সাভার ট্র্যাজেডি’র পরের কিছু ঘটনা আর, সমসাময়িক রাজনীতি

পোপ, পুঁজিবাদ আর শ্রমিকের কঠোর সমালোচনা করলেন। আমাদের পোপেরা কই? শান্তির ধর্মের পোপেরা গু আজম- আর দেলু দালালকে বাঁচাতে ব্যস্ত!! হায়রে, ধর্মবেশ্যার দল, তোরা আজ হেলিকপ্টারে করে বিদ্বেষ ছরাচ্ছিস? নিজের মাতৃভূমিকে অচল কররে দেয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছিস ক্রমাগত, অথচ এই দেশপ্রেমই আবার ইমানের অঙ্গ! দেশপ্রেমতো দুরের কথা এতগুলো মানুষের মৃত্যুকে ‘আল্লাহের গজব’ বলে হালাল করতে চলেছে। আসলেইতো তাই ‘আল্লাহের মাল আল্লাহ নিলে তো তাকে আল্লাহের গজবই বলার কথা। ধর্মগুলো আজ কাদের দখলে?

“… চ’লে যাবে শহর বন্দর ধানক্ষেত
কালো মেঘ লাল শাড়ি শাদা চাঁদ পাখির পালক
মন্দির মসজিদ গির্জা সিনেগগ পবিত্র প্যাগোডা।
অস্ত্র আর গণতন্ত্র চ’লে গেছে, জনতাও যাবে;
চাষার সমস্ত স্বপ্ন আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে একদিন
সাধের সমাজতন্ত্রও নষ্টদের অধিকারে যাবে।”— হুমায়ুন আজাদ!

চলে যাবে সব নষ্টদের অধিকারে রয়ে যাবে মানুষ!!
এদেশের সংখ্যাগুরু ধর্ম ইসলামের কোন ধর্মীয় নেতায় গঠনমূলক কিছু করে নাই, উল্টাঃ
হিফাজতের শফি বললেন ‘আল্লাহের গজব’, অর্থাৎ তিনি ঘটনার সর্বগ্রাসী দুর্যোগে বা, বিপর্যয়ে মুগ্ধ আর, প্রীত!! ভিন্ন মতের একাধিক ইসলামিক ধর্মীয় নেতায় এই ব্যাপারে নিশ্চুপ!! অথচ, সাধারণ ধর্মবিশ্বাসীরা নিজ উদ্যোগে ওইখানে সাহায্য করছে অসম্ভব সাহসিকতায়! তারা বুজতেও পারেননি তাদের নেতার সুর। এই কথাটাই বাঙ্গালী মুসলমানদের বুঝানো ‘গাদাকে পুকুরে জল খাওয়ানুর মত’ কষ্টসাধ্য… ভেবে দেখুন ওরা আপানদের কথা বলছে, নাকি আপনাদেরকে দিয়ে ওদের কথা বলাচ্ছে?

নামসর্বস্ব কিছু খুচরা রাজনৈতিক দল ছাড়া সব বড় রাজনৈতিক দলই শোক প্রকাশ করল, যে যার মত সাহায্য করল (হাসিনা-খালেদা-এরশাদ)! কিন্তু, হালের ইসলাম ধর্মের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর জামাত ইসলাম-হিফাজতে জামাত ইসলামরা সবাই চুপ! অথচ, নাস্তিকের দুয়ো তুলে কি তুলকালাম কাণ্ডই না করে যাচ্ছে!! আমি জানিনা ওই শোকে বিহ্বল পরিবারের কাছে তাদের প্রিয়জন হারানোর দুর্ঘটনাটাকে ‘আল্লাহের গজব’ বললে কেমন লাগে!! ধিক এইসব ধর্ম বেশ্যাদের!! এখন হিফাজতের পাপী শফির উপর ‘আল্লাহের গজব’ নামলেই হয়!! এই পাপী শফি বারবার বলে আমরা রাজনীতি করতে আসি নি। তবে উনি কি করতেছেন? সার্কাস দেখাচ্ছেন জাতিকে?
কেউ কেউ বলে পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে, তো হেলিকপ্টারে তাইলে এই জন্যেই চড়া? এই সব গজব মুক্ত হলেই দেশ বাঁচে, মানুষ, মানুষত্বেরও রক্ষা হয়!!

আর জামাত ইসলাম-হিফাজতে জামাত ইসলামদের চক্ষুশূল গনজাগরন মঞ্চের মূল উদ্যোগতা সহ এরা করল অভাবনীয় উদ্ধার ও চিকিৎসা সেবা। ঘটনার দিন ১১ থেকে ৭ ঘণ্টায় ১৬০০ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ আর, স্পটে অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্প সহ সর্বাত্মক সাহায্য করার চেষ্টা তারা করেছে। তারা তাদের সব কর্মসূচীতে আনল পরিবর্তন। আর এরাই নাকি কুরুচিপূর্ণ বিকৃত মানসিকতার নাস্তিক। সাভারের বিপর্যস্ত মানুষের কাছে হিফাজতের পাপী শফি থেকে শাহ্‌বাগের তথাকথিত নাস্তিকেরাই ভাল। তা নিয়েও ছাগুরা আর, ছাগ বান্দব বুদ্ধিজীবীরা স্বভাবসুলভ তেনা পেঁচাইতে লাগল। আজব এক শ্রেণীর মানুষ আসলে এরা। ওদের সব ক্ষোভ নারীর উপর আর, সেই জন্যেই সাভারের ট্র্যাজেডিকে তারা আল্লাহের গজব বলতে দ্বিধা করে না। কোন কালেই নারীকে মানুষ মনে করেনি এই প্রজাতির ধার্মিকেরা। তারা তাদের স্বার্থ উদ্ধারের সময় আবার নারীর সাথে আতাত করতেও পিছপা হয় নাই।

আবার ১মে এর শ্রমিক দিবসের কথা ভাবলেই আমরা কি দেখি? সব বাম সংগঠন, আওয়ামীলীগ এমন কি বিএনপিও অনুষ্ঠান রাখল। অথচ, শ্রমিকদের নিয়ে তাদের কোন ভাষ্য নাই। শ্রমিকের রাজনীতিতো তারা করে না। কারো উন্নতির জন্যে কস্মিনকালেও কিছু করেনি আজও করবে না তা সবারই জানা। কিন্তু, ওই সরল সাধারণ মুসলিম শ্রমিকেরাই তাদের সন্তানকে পড়াবে মাদ্রাসায় আর সে পুত্রই হবে বোনের মৃত্যুর গজব মতবাদের শক্তি। তারেক মাসুদের ‘রানওয়ে ‘ দেখলেই সব পরিষ্কার হবে। তারা শ্রমিকের কথা বলে না, নারীর কথা বলে না অর্থাৎ সমাজের কোন অনগ্রসর অংশের কথায় তারা বলে না, বলবে না। তাহলে যে তাদের ব্যবসার মন্দা আসবে।

হিফাজতিদের উপর আল্লাহর একটা গজব পরলেই বাঙ্গালী বাঁচে।

জয় মজদুর…জয় বাংলার নারী… জয় শ্রমিক… জয় কৃষক…

জয় বাংলা… জয় বঙ্গবন্ধু… জয় শাহ্‌বাগ… জয় তারুণ্য..

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “সাভার ট্র্যাজেডি’র পরের কিছু ঘটনা আর, সমসাময়িক রাজনীতি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 8 = 1