যুদ্ধাপরাধী ভণ্ড ইসলামী দল জামাতের নয়া আমীর মকবুল আহমাদের সম্পর্কে জানতে পড়ুন

?resize=550%2C315″ width=”400″ />
বেশ কয়েক মাস ধরে জামাতের আমীর পদে নির্বাচন নিয়ে মিডিয়াতে খবর আসছে। গত কয়েকদিনে জানা গেলো ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ আমীর নির্বাচিত হয়েছে। এরপর তার শপথ গ্রহণ পর্ব এবং পরবর্তী একটি চমকপ্রদ বক্তব্য বেশ আলোড়ন তুলেছে।

“১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যে সব সাধারণ মানুষ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অকৃত্রিম ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি, তাদের কথা আজ গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।

“বিশেষভাবে স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি উসমানীসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতাদের আমি সশ্রদ্ধ স্মরণ করছি।

“দেশে বিরাজমান সমস্যা ও সংকটের সমাধান আমাদের সবাইকে মিলেই করতে হবে। কোনও একটি দলের পক্ষে কিংবা একা সরকারকে পক্ষে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। দল ও মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবার সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে চলমান সংকট ও সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমি সরকারের প্রতি আবারও আহ্বান জানাচ্ছি। আর এ জন্য সব দল ও পক্ষের অংশগ্রহণে একটি সফল জাতীয় সংলাপের কোনও বিকল্প নেই। তবে জাতীয় সংলাপকে সফল করতে হলে প্রয়োজন সংলাপের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা।”

এটা নিয়ে মজা নেয়া শেষ হতে না হতেই বাংলা ট্রিবিউন বোমা ফাটাল মঙ্গলবার।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার কমান্ডার ছিলেন বলে অভিযোগ এনেছেন ফেনী জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মীর আবদুল হান্নান। তিনি বলেন, “৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন মকবুল আহমাদ রাজাকার বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। তারই নির্দেশে ফেনীর স্থানীয় রাজাকার, আলবদর বাহিনীর সদস্যরা ফেনী কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা ওয়াজ উদ্দিনকে চট্টগ্রামে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে।”

দাগনভূঁঞা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উপজেলা কমান্ডার শরিয়ত উল্যাহ বাঙ্গালী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “মকবুল আহমাদের নির্দেশে দাগনভূঁঞা উপজেলার জয়লস্কর ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের হিন্দু-পাড়ায় আগুন দিয়ে ১০ জনকে হত্যা করা হয়।” তিনি তদন্ত-সাপেক্ষে এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকায় জামায়াত নেতা মকবুল আহমাদের বিচার দাবি করেন।

শরিয়ত উল্যাহ বলেন, “মকবুল আহমাদের নির্দেশে রাজাকার মোশাররফ হোসেন মশা দাগনভূঁঞা উপজেলার খুশিপুর গ্রামের আহসান উল্লাহ নামে অন্য এক মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেন। রাজাকার মশা জীবিত আছেন। তার বাড়ি একই উপজেলার সাফুয়া গ্রামে।”

মকবুল আহমাদের গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার দাগনভূঁঞা উপজেলার পূর্বচন্দ্রপূর ইউনিয়নের ওমরাবাদে। পেশায় স্কুল শিক্ষক ছিল। ফেনী মডেল হাইস্কুলের শিক্ষকতা থেকে অবসরের পরই জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়। রোকন থেকে পর্যায়ক্রমে দলটির অঞ্চলভিত্তিক পরিচালক, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নায়েবে আমিরের দায়িত্ব পালন করে। রাজনৈতিক জীবনে ফেনী-২ আসন থেকে ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে হেরে যায় মকবুল আহমাদ।

জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী গ্রেফতারের পর বিগত প্রায় ৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে দলটির ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পালন করছিল।

