হেফাজত, জামাত-শিবির, আলকায়দা, তালিবান বালছাল ইত্যাদি ইত্যাদি কেন “ভন্ড” এর সমার্থক!

তো আমি জিজ্ঞাসিলাম উনাকে, “কেন আমি আপনাকে কিংবা আপনার গুরুজনদের ভন্ড বলবনা?”
উনি বলিলেন, “আপনাকে অন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, আপনার ধর্মীয় জ্ঞান অত্যন্ত কম সুতরাং এ বিষয় নিয়ে আপনার কথা না বলাই ভাল।”
মানিয়া লইলাম উনার কথা। মানিবই না বা কেন? হাজার হাজার রেফারেন্স ছুড়িয়া ফেলিলেন আমার মুখের উপর। আমার সীমিত জ্ঞানের মস্তিষ্ক ঐসব হাবিজাবি, অপ্রাসঙ্গিক রেফারেন্সকে পাত্তা দেওয়ার কোন কারন খুঁজিয়া পায় নাই।

জিজ্ঞাসু হয়ে আবারো প্রশ্ন করিলাম, “তাহলে এইগুলাকে কি বলা যায়? এর ব্যাখ্যা কি? বুঝিয়ে দিতে পারবেন, ‘আল্লাহ্‌ মিথ্যা বলতে পারেন, প্রতারণা করতে পারেন।
বান্দা কি করবে তা আল্লাহ্‌ পূর্বে থেকে জানেন না, বান্দা কাজটি করার পর জানেন।
নবী (স:) কে সাহাবীরা দাঁড়িয়ে সম্মান করতেন কিন্তু আমরা করলে তা হারাম, বেদআত।’ এই ধারনাগুলা যারা পোষণ করে বিশেষ করে জামাত এবং হেফাজত কিভাবে তাদেরকে মুসলমান বলা যায় কিংবা বই পুস্তকে যারা এটা ছাপিয়ে প্রকাশ ও প্রচার করে বেড়ায় কেন তা ধর্ম নিয়ে কটুক্তির পর্যায়ে পড়বে না? কেন হেফাজত/জামাত/শিবির এইগুলা ভন্ডের প্রতিশব্দ হবেনা?”

স্বভাবসুলব রাগিয়া গেলেন তিনি। তারপর কিবোর্ডের বারোটা বাজিয়ে লিখিয়া গেলেন আপন মনে। ভুল ধরিয়ে দিলেন দ্বিতীয় লাইনটি নাকি মিথ্যা এবং বানানো!বলিলাম প্রমান করেন এটা মিথ্যা উঠিয়ে নেব মন্তব্য! আর কথা বলিলেন না এই ব্যাপারে।

প্রথম লাইন নিয়ে যাহা বলিলেন তা অনেকটা এইরকম, “আল্লাহ মিথ্যা বলতে পারেন কিন্তু বলেন না’ কথাটার অর্থ হল আল্লাহ সর্বশক্তিমান হওয়ার কারণে মিথ্যা বলার ক্ষমতাও রাখেন, এখন একথার ভিত্তিতে কেউ যদি বলে আল্লাহ জুলুম করতে পারেন কিন্তু করেন না _ এটা ভুল হবে না।’’
বলিলাম, “চমৎকার ব্যাখ্যা! কিন্তু কাহিনীতো এটা না। আল্লাহকে নিয়ে এইরকম সস্তা উদাহরণ কি কঠুক্তির পর্যায়ে পড়েনা?”

তিনি নাবোধক উত্তর দিয়ে বলিলেন, “কিভাবে এটা কঠুক্তি হতে পারে?”

বলিলাম, “তার মানে ব্যাপারটা এইরকম দাঁড়ায় না যে আল্লাহ এমন কিছু সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখেন যা তিনি নিজেই ধ্বংস করতে পারবেন না? কিংবা আপনাকে বা আল্লামা শফী যিনি এই মন্তব্য করেছেন উনাকে যদি বলি আপনারা আপনাদের মায়ের সাথে যেনা করার ক্ষমতা রাখেন কিন্তু করেন না! কেমন হবে ব্যাপারটা?”

আবারো রাগিয়া গেলেন উনি! নাউজুবিল্লাহ বলিয়া বানিয়ে ফেললেন আমাকে নাস্তিক, সওয়াবের আশায় গালাগালির উপর উনার ক্ষমতা প্রদর্শনে ব্যাস্ত রইলেন ঘন্টা খানেক।

আমি বলিলাম, “আপনাকে এবং শফীকে মায়ের সাথে যেনা করানোর কারনে আমি নাস্তিক। তাহলে উনি যে আল্লাহকে মিথ্যুক এবং প্রতারক বানালেন উনি কি? না উনাকে আমি নাস্তিক বলব না। উনাকে বলব একজন ভন্ড। আস্তিকতা-নাস্তিকতার বিচার ছেড়ে দিলাম উপরওয়ালার হাতে। কি বলেন?”

