মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব এবং সেলফি

এক বনে এক বুড়ো সিংহ ছিল । একদিন তার মনে হল এই যে যুগ যুগ ধরে আমাদেরকে সবাই রাজা বলে, আমরা কি আসলেই বিদ্যা, বুদ্ধি, সামাজিকতা সবদিক দিয়ে শ্রেষ্ঠ ? বনের অন্য সব প্রানিরা কি ভাবে এটা জানার খুব ইচ্ছা হল বুড়ো সিংহর । যা ভাবনা তাই কাজ । সভা ডাকা হলো, যেহেতু মানুষ বুদ্ধি এবং সভ্যতার দিক দিয়ে সকল প্রাণীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ তাই মানুষকেই তারা আদর্শ ধরে আলোচনা শুরু করলো ।

প্রথমেই শিয়াল বলে উঠলো, মানুষের পর আমরাই শ্রেষ্ঠ সেটাতো সবারই জানা, এটা নিয়ে এতো প্যাঁচাল পাড়ার কি আছে ? দেখুননা কেও বুদ্ধিমানের মতো কিছু করলেই মানুষ তাকে বলে শিয়াল পন্ডিত। তার মানে আমাদেরকে পন্ডিতের মতো বিজ্ঞ মনে করে বলেইতো শিয়াল পন্ডিত বলে তাইনা ? তাই মানুষের সমান সমান না হলেও বনের মধ্যে আমরাই শ্রেষ্ঠ । মুচকি হেসে সিংহ বলে শিয়াল সাহেব তোমার বুঝতে একটু ভুল হয়েছে । মানুষ আসলে ঠাট্রা করে শিয়াল পন্ডিত বলে এতে তোমার গর্ব করার কিছু নেই বরং বেশি কথা না বলে মুখটা বন্ধ করে থাকো ।

গাছের ডাল থেকে ঝুলতে ঝুলতে মাকড়শা বললো নো নো নো নো সিংহের শ্রেষ্টত্ব আমরা মানিনা । দেখনা মানুষ স্পাইডার-ম্যান হবার জন্য কতটা ব্যাকুল । অতএব, বনের মধ্যে আমরাই শ্রেষ্ঠ । পাশ থেকে কিচির মিচির করে বাদুড় বলে উঠলো, আরে শোনো মিঞারা আমরাও কিন্তু কম যায়না দুনিয়া জুড়ে ব্যাট-ম্যান নিয়ে যে এতো মাতামাতি সেটা কি তোমাদের চোখে পড়ে নাই ? অতএব, বনের মধ্যে আমরাই শ্রেষ্ঠ ।

বুড়ো সিংহর তো মাথাই হাত । এতদিন সে নিজেকে সদম্ভে শ্রেষ্ঠ বলেই জেনে এসেছে অথছ এরা বলে কি ? সিংহকে শ্রেষ্ঠ তো মানেই না বরং একেকজন নিজেদেরকেই শ্রেষ্ঠ বলে দাবি করছে ।

হঠাৎ চারপাশে অনেক আলো এবং হৈ চৈ শোনা গেল, মশাল হাতে পিঁপড়ার দল বিরাট এক মিছিল নিয়ে ধনতে ধনতে এগিয়ে আসছে মানিনা মানিনা মানবোনা মানবোনা । পিঁপড়ার উত্তেজনা দেখে সিংহর একটু হাশিই পেল । কিছুটা তাচ্ছিল্য ভরে জিজ্ঞেস করলো আপনি কি মানেন না মিয়াঁ ভাই ? এতক্ষন যারা নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ বলে দাবি করেছে সেটা তো মানিইনা উপরন্ত তোমরা যে মানুষকে আদর্শ বা শ্রেষ্ঠ ধরে বিচার করছো সেটাও মানিনা । এবার সিংহ একটু ধাক্কাই খেলো । কিছুটা নড়ে চড়ে আবার জিজ্ঞেশ করলো মানুষ যে সবার শ্রেষ্ঠ সেটাও তুমি মাননা ? পিঁপড়া রাগ করে বলল না মানিনা । সিংহর ঘাড়ের কেশ দাড়িয়ে গেল, বুঝাই যাচ্ছিল এবার সে কিছুটা রাগান্বিত । নিজেকে একটু সামলে নিয়ে, তুমি কি বলতে চাও যে তোমারই সবার চাইতে শ্রেষ্ঠ ? পিঁপড়া মৃদ কণ্ঠে জবাব দিল জি জনাব “আমরাই শ্রেষ্ঠ মানুষ নয় । সিংহ বলল ভাল কথা তাহলে প্রমান কর ।

