আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ, মূল – আলি সিনা , ভাষান্তর-দুরের পাখি ; পর্ব-৫

এ রহস্য বুঝতে হলে আমাদের আগে বুঝতে হবে যে মুসলিমরা মোহাম্মদের মত হতে এবং তার মত চিন্তা করতে চায় । যার ফলে তাদের অভিব্যক্তি, বিশ্বাস , চিন্তা এবং কার্যকলাপে মূলত মোহাম্মদের ব্যাক্তিত্ব এবং মানসিকতার প্রতিফলন ঘটে । ইসলামে যেহেতু মোহাম্মদই হচ্ছে ন্যায়নীতির মাপকাঠি, এটাই স্বাভাবিক যে তার অনুসারীরা ন্যায়নীতিবান হবার জন্য তাকে সরাসরি অনুকরণ করবে । ফলাফল, মুসলিম জাতি মোহাম্মদের খোলসে নিজেকে সাজাতে গিয়ে নিজেদের ভুলে যায় । মানবজাতির অন্যদের থেকে দূরে সরে যায় এবং নিজেদের স্বকীয়তার বিশাল অংশই হারিয়ে ফেলে । মোহাম্মদের আত্নরতিমূলক ফানুসের জগতে বাস করতে করতে , তার অনুকরণ করতে করতে একেকজন হয়ে উঠে মোহাম্মদেরই একেকটি বর্ধিতাংশ । ইসলাম নামের গাছের কুঁড়ি হলো মুসলিমরা যার মূল হলো মোহাম্মদ । তাদের চরিত্র, অভিব্যক্তি, চিন্তাধারা সবই মোহাম্মদের মত । বলতে গেলে সব মূসলিম আসলে মোহাম্মদের একটি ক্ষুদ্র রুপের মত । তাদের কাছে সে হচ্ছে সৃষ্টির সেরা, নিখুঁত মানব আর সর্বোচ্চ অনুকরণীয় আদর্শ । তাদের বিশ্বাস মোহাম্মদ যদি কিছু করে থাকে, সেটা যতই শোচনীয় হোক না কেন, তা-ই সঠিক । কোন প্রশ্ন নাই এবং কোনপ্রকার বাছবিচার চলবে না এইক্ষেত্রে ।

আলোচনার বিষয় হিসাবে মোহাম্মদকে এড়িয়ে চলতে চায় বেশিরভাগ মানুষ । নবীর সামান্য অসম্মানে মুসলিমরা ক্ষুব্দ হয়ে উঠে । যেকোন মন্তব্য সেটা যতই তুচ্ছ হোক না কেন ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ বিক্ষোভ । যদিও মোহাম্মদের অনুসারীদের সমালোচনায় মুসলিমরা তেমন কিছু মনে করে না, কিন্তু মোহাম্মদের নিজের কোন সমালোচনা তারা সহ্য করে না । এমনকি আল্লাহর সমালোচনা করেও পার পেয়ে যাওয়া সম্ভব কিন্তু মোহাম্মদের সমালোচনা করে সম্ভব নয় ।

মৃত্যুর শত শত বছর পরে কারো মানসিক অবস্থার পুরোপুরি বিস্তারিত বর্ণনা তৈরী করা অসম্ভব । তবে আমার উদ্দেশ্য এখানে প্রেসক্রিপশন দেয়া নয়, বরং দ্বীনের নবিকে গভীরভাবে বুঝা । মোহাম্মদের জীবন ও বাণী নিয়ে বিস্তারিতভাবে সংকলিত প্রচুর পরিমাণ তথ্য আছে । এইসব বর্ণনার বেশিরভাগই ফুলানো ফাঁপানো এবং অতিরঞ্জিত । বিশ্বাসীরা তাদের নবীকে নিয়ে অতিরঞ্জিত গালগল্প ছড়াবে, মোজেজার কাহিনী বানাবে, তাকে সাধু সন্তের পর্যায়ে নিয়ে যাবে সেটাই স্বাভাবিক । তবে, মোহাম্মদের জীবনে আমরা এমন কিছু বর্ণনা পাই যেগুলো থেকে তার পবিত্র ছবির বদলে বরং হিংস্র, বেপরোয়া, ধূর্ত এমনকি যৌনবিকৃত একজনের ছবিই ফুটে উঠে । নিজেদের নবীর নামে মিথ্যা অপবাদ দেয়ার কোন কারণ নেই বিশ্বাসীদের । যারা তার সাথী ছিলো যারা তাকে পছন্দ করতো তাদের কাছ থেকেই যেহেতু এই ধরণের তথ্য আছে বিপুল পরিমাণে, অতএব এই ধরণের বর্ণনাগুলো সত্য হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি ।

