নবী মুহাম্মদ ও তার পুত্রবধু জয়নাবের প্রেম কাহিনী: ইতিহাসের শ্রেষ্ট প্রেম কাহিনী

নবী মুহাম্মদ ছিল সর্বশ্রেষ্ট আদর্শ মানুষ , বিজ্ঞানী , হেন তেন বহু কিছু। কিন্তু কেউ কখনও শোনে নি নবী মুহাম্মদ ছিল সর্বশ্রেষ্ট রোমান্টিক প্রেমিকও। তার প্রেমের কাছে রোমিও জুলিয়েট , লাইলি মজনু এসব ফেল। কিন্তু ওয়াজ/ইসলামী জলসায় কোন আলেম মুহাম্মদকে দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ট প্রেমিক হিসাবে প্রচার করে না।কেন করে না ? লজ্জায় নাকি অন্য কারনে ? তারা কি জানে না, মুহাম্মদ তার পুত্রবধু জয়নাবের সাথে এমন কঠিন প্রেম করেছিল, যার জন্যে খোদ আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছিল আর তাকেই শেষ পর্যন্ত ঘটকালি করতে হয় মুহাম্মদ ও তার পুত্রবধু জয়নাবের বিয়ের জন্যে ?

নবী মুহাম্মদ ছিল সর্বশ্রেষ্ট আদর্শ মানুষ , বিজ্ঞানী , হেন তেন বহু কিছু। কিন্তু কেউ কখনও শোনে নি নবী মুহাম্মদ ছিল সর্বশ্রেষ্ট রোমান্টিক প্রেমিকও। তার প্রেমের কাছে রোমিও জুলিয়েট , লাইলি মজনু এসব ফেল। কিন্তু ওয়াজ/ইসলামী জলসায় কোন আলেম মুহাম্মদকে দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ট প্রেমিক হিসাবে প্রচার করে না।কেন করে না ? লজ্জায় নাকি অন্য কারনে ? তারা কি জানে না, মুহাম্মদ তার পুত্রবধু জয়নাবের সাথে এমন কঠিন প্রেম করেছিল, যার জন্যে খোদ আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠেছিল আর তাকেই শেষ পর্যন্ত ঘটকালি করতে হয় মুহাম্মদ ও তার পুত্রবধু জয়নাবের বিয়ের জন্যে ?

মুহাম্মদ ও তার পুত্রবধু জয়নাবের প্রেমের সূত্রপাত যেভাবে হয়েছে তার সংক্ষিপ্ত বিবরন নিম্নরূপ:

জায়েদ ছিল মুহাম্মদের পালিত পুত্র যাকে মুহাম্মদ ৫ বছর বয়স থেকেই নিজ পুত্র জ্ঞানে লালন পালন করেছিল এবং সমাজে ঘোষনা দিয়েছিল তার নাম জায়েদ ইবনে মুহাম্মদ অর্থাৎ মুহাম্মদের পূত্র জায়েদ। যুবক বয়েসে মুহাম্মদ নিজেই জায়েদকে জয়নাবের সাথে বিয়ে দেয়। একদিন মুহাম্মদ জায়েদের বাড়ীতে যায় , তখন জায়েদ বাড়ীতে ছিল না। মুহাম্মদ দরজার ফাক দিয়ে ঘরে উকি মারে , তখন জয়নাব যে কোন কারনে প্রায় নগ্ন অবস্থায় ছিল যা মুহাম্মদের ইমানদন্ডকে উত্থিত করে দেয়, সেই সাথে তার হৃদয়ে প্রবল ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। মুহাম্মদ চলে যাওয়ার সময় বলতে থাকে- “কার মন কখন আল্লাহ পরিবর্তন করে দেয় সেটা বোঝা দায়”। বিষয়টা জয়নাব ঠিকই বুঝতে পারে। জায়েদ ঘরে আসার সাথে সাথে জয়নাব বিষয়টা তাকে বলে , জায়েদ ঠিকই বুঝতে পারে যে মুহাম্মদ জয়নাবের প্রেমে পড়েছে। কাল বিলম্ব না করে , জায়েদ মুহাম্মদের কাছে ছুটে যায়, আর বলে , যদি মুহাম্মদ তাকে বিয়ে করতে চায়, তাহলে সে তাকে তালাক দেবে। জায়েদ জানত , মুহাম্মদ তখন মদিনার সর্বেসর্বা , সেই মুহাম্মদ জয়নাবের প্রেমে পড়েছে , তখন জায়েদের জয়নাবকে তালাক দিয়ে মুহাম্মদের সাথে বিয়ে দেয়া ছাড়া তার আর গত্যন্তর ছিল না।
(সুত্র: আল তাবারি, পৃষ্ঠা নং-৪ , ৮ম খন্ড- সাইট: http://kalamullah.com/tabari.html)