পিঁপড়া বলতে লাগলো আজকাল বেশিরভাগ মানুষ যে মানসিক রুগি হয়ে গেছে সেটা আপনি ফেসবুক খুললেই বুঝতে পারবেন । যে মানুষ দিনে একাধিকবার কারনে অকারনে বিভিন্ন ভংগিতে সোজা মুখ বেঁকা করে সেলফি তুলে আর ফেসবুকএ আপলোড করে সে আর যাই হোক অন্তত সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ হতে পারেনা । শুধু তাই নয়, মৃত বাক্তির সাথে সেলফি তুলেও ফেসবুক এ আপলোড করতে আমি নিজের চোখে দেখেছি । আর এটা দেখার পর আমার মনে হয়েছে মানুষের মত চুতিয়ার প্রানি আর কেও হতে পারবেনা । সুতরাং মানসিক বিকারগ্রস্থ কোন প্রানির শ্রেষ্ঠত্ব আমরা মানিনা । ইদানিং অনেকের প্রোফাইল এ দেখি HBD লেখা । প্রথমে না বুঝলেও পরে বুঝলাম এইডা হইলো Happy Birth Day এর Short Version. আরে বাবা তোমার বন্ধুকে যদি Wish করতেই চাও সুন্দর করে Happy Birth Day লিখলে অশুবিধাটা কোথাই ? এটা আবার কোন ধরনের অভদ্রতা ? শার্ট এর কলারটা ঝাকিয়ে, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি এই ধরনের অসভ্যতা পিঁপড়া সমাজের মধ্যে পাবেন না ।

পিঁপড়া বলতেই থাকে আবার দেখুন, যে জিনিস পৃথিবীর কোন মানুষ চোখে দেখে নাই, ছুয়ে দেখে নাই, সুধুমাত্র বিশ্বাসের বসে, আর অজানা এক লোভের কারনে তারা এক দল আরেক দলের সাথে খুনা খুনিতে লিপ্ত । এতদিনতো দলে দলে খুনাখুনি করতো এখন তারা নিজেরা নিজেরাই করে । এখন আপনারাই বলুন মানুষের মত এতবড় আহাম্মুক প্রানি আর কেডা হইতে পারে ?

আমরা অর্থাৎ পিপড়ারা প্ররিশ্রমী এবং সুশৃঙ্খল । আমাদের ভ্রাতিত্ত বোধ অনেক বেশি । আমরা হিংসা বিদ্বেষ ভুলে একে অপরের জন্য আমৃত্যু কাজ করে যায় । আমাদের মধ্যে যে মানবতাবোধ আছে মানুষের মধ্যে তার ধারের কাছেও নাই । পিপড়া জাতির মধ্যে কলহ হয়েছে এমন কোন নজির কেও দেখাতে পারবে না । মানুষ এইসব গুনাবলীর একটাও অর্জন করতে তো পারেই নাই উপরন্ত আমার মনে হয় দিনকে দিন মানুষ এক বোধশক্তিহীন অসভ্য বর্বর জাতিতে পরিনত হচ্ছে । তাই আমাদের দাবি “আমরাই শ্রেষ্ঠ মানুষ নয়” ।

পিঁপড়ার কথা শুনে সবাই একদম চুপশে গেল । একটা গভীর নীরবতা পুরা পরিবেশটাকে যেন অন্ধকারের মতো গ্রাস করে নিলো । সিংহ ভাবে, শিয়াল ভাবে, মাকড়সা ভাবে, পাখিরা ভাবে, সবাই ভাবে, শুধু ভাবতেই থাকে । সত্যিই তো মানুষেরতো এতটা অধঃপতন হওয়ার কথা ছিলনা !! কিন্তু কেন ??

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৭ thoughts on “মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব এবং সেলফি

  1. Selfie Sick মানুষের এই গল্প
    Selfie Sick মানুষের এই গল্প interesting মনে হবেনা এটাই স্বাভাবিক. anyway সময় উপযোগী লেখা great writing…..এইধরণের একটা লেখার অপেক্ষায় ছিলাম

  2. আমি লেখার কথা বলেছি। সমালোচনা
    আমি লেখার কথা বলেছি। সমালোচনা সহ্য করুন বস।
    ভাল লাগেনি, বলেছি। এটাই।
    আর হ্যাঁ, সেলফি তুলি বলে খারাপ লেগেছে, এটা মোটেও না। ভাল হয়নি বলে লেগেছে

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

61 − 51 =