ধর্মের ভিতরে শয়তান ঢুকেছে

পৃথিবীতে ধর্ম নাজিল হয়েছে মানুষের জন্য। আর মানুষকে সঠিক ও সুন্দর পথপ্রদর্শনের জন্যই পৃথিবীতে ধর্মের আবির্ভাব। আর পৃথিবীর সকল ধর্মকেই মহান ঈশ্বরের বাণী হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মদীয় আলোচনা ধর্ম আসলে কার জন্য?

পৃথিবীর সকল ধর্মই মানুষের জন্য। মানুষকে সুন্দর জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে তোলাই ধর্মের প্রধান কাজ। আর এব্যাপারে পৃথিবীর সকল ধর্মই এক ও অভিন্ন বাণী প্রদান করছে। আজ পর্যন্ত পৃথিবীর কোনো ধর্ম কাউকে চুরি করতে বলেনি। কিংবা কাউকে কোনো কাজে মিথ্যা বলতে উৎসাহিত করেনি। আসলে, সকল ধর্মই পৃথিবীতে মানুষকে সুন্দর-মানুষে পরিণত হওয়ার জন্য পথনির্দেশনা দিয়ে আসছে।

পৃথিবীতে যতদিন ধর্ম মানুষের হাতে ছিল ততদিন পর্যন্ত ধর্ম মানবকল্যাণেই পরিচালিত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ধর্ম মানুষ আর মানবতার পক্ষেই কথা বলে। কিন্তু সমস্যা সৃষ্টি করছে একশ্রেণীর অমানুষ কিংবা মানুষ-নামধারী জানোয়ার। এরা মানুষও নয় কিংবা ধার্মিকও নয়। এরা শুধুই ভণ্ড আর ভণ্ডশয়তান। আর এই ভণ্ডশয়তানগুলোর জন্যই আজ পৃথিবীতে এতো অশান্তি। এই শয়তানগুলোই এখন ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের সকল ব্যক্তিগত কাজকর্ম সম্পাদন করে ধর্মকে কলুষিত করছে। আসলে, ধর্মের ভিতরে এখন শয়তান ঢুকেছে। আর এই শয়তানগুলোই ধর্মের নাম ভাঙ্গিয়ে মানবজাতিকে এখন বিপথগামী করার চেষ্টা করছে।

পবিত্র ইসলামধর্মের ভিতরে এখন একশ্রেণীর সাক্ষাৎ শয়তান ঢুকে পড়েছে। এরা শয়তানের জারজপুত্র এজিদের চেয়েও ভয়ানক শয়তান। আর এরা পৃথিবীর সর্বকালের কুখ্যাত ভণ্ড আর ভণ্ডশয়তান। এই ভণ্ডশয়তানগুলো পবিত্র ইসলামের দোহাই দিয়ে সারাবিশ্বে নানারকম অনাচারে লিপ্ত হয়েছে। বাংলাদেশেও এই শয়তানদের উপস্থিতি লক্ষণীয়। এরা মানুষ নয়—এরা সাক্ষাৎ শয়তান মাত্র। তবুও এরাই ধর্মকে নিজের পৈতৃক-সম্পত্তি মনে করে তাকে অবলীলাক্রমে নিজেদের পাপকে ধামচাপা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করছে। আর এরা মনে করে থাকে: এরা ধর্মের হর্তাকর্তা। এমন একটা ভাব নিয়েই তারা পবিত্র ধর্মগুলোর স্বঘোষিত মোড়ল সেজে বসেছে। এদের কারও মধ্যে ধর্মের সামান্যতম কোনো চিহ্ন বা বৈশিষ্ট্য নাই। এরা দুনিয়ার সবচেয়ে বড় শয়তান হয়েও নিজেদের মুসলমান বলার মতো ধৃষ্টতাপ্রদর্শন করে চলেছে। আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে: এই শয়তানগুলোই ১৯৭১ সালে পবিত্র ইসলামধর্মের দোহাই দিয়ে নির্বিচারে মানুষহত্যা শুরু করেছিলো। সেই সময় এরা নিজের স্বার্থে পবিত্র ইসলামধর্মকে নিজের পৈতৃক-সম্পত্তি মনে করে মানুষহত্যা থেকে শুরু করে সর্বপ্রকার খুন-ধর্ষণসহ যাবতীয় নারকীয় অকাজ-কুকাজকে ‘জায়েজ’ বলে ঘোষণা করেছিলো। এই শয়তানরাই এখন ইসলামের নামে মানুষহত্যা করে তাকে জিহাদ বলার ধৃষ্টতাপ্রদর্শন করে চলেছে।

ইসলামীরাষ্ট্রের নামে ইসলামীহুকুমাতের নামে, ইসলামীআইনের নামে, আর ইসলামীশাসনের নামে মানুষহত্যা করার কথা কোথাও বলা হয়নি। এসব এই ভণ্ডশয়তানদের বানানো গল্প মাত্র। এরা এখন ধর্মপালনে মনোযোগী নয়—বরