্রের অবসান হবার সময় এসে গেছে। আর তাদের এরকম সিদ্ধান্তে আসার মূলে আছে এই হাদিসটি।- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন “নবুওয়াত ব্যবস্থা তোমাদের মাঝে ততদিন থাকবে, যতদিন আল্লাহ তাআলা মঞ্জুর করেন। অতঃপর যখন ইচ্ছা, তখন তিনি তা উঠিয়ে নিবেন। তারপর (রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের পর) তোমাদের মাঝে নবুওয়াতের পদ্ধতিতে খেলাফত ব্যবস্থা কায়েম হবে এবং তা আল্লাহ তাআলা যতদিন ইচ্ছা ততদিন থাকবে (খুলাফায়ে রাশিদিন এর যুগ), অতঃপর তিনি তা উঠিয়ে নিবেন, তারপর হানাহানির রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তা আল্লাহ তাআলার যতদিন ইচ্ছা ততদিন থাকবে (রাজতন্ত্র), অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছায় তার বিলুপ্তি ঘটবে। তারপর জবর দখল তথা আধিপত্য বিস্তারের রাজত্ব কায়েম হবে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় দুনিয়াতে কিছুকাল বিরাজমান থাকবে তারপর যখন আল্লাহ ইচ্ছা করবেন, তখন এরও অবসান ঘটবে। অতঃপর নবুওয়াতের পদ্ধতিতে খেলাফত রাষ্ট্র-ব্যবস্থা কায়েম হবে। এ বলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপ রইলেন”। (মুসনাদে আহমদঃ ৪/২৭৩)।

&f=1″ width=”400″ />

আগেই বলেছি এইসব রাজনৈতিক হাদিসের উৎস ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে পড়লে স্পষ্ট বুঝা যায় এরকম ভবিষ্যতবাণী মুহাম্মদের পক্ষে কোনভাবেই দেয়া সম্ভব নয়। তিনি এরকম বিপর্যয়ের কথা কখনই তার অনুসারীদের বলবেন না যাতে তারা উদাসিন হয়ে পড়ে। নিজ পুত্রকে মুআবিয়া পুত্র হত্যা করবে এরকম আসমানী বার্তা পেয়েও আলী-ফাতেমা দিনপাত করেছিল কিভাবে? একজন মানুষকে যদি জানিয়ে দেয়া হয় সে বাঁচবে আর মাত্র এক বছর- তিনি কি আর স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন? পারবেন না। কিন্তু রাজতন্ত্র আল্লাহ’র ইচ্ছা একদিন ধ্বংস হয়ে আবার খেলাফত কায়েম হবে- এরকম ভবিষ্যতবাণী রাজতন্ত্রের বিরোধীদের জন্য উজ্জেবিত নিঃসন্দেহে।

ইসলামী খিলাফত যতদিন সারা বিশ্বেজুড়ে বিরাজ ছিল ততদিন ইসলামের এইসব আদি কিতাব ও তার ভবিষ্যবাণীর এক রকম চাপা পড়েই ছিল। ইসলাম তখন কেবল ‘দারুল ইসলাম’ (যেসব দেশ ইসলাম দখল করতে সক্ষম হয়েছে) ও ‘দা্রুল হার্ব’ (যেখানে ইসলাম কায়েম করতে মুসলমানরা হামলা করবে) নিয়ে ব্যস্ত ছিল। ১৯২৪ সালে তুরস্কে খিলাফতের চূড়ান্ত পতন হবার পর দীর্ঘ একটা বিরতিতে ইসলামী স্কলাররা তাদের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে সময় পান। সৌদিদের রাজতন্ত্র এই অবকাশে ইসলামের একমাত্র অভিভাবক হিসেবে আবির্ভূত হয়। সারাবিশ্বে জিহাদের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে তাদের তেল বেচা টাকায় দরিদ্র মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোতে মাদ্রাসা-মক্তবে পৃষ্ঠপোষকতা বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, কমিউনিস্টদের পতন পরবর্তী ইসলামের খিলাফত যুগের চেতনায় দীক্ষিত ভিন্ন একটি শক্তির আত্মপ্রকাশ ঘটে যা আমরা দেখি ১৯৯৬ সালে আফগানিস্থানে। যাদেরকে বলা হয় ‘তালিব এ ইলম’ বা তালিবান। এই তালিবানের জন্ম আসলে হাদিসকে অনুকরণ করে। আমাদের অনেকেরই ধারণা নেই বিশ্বব্যাপী খিলাফতের জন্য সন্ত্রাস করা জিহাদী দলগুলো নিজেদের হাদিস বর্ণিত শেষ জমানার ইমাম মাহদীর সৈন্য বাহিনী মনে করে থাকে। ইমাম যুহরি বলেছেন, “পূর্ব থেকে কালো পতাকা এগিয়ে আসবে, যাদের নেতৃত্ব দেবে এমন এক দল লোক, যারা হবে ঝুলপরিহিত খোরাসানি উস্ট্রীর মতো, লম্বা চুল ও দাঁড়ি বিশিষ্ট। তাদের বংশ হবে গ্রামীণ আর নাম হবে উপনাম। তারা দামেস্ক নগরীকে জয় করবে। তাদের থেকে তিন ঘণ্টার জন্য রহমত প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে”।(আল ফিতান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৬)।