কিন্তু পালিত পুত্রবধুর স্ত্রীকে বিয়ে করাটা সেই তখনকার আরবেও একটা খুব অনৈতিক ও খারাপ কাজ বলে গন্য করা হতো। কারন পালিত পুত্রকে আরবরা নিজের পুত্র হিসাবেই গন্য করত। সুতরাং সেটাকে থামাতে দয়াল আল্লাহ সাথে সাথেই আয়াত নাজিল করে পাঠায়—-
সুরা আহযাব- ৩৩: ০৪: —————তোমাদের পোষ্যপুত্রদেরকে তোমাদের পুত্র করেননি। এগুলো তোমাদের মুখের কথা মাত্র। আল্লাহ ন্যায় কথা বলেন এবং পথ প্রদর্শন করেন।
আহযাব-৩৩:০৫: তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাক। এটাই আল্লাহর কাছে ন্যায়সঙ্গত। যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জান, তবে তারা তোমাদের ধর্মীয় ভাই ও বন্ধুরূপে গণ্য হবে। এ ব্যাপারে তোমাদের কোন বিচ্যুতি হলে তাতে তোমাদের কোন গোনাহ নেই, তবে ইচ্ছাকৃত হলে ভিন্ন কথা। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

অর্থাৎ পালিত পূত্র কোন পূত্র নয়। তাই পালিত পুত্রের স্ত্রীকে শ্বশুর বিয়ে করতে পারবে। এর পর যথারীতি জায়েদ জয়নাবকে তালাক দিল , তালাক না দিয়ে তার উপায় ছিল না। কারন দ্বীন দুনিয়ার সর্বশ্রেষ্ট মানুষ ও নবী মুহাম্মদ তার পূত্রবধুর প্রেমে পড়েছে , তারা বিরহ যন্ত্রনায় কাতর, তা দেখে আল্লাহর আরশ পর্যন্ত কেঁপে উঠছে, আল্লাহ পর্যন্ত ব্যাতিব্যস্ত হয়ে তাৎক্ষনিকভাবে আয়াত নাজিল করছে।কিন্তু বিয়ের পরেও লোকজনের কানাঘুষা বন্দ করা গেল না। লোকজন মুহাম্মদ সম্পর্কে আড়ালে আবডালে নানা কথা বলতে লাগল , বলতে লাগল – এই মুহাম্মদ তো দেখি লুইচ্চা ! যে নাকি তার পুত্রবধুকেও ছাড়ে না ! মুহাম্মদের এই মারাত্মক বিপদে আল্লাহর আরশ আবার কেঁপে উঠল, কাল বিলম্ব না করে সাথে সাথেই আল্লাহ তার গদি রক্ষার্থে আয়াত পাঠিয়ে দিয়ে মুহাম্মদকে ঠান্ডা করল ও বর্বর আরবদের মুখ ভোতা করে দিল —