যেসব হাদিস বিভিন্ন জনের জবানীতে বার বার এসেছে সেগুলোকে বলা হয় “মুতাওয়াত্তির” । এই হাদিসগুলো নানান জবানীতে অনেকগুলো সূত্র থেকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এসেছে । বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন অঞ্চল এবং মানসিকতার এতগুলো লোক একত্র হয়ে কিছু মিথ্যা বানিয়ে নবীর নামে ছড়াবে একথা অনেকটাই অসম্ভব ।

এই গল্পগুলো যেগুলোকে হাদিস বলা হয় ও মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহর পরম বাণী কোরানের সাহায্যে আমরা চেষ্টা করবো মোহাম্মদের মনের ভিতরে ঊঁকি দেয়ার জন্য আর বুঝার চেষ্টা করবে সে যা করেছিলো তা কেনো করেছিলো । বেশ কিছু মনোবিজ্ঞানী এবং মনোচিকিৎসকের মতামত ও তত্ব উপস্থাপন করে আমি সেগুলোর সাথে মোহাম্মদ যা যা করেছিলো তার যোগসূত্র মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করবো । যেসব বিশেষজ্ঞের কথা আমি ব্যাবহার করতে যাচ্ছি এরা সবাই দক্ষ এবং পেশাদার মনোসমীক্ষক । তাদের বর্ণনার বেশিরভাগ অংশই এখন সাধারণ জ্ঞান বলে বিবেচিত এবং এই পেশার বেশীরভাগ বিশেষজ্ঞই এসব তত্ব ও মতামতের সাথে সম্মত ।

এই বই যতটা না ১৪০০ বছর আগের একজন মানূষের মনোসমীক্ষণের চেষ্টা , তার চাইতে বেশি হলো তার রহস্য উম্মোচনের চেষ্টা । যারা মোহাম্মদের গালগল্পে বিশ্বাস করে সেগুলোকে যৌক্তিকভাবে যাচাই করতে চায় না তাদের কাছে মোহাম্মদ এক বিশাল হেঁয়ালির নাম । তার কাজকারবার খুবেকটা সুবিধার ছিলো না কিন্তু যতটুকু বুঝা যায় তা থেকে মনে হয় সে নিজে তার যৌক্তিকতায় সৎভাবেই বিশ্বাস করতো । এত বিদ্বেষপূর্ণ, বেপরোয়া আর এবং বিবেকবর্জিত একজন মানুষ কিভাবে শুধু তার সঙীসাথীরা নয় বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কোটি কোটি মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতে পারে ।

মিখায়েল হার্ট তার “পৃথিবীর ইতিহাসে সবচে প্রভাবশালী ১০০ জন” মোহাম্মদকে রেখেছেন সবার প্রথমে । তার পরে ছিলেন আইজাক নিউটন, জেসাস, গৌতম বুদ্ধ, কনফুসিয়াস, সেইন্ট পল প্রমুখ । হার্টের বইয়ে অবশ্য এই প্রভাবশালীদের প্রভাব কি সুপ্রভাব না কুপ্রভাব এই বিষয়ে কোন বাছবিছার নেই । কারণ তার তালিকায় অনেক অত্যাচারীর নাম ও আছে, যেমন, এডলফ হিটলার, জোসেফ স্তালিন, মাও সে তুং । এই তালিকায় এমনকি নিকোলো ম্যাকিয়াভ্যালির নামও আছে । কিভাবে মোহাম্মদের মত এমন মানবতা-বিবর্জিত একজন পৃথিবীর ইতিহাসের সবচে প্রভাবশালী ব্যক্তি হয় ? এই বইয়ে আমরা দেখবো কিভাবে এই প্রশ্নের উত্তর মূলত মোহাম্মদ কি ছিলো তার চাইতে মানব মনের কার্যপ্রণালী কেমন তার উপর বেশি নির্ভর করে ।