জামাত/হেফাযত ব্যাতিত সকল মুসলিমকে বেদাতি বানিয়ে উনি বলিলেন, “বেদআতিরা তো পড়াশোনাই করে না হেফাজতি আলেমদের সাথে তাদের তুলনা হল অক্সফোর্ডে সারাজীবন অধ্যাপনা করা বর্ষীয়ানদের সাথে গ্রামের এসএসসি ফেল প্রাইমারি শিক্ষকের। আর এই গ্রামের এসএসসি ফেল শিক্ষকদের কথায় যারা ফালায় তারা কি তা আর না বলাই ভাল।’’

উনার জ্ঞানের পরিধি দেখিয়া নিরুত্তর হয়ে রইলাম অনেক্ষন। প্রশংসা করিয়া বলিলাম, “হেফাজতি ভন্ডদের ছাড়া অন্যান্য মুসলিমদের মধ্যে উচ্চশিক্ষিত বলতে যা বোঝায় এমন অনেক বেশী আলেম আছেন যার তথ্য হয়ত আপনার মস্তিষ্কের সিনাপ্সে যুক্ত হয়নাই। সেন্স অব হিউমরের অবস্থাও মাশাল্লা আপনার। এসএসসি ফেল কেউ প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক হতে পারেনা। এই তথ্যখানা সিনাপ্সে সেভ করার চেষ্টা করেন, এইটা আগামী এক সপ্তাহের জন্য আপনার পাঠদান।’’

এইবার রাগ চরমে উঠিয়া গেল উনার। বলিলেন, “আজকের ভন্ড বিদআতিরা সুন্নাত না মেনে মনগড়া গানের সুরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গান গেয়ে যা করছে এসব যাত্রাপালার গত দেড়-দু’শ বছরে কিছু মূর্খ ভন্ড উপমহাদেশে চালু করেছে। এসব ভ্রষ্টাচারীদের একমাত্র উদ্দেশ্য ধর্মব্যবসা এবং ধর্মব্যবসা। হাটহাজারিসহ কওমি মাদ্রাসাগুলিই উপমহাদেশ তো বটেই দুনিয়ার অন্যতম সেরা দ্বীনসম্পর্কিত জ্ঞানের সূতিকাগার। এখানকার ওলামারা সারাটা জীবন প্রায় কয়েক দশক ধরে ইলম চর্চায় নিয়োজিত এবং তাঁদের যে অথোরিটি তাত্বিক ব্যাপারে আছে সেই অবস্থান সার্বজনীনভাবে গৃহীত, সশ্রদ্ধ। তাঁদের কোন তত্বের বিরোধিতা করতে হলে সমমানের যোগ্যতার ভিত্তিতে দলিলপ্রমাণসহ আসতে হবে। যোগ্যতা ছাড়া হাউ কাউ করে কিছু হবে না।”

এইবার আর নিজেকে সংযত রাখিতে পারিলাম না। কিঞ্চিৎ রাগ নিয়া বলিলাম, “যার কাছে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রাসুলকে সালাম দেওয়া মানে যাত্রাপালা বোঝায় থাকে যদি ভন্ড না বলি তাহলে কি কৃপণতা হয়ে যায় না? আপনার জ্ঞান সীমিত যার কারনে আপনি হেফজত জামাত ছাড়া বাকি মুসলিমদের মুর্খ বলে নিজের মুর্খতা ঢাকার চেষ্টা করছেন। ধর্মব্যাবসা! আসেন ছোট্র একটা ফ্যাক্ট শেয়ার করি। কিছুদিন আগে দেখলেন না কুত্তার মত কিছু নির্বোদ ব্রেনওয়াশড শিবিরকর্মী পুলিশের হাতে মারা গেছে? এইগুলারে রাস্তায় নামানো হইছে বেহেস্তের চাবি হাতে দিয়া। কি সোজা ওয়াও! মেশিন সাঈদী কিংবা গোজমের পোলা মাইয়া রাস্তায় নামবোনা কুত্তার মত মরার জন্য যদিও এদেরই নামা উচিৎ সবার আগে আফটার অল নিজের বাপরা দড়ির সামনে। যাদেরকে হাজার হাজার মিথ্যা ও ভুল দলিলের মাধ্যমে ব্রেনওয়াস করা হইছে এদের বেশীরভাগই অশিক্ষিত গরীব মাদ্রাসার ছাত্র যাদের বাইরের জগত সম্পর্কে নুন্যতম ধারনাও নাই। থাকব কেম্মে আল্লামা অক্সফোর্ডে চুতিয়া শফীরই ধারনা মানুষ ব্লগ দিয়া চালায় ইন্টারনেট। কি জ্ঞান আলহামদুলিল্লাহ! নিজামীরে যারা রাসুলের সমতুল্য মনে করে, গোজম খায় জোতাপেটা, মেশিন চালায় সাঈদি এইরাম বালছাল অক্সফোর্ডে চুতিয়াদের ইসলামে কোন দরকার আছে বইলা মনে হয়না। কি যোগ্যতা থাকতে হবে এইসব ভন্ডদের ব্যাপারে কমেন্ট করার জন্য? এদের সমতুল্য হতে হবে? মেশিন চালাতে হবে? ফটোশফ ইউজ কইরা চান্দে যাইতে হইবে? ব্লগ দিয়া ইন্টারনেট চালাইতে হইবে? আল্লারে মিথ্যুক বলতে হবে? জোতাপেটা খাওয়া লাগবে পাবলিকের? ছাত্রীশিবিরের মেসে রাত কাটাতে হবে? মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াতে হবে? মানুষের চরিত্র নিয়া মিথ্যাচার করতে হবে? এইসব সস্তা কুত্তাদের ব্যাপারে কমেন্ট করার যোগ্যতা আসলে কুত্তাভক্তদেরই আছে, আমার নাই। তারপরও মাঝেমধ্যে ইচ্ছা জাগে মনে একটু নিচে যাওয়ার এই আর কি।”

