এই(কোরান-হাদিসের) মুহাম্মদ, সেই(হৃদয়ে থাকা) মুহাম্মদ না

আমাদের জানা মুহাম্মদ হলো – দয়াল, নি:স্বার্থ, নির্লোভী, ন্যায় পরায়ন, সংযমী মানুষের এক চরম উদাহরন। শৈশব থেকেই আমরা সেসবই জেনে এসেছি। আমরা সেই মুহাম্মদকে ভালবাসি , তার আদর্শ অনুসরনের চেষ্টা করি। কিন্তু কোরান হাদিস সিরাত ইত্যাদিতে যে মুহাম্মদকে আমরা আবিস্কার করি , দেখা যায়, এই মুহাম্মদ হলো কামুক, নারী লিপ্সু, রিপু তাড়িত , ক্ষমতালোভী, ভয়ংকর একনায়ক হিংস্র খুনী ছাড়া আর কিছুই না। সুতরাং আমরা এখন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি , এই নতুন মুহাম্মদ আমাদের সেই মুহাম্মদ না। এই মুহাম্মদ নিশ্চিতভাবেই ইহুদি বা মোসাদের তৈরী এক নতুন মুহাম্মদ।

আমাদের জানা মুহাম্মদ হলো – দয়াল, নি:স্বার্থ, নির্লোভী, ন্যায় পরায়ন, সংযমী মানুষের এক চরম উদাহরন। শৈশব থেকেই আমরা সেসবই জেনে এসেছি। আমরা সেই মুহাম্মদকে ভালবাসি , তার আদর্শ অনুসরনের চেষ্টা করি। কিন্তু কোরান হাদিস সিরাত ইত্যাদিতে যে মুহাম্মদকে আমরা আবিস্কার করি , দেখা যায়, এই মুহাম্মদ হলো কামুক, নারী লিপ্সু, রিপু তাড়িত , ক্ষমতালোভী, ভয়ংকর একনায়ক হিংস্র খুনী ছাড়া আর কিছুই না। সুতরাং আমরা এখন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি , এই নতুন মুহাম্মদ আমাদের সেই মুহাম্মদ না। এই মুহাম্মদ নিশ্চিতভাবেই ইহুদি বা মোসাদের তৈরী এক নতুন মুহাম্মদ।

যেমন মুহাম্মদ কতটা যৌনতাড়িত নারী লিপ্সু মানুষ ছিল তার প্রমান পাওয়া যাবে নিচের একটা হাদিসেই —

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩২৪০(ইসলামি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ হাদিস নং- ৩২৭৭)
আমর ইবন আলী (র)……জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত । রাসুলুল্লাহ (সা) এক মহিলাকে দেখলেন ও ভীষনভাবে যৌন উত্তেজিত হয়ে পড়লেন । তখন তিনি তার স্ত্রী যায়নাব (রাঃ)-এর নিকট আসলেন । তিনি তখন তার একটি চাড়মা পাকা করায় ব্যস্ত ছিলেন এবং রাসুলুল্লাহ (সা) তার সাথে যৌনকাজ করে ঠান্ডা হলেন। তারপর বের হয়ে সাহাবীদের নিকট এসে তিনি বললেনঃ স্ত্রীলোক সামনে আসে শয়তানের বেশে এবং ফিরে যায় শয়তানের বেশে । অতএব তোমাদের কেউ কোন স্ত্রীলোক দেখতে পেলে সে যেন তার স্ত্রীর নিকট আসে । কারণ তা তার মনের ভেতর যা রয়েছে তা দূর করে দেয় ।

আমাদের জানা সংযমী মুহাম্মদের সাথে উক্ত হাদিসের মুহাম্মদের কোনই সাদৃশ্য নেই। উক্ত হাদিসের মুহাম্মদ হলো একটা যৌনতাড়িত নারী লিপ্সু যার নাকি ন্যুনতম সংযম নেই , রাস্তাঘাটে কোথাও নারী দেখামাত্রই তার ইমানদন্ড এতটাই উত্তেজিত হয়ে ওঠে যে তাকে অবশেষে স্ত্রীর কাছে গিয়ে যৌনকাজ করে তার ইমানদন্ডকে ঠান্ডা করতে হয়। মুহাম্মদ এমন কি সংযমের মাস রমজানে রোজা থেকেও সংযম পালন করতে পারত না যেমন –

সুনান আবু দাউদ :: সাওম বা রোজা অধ্যায় ১৪, হাদিস ২৩৮২(ইফাবা হাদিস নং- ২৩৭৪)
মুসাদ্দাদ -আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) রোযা থাকাবস্থায় তাঁকে চুম্বন করতেন এবং তিনি রোযাবস্থায় তাঁর সাথে সহাবস্থান করতেন। তবে তিনি ছিলেন কঠোর সংযমী।

তার মানে রোজার সময় যখন মানুষকে সবচাইতে বেশী সংযমী হতে হয় , তখনও মুহাম্মদ সংযম রাখতে পারত না , সে তখন তার শিশু স্ত্রী আয়শার সাথে চুমাচুমি করত।

এছাড়া আমরা কোরান হাদিস থেকে আরও জানতে পারি যে , খাদিজা বেঁচে থাকার সময় তার বাড়ীতে ঘরজামাই থাকাকালে মুহাম্মদ একটাও বিয়ে করতে পারে নি , কিন্তু খাদিজা মরার পর মুহাম্মদ একটার পর একটা বিয়ে করতে করতে মোট ১৩ টা বিয়ে করে, যত ইচ্ছা খুশী বিয়ে করার জন্যে এমন কি কোরানের আয়াত নাজিল করে যেমন –