জামায়াতের প্রতিবাদ
“বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর জনাব মকবুল আহমাদের ১৯৭১ সালে রাজাকার কমান্ডার হওয়ার প্রশ্নই আসে না। সে সময় তিনি একটি খ্যাতিমান হাই স্কুলের সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন শিক্ষক ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে ৭১-এর হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনাবলীকে কেন্দ্র করে এ পর্যন্ত পানি অনেক দূর গড়ালেও আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণীতে স্বচ্ছ ও ক্লিন ইমেজের অধিকারী জনাব মকবুল আহমাদের বিরুদ্ধে কোথাও কেউ সামান্য কোন অভিযোগ পর্যন্ত দায়ের করেনি। কাজেই নির্বাচিত আমীর হওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ পত্রিকাটিতে প্রকাশ করা হয়েছে তা একান্তই আদর্শিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাড়িত এবং নেহায়েত প্রতিহিংসামূলক। ইসলামের আদর্শ অনুসরণকারী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে এটি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য ও অবান্তর বক্তব্য। এ ধরনের কাল্পনিক, ভিত্তিহীন, অন্যায্য ও অসত্য বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের ১৬ কোটি জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।

“আমরা আশা করি দায়িত্বশীল সংবাদ মাধ্যমগুলো দেশ ও জনগণের ঐক্য, শান্তি এবং অগ্রগতির ব্যাপারে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।”

– নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান প্রদত্ত বিবৃতি।

প্রতিবেদকের বক্তব্য

“বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি ফেনী জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মীর আবদুল হান্নান, দাগনভুঁইয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উপজেলা কমান্ডার শরিয়ত উল্যাহ বাঙালীর বক্তব্য-নির্ভর। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। ফলে, এই প্রতিবেদনের তথ্য বাংলা ট্রিবিউনের মনগড়া বা নিজস্ব বক্তব্য নয়।

“দ্বিতীয়ত, মকবুল আহমাদের বিরুদ্ধে আনীত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শরিয়ত উল্যাহ বাঙালীর অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতের বিবৃতিতে কোনও বক্তব্যই খণ্ডন করা হয়নি। এখানে কেবলই নতুন আমিরের প্রশংসা করা হয়েছে। তৃতীয়ত, প্রতিবেদনে বাংলা ট্রিবিউন দুইজন দায়িত্বশীল জামায়াত নেতার বক্তব্য প্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য অসত্য কিনা ওই প্রতিবাদ-পত্রে তারও উল্লেখ করা হয়নি।”

দেরীতে হলেও কথা যেহেতু উঠেছে, সেহেতু এই পানি বহুদূর গড়াবে। এবার আসুন দেখি গত ছয় বছরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মকবুলের দেয়া বক্তব্যগুলোর মধ্যে কি ছিল।

# ‘এক মাঘে শীত যায় না’
প্রথম আলো ০২-০৭-২০১০

“যারা অন্যের জন্য গর্ত করে, ইতিহাস বলে তারা নিজেরাই সে গর্তে পড়ে। আপনারা যে পন্থায় জামায়াতের নেতাদের গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছেন, তা জাতির জন্য ক্ষতিকর হবে। আপনারা চিন্তা করবেন না, এক মাঘে শীত যায় না। জামায়াত একটি বৈধ দল। সংসদে এই দলের সদস্য আছে। তারা সমাবেশ করতে পারবে না কেন?…আপনাদের জুলুম বেশি দিন চলবে না।”

– আমির মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমির দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদসহ গ্রেপ্তারকৃত নেতাদের মুক্তি চেয়ে মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে দেয়া বক্তব্য।

# ‘মানুষ হত্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের জন্ম’
কালের কণ্ঠ ২৯-১০-২০১০

“আওয়ামী লীগের রাজনীতি সন্ত্রাসের, মানুষ হত্যার রাজনীতি। মানুষ হত্যা দিয়ে তাদের জন্ম।”

– ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে ১৪ দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত জামায়াত-শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের স্মরণে এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে দেয়া বক্তব্য।

