ঈশ্বর, শয়তান ও আমরা

ঈশ্বর নিয়ে কালে কালে অনেক কথাই হয়ে গিয়েছে। প্রায় সকল ধর্মমতেই ঈশ্বরের বিপরীতে দাঁড়িয়েছে শয়তান। তবে ধর্মগ্রন্থ জুড়ে তার উপস্থিতি ঈশ্বরের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য হলেও ধর্মের গল্পে শয়তান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্র। শয়তানের স্বরুপ সন্ধান, ঈশ্বরের ধারনা বুঝার জন্যই প্রয়োজন। কেননা শয়তান ছাড়া ঈশ্বরের অস্তিত্ব যেন অনেকটাই জৌলুসহীন হয়ে পড়ে। শয়তান সম্পর্কে ধর্মমতে সবচেয়ে বেশী প্রচলিত ধারনাগুলোর দিকে লক্ষ্য করলেই তা বুঝা যায়। যেমন – শয়তান ঈশ্বরের অনুসারীদের প্ররোচিত করে এবং পৃথিবী জুড়ে অশান্তি ছড়িয়ে দেয়। তবে ঈশ্বর তাকে বধ করেন না বা থামান না যদিও ঈশ্বর সর্বশক্তিমান। ঈশ্বরের সৃষ্ট জীবকে শয়তান যদি প্ররোচিত করতে পারে আর ঈশ্বর যদি তা বন্ধ করতে না পারে, তবে ঈশ্বর শয়তানের কাছে পরাজিত হননা কি?তবে কি ঈশ্বর সর্বশক্তিমান নয়?ঈশ্বরসৃষ্ট এই পৃথিবীতে, যেখানে শয়তানের কাছে আংশিক হলেও ক্ষমতা থাকে সেখানে ঈশ্বর কিভাবে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হন?

ঈশ্বর অনুসারীরা শয়তানের প্ররোচনায় পা দেয় কিনা সেটা নাকি ঈশ্বরের একটা পরীক্ষা। তবে ঈশ্বর প্রতিটি মানুষের জন্মের সময়ই তার ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন। এবং তার ইচ্ছাতেই সমস্ত কিছু পরিচালিত হয়।যদি তাই হয় তবে ঈশ্বর কি পরীক্ষা করেন, যখন পরীক্ষার ফল তার ইচ্ছাতেই পূর্ব নির্ধারিত?তবে কি এই পরীক্ষা অস্থির-অতৃপ্ত ঈশ্বরে বিশ্বাসীদের ভুলিয়ে রাখার একটা কৌশল মাত্র?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কোন ধর্মতেই পরিষ্কার ভাবে দেয়া নেই। কেননা শয়তানের অস্তিত্ব ছাড়া যেমন ঈশ্বর অনেকটাই প্রয়োজনহীন হয়ে পরেন তেমন শয়তানের অস্তিত্বও ঈশ্বরের অস্তিত্ব ও ক্ষমতা সম্পর্কে প্রশ্নের জন্ম দেয়। কেননা শয়তান না থাকলে ঈশ্বর এর উপযোগীতা ও চাহিদা অনেকটাই কমে যায়। অন্যদিকে শয়তানের অনিষ্ট করার ক্ষমতাও ঈশ্বরের সর্বময় ক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলে। আর এই অস্বশ্তিকর পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতেই আমরা ভগবানের লীলাখেলা বুঝা বড় দায় বলে অনির্দিষ্টবাদী হয়ে পরি।

কেননা এই লীলাখেলা বুঝতে গেলে হোচট খায় এর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। একই সাথে মুখ থুবড়ে পড়ে সমাজের প্রতিষ্ঠিত স্ট্যাটাস ক্যু।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “ঈশ্বর, শয়তান ও আমরা

  1. ধন্যবাদ। মানুষকে নিয়ে বিশ্ব
    ধন্যবাদ। মানুষকে নিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে যদি এমন যৌক্তিকভাবে সবাই ভাবতে ও বলতে শুরু করে,,,,,বেহেস্ত দোযখের ভয় দেখিয়ে দেখিয়ে মানুষকে আল্লাহ বিশ্বাসী করার চেষ্টা করতে গিয়ে কত যে ধ্বংস হল তার কোন হিসেব রাখার কেউ নেই। কারণ ধর্ম অনেকগুলো। আর প্রত্যেক ধর্মই অন্য ধর্মকে মিথ্যে মনে করে এবং আন্য ধর্মের লোকদের ছোট করে দেখে,,,,,ফলে খুন করতেও বাধেনা। বিজ্ঞাসম্মত কোন দর্শন জনগণ অনুসরণ করুক তা শাসক শ্রেণী চায়না,এ ব্যাপারে তারাই পানি বেশী ঘোলা করে রাখে, তাই মানুষ হাবুডুবু খেতেই আছে, খেতেই থাকবে আরও অনেকদিন,,,,,পানি ঘোলা করার অধিকার ও সুযোগ শাসক শ্রেণীরই অপরিসীম,,,,,

    1. কারন ধর্ম দিয়ে যদি মানুষের
      কারন ধর্ম দিয়ে যদি মানুষের মাঝে গ্রুপিং করা যায় তাহলে সেটা অনেক সহজ, আর অনেক বড় পরিসর নিয়ে করা যায়। তাই ক্ষমতাবানরা চিরকালই ধর্মের প্রচার ও প্রসারে অনুরক্ত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

93 − = 83