মহাজ্ঞানী ইবলিস

জানি না ঠিক কিভাবে শুরু করবো আলোচনাটা। এই প্রথম ব্লগে লিখছি আগে ফেবুতে লিখতাম যাইহোক ভূল-ত্রুটি মার্জনীয়। ছোটা বেলা থেকেই ইসলামের এক বিষেশ চরিত্র নিয়ে আমার কৌতুহল ছিল। চরিত্রটার নাম হল শয়তান,ইবলিশ,খন্ন্যাস বা আযাযিল। উপরের ৪ টা নামের মধ্যে সবচেয়ে কম উচ্চারিত নাম হল হযরত আযাযিল। এই আযাযিল চরিত্রটাই অনেকটা আমাকে নাস্তিকতার পথে হাটতে সাহায্য করেছে। আযাযিল মূলত জ্বীন সম্প্রদায় এর লোক এবং আল্লাহর ফালতু খাম-খেয়ালির শিকার। ইসলাম যে কোন ভাবেই যুক্তিবাদিতা পছন্দ করে না তার নিক্ষুত প্রমান বহন করে আসছে এই মহাজ্বীন ইবলিশ বা আযাযিল। যাইহোক আযাযিল এর ইতিহাস সবার-ই কম বেশি জানা। আল্লাহ প্রথমে জ্বীন জাতি সৃষ্টি করলেন পরে তারা আল্লাহর অবাধ্য হলে তাদের জাতিকে ধংস করার আদেশ দেন তিনি। বলাবাহুল্য যে,আল্লাহ কিন্ত সবজান্তা। তিনি জানতেন যে জ্বীনরা এরকম সমস্যা করবে তারপরও তিনি তা কেন সৃষ্টি করলেন আবার কেনই বা তা আবার ধংস করলেন?

এই ধংস যোগ্য চলার সময় আজকের ইবলিশ তখন অনেক ছোট ছিল। ফেরেশতাদের তাকে দেখে মায়া হয় এবং তাকে আসমানে নিয়ে যায়। এ থেকে বোঝা যায় ফেরেশতারা রোবট হলেও খানিকটা মানবতাবাদী। তারপর আসমানে আযাযিল বড় হতে থাকে এবং প্রচুর এলম অর্জন করতে থাকে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভে প্রচুর ইবাদত করতে থাকে। এক সময় আল্লাহ তার ইবাদতে খুশি হয়ে তাকে ফেরেশতাদের সর্দার বানিয়ে দেয়। তিনি সেখানে ফেরেশতাদের শিক্ষা দিতেন। অতঃপর আল্লাহ আদম বানানোর ইচ্ছা করলেন। আমরা জানি আল্লাহ কুন বললে সব হয়ে যায় কিন্ত এক্ষেত্রে তিনি একটু সময় নিয়ে আগে প্রেক্ষাপট তৈরি করলেন। আর এই প্রেক্ষাপট এর অবলা শিকার আযাযিল। অতঃপর আল্লাহ একটা মূর্তী বানালেন মাটি দিয়ে। কিন্তু মূর্তি নরে-চরে না তাই আল্লাহ তার নিজ রুহ বা জীবনী শক্তি টাইপের কিছু একটা ফুৎকার দিয়ে দিলেন। তারপর আদম প্রান এবং প্রচুর জ্ঞান পেল। কি ধরনের জ্ঞান যে আল্লাহ পাক তাকে দিয়েছিল তা কারও বোধগম্য নয়। কারণ,পৃথিবিতে এসে আদম ঠিক কি কি জিনিস আবিষ্কার করে ছিল তার কোন হদিস পাওয়া যায় না। সে যাইহোক অতঃপর আল্লাহ বললেন এ হলো সবচেয়ে জ্ঞানী তোমাদের মধ্যে তাই তাকে সেজদাহ কর। এই সেজদাহর মাধ্যমেই আল্লাহ প্রথম তার ধর্মে শিরকের প্রথা চালু করেন। এসব কান্ড-কারখানা সব-ই আযাযিল দেখতে থাকলো। অবশেষে এবার আল্লাহ আযাযিল কে সেজদাহ দিতে বললো, তিনি তা সাথে সাথে প্রত্যাখ্যান করলেন। শুরু হলো বাগযুদ্ধ,

বাগযুদ্ধে আযাযিল এর কিছু প্রশ্নঃ

১.আল্লাহ ছাড়া কাওকে সেজদাহ দেওয়া শিরক,এ শিক্ষা তুমি আমাকে দিয়েছো, আমি কেন তবে এখন অন্য কাওকে সেজদাহ দেব?