# ‘হরতালে গুলিতে প্রমাণিত সরকার নাস্তিকদের পক্ষে’
সমকাল ২৪-০২-২০১৩

“ইসলাম ধর্ম রক্ষার হরতালে গুলি চালিয়ে সরকার প্রমাণ করেছে, তারা নাস্তিকদের পক্ষে। হরতাল কর্মসূচি দেশের আলেম সমাজ ঘোষণা করেছিল নাস্তিক, মুরতাদদের শাস্তির দাবিতে। কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়। মানিকগঞ্জের নারী-পুরুষ তাদের ইমানি চেতনায় আলেমদের ডাকে সাড়া দিয়েছিল। সরকার নাস্তিকদের খুশি করতে ও ইসলামবিরোধী শক্তিকে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার সুযোগ দিয়ে আলেম-ওলামা ও সাধারণ মুসল্লিদের হত্যা করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যা অবলম্বন করেছে তা তাদের জন্যই বুমেরাং হবে।”

– মানিকগঞ্জে পুলিশের গুলিতে ৫ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদে দেয়া বিবৃতি।

# ‘বিএনপি অফিসে পুলিশের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড নজিরবিহীন’
সংগ্রাম ১২-০৩-২০১৩

“গতকাল সোমবার সারা দেশে ১৮ দলীয় জোটের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশের বেপরোয়া গুলিবর্ষণ, গণ-গ্রেফতার এবং নৈরাজ্য সৃষ্টির আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পুলিশ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাদেক হোসেন খোকা, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জয়নাল আবেদিন ফারুক, রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে। পুলিশ বিএনপির অফিসে প্রবেশ করে আসবাবপত্র তছনছ করে মূল্যবান জিনিষপত্র ভাংচুর করে। একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে পুলিশের এহেন নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। সরকারের আচরণে মনে হচ্ছে, তারা বিরোধী দলের অস্তিত্ব মানতে রাজী নয়। তারা দেশকে নেতৃত্বশূন্য করতে চায় এবং বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। বাংলাদেশের জনগণ তাদের এ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হতে দেবে না।

“এ সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই দেশ থেকে বিরোধী দলের মূলোৎপাটনের জন্য ওঠে পড়ে লাগে। তারা প্রায় ২০ মাস যাবত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগরী কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছে। জামায়াতের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে দীর্ঘ ৩৪ মাস যাবত কারারুদ্ধ করে রেখেছে। গতকাল বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে প্রবেশ করে পুলিশ যে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে তা নজিরবিহীন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে সরকার তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। সরকার দেশে একদলীয় স্বৈরশাসন কায়েমের লক্ষ্যে এ তাণ্ডবতা চালাচ্ছে। আমরা স্পষ্ট বলে দিতে চাই, গণহত্যা-জুলুম-নির্যাতন-নিপীড়ন ও গণ-গ্রেফতার চালিয়ে জনগণের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।

“সরকার শাহবাগে নাস্তিকদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে আর গণতান্ত্রিক দলের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। নিপীড়ন-নির্যাতন চালিয়ে শেষ রক্ষা পাওয়া যাবে না। আমরা অবিলম্বে নিপীড়ন বন্ধ এবং গ্রেফতারকৃত সকল নেতৃবৃন্দের এই মুহূর্তে মুক্তি দাবি করছি। সেই সাথে ১৮ দলীয় জোট ঘোষিত মঙ্গলবারের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি সফল করে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানাচ্ছি।”

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি

# ‘সংকটকালে অভিভাবক হারাল জাতি’
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম ২০-০৩-২০১৩

“মহামান্য রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। দেশের এই সংকটকালে তার মতো একজন প্রবীণ নেতার মৃত্যুতে জাতি একজন অভিভাবক হারাল।”