সুরা আহযাব- ৩৩: ৩৭: আল্লাহ যাকে অনুগ্রহ করেছেন; আপনিও যাকে অনুগ্রহ করেছেন; তাকে যখন আপনি বলেছিলেন, তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই থাকতে দাও এবং আল্লাহকে ভয় কর। আপনি অন্তরে এমন বিষয় গোপন করছিলেন, যা আল্লাহ পাক প্রকাশ করে দেবেন আপনি লোকনিন্দার ভয় করেছিলেন অথচ আল্লাহকেই অধিক ভয় করা উচিত। অতঃপর যায়েদ যখন যয়নবের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল, তখন আমি তাকে আপনার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করলাম যাতে মুমিনদের পোষ্যপুত্ররা তাদের স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে সেসব স্ত্রীকে বিবাহ করার ব্যাপারে মুমিনদের কোন অসুবিধা না থাকে। আল্লাহর নির্দেশ কার্যে পরিণত হয়েই থাকে।

মুহাম্মদ বলেছিল , জায়েদ , তুমি তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই রাখ। কিন্তু আল্লাহর ইচ্চা ভিন্ন। আল্লাহ তো জানে , মুহাম্মদ জয়নাবের প্রেমে পড়েছিল, জয়নাবের নগ্ন শরীর নিয়ে লীলা খেলা করার জন্যে মুহাম্মদ উন্মাদ হয়ে গেছিল। কিন্তু মুহাম্মদ সেটা কাউকে লজ্জা শরমের কারনে বলতে পারছিল না। কিভাবে বলবে- মুহাম্মদ কি কাউকে বলতে পারত – আমি আমার পুত্রবধু জয়নাবের প্রেমে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছি। এর চাইতে লজ্জা শরমের কথা কি আর হতে পারে ? সুতরাং মুহাম্মদ যে লোক দেখান ভাবে জায়দকে তার স্ত্রী জয়নাবকে কাছে রাখতে বলেছিল , সেটা বুঝতে তো আর বিশাল বিজ্ঞানী হওয়া লাগে না , বিশেষ করে সবজান্তা আল্লাহর তো সেটা বুঝতে মোটেই সমস্যা নেই। আর সেজন্যেই মুহাম্মদ ও জয়নাবের প্রেম কাহিনীর সফল পরিনতির জন্যে আল্লাহ দিন নাই রাত নাই , একের পর এক আয়াত পাঠিয়ে গেছে।

তার মানে দেখা যাচ্ছে নবী মুহাম্মদ ও তার পূত্রবধু জয়নাবের এই প্রেম কাহিনীর শুভ পরিনতির জন্যে খোদ আল্লাহকেও মহা পেরেশানিতে পড়তে হয়েছে এবং তাকেই এই ঘটকালী করতে হয়েছে। যে প্রেম কাহিনীর পরিনতি দিতে খোদ আল্লাহকেও ব্যাতিব্যস্ত হতে হয়ে , তাকে ঘটকালি করতে হয় , তার চাইতে শ্রেষ্ট প্রেম কাহিনী কি দুনিয়ার ইতিহাসে আর দ্বিতীয়টা আছে ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১০ thoughts on “নবী মুহাম্মদ ও তার পুত্রবধু জয়নাবের প্রেম কাহিনী: ইতিহাসের শ্রেষ্ট প্রেম কাহিনী

  1. হযরত মুহাম্মদ এমনটা না করলে
    হযরত মুহাম্মদ এমনটা না করলে তার প্রতি আমরা নিরঙ্কুশ শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা রাখতে পারতাম। আফসোস, সেটা তো হুবার নয়।

    1. কেন আর কোন পয়েন্ট নাই ?
      কেন আর কোন পয়েন্ট নাই ?

      মুহাম্মদ যে খায়বার আক্রমন করে সকল পুরুষদেরকে হত্যা করে সেখানে ইহুদি সর্দার কিনানার স্ত্রীকে বন্দি করে প্রথম রাতেই ধর্ষন করেছিল , সেটা খুব মানবিক ছিল নাকি ?