&f=1″ width=”400″ />

এ কারণেই দেখবেন আইএসের পতাকা ও পোশাক হাদিস অনুরূপ। তাদের মুজাহিদদের প্রত্যেকেই একাধিক ‘উপনাম’ ধারণ করে থাকে। একইভাবে তালিবানরা ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী তারা নিজেদের পতাকা ‘লিওয়া’ (সাদার ভিতরে কালো রঙ্গের কালিমা খচিত) এবং তাদের সৈন্য বাহিনীর পতাকা আর রায়া (কালোর ভিতরে সাদা রঙ্গের কালিমা খচিত) নির্ধারণ করে। নবী মুহাম্মদ যুদ্ধে কালো পতাকা ব্যবহার করতেন যাকে ‘উকাবা’ নামে ডাকা হতো। আজকের তালেবান ও আইএসের পতাকা একারণেই কালো। তালিবানরা হাদিস বর্ণনা অনুযায়ী লম্বা চুল (বাবরি) ও দাড়ি রাখে, সাদা জামার উপর মাথায় কালো পাগরি বাধে। এ বিষয়ে আগে বিস্তারিত লিখেছি বলে এখানে খ্যান্ত দিতে হলো…।

এবার একটি হাদিস দিয়ে লেখাটি শেষ করছি। হাদিসটির নির্মাণ কৌশল খেয়াল করলে পুরো বিষয়টি খোলসা হবে আশা করি। প্রথমে হাদিসটি পড়ি- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,“আমরা আহলে বাইতের জন্য আল্লাহ দুনিয়ার পরিবর্তে আখিরাতকে নির্বাচন করেছেন। আমার পরিবারের সদস্যরা আমার অবর্তমানে বিপদ, দেশান্তর ও অসহায়ত্বের শিকার হবে। এমনকি পূর্ব দিক থেকে এমন কিছু লোক আগমন করবে, যাদের পতাকা হবে কালো। তারা কল্যাণ (নেতৃত্ব) প্রার্থনা করবে; কিন্তু এরা (বনু হাশিম) দেবে না। অগত্যা তারা যুদ্ধ করবে ও জয়লাভ করবে। এবার তারা যা (নেতৃত্ব) প্রার্থনা করেছিল, (বনু হাশিম) তা প্রদান করবে। কিন্তু এবার তারা তা (নেতৃত্ব) গ্রহণ না করে আমার বংশের এক ব্যক্তি (ইমাম মাহদি) কে তা (নেতৃত্ব) ফিরিয়ে দিবে। সেই ব্যক্তি (ইমাম মাহদি) পৃথিবীটাকে ন্যায়নীতি দ্বারা এমনভাবে ভরে দিবে, যেমনটি পূর্বে তা অবিচারে পরিপূর্ণ ছিল। তোমাদের যে লোক সেই সময়টি পাবে, সে যেন উক্ত বাহিনীর সাথে যুক্ত হয়ে যায় বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে গিয়ে হলেও”।(সুনানে ইবনে মাজা, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৩৬৬)।

