হিটলারের সমালোচনা করা গেলে , মুহাম্মদের সমালোচনা করা যাবে না কেন ?

প্রায়ই দেখা যায়, কিছু মুমিন মুহাম্মদকে হিটলার , স্টালিন, মাও সেতুং, জর্জ বুশ ইত্যাদির সাথে তুলনা করে। তারা বলে যে এইসব লোক কোটি কোটি মানুষ হত্যা করেছে। সেই তুলনায় মুহাম্মদ বা মুসলমানরা খুব বেশী মানুষ হত্যা করে নি। সুতরাং মুহাম্মদ বা মুসলমানদেরকে সন্ত্রাসী বলার আগে , সেইসব অমুসলিমদেরকে সন্ত্রাসী বলতে হবে। মুমিনদের আধুনিক নবী জাকির নায়েকও দেখা যায় এরকম যুক্তি দেখায়। এবার দেখা যাক , তাদের যুক্তি মুহাম্মদকে আসলে কি বানায়।

প্রায়ই দেখা যায়, কিছু মুমিন মুহাম্মদকে হিটলার , স্টালিন, মাও সেতুং, জর্জ বুশ ইত্যাদির সাথে তুলনা করে। তারা বলে যে এইসব লোক কোটি কোটি মানুষ হত্যা করেছে। সেই তুলনায় মুহাম্মদ বা মুসলমানরা খুব বেশী মানুষ হত্যা করে নি। সুতরাং মুহাম্মদ বা মুসলমানদেরকে সন্ত্রাসী বলার আগে , সেইসব অমুসলিমদেরকে সন্ত্রাসী বলতে হবে। মুমিনদের আধুনিক নবী জাকির নায়েকও দেখা যায় এরকম যুক্তি দেখায়। এবার দেখা যাক , তাদের যুক্তি মুহাম্মদকে আসলে কি বানায়।

হিটলার , স্টালিন , মাও সেতুং ইত্যাদিরা তাদের ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করে নি , তারা মানুষ হত্যা করেছিল ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্যে। তাদের এই গনহত্যাকে দুনিয়ার কোন বিবেকবান মানুষ সমর্থন করে না, সারা দুনিয়াতে তাদের এইসব অমানবিক নিষ্ঠুর কর্মকান্ড নিয়ে বহু সমালোচনা হয়েছে , আজ্ হচ্ছে , লেখা হয়েছে হাজার হাজার বই, নিবন্ধ , হয়েছে বিতর্ক। হিটলার , স্টালিন , মাও সে তুং এদেরকে কেই মহান ব্যাক্তি বলে না , তাদেরকে ঘৃন্য নিষ্ঠুর হত্যাকারী হিসাবে ঘৃণাই করে বেশীর ভাগ মানুষ। যে কিছু মানুষ তাদেরকে ভালবাসে, তারা কিন্তু উক্ত হিটলারদের সমালোচনাকারীদের ওপর চাপাতি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে না , বা আত্মঘাতী হামলা করে কাউকে হত্যাও করে না।

পক্ষান্তরে , মুহাম্মদ নিজে দাড়িয়ে থেকে ঠিক একই কর্মকান্ড করেছিল , তার সামনে তারই নির্দেশে আত্ম সমর্পনকারী বনু কুরাইজা গোষ্ঠির প্রায় ৭০০ মানুষকে ঠান্ডা মাথায় নির্মম নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করা হয়, আর তাদের শিশু ও নারীদেরকে বন্দি করে গণিমতের মাল হিসাবে ভাগ বাটোয়ারা করা হয়। মুহাম্মদ তার দলবল নিয়ে ভোর বেলা আতর্কিতে খায়বার আক্রমন করে , সেখানকার সকল ইহুদি পুরুষদেরকে হত্যা করে , তাদের সম্পদ , শিশু ও নারীদেরকে বন্দি করে নিজেদের মধ্যে গনিমতের মাল হিসাবে ভাগ বাটোয়ারা করে , মুহাম্মদ নিজের ভাগে ইহুদি সর্দার কিনানার স্ত্রী সাফিয়াকে নিয়ে সেই রাতেই তাকে ধর্ষন করে যে দিন মুহাম্মদ সাফিয়ার স্বামী , ভাই , পিতা এদেরকে নির্মম নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছিল। মুহাম্মদ তার সমালোচনাকারীদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করত , ইসলাম ত্যাগীদেরকে হত্যঅ করত , আর তার নীতি ছিল সকল অমুসলিমদের বিরুদ্ধে চিরকালিন যুদ্ধ জারী আছে , আর তাই সুযোগ পেলেই মুসলমানরা যে কোন অমুসলিম বসতি আক্রমন করে তাদেরকে হত্যা করে তাদের মালামাল নারী এসব দখল করে গনিমতের মাল হিসাবে ভাগ বাটোয়ারা করতে পারবে।

কিন্তু মুমিনরা দাবী ও বিশ্বাস করে , মুহাম্মদ হলো সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট আদর্শ মানুষ যার আদর্শ ও পদাংক অনুসরন করা প্রতিটা মুসলমানের একান্ত কর্তব্য। এখন কথা হলো হিটলার , স্টালিন বা মাও সেতুং এর হত্যাকান্ডের সাথে যখন মুহাম্মদ বা মুসলমানদের হত্যাকান্ডের তুলনা করে , তখন আমরা দেদারসে হিটলাদেরকে সমালোচনা করতে পারি , কোন সমস্যা নেই , কিন্তু মুহাম্মদের সমালোচনা করা যাবে না কেন তার কর্মকান্ডের জন্যে ? মুহাম্মদের সমালোচনা করতে গেলে মুমিনরা চাপাতি নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে কেন ? মুহাম্মদের সমালোচনা যখন মুসলমানরা সহ্য করতে পারে না , তখন তারা মুহাম্মদকে হিটলার , স্টালিন বা মাও সেতুং এর সাথে তুলনা করে কেন ?

হিটলারের সাথে মুহাম্মদের তুলনা করে মুহাম্মদকে যে প্রকারান্তরে হিটলারের সমপর্যায়ে নামিয়ে আনে এবং মুহাম্মদকেও যে তারা একটা নির্মম নিষ্ঠুর এক নায়ক খুনী বানায়, সেই কমন সেন্সটা কি মুমিনদের আছে ?

এই তুলনাটা কি তারা সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্যেই করে ? এটা কি তাদের একটা সুচতুর অপকৌশল ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

10 + = 19