২.সারাজীবন আমি তোমার ইবাদত করেছি, কিন্ত আদম কোন ইবাদত না করে শ্রেষ্ঠ হয় কিভাবে?

৩.আমাকে কেন জ্ঞান কম দিলে আমার পাপ কি?

এসব প্রশ্নের উত্তরে আল্লাহ তার রহস্যময় বানী দিলেন,
“আমি যা জানি তোমরা তা জানো না”
আমি থাকলে হয়তো নেক্সট প্রশ্নটা করতাম,
“আপনি যা জানেন তা আমাদের জানালে সমস্যা কি”
মনে হয় এ গোপন কথা বলে দিলে যদি আযাযিল সেজদাহ করে দেয়, এই ভয়ে তার গোপন কথা আযাযিল কে বললেন না। কারণ,আল্লাহ প্লান করেই রেখে ছিলেন যে তিনি আযাযিল কে শয়তান বানাবেন-ই। অবশেষ-এ তাই হলো আযাযিল শয়তানে পরিণত হলো। এখন আর একটু ভাববার বিষয় এই যে,শয়তান বা ইবলিস যখন আযাযিল ছিল তখন তো কোন শয়তান ছিল না। আমরা জানি শয়তান আমাদের আল্লাহর আদেশ পালনে বাধা দেয়,তবে এখন প্রশ্ন আসে,
“কোন শয়তান আযাযিলকে আল্লাহর আদেশ অমান্য করতে প্ররোচনা দেয়?”
এবার আসুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ইবলিশ কেন মহাজ্ঞানীঃ
১.সবথেকে বুজুর্গ তিনি।
২.আদম এর সৃষ্ট তিনি দেখেছেন।
৩.কেয়ামত তিনি দেখবেন।
৪.আল্লাহর কাছে প্রথম যুক্তি উপস্থাপন কারি।
৫.আল্লাহর সেরা জীব কে প্রতিনিয়ত ধোকা দিতেছে।
৬.ফেরেশতাদের সরদার ছিলেন।

আযাযিল এর ব্যপারে কিছু অজানা তথ্যঃ

১. আযাযিল বা ইবলিস এর কি বৌ ছিল?
২.যদি বউ থেকে থাকে তবে তার নাম কি?
৩.তার বংশবৃদ্ধির প্রক্রিয়া কি?
৪.তার প্রথম ছেলে মেয়ের নাম কি?
৫.যদি বউ থেকে থাকে তবে তিনিও কি কেয়ামত দেখবেন?
৬.মানুষ কে বিপথে আনার ক্ষেত্র আযাযিল এর বউ এর অবদান কতটুকু?
৭.আসমানে থাকা কালিন ইবলিস এর খাদ্য ছিল কি?কারণ,আমরা জানি জ্বীনদের খাদ্য গোবর, তবে কি আল্লাহ মানুষ এর আগে গরু বানাইছে?

যাইহোক,পরিশেষে এটাই বলবো আযাযিল এর উপর সকল প্রকার কুৎসা বন্ধ করা হোক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “মহাজ্ঞানী ইবলিস

  1. প্রথম ব্লগপোস্ট হিসাবে
    প্রথম ব্লগপোস্ট হিসাবে অসাধারণ লিখছেন। যারা প্রশ্ন করে, জানতে চায় তারাই হচ্ছে ধর্মের প্রধান শত্রু। ধর্ম হচ্ছে বোকা লোকদের জন্য।

    নিয়মিত জ্ঞান চর্চা চালিয়ে যান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

7 + 2 =