জান্নাতের অশান্তি

সে অনেক আগের কথা বাংলাস্তান নামের এক আধুনিক রাষ্ট্রের কাহিনী। যেখানে সবকিছু আল্লাহর বানি সংকলিত মহা বিজ্ঞানময় কিতাব দ্বারা পরিচালিত হত। যেখানে কালজিরা,উটের মূত্রের মত মহাঔষধ ছিল। তো এই রাষ্ট্রের “ইমানদন্ড”নামক এক গ্রামে মোল্লা ইনু এবং তার বউ উম্মে কুলসুম বসবাস করতো। তাহারা খুব-ই খোদা ভিরু ছিলে। আল্লাহ নারাজ হয় এমন কাজ থেকে সব সময় নিজেদের বিরত রাখতেন। উম্মে কুলসুম এর যখন ৯ বছর তখন তাকে বিয়ে করেন মোল্লা ইনু। আর মোল্লা ইনুর বয়স তখন মাত্র ৫৬। তো যাইহোক তাদের সুখের সংসার চলতে থাকে। কিন্তু হঠাৎ একদিন মোল্লা ইনু আমাশয় আক্রান্ত হন এবং মারা যান। অতি উন্নত টনিক উটের মূত্র সেবন করিয়েও তাকে বাচানো সম্ভব হল না। মোল্লা ইনু মারা যাবার সময় কুলসুমের বয়স মাত্র ১৪। এদিকে সংসারে দেখা দিয়েছে প্রচুর অভাব। কুলসুম দিশেহারা হয়ে বুদ্ধি নিতে গেলেন এলাকার মুফতি মেনন সাহেব কেবলার কাছে। কুলসুম হুজুর কেবলাকে সব খুলে বললেন এবং জিজ্ঞাস করলেন বিধবা বিয়ের ক্ষেত্রে শরিয়তে কি বিধান আছে? শরিয়তে এক্ষেত্রে কোন বাধা নেই। আমাদের নবি মগা ডাকাতো বিধবা বিয়ে করেছিলেন সম্পদ এর লোভে। উম্মে কুলসুম আবার চিন্তায় পরে গেলেন তিনি এখন একজন দ্বীনদার পুরুষ কোথায় পাবে।। মুফতি মেনন বললেন কুলসুম তোমার আপত্তি না থাকলে আমি তোমাকে বিয়ে করতে পারি। কুলসুম রাজি হয়ে গেলো। এরপর প্রায় ১০ বছর কেটে গেল। মুফতি মেনন তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন। তার পরকাল গমনের কিছুদিন পরেই উম্মে কুলসুম মারা গেলেন। এখন তিনজন-ই বেহেশত লাভ করেছেন। শুরু হলো নতুন সমস্যা মোল্লা ইনু বলে কুলসুম আমার অপর দিকে মুফতি মেনন বলে আমার। অবশেষে, তিনজন আল্লাহর দরবারে হাজির হলেন। মুফতি মেনন প্রথমেই বলে বসলেন ফয়সালা হবে মগা ডাকাত এর হাদিস দিয়ে,
“মগা ডাঃ-বলেন,
“স্ত্রী জান্নাতে তার শেষ স্বামীর সাথে থাকবেন”
(জামে ছাগীর-৬৬৯১,আলবানী-৩/২৭৫)
আল্লাহ বললেন ঠিক আছে তাহলে কুলসুম মুফতি মেনন এর সাথে থাকবে। ঠিক তখন-ই মোল্লা ইনু বাধা দিলেন এবং মহান আল্লাহকে বললেন,
“হে প্রভু তুমি তো আমাকে বলেছিলে জান্নাতে আমি যা চাইবো তাই পাবো,তাহলে আমি এখন উম্মে কুলসুম কে চাই”
তারপর আল্লাহ বাধ্য হয়ে কুলসুমকে মোল্লা ইনুর কাছে হস্তান্তরের সময় ঠিক একই দাবি মুফতি মেনন পেশ করে।
অতঃপর এভাবেই চলতে থাকে এই ৩ জনের জান্নাতের অসীম সুখের জীবন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “জান্নাতের অশান্তি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

60 + = 61