ধর্ম ব্যবসায় ও নারীর স্বাধীনতায় ইন্ডিয়া ও বাঙলাদেশ

ভারতের কলকাতাতে উদ্দেশ্যহীনভাবে হেঁটে বেড়াচ্ছিলাম। এখনকার মানুষগুলো দেখতে প্রায় আমাদের মতই। উচ্চারণে ভিন্নতা ও শুদ্ধতা আছে কিন্তু শারীরিক কাঠামোর দিক থেকে প্রায় আমাদের মতই বলা যেতে পারে। ভারতের বড় বড় রাজ্য ও শহরগুলিতে চমৎকার একটি বিষয় লক্ষণীয়ঃ এখানকার নারীরা স্বাধীনভাবে পোশাক পরতে পারে। পুরুষেরা কী বলল, কী ভাবল তা তোয়াক্কা করে না। পোশাকের স্বাধীনতা ক্ষেত্রে এখানকার মেয়েরা স্বাধীন ও সাহসী। সাহসী শব্দটি ব্যবহৃত করা হল কারণ- এখানেও ধর্মীয় শুয়োরেরা নানাবিদ ফতোয়া জারি করে। কিন্তু নারীরা পাত্তা দেয় না। পোশাকের স্বাধীনতায় বাঙলাদেশের নারীদের অতীতে যে গৌরবময় ইতিহাস ছিল, বর্তমানে তা ধ্বংসের মুখে। পার্শ্ববর্তী ভারতের নারীরা যতটা স্বাধীন হতে পেরেছে, বাঙলাদেশের নারীরা ততোটাই পেছনে গেছে। সাহসিকতার ক্ষেত্রেও একই। তেমনই, বাঙলাদেশের প্রচুর সংখ্যক নারী ধূমপান করে কিন্তু প্রকাশ্যে করতে পারে না। নারীদের প্রকাশ্যে ধূমপান করা হারাম। পুরুষদের ক্ষেত্রে নয়। পুরুষেরা প্রকাশ্যে ধর্ষণ করলেও কোটি কোটি সমর্থক খুঁজে পাওয়া যায় কিন্তু নারী করবে ধূমপান তা কল্পনাতীত। ভারতে নারীরা প্রকাশ্যে ধূমপান করতে পারে।

আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করলাম তা হলঃ ঢাকাকে মসজিদের নগরী বলা হয়ে থাকে। বর্তমান সরকার আরও মসজিদ বানানোর ঘোষণা দিয়েছে। যা মৌলবাদ বিস্তারের জন্য আশ্রয়। মানুষের যেখানে থাকার জায়গা নেই; সেখানে মসজিদ বানানো অর্থের অপচয় ও জায়গা নষ্ট। মসজিদকে আল্লাহর ঘর বলা হয়ে থাকে কিন্তু আল্লাহ ঘরে কাউকে রাখার কোন নিয়ম নেই। কী অদ্ভুত ব্যাপার, তাই না! মসজিদ নাকি সবচেয়ে নিরাপদ স্থান অথচ যাদের ঘরবাড়ি নেই তাদের স্থান মসজিদেও হয় না। অন্তত রাত্রিবেলা ক্ষানিক বিশ্রামের ব্যবস্থাও নেই। গরীব দরিদ্র দুঃস্থ সম্বলহীন মানুষদের যদি আল্লাহর ঘর মসজিদেও স্থান না হয় তাহলে দোয়া মোনাজাত করে কী লাভ! প্রায়ই দেখা যায়, মসজিদের সামনে কোন দুঃখী দরিদ্র মানুষ বসে থাকলে তাকে স্থান ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। মসজিদ নাকি অপবিত্র হয়ে যাবে! লক্ষ লক্ষ মসজিদ নির্মাণ না করে সেই অর্থ দিয়ে গরীব দরিদ্র সম্বলহীন মানুষদের জন্য কর্মসংস্থান ও আবাসনের ব্যবস্থা করলে মানবতার জয় হবে। ধর্মে যদি মানবতার কথা উল্লেখ থাকতো তবে মসজিদে সম্পত্তিহীন মানুষেরা রাত্রিযাপন করতে পারতো। যেহেতু ধর্মে মানবতার কথা নেই সেহেতু গরীবের দুঃখে ধর্মপ্রাণ মানুষের কিছু যায় আসে না। যতো মসজিদ নির্মাণ করা হবে ততো ধর্মব্যবসায়ীর সংখ্যা বাড়বে।

তেমনই, ভারতেও একই অবস্থা।ঢাকাতে তো শুধু মসজিদের নগরী বলা হয়, কিন্তু ভারতের প্রতিটি রাজ্য ও শহরকে মন্দিরের নগরী বলা সম্ভব। যত মন্দির ও মসজিদ; ততো ব্যবসা, ততো দুর্নীতি, ততো প্রতারণা, চক্রান্ত। কলকাতার প্রতিটি গলির শুরুতে একটি করে ছোটো মন্দির। মন্দিরকে ঘিরে উঠেছে ধর্মীয় ব্যবসা। পুরোহিতগুলির চেহারা দেখলেই বোঝা যায় একেকটি শয়তান ভেতরে বসবাস করছে। পশ্চিমবঙ্গের মমতা একজন ধূর্ত রাজনীতিক। তিনি ধর্মীয় ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য একটি ভাতা চালু করেন। ভাতাটি শুধুমাত্র মুসলমান ঈমামদের জন্য।ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে পুরোদমে চলছে ধর্মীয় ব্যবসা। যারা মূর্তি পূজো করে তারা আহাম্মক, যারা মূর্তি ভাঙে তারা সাম্প্রদায়িক।
______________________________

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “ধর্ম ব্যবসায় ও নারীর স্বাধীনতায় ইন্ডিয়া ও বাঙলাদেশ

  1. ইন্ডিয়া বাংলা কোন শব্দ? এর
    ইন্ডিয়া বাংলা কোন শব্দ? এর কোন বাংলা শব্দ কি আছে? ফেসবুকে স্ট্যাটাস লেখা আর ব্লগপোস্ট লেখা এক কথা না। হুমায়ুন আজাদ বেঁচে থাকলে এই লেখা পড়ে আপনার গালে কষে একটা থাপ্পড় বসাতো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 81 = 89