      মুহাম্মদ বুড়া কালে ৬ বছরের আয়শাকে বিযে করে , ৯ বছরের আয়শার সাথে যৌন সঙ্গম করে , সেটা কি ধর্ষন ছিল না ?

      এত কিছুর পরে যদি কেউ মুহাম্মদকে মনে করে সে ছিল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট আদর্শ মানুষ , তাহলে তাদের মানসিক চিকিৎসা দরকার।

  2. কাঠমোল্লার ঠিকানা দেন। তার
    কাঠমোল্লার ঠিকানা দেন। তার নামে ধর্ম অবমাননার জন্য আইসিটি আইনে মামলা করব। ঠিকানা না দিলে ইস্টিশন ডটকমের নামে মামলা করব।

    1. আপনি একজন খাটি মুমিন বোঝা
      আপনি একজন খাটি মুমিন বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু কথা হলো , কাঠমোল্লা বা এই ব্লগ সাইটের বিরুদ্ধে মামলা কেন করবেন। মামলা তো করা উচিত কোরান হাদিস ও সিরাতের বিরুদ্ধে। কারন এই পোষ্টে তো কোরান ও সিরাত থেকে উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে। তাহলে দোষটা কার ? আমার বা ব্লগ সাইটের, নাকি কোরান, সিরাতের ?

  3. প্রেম কাহিনীতো সত্যি হয়ছে
    প্রেম কাহিনীতো সত্যি হয়ছে কিন্তু এতো বাজে ভাবে কখনোই হয়নি। এখানে যেইভাবে কথা গুলো লিখা আছে কথা গুলো সত্যি অনেক বাজে ভাবে লিখা আছে।পৃথিবীর শেষ্ঠ মানবের প্রেম কাহিনী কখনো এতো বাজে ভাবে হয়নি। আর আমি এটা নিশ্চিত যে এটা কোনো মুসলিম ইমাম, আলেম এই কাহিনী লিখেনাই। সত্যিটা সঠিক ভাবে না জেনেই এখানে ইচ্ছা মতোন ভাষা বিকৃতি করে লেখা হয়েছে যাতে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব সম্পর্কে মানুষ ভুল জানুক। কিন্তু যারা সঠিক তথ্যটা জানে তারা কখনোই এইধরণের খারাপ কোথায় প্রভাবিত হবেনা।

  4. পালক পুত্রের স্ত্রীরির সাথে
    পালক পুত্রের স্ত্রীরির সাথে মহানবীর প্রেম হয়ে ছিল এটা সত্য। কিন্তু শুধু এইটুকু কথার উপর ভিত্তি করে একজন লেখক তার নিজের মনের বিকৃত ভাষা দিয়ে একজন পৃথিবীর মহামানব সম্পর্কে এইভাবে লিখতে পারেননা। একজন লেখকের কাজ হলো সত্য ঘটনাকে সঠিক ভাবে জেনে তাকে সুন্দর ভাবে মানুষের কাছে উপস্থাপন করা, এইভাবে বিকৃত খারাপভাবে নয়। আজকে আমাদের নবীজি সম্পর্কে এরা বিকৃত, খারাপ ভাষায় লিখছে, কালকে যে রাধা-কৃষ্ণ সম্পর্কে এরা খারাপ বিকৃত ভাষায় কিছু লিখবেনা এটা কেউ বলতে পারেনা।পৃথিবীর মহামানবদের সম্পর্কে কোনো কিছু বলার আগে ভালোভাবে জেনে শুনে তারপর মন্তব্য করা উচিত।আমাদের কোরান-হাদিসেও এই সম্পর্কে বলা আছে, কিন্তু এতো বিকৃত খারাপ ভাষায় কোনো কিছু বলা নাই।
    সত্যি কাহিনীটা এতোটা খারাপ না যতোটা এখানে খারাপভাবে বলা আছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 1 =