হেফাজতের শফি’রা যুগে যুগে আছে, থাকবে…

দেশের একটাগোষ্টি শুরুর থেকেই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এবং আজও তারা তাদের নোংরা থাবা বসাতে চায় বাংলাদেশের বুকে। অতীতে বরারবরই এ দেশের যুব সমাজের কাছে পরাজয় বরণ করে পিচু হটেছে। কৌসল পরিবর্তন করে এসেছে বার বার।
নাম পরিবর্তন, পোশাক পরিবর্তন এমনকি নিজেদের কে ইসলামের খেদমতের নামে তারা তাদের স্বার্থ হাসিল করার হীন মানসিকতা বাস্তবায় করার লক্ষ্যে আজ অনেক দূরে।
এদেশে তরুন সমাজ যখন বুঝতে সক্ষম হয়ে তাদের বয়কট করতে শুরু করেছে, এখন আবার নতুন নামে পথ চলা শুরু করেছে। যুগে যুগে কিছু স্বার্থলোভী টাকার বিনিময়ে পাওয়া কিছু ধর্মগুরুর নামে ধর্ম ব্যবসায়ী খুজে খুজে বের করে তাদের মাধ্যমে আবার নিজেদের স্বপ্ন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে চলা।
যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, আলবদর, আলসামস্ এর লোক ও তাদের সমর্থন ছাড়া দেশের পুরো মানুষ যেখানে সাভার বিপর্যয়ে শোকাহত, সেখানে তথাকথিত হেফাজতের শফিরা হেলিকপ্টার যোগে চড়ে বেড়িয়েছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।
প্রশ্ন এত টাকা কোথায় পেল আর তাদের মানসিকতাই বা কেমন? ছোটকাল থেকে দেখে এসেছি, শফিরা তাদের ছাত্রদের মাধ্যমে ফেতরার টাকা, ছদকার টাকা, কোরবানীর গরুর চামড়ার টাকা আল্লাহ্’র ওয়াস্তে চেয়ে নিয়ে যেতেন। গরীব ও এতিম ছাত্রদের লেখাপড়া করার আড়ালে কি নিজেরা কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন নাকি অন্য কোনো অবৈধ টাকা দিয়ে নিজেরা দেশের ভিতরে একটা সন্ত্রাসীমুলক কর্মকান্ড পরিচালনা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন।
আমাদের সবাই কে নিজ নিজ দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য যুব সমাজ কে এই সব ষড়যন্ত্রকারীদের হাত থেকে জাতি কে রক্ষা করতে হবে। সরকার কে হেফাজতের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে হবে।
আজ শফির মত লোকেরা কিছু মাদ্রাসার ছাত্রদের দিয়ে দেশের ভিতরে একটা নাসকতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে। বাধ্য করা হচ্ছে ছাত্রদের দিয়ে নানান ধরনের নাসকতা তৈরি করার।
এ নাসকতা শুধু দেশের মানুষের জন্য নয়, নাসকতা খোদ আল্লাহ্’র প্রতিও। সম্প্রতি, লং মাচ নিয়ে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (স.) এর হিযরত করার সাথে তুলনা করে শফিরা যে বক্তব্য দিয়েছে তা ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে প্রচন্ড কষ্ট দিয়েছে। এক শ্রেণীর প্রকৃত ধর্মানুভূতিতে আঘাত দিয়ে বিতর্কিত হয়েছেন তথাকতিথ শফিরা।
যুগ যুগ ধরে ধর্মকে পূজি করে এক শ্রেণীর মানুষ নিজেদের স্বার্থসীদ্ধি করার লক্ষ্যে কিছু ঈমানী দূর্বল লোকদের কে ব্যবহার করে থাকেন। মূর্খ ও অর্ধশিক্ষিত লোকের সমন্বয়ে কিছু লোকদের পেশি শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে সমাজের গাঁ বাঁচানো কিংবা টকশোতে ঝড় তুলার দূর্বল রূদয়ের তথাকথিত কিছু ভদ্রলোকদের নজর কাড়ার চেষ্টা করা। আবার টাকার বিনিময়ে বিতর্কিত মিডিয়ার নজর কাড়ার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করা।