ইসলামের মত আর কোন মতবাদ নিয়ে এত বেশি রক্তপাত হয় নি । কিছু কিছু ঐতিহাসিকের মতে ইসলামের তরবারী দিয়ে কেবল ভারতবর্ষেই গণহত্যার স্বীকার হন ৮ কোটি মানুষ । এছাড়াও পারস্য , মিশর এবং আরো যেসব দেশে লুটতরাজ মুসলিমরা হামলা চালিয়েছিলো সেখানেও হত্যার স্বীকার হন কোটি কোটি মানুষ । ইসলাম যখন ঐসব দেশে প্রথম প্রবেশ করে তখনও এবং তার শত শত বছর পরেও । এই রক্তপাত এখনো থামেনি ।

মুসলিমরা মাঝে মাঝে বড় গলায় বলে , “তোমরা জীবনকে যতটা ভালোবাসো, আমরা মৃত্যুকে ভালোবাসি তার চাইতেও বেশি ।” সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাজার হাজার সন্ত্রাসী হামলা করে তারা এই কথা প্রমাণ করে চলেছে । একজন লোক কিভাবে এতগুলোর লোকের উপর এমন প্রভাব ফেলতে পারে যে তারা তার জন্য হাসতে হাসতে মৃত্যুবরণ করে এমনকি নিজেদের সন্তান সন্ততিকেও তার জন্য উৎসর্গ করতে দ্বীধা করে না । কেন বর্তমান দুনিয়ার নব্বই সংঘাতের সাথে কোন না কোনভাবে মুসলিমরা জড়িত , অথচ গোটা দুনিয়া জনসংখ্যার মাত্র শতকরা ২০ ভাগ মুসলিম । পরিসংখ্যানের হিসাব নিকাশ অনুযায়ী এর অর্থ দাঁড়ায় জাতি হিসেবে অন্য যেকোন ধর্মের লোকদের চাইতে দ্বন্দ নিরসনে সহিংসতায় জড়ানোর সম্ভাবনা ৩৬ গুন বেশি মুসলিমদের । এ এক বিশাল পার্থক্য যেখানে মুসলিমদের ধারে কাছেও কেউ নেই । কিভাবে সম্ভব এটা ?

এই রহস্য সমাধানে এই বইয়ে দুইটি তত্ত্ব পাওয়া যাবে । প্রথমটি হচ্ছে মোহাম্মদ নার্সিসিজম নামক রোগে ভুগতো , আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে টেমপোরাল লোবের ঝামেলার কারণে সৃষ্ট মৃগীরোগে ভুগতো সে । আরো অনেক ধরণের মানসিক অসুস্থতার কথা অনুমান করা যায় বিভিন্ন হাদিসের বর্ণনা থেকে । তবে এই দুটি রোগের মাধ্যমেই মোহাম্মদের পুরো জীবনির ব্যাখ্যা দেওয়া যায় । প্রচুর পরিমাণের তথ্যপ্রমাণ দিয়ে এই বইয়ে প্রমাণ করা হবে যে মোহাম্মদ ছিলো মানসিক রোগী । যদিও সে তার নিজের সত্যতায় বিশ্বাস করতো এবং নিজের দাবীর প্রতি নিজে সৎ ছিলো, কিন্তু সে মূলত সত্য ও কল্পণার মধ্যে পার্থক্য করতে পারতো না । তার সমসাময়িক অনেকে যারা তাকে ভালোভাবে চিনতো তারা তাকে বলতো ‘মজনুন’ , অর্থাৎ পাগল, অপ্রকৃতিস্থ বা জ্বীনে ধরা । দুর্ভাগ্যক্রমে মোহাম্মদের বিপুল দাপটের মুখে তারা হার মানতে বাধ্য হন এবং তাদের স্থিতধী কথাবার্তাকে থামিয়ে দেয়া হয় । মানব মস্তিষ্ক নিয়ে নতুন নতুন আবিষ্কার সেইসব লোকেদের কথাকে নবজীবন দিয়েছে । তবে আমাদের মনে রাখতে হবে অসুস্থ আত্নপ্রেমী রোগী খুব ভালোভাবেই জানে সে মিথ্যা বলছে, কিন্তু তবু সে নিজেই প্রথম তার নিজের মিথ্যা কথা বিশ্বাস করে ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৬ thoughts on “আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ, মূল – আলি সিনা , ভাষান্তর-দুরের পাখি ; পর্ব-৫

  1. বইটা আগে পুরো অনুবাদ করে
    বইটা আগে পুরো অনুবাদ করে তারপরে পিডিএফ বানানোর পরে বিভিন্ন ব্লগে মূল সিরিজগুলোর মিরর (অনুলিপি) ছাড়া উচিত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 1