নবী মুহাম্মদের মৃত্যু পরবর্তী তার বংশকে যে নিগৃহিত ও অপমানিত হতে হয়েছে (ওমরের নিদের্শে তার চাকর নবী কন্যাকে আঘাত করলে তার গর্ভপাত ঘটে এবং পরবর্তিতে বিনা চিকিৎসায় অত্যাধিক রক্তপাতে ফাতিমা মারা যান [সূত্র: শারহুত তাজরিদ/৩৭৬, দালায়েল উল ইমামাহ/৪৫]) সেটা যাতে কোন মুসলমান তার বিশ্বাসে হোঁচট না খায় তাই চাতুরির সঙ্গে বলা হয়েছে,“আমরা আহলে বাইতের জন্য আল্লাহ দুনিয়ার পরিবর্তে আখিরাতকে নির্বাচন করেছেন। আমার পরিবারের সদস্যরা আমার অবর্তমানে বিপদ, দেশান্তর ও অসহায়ত্বের শিকার হবে…’। মজাটা হচ্ছে, মুসলমানরা যখন বিশ্বজুড়ে খেলাফত চালিয়েছে তখন এই হাদিস কেবল মুহাম্মদের পরিবারের বেহাল অবস্থার পক্ষে সাফাই হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে যেটা এখন বিশ্বজুড়ে দরিদ্র, অশিক্ষিত ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে পিছিয়ে পড়া মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষে সাফাই হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তো এরকম সাফাই গাওয়ার পর ‘পূর্ব দিক থেকে এমন কিছু লোক আগমন করবে, যাদের পতাকা হবে কালো’ বলে একটা উৎস তৈরি করে রাখা হয়েছে। এরকম উৎস খ্রিস্টান ধর্মেও রাখা হয়েছে যেখানে বলা হয় যীশু ফের জীবিত হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। ইহুদীরা বিশ্বাস করে কিয়ামতের পূর্বে তাদের জন্য আরেকজন নবী আসবেন ইত্যাদি। এগুলো আসলে ধর্মকে টিকিয়ে রাখার জন্য একটি সোর্স খুলে রাখা যা সব ধর্মবেত্তরা কৌশলে তাদের ধর্মগ্রন্থে লিখে গেছেন। যাই হোক, এরপর মক্কা-মদিনাকে বেচে যারা খাচ্ছে তাদের ইঙ্গিত করে বলা হলো ‘তারা কল্যাণ (নেতৃত্ব) প্রার্থনা করবে; কিন্তু এরা (বনু হাশিম) দেবে না। অগত্যা তারা যুদ্ধ করবে ও জয়লাভ করবে’। শেষটায় বলা হলো, ‘এবার তারা যা (নেতৃত্ব) প্রার্থনা করেছিল, (বনু হাশিম) তা প্রদান করবে। কিন্তু এবার তারা তা (নেতৃত্ব) গ্রহণ না করে আমার বংশের এক ব্যক্তি (ইমাম মাহদি) কে তা (নেতৃত্ব) ফিরিয়ে দিবে’। বনু হাশিম মুহাম্মদের বংশধর। তারাই শেষে পরাজিত হয়ে সেই কালো পতাকাবাহিদের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে চাইলে তারা তা না নিয়ে হাশিম বংশের একজনকে যার নাম হবে মুহাম্মদের নামে (তিনিই ইমাম মাহদি) তার হাতে তুলে দিবেন। আইএসের সৌদি রাজবংশের বিরুদ্ধে যাওয়ার একটা সূত্র আশা করি এবার পেয়েছেন। হাদিসের এইসব ভবিষ্যতবাণীকে কেন্দ্র করে ইতিপূর্বে বহুজন নিজেকে ‘ইমাম মাহদী’ দাবী করেছেন। বহুজন নিজেদের সেই ‘খোরাসান থেকে আসা ঘোড়াসওয়ার’ হিসেবে দাবী করে দল গড়েছেন। এমনকি নিজেকে নবী হিসেবে দাবী করেছেন কারণ কুরআন আসলে ‘আখেরি রসূলের’ কথা বলেছে, নবী আসবে না সেরকম কিছু বলা নেই। তাই বহু লোক নিজেকে নবী হিসেবে দাবী করেছেন, এবং ধরে নিন আরো বহুজন নিজেকে নবী, মাহদীসহ আরো বহুজন নিজেদের ‘ইমাম মাহদীর সৈন্যদল’ দাবী করে তালেবান-আইনসের অনুকরণে দল গড়বে…। যে বিষবৃক্ষ হাদিস-সীরাতে রয়ে গেছে, আমরা সেই হাদিস-সীরাতকেই তো জেনে না জেনে পৃষ্ঠপোষকতা করে চলেছি। ফলাফল তো চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছেন!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৩ thoughts on “সৌদি রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে আইএসের রেফারেন্স ও ইসলামের বাল্মিকি’রা…

  1. অসাধারণ লেখা।
    অসাধারণ লেখা।

    রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন “নবুওয়াত ব্যবস্থা তোমাদের মাঝে ততদিন থাকবে, যতদিন আল্লাহ তাআলা মঞ্জুর করেন। অতঃপর যখন ইচ্ছা, তখন তিনি তা উঠিয়ে নিবেন। তারপর (রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের পর) তোমাদের মাঝে নবুওয়াতের পদ্ধতিতে খেলাফত ব্যবস্থা কায়েম হবে এবং তা আল্লাহ তাআলা যতদিন ইচ্ছা ততদিন থাকবে (খুলাফায়ে রাশিদিন এর যুগ), অতঃপর তিনি তা উঠিয়ে নিবেন, তারপর হানাহানির রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তা আল্লাহ তাআলার যতদিন ইচ্ছা ততদিন থাকবে (রাজতন্ত্র), অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছায় তার বিলুপ্তি ঘটবে। তারপর জবর দখল তথা আধিপত্য বিস্তারের রাজত্ব কায়েম হবে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় দুনিয়াতে কিছুকাল বিরাজমান থাকবে তারপর যখন আল্লাহ ইচ্ছা করবেন, তখন এরও অবসান ঘটবে। অতঃপর নবুওয়াতের পদ্ধতিতে খেলাফত রাষ্ট্র-ব্যবস্থা কায়েম হবে। এ বলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চুপ রইলেন”। (মুসনাদে আহমদঃ ৪/২৭৩)।

    মাথা ঘুরছে!
    আইসিস আর তালেবানদের ধ্যান ধারণার মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি? নাকি খিলাফত কায়েম করার লক্ষের কারণ হিসাবে একদম একই বিশ্বাস ধারণ করে এই দুই ইসলামিস্ট গোষ্ঠী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 21 = 24