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি

# হেফাজতের লংমার্চ সফলের আহ্বান!
বাংলা নিউজ ০৫-০৪-২০১৩

”নাস্তিক ব্লগার ও ইসলামের অবমানকারীদের গ্রেফতার এবং শাস্তি প্রদানসহ ১৩ দফা দাবিতে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে ঘোষিত শনিবার ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি সর্বাত্মকভাবে সফল করার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই।

“হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। তাদের কর্মসূচিতে সরকার পরিকল্পিতভাবে বানচাল করতে মরিয়া হয়ে পড়েছে।

“এ কর্মসূচি বানচালের জন্য সরকার নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। লংমার্চ বানচাল করার জন্য সরকার তার মদদ-পুষ্ট আজ্ঞাবহ, গৃহপালিত কয়েকটি বামপন্থি পকেট সংগঠন দিয়ে হরতাল আহ্বান করিয়েছে এবং শাহবাগী নাস্তিকদের দিয়ে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করিয়েছে। ছুটির দিনে তাদের হরতাল আহ্বান একটি নজিরবিহীন ঘটনা। লংমার্চ বানচাল করার জন্য সরকার সড়কপথ, রেলপথ ও নৌপথে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকার উদ্দেশে আগত আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মানুষদের গ্রেফতার এবং হয়রানি করছে সরকার।

“সকল ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত বন্ধ করে আলেম-ওলামা এবং ধর্মপ্রাণ মানুষের অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি

# “৫ই মে হেফাজতের উপর হামলা ২৫শে মার্চের কালরাতকেও হার মানিয়েছে”
ইত্তেফাক মঙ্গলবার, ০৭-০৫-২০১৩

“হেফাজতের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে গভীর রাতে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ ১৪ দল যে বর্বরোচিত হামলা ও গণহত্যা চালিয়েছে তা ২৫ মার্চের কাল রাতকেও হার মানিয়েছে।

হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন। কোনো দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন তাদের দাবি ছিল না। তারা বার বার বলে আসছে, কোনো দলকে ক্ষমতা থেকে নামানো বা কাউকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য তাদের আন্দোলন নয়। তাদের আন্দোলন আল্লাহ, নবী, রসূল (সা.) ও ইসলামকে যারা কটাক্ষ করেছে তাদের বিরুদ্ধে। তারা ১৩ দফা যৌক্তিক দাবি সরকারের নিকট পেশ করেছিল; কিন্তু সরকার দাবি প্রত্যাখ্যান করে গভীর রাতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে যে হামলা চালিয়েছে তা ইতিহাসে নজিরবিহীন।”

– প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

# ‘এ সরকার নাস্তিকদের সরকার’
বিবৃতি ০৫-০৮-২০১৩

“ওমরাহ পালনের উদ্দেশে যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কাউন্টারে গেলে সরকার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরকে ওমরাহ করতে যেতে বাধা প্রদান করে। ফলে তিনি ওমরাহ করতে যেতে পারেননি। ডা. আব্দুল্লাহ তাহেরকে ওমরাহ করতে যেতে না দিয়ে সরকার তার ধর্মীয় অধিকারের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ করেছে। অথচ বাংলাদেশের সংবিধানের ৪১ ধারা অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের যেকোনো ধর্ম পালনের অধিকার রয়েছে।

“সরকার তার ধর্মীয় অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করে একদিকে যেমন সংবিধান লঙ্ঘন করেছে, অন্যদিকে ধর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো – এ সরকার নাস্তিকদের সরকার। শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে সরকারের এই ধর্ম বিরোধী কর্মকাণ্ড মেনে নেয়া যায় না। জনগণ যথা সময়ে তার উপযুক্ত জবাব দেবে।”

# ৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের আহ্বান
বিবৃতি ০৫-১১-২০১৫

“আমাদের জাতীয় জীবনে এ দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর দেশের সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে এ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে হেফাজত করেছিল। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর এ দেশের সিপাহী-জনতা যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল তা চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লিখিত থাকবে। ৭ই নভেম্বরের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশবাসী ভবিষ্যতেও এ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে হেফাজত করবে ইনশাআল্লাহ।”

# ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের যে কোন চক্রান্ত দেশের জনগণ রুখে দাঁড়াবে’
বিবৃতি ১৬-০৩-২০১৬

“রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের যে কোন চক্রান্ত দেশের জনগণ রুখে দাঁড়াবে। ইসলাম বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম। পৃথিবীর ৪৬টি মুসলিম দেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের কোন ষড়যন্ত্র এ দেশের জনগণ কিছুতেই বরদাশত করবে না। রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের প্রতি দেশের সকল জনগণের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তাহলে সরকার কাকে খুশি করার জন্য রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের ষড়যন্ত্র করছে।

“ইসলাম সকলের ধর্মীয় বিশ্বাস ও অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কাজেই রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকলে তাতে অমুসলিমদের ক্ষতির কোন আশঙ্কা নেই। রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের সাথে এ দেশের মুসলমানদের আবেগ-অনুভূতি জড়িত। এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের আবেগ-অনুভূতির প্রতি অবশ্যই সরকারের শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা উচিত। দেশের জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অশ্রদ্ধা ও অবজ্ঞা প্রদর্শনের পরিণতি হবে মারাত্মক।

“কাজেই রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের জন্য যারা ষড়যন্ত্র করছে তারা আগুন নিয়ে খেলছে। যে সব কুচক্রী মহল রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের জন্য সরকারকে প্ররোচনা দিচ্ছে তারা এ দেশের যেমন কোন মঙ্গল চায় না, তেমনি সরকারেরও মঙ্গল চায় না। তাই দেশের জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে অবিলম্বে রাষ্টধর্ম ইসলাম বাতিলের ষড়যন্ত্র বন্ধ করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

# ‘হত্যা করে ইসলামী আন্দোলন অতীতে নির্মূল করা যায়নি, কখনো যাবেও না’
বিবৃতি ১৩-০৫-২০১৬

“আমীরে জামায়াত শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ছিলেন একজন একনিষ্ঠ আল্লাহওয়ালা মানুষ। তিনি ৫ বছর ২টি মন্ত্রণালয় চালালেও তার আদর্শ-বিরোধীরা তার বিরুদ্ধে কোন দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে পারেনি। তিনি স্বচ্ছ চিন্তার লোক ছিলেন। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণেও প্রাণ-ভিক্ষার সামান্য চিন্তাও তাকে স্পর্শ করেনি বরং সন্তুষ্ট চিত্তে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে হাসিমুখে শাহাদাতকে বরণ করে নিয়েছেন। যা আমাদের জন্য অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। তাই ফাঁসি বা মৃত্যুতে পেরেশান না হয়ে শহীদ মতিউর রহমান নিজামীর অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্ত করার জন্য প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

“ফাঁসির মঞ্চের মুখোমুখি হয়ে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর দৃঢ়তা ও আপোষহীনতা তাকে মর্যাদার উচ্চাসনে অভিষিক্ত করেছে। তার প্রতি ফোটা রক্ত বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনে নব উদ্যমের সৃষ্টি ও গতিশীলতা দিয়েছে। মূলত তিনি ছিলেন বিশ্বখ্যাত আলেমে দ্বীন ও ইসলামী আন্দোলনের অকুতোভয় সিপাহসালার। তিনি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ৫শ ইসলামিক স্কলারদের মধ্যে অন্যতম। মূলত এতেই তার পাণ্ডিত্য ও উচ্চ মর্যাদার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি উত্তম ও বলিষ্ঠ চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। সরকার তার ব্যক্তিত্ব, আদর্শ ও জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কথিত বিচারের নামে প্রহসন করে একজন বরেণ্য জাতীয় নেতা ও খ্যাতিমান আলেমে দ্বীনকে হত্যা করেছে। কিন্তু হত্যা করে ইসলামী আন্দোলন অতীতে নির্মূল করা যায়নি, আর কখনো যাবেও না।

