সেক্স আসন, বিপ্লবী নবী মোহাম্মদ ও আয়াতের পটভূমি

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন নারীরা হচ্ছে পুরুষের শশ্যক্ষেত! ভাবছেন এইটা তো পুরান কথা! কাফেরদের কূটকথা যা তারা সারাদিনই বলতে থাকে! তারা পটভূমি জানে না, আগে পিছের আয়াত পড়ে নাই খামাখা মাঝখান থেকে না বুঝেই লাফ দেয়!

নারীরা যে পুরুষদের শশ্যক্ষেত আর তাদের যেভাবে ইচ্ছে সেভাবে ব্যবহারের কথা কোরানে আছে এটার পটভূমি কি? কোরান না পড়া মুসলমানেরা কোরানের আয়াত নাজিলের পটভূমি জানতে উপদেশ দেন, তারা ভাবেন তারা না পড়েই যেহেতু বিশ্বাসী তাই বাকিদের ও তাই করা উচিৎ!

সুরা বাকারার ২২৩ নং আয়াত হচ্ছেঃ তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শশ্যক্ষেত। তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তাদেরকে ব্যবহার কর। আর নিজেদের জন্য আগামী দিনের ব্যবস্থা কর এবং আল্লাহকে ভয় করতে থাক। আর নিশ্চিতভাবে জেনে রাখ যে, আল্লাহর সাথে তোমাদেরকে সাক্ষাৎ করতেই হবে। আর যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সুসংবাদ জানিয়ে দাও।

আসেন এর পটভূমি জানা যাক। সহীহ হাদিস সুনান আবু দাউদ মোতাবেক জাহিলিয়াত যুগে আনসারেরা দেব দেবীদের পূজা করত এবং ইহুদীদের সাথে বসবাস করত। ইহুদীরা আহলে কিতাবধারী ছিল তাই আনসারদের উপর জ্ঞানের শ্রেষ্টত্ব দেখাতো এবং আনসাররাও অনেক ব্যাপারে ইহুদীদের অনুসরণ করত। ইহুদীদের নিয়ম ছিল তারা তাদের স্ত্রীদের সাথে চিত হয়ে শুয়ে সেক্স করত এবং এটাই ছিল তাদের নিয়ম। আনসারদের এই গোত্রটিও ইহুদীদের কাছ থেকে এই নিয়ম শিখেছিল। কিন্তু কোরাইশরা তাদের স্ত্রীদের সাথে পিছন থেকে, সামনে দিয়ে, চিত হয়ে সবরকম ভাবে সেক্স করত। যখন কোরাইশ মুসলিম অভিবাসনকারীরা মদিনায় আসল তখন তাদের একজন এক আনসার মহিলাকে বিয়ে করল এবং পিছন দিক দিয়ে সেক্স করার চেষ্টা করল কিন্তু আনসার মহিলাটি তাতে বাধা দিল এবং বলল আমাদের চিত হয়ে সেক্স করার নিয়ম। যদি ওভাবে পারো তবে করো নাহলে আমার কাছ থেকে সরে যাও। এই ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল এবং নবী মোহম্মদের কানে গেল আর তখন আল্লাহ্‌ এই আয়াত নাজিল করে দিলেনঃ

তোমাদের স্ত্রীগন তোমাদের জন্য ক্ষেত স্বরূপ। কাজেই তোমাদের ক্ষেতে যেরুপে ইচ্ছে গমণ কর। চাই তা সম্মখ দিয়ে হোক, পশ্চাৎ দিয়ে হোক কিম্বা চিত হয়ে শায়িত অবস্থায় হোক। অর্থাৎ যে কোন অবস্থাতেই হোক না কেন যৌনাঙ্গে সহবাস করবে। বলেন আলহামদুলিল্লাহ্‌! আল্লায় সেক্সের ব্যাপারে কত জ্ঞান রাখে আর কত দ্রুত আয়াত পাঠায় !!!

আবু দাউদ শরীফ, ৩য় খন্ড, হাদিস নং ২১৬১, পৃষ্টা নং ১৬৩/৬৪, ইসলামিক ফাউণ্ডেশন বাংলাদেশ।
আরো দেখতে পারেন তাফসীর ইবনে কাসির, খন্ড ১/২/৩ পৃষ্টা নং ৬১৬/১৭, ডঃ মুজিবুর রহমান, অধ্যাপক ও সভাপতি, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 1