কোরআন মাজিদ তেলাওয়াত, সর্বোত্তম ইবাদত???

নবীর মৃত্যুর পর প্রশ্নাতীত ভাবে জিব্রাইলের আসা বন্ধ হয়ে যায়। বলা যায় সমগ্র জাতির জন্য সকল দিকনির্দেশনা শেষ করেই আল্লা নবীকে পৃথিবী থেকে উঠিয়ে নেন। :'( :'( :'( জিব্রাইলকে আর পাঠানোর প্রয়োজনও ফুরিয়ে যায়। (জানি না বেচারা এখন কি কাজে ব্যাস্ত)

লাওহে মাফুজে সংরক্ষিত কোরআনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আয়াত বা পূর্ণাঙ্গ সূরা বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে জিব্রাইলের মাধ্যমে মুহাম্মদের কাছে আসতো এবং মুহাম্মদের নির্দেশে ওহী লেখকগণ তা লিপিবদ্ধ করতেন।
ওই লিপিবদ্ধ কোরআন ছিল জের, জবর, পেশ, নকতা ছাড়া। কোরআন তেলাওয়াত যদি সর্বোত্তম ইবাদত হয়ে থাকে, তবে সেটা কি ভাষান্তর কোরআন বা এই জের, জবর, পেশ সহ পড়লে হবে?
যেহেতু নবীর জীবনের ঘটনাবলী নিয়ে হাদিস রচিত আর নবীর মৃত্যুর পর কোরআনে জের, জবর, পেশ লাগানো হয়েছে এবং জানামতে এরকম কোন হাদিস নাই যা প্রচলিত কোরআন কে বৈধতা দেয় বা থাকলেও এটা সহিহ হাদিস হবে কিনা সন্দেহ।
সেক্ষেত্রে উক্ত প্রশ্নের সমাধান কি হবে?
আবার আল্লা কোরআনে বলে দিয়েছে – আমি তোমাদের জন্য কোরআন নাযিল করেছি সহজ ভাষায়, যাতে তোমরা এটা বুঝতে পারো। কিন্তু দুঃখের বিষয় আল্লা সমগ্র মানুষ জাতির জন্য এক ভাষা দিতে বেমালুম ভুলে গেলেন। আর একারণে আবু বক্কর,আলী,ওমরের দ্বারা একাধিক বার কোরআন সংকলিত হয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের সংকলন হয়েছে শেষ খলিফা ওসমানের সময়।

বিভিন্ন ভাষায় সংকলন হওয়ার কারণে কোরআনের অর্থের তারতম্য হওয়া শুরু করে, এমনকি আরবি ভাষার একাধিক সংকলন পাওয়া যায় (আয়াত, সূরা ওলটপালট)। এ অবস্থায় ওসমানের নির্দেশে বিভিন্ন ভাষায় সংকলিত কোরআনকে পুড়িয়ে এক ও অভিন্ন কোরআন চালু করা হয়।(যদিও পৃথিবী জুড়ে এখনো কয়েক প্রকার কোরআন পাওয়া যায়)
আবার কোরআন নাযিলের সময় জিব্রাইল সাত রীতিতে মুহাম্মাদকে পড়ে শুনাতেন, তথাপি বিভিন্ন ভাষার কোরআনে অর্থের তারতম্য হওয়ার কথা না। (সূত্র :সহীহ বুখারী বই 61, হাদীস 513, বা সহীহ বুখারী 4630,)।
তবে কি কর্তৃত্ব বাড়ানোর জন্য ওসমানের এটা একটা চালাকি?

কোরআনে যদি কোন সমস্যা থাকতো তবে আল্লার নির্দেশে মুহাম্মদেরই সমাধান করার কথা। যেখানে জিব্রাইলের আসা বন্ধ হয়ে গেছে সেখানে ওসমান কোরআন পুড়ানোর মত দুঃসাহস দেখায় কি করে?

তাছাড়া মুহাম্মদ নিজেই যখন শয়তানের প্ররোচনায় ভুল করে সেখানে ওসমান তো নিতান্তই একজন খলিফা মাত্র। যেমন – সূরা নাজম, আয়াত (19-20)
“তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও ওজ্জা সমন্ধে আর তৃতীয়টি মানাত সমন্ধে।”
এরপর আরও দুটি আয়াত যা কোরআন থেকে মুছে ফেলা হয়।
“এরাই হচ্ছে উড়ন্ত সারস। এদের সাথে মধ্যস্তা আশা করা যেতে পারে।”
পরবর্তীতে এই আয়াত দুটি কোরআন থেকে বাদ দেওয়ার জন্য আরও দুটি আয়াত নাযিল করেন। সেখানে আল্লা ঘোষণা করেন শয়তান নবীর মুখ দিয়ে আয়াত দুটি বের করে নেন। কোরআন (22 : 51)
“আমি তোমার পূর্বে যেসব নবী ও রাসূল পাঠিয়ে ছিলাম তারা যখনই কিছু আবৃত্তি করত তখনই শয়তান তাদের আবৃত্তিতে বাইরে থেকে কিছু ছুড়ে ফেলতো। কিন্তু শয়তান যা বাইরে থেকে ছুড়ে ফেলতো। আল্লাহ তা দূর করে দেন। তারপর আল্লাহ তার আয়াত সুসংবদ্ধ করেন। আর আল্লাহ তো সর্ব তত্ত্ব জ্ঞানী। ”

এমতাবস্হায় ওসমানের ভুল হওয়া খুবই স্বাভাবিক। যেমন ওসমান সংকলিত কোরআনে সব সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ থাকলেও, সূরা ” তওবা ” এর শুরুতে বিসমিল্লাহ নাই এবং এটা কি স্বতন্ত্র সূরা না আনফালের অংশ এ নিয়ে সংশয় আছে। ( সূত্রঃ তাফসীর মাআরেফুল কোরআন, পৃষ্ঠা 552।)
আবার সূরা ফীল ও সূরা কোরাইশ নিয়েও সমস্যা দেখা দেয় যা ওসমানের নির্দেশে উভয় সূরার মাঝখানে বিসমিল্লাহ যুক্ত করা হয়। (তাফসীর মাআরেফুল কোরআন, পৃষ্ঠা 1476)

উসমানের এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য সকল মুসলমান গণ কেন মাসুল দেবে?
যেখানে তেলাওয়াতের সময় সামান্য ভুল হলে গুনাহ হয়, সেখানে পুরো কোরআন টাই প্রশ্নবিদ্ধ।

একজন রিটায়ার্ড কৃত মুসলমান হিসেবে কোরআন পুড়ানো ও প্রশ্নবিদ্ধ করার দায়ে হযরত ওসমানের মরনোত্তর ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।

তদুপরি এই বিকৃত কোরআন তেলাওয়াত করে সর্বোত্তম ইবাদত হয় কি করে?
বরংচ আপনি গুনাহর বাগিদার হবার সম্ভবনাই বেশি।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

84 − = 80