তারপর! ইনবক্সে কিছু গালাগালি আর ব্লক বাটনে একটা ক্লিক! কাহিনী এতটুকুই!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৪ thoughts on “হেফাজত, জামাত-শিবির, আলকায়দা, তালিবান বালছাল ইত্যাদি ইত্যাদি কেন “ভন্ড” এর সমার্থক!

  1. এরকম প্রতিনিয়তই তো হচ্ছে।
    এরকম প্রতিনিয়তই তো হচ্ছে। কয়েকগোছা দাঁড়ি, মাথায় একটা টুপি, পরনে পাঞ্জাবী আর মুখ দিয়ে একটু আকিয়ে বুকিয়ে আরবী বলতে পারলেই এইসকল ধর্মব্যবসায়ীরা নিজেদের ধর্মের ধারক-বাহক মনে করেন। আর এদের কথার বিরুদ্ধে গিয়ে কিছু বললেই শালার নাস্তিক বলে ট্যাগ দিয়ে দেয়। ধর্মে নিষেধ থাকা স্বত্ত্বেও তারা থোড়াই কেয়ার করে সেসব। যা কিছু তাদের পক্ষে যায় শুধু সেগুলোই তারা মেনে চলে আর সাথে তাদের মনগড়া কিছু ফতোয়া জুড়ে দিয়ে নিজেদের “হামসে বড়া কোয়ি নাহি হ্যায়” ভাব মারায়।

    1. দে নেভার উইন এন আর্গুমেন্ট!
      দে নেভার উইন এন আর্গুমেন্ট! অল দে ক্যান ডু ইজ কলিং ইউ অ্যা সেপটিক এন্ড শোয়িং হাউ এফেসিয়েন্ট দে আর এট ইউজিং স্ল্যাংস!

  2. এদের সম্পর্কে লেখার আগে আমার
    এদের সম্পর্কে লেখার আগে আমার ব্যক্তিগত সামান্য কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই। আমি বেশ কয়েক বছর যাবৎ বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলাম। আমার উপর দায়িত্ব ছিল মাদ্রাসার সিলেবাসের বাইরে সাধারণ জ্ঞানের কয়েকটি প্রশ্ন তৈরী করার। একটি মাদ্রাসায় বা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতে কমন যেটুকু জানা দরকার আর কি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এসব পদের জন্য আবেদনকারীগণ অধিকাংশই কামিল পাশ। যাই হোক আমার তৈরীকৃত প্রশ্নগুলো মোটামুটিভাবে ক্লাস ফাইভ, সিক্স, সেভেন বড়জোড় এইট এ পড়ানো হয় । সেক্ষেত্রে আমি দেখেছি কোন প্রার্থীই ২০ নম্বর এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭ এর বেশী পাননি। অধিকাংশ প্রার্থী পেয়েছেন ২-৫ এর মধ্যে। এবার বুঝুন তাদের বিদ্যার দৌড়! আর তাদের সিলেবাসে পড়ানো সাবজেক্ট এ তারা নম্বর পেয়েছেন অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৩০ এর মধ্যে ৮-১০ ! সর্বোমোট ৫০ নম্বরের মধ্যে বেশীর ভাগ প্রার্থী ১২-১৭ এর মধ্যে অবস্থান করেছেন ! আর মৌখিক পরীক্ষার কথা নাই বললাম….

    সুতরাং এদের সাথে বিতর্কে জড়ানো বোকামি ছাড়া আমি কিছুই মনে করতে পারি না…
    সর্বোপরি আমি বলতে চাই, ধর্ম সম্পর্ণ অন্তরাত্মার বিশ্বাসের বিষয় ! সুতরাং কাউকে জোড় করে ধর্ম পালন করানো যায় না। জোড় করে ধর্ম পালন করানো জুলুমের সামিল…..

    1. সুতরাং এদের সাথে বিতর্কে

      সুতরাং এদের সাথে বিতর্কে জড়ানো বোকামি ছাড়া আমি কিছুই মনে করতে পারি না…

      ঐ যে বললাম না মাঝেমধ্যে একটু নিচে যাওয়ার মন চায় এই যা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

33 + = 39