“মহল বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইসলামকে সন্ত্রাসবাদের সাথে জুড়িয়ে দেয়। কিন্তু মাওলানা নিজামী তার পাণ্ডিত্যপূর্ণ লেখনীর মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন ইসলামের সাথে সন্ত্রাসবাদের দূরতম সম্পর্ক নেই। মূলত ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের মোকাবেলা ও ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে সকলের জন্য একটি কল্যাণকামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। সরকার পরিকল্পিতভাবেই দেশের ইসলামী ব্যক্তিত্বদের বিশেষভাবে টার্গেট করেছে। সে ধারাবাহিকতায় একের পর এক হত্যা করা হচ্ছে জাতীয় নেতাদের। মূলত সরকার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই আমীরে জামায়াতসহ শীর্ষনেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা দিয়ে বরেণ্য জাতীয় নেতাদের হত্যা করছে।

“ইসলামী আন্দোলনের উপর জুলুম-নির্যাতন ইতিহাসের ধারাবাহিকতা। তাই যেকোনো প্রতিকুল পরিস্থিতি ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে ধৈর্য ও সাহসিকতার সাথে মোকাবেলা করতে হবে। আল্লাহর সাহায্য নিয়ে অকুতোভয় সৈনিকের মত ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শহীদানের অসমাপ্ত কাজকে সমাপ্ত করতে হবে। আর একাজ আমাদেরকে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলেই শহীদ আমীরে জামায়াতসহ শহীদানের আত্মত্যাগ ও রক্ত সার্থক হয়ে উঠবে।”

নিজামীর জন্য ঢাকা মহানগরী আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে দেয়া বক্তব্য।

# ‘এ মুহূর্তে সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন’
বিবৃতি ০২-০৭-২০১৬

“বাংলাদেশ আয়তনের দিক থেকে ক্ষুদ্র হলেও প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ এ দেশে বসবাস করেন। যুগযুগ ধরে শান্তি-সম্প্রীতি ও সহনশীলতার দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ঐতিহ্য বিশ্বের দরবারে স্বীকৃত। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে যে অনাকাঙ্খিত পরিবেশ বিরাজমান তা সাড়ে ১৬ কোটি মানুষেরই একান্ত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে গুম, খুন, গুপ্ত হত্যা এবং নানাবিধ অপরাধ প্রায় প্রতিটি নাগরিকের শান্তি ও নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। গুলশানের সুরক্ষিত এলাকায় যে বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটে গেল, তা একেবারেই অকল্পনীয়। এ ঘটনা গোটা দেশবাসীকে স্তম্ভিত ও আতঙ্কিত করে তুলেছে। এ অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। তার জন্য প্রয়োজন মহান আল্লাহ তায়ালার একান্ত সাহায্য ও সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য।

“এ পরিস্থিতিতে আমরা দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানাবো- তারা যেন মহান আল্লাহপাকের দরবারে বিগলিত চিত্তে দোয়া করেন যাতে আল্লাহ পাক জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে তাদের এ প্রিয় দেশের জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা বিধান করেন এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে হেফাজত করেন। মহান আল্লাহ পাক যেন দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে পরিচালিত সকল ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ব্যর্থ করে দেন। ১ জুলাই রাতের ঘটনায় যে সকল জিম্মি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন তাদের পরিবার-পরিজন এবং আপনজন ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ তায়ালা এ পরিস্থিতির হাত থেকে আমাদের প্রিয় দেশ ও জাতিকে হেফাজত করুন।”

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “যুদ্ধাপরাধী ভণ্ড ইসলামী দল জামাতের নয়া আমীর মকবুল আহমাদের সম্পর্কে জানতে পড়ুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

7 + 1 =