সুরা আহযাব-৩৩: ৫০: ———– কোন মুমিন নারী যদি নিজেকে নবীর কাছে সমর্পন করে, নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য-অন্য মুমিনদের জন্য নয়। আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশে। মুমিনগণের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি আমার জানা আছে। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।

এত তরুনী স্ত্রীতেও মুহাম্মদের তৃপ্তি হচ্ছিল না দেখে অবশেষে মুহাম্মদ কিছু দাসী গ্রহন করে , তাদের সাথে অবাধ যৌনলীলায় মত্ত হয়ে পড়ে , তেমনই এক দাসীর গর্ভে মুহাম্মদ একটা জারজ বাচ্চা ইব্রাহীমেরও জন্ম দেয়( সুত্র: পৃষ্ঠা নং- ৬৫৩, সিরাত রাসুলুল্লাহ, ইবনে ইসহাক-https://archive.org/details/TheLifeOfMohammedGuillaume)

এসব ঘটনা মুহাম্মদকে একটা লম্পটের পর্যায়ে উন্নীত করেছে। কিন্তু আমরা যে মুহাম্মদকে বিশ্বাস করি সে যে এরকম লম্পট ধরনের মানুষ তা আমরা কোনভাবেই বিশ্বাস করি না। আমরা কল্পনাই করতে পারি না যে শুধুমাত্র যৌনলীলার জন্যে মুহাম্মদ একটার পর একটা এত বিয়ে করবে বা দাসীর সাথে যৌন ফুর্তি করতে পারে । কোরান হাদিসের মুহাম্মদ সবচাইতে ভয়াবহ অমানবিক ও অনৈতিক যে বিধান জারী করে তা হলো যুদ্ধ বন্দিনী ধর্ষন করা। কোরানের সুরা নিসা ৪:২৪ আয়াত নাজিলই হয় যুদ্ধ বন্দিনী নারীদেরকে ধর্ষন করাকে বৈধ করার জন্যে সেটা সুন্দরভাবে বলা আছে হাদিসে , যেমন –

সহিহ মুসলিম :: খন্ড ৮ :: হাদিস ৩৪৩২(ইফাবা হাদিস নং- ৩৪৭৭,৩৪৭৮)
উবায়দুল্লাহ ইবন উমর ইবন মায়সারা কাওয়ারীরী (র)……।আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা) হুনায়নের যুদ্ধের সময় একটি দল আওতাসের দিকে পাঠান । তারা শক্রদলের মুখোমুখী হয়েও তাদের সাথে যুদ্ধ করে জয়লাভ করে এবং তাদের অনেক কয়েদী তাদের হস্তগত হয় । এদের মধ্য থেকে বন্দিনী নারীদের সাথে সহবাস করা রাসুলুল্লাহ (সা) -এর কয়েকজন সাহাবী যেন না জায়িয মনে করলেন, তাদের মুশরিক স্বামী বর্তমান থাকার কারণে । আল্লাহ তায়ালা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন “এবং নারীর মধ্যে তোমাদের অধিকারভূক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধ্বা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ-, অর্থাৎ তারা তোমাদের জন্য হালাল, যখন তারা তাদের ইদ্দত পূর্ন করে নিবে”(সুরা নিসা-৪:২৪)

মুহাম্মদের সাহাবীরা ইতস্তত: করছে সেইসব বন্দিনী নারীদেরকে ধর্ষন করতে কারন তাদের স্বামীরা তখনও জীবিত , কিন্তু কোরান ও তার নবী মুহাম্মদ বলছে , কোন সমস্যা নেই , তারা সেইসব বন্দিনী নারীদেরকে ধর্ষন করতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি আল্লাহ হলো দয়ালু , ন্যায়বান , করুনাময় ও তার নবীও সেইরকম কিন্তু তারা যদি বলে বন্দিনী অসহায় নারীদেরকে ধর্ষন করতে , তাহলে আল্লাহ ও তার নবী আর করুনাময় হলো কেমনে ? অন্তত: আমরা যে নবী মুহাম্মদকে বিশ্বাস করি , সেই মুহাম্মদ কোনমতেই এমন নিষ্ঠুর পাশন্ড হতে পারে না ।

এভাবে আরও বহু উদাহরন দেয়া যেতে পারে যা থেকে দেখা যায় কোরান ,হাদিস সিরাত ইত্যাদিতে মুহাম্মদের যে চিত্র অংকন করা হয়েছে তা হলো এক কামুক , লম্পট , নিষ্ঠুর , একনায়ক খুনির চিত্র। আমরা যে মুহাম্মদকে বিশ্বাস করি , সেই মুহাম্মদ কোনমতেই এরকম না , এরকম হতেই পারে না। আমরা এসব বিশ্বাস করি না।

সুতরাং সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে – কোরান হাদিস সিরাতে যে মুহাম্মদের বর্ননা করা হয়েছে তা নিশ্চিতভাবেই ইসলামের শত্রু ইহুদি নাসারা কাফিরদের ষড়যন্ত্র, তারাই কোরান হাদিস সিরাতে মুহাম্মদ ও ইসলামকে এমন অনৈতিক ও নিষ্ঠুরভাবে চিত্রিত করেছে। আমরা এই মুহাম্মদ ও এই ইসলামকে বিশ্বাস করি না ,মানি না মানতে পারি না।

অতএব আমাদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এই যে – কোরান হাদিস সিরাত বর্নিত এই মুহাম্মদ , আমাদের মনের গহীনে থাকা সেই মুহাম্মদ না। সবাই বল – সুবহান আল্লাহ !

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

41 − 35 =