হেফাজতের শফিরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যেভাবে বক্তব্য দিয়ে আসছে, তা শুধু অপরাধই নয় রিতিমত রাষ্ট্রযন্ত্রের শক্তিগুলো কে চ্যালেঞ্জ চুড়ে দেওয়া। দেশেরে আলেম সমাজ কে লাঞ্চিত করা, নিজেদের কে আল্লাহ্’র চেয়েও বেশী কিছু ভাবা সত্যিই দুঃখ জনক।
আমাদের সমাজে কিছু লোক আছে যারা মনে করেন, নিজ সন্তান কে ইসলামিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারলে চৌদ্দগুষ্টি বেহেস্তে যেতে পারবে। তাই জোড় করে তাদের এতিম সাজিয়ে এইসব শফিদের মাধ্যমে ছেলেদের জীবন ধ্বংস করেফেলে। প্রয়োজন হলে শিশুদের হাতে পায়ে শিকল পড়িয়ে হলেও তাদের বেহেস্তে যাবার ব্যবস্থা করতে হবে। ভুড়ি ভুড়ি অভিজ্ঞা আমার ব্যক্তি জীবনে অবলোকন করতে সক্ষম হয়েছি।
কোথায় লেখা আছে আমা জানা নেই এবং এসব মানুষদের ভিতরে কারা এই বিশ্বাস ডুকিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে তাও জানা নেই।
সেকেলের শিশুরা আজ শফিদের ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিক শিক্ষার ধারে কাছে তো নেই-ই, নেই প্রগতিল শিক্ষার মানদণ্ড।
আমরা যারা তথাকতিথ বেহেস্তের কথা চিন্তা করে পাশের বাড়ীর দুস্থ্য মানুষ কে সহায়তা না করে শফিদের মাদ্রাসায় কাড়ি কাড়ি টাকা দিয়েছি, দিয়েছি গরুর চামড়া বা তার টাকা, তারা কি এই শফি বা তার বাহিনী নিয়ে কোনো কিছু ভাবছে? তারা কি রিতিমত অবাক হচ্ছে না কি তারাও শফিদের বানানোর জন্য সমান অপরাধী।
অনেক সময় নষ্ট ছেলের জন্য বাবা যেমন কষ্ট পায় তেমনি আমরা যারা বেহেস্তের লোভে আল্লাহ্’র নামে শফিদের হেলিকপ্টারে চড়াতে সাহায্য সহযোগীতা করেছি তারা কি আজ কষ্ট পাচ্ছে নাকি মুচকিয়ে মুচকিয়ে হাসছে?
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে একজনই, একজনই জাতির জনক, একজনই হয়েছেন হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী, কর্মের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন শেখ মুজিবুর রহমান। আপনার কর্মই আপনাকে বিখ্যাত করে তুলবে। আপনার আমলই আপনাকে ভালো-খারাপের ফলাফল ভোগ করতে সহায়তা করবে।
কারো আমলে কেউ বেহেস্তে যেতে পারে, তা আমার জানা নেই। আপনার ভাই, আপনার আত্মীয় পরিজন কিংবা পাশের বাড়ীরি কোনো শিশুর জীবন ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর সংগ্রামে আপনাকে এগিয়ে আসতে হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “হেফাজতের শফি’রা যুগে যুগে আছে, থাকবে…

  1. কুরবানির গরু জবাই…গরুর
    কুরবানির গরু জবাই…গরুর চামড়া নিয়ে বিক্রি করা…
    মিলাদ পড়ানো…খৎনায় দোয়া…ব্লা…ব্লা…
    এমন আরও অনেক ভাবেই আমরা নিজেরা ডাইনিং রুম থেকে তাদের আমাদের মুখোমুখি দাঁড় করাইছি!!! এইসব উচ্ছিষ্টভুগি পরজীবীদের থেকে কবে মুক্তি পাবে এই দেশ?
    অপেক্ষায় থাকলাম…

    ভাল লিখেছেন… চালাই জান!!

  2. শফীদের দান খযরাত না করার
    শফীদের দান খযরাত না করার সিদ্ধান্ত অনেক আগে থেকেই নিয়ে ফেলেছি। যদি দান করতেই হয়, তা করবো দরিদ্র প্রতিবেশীদেরকে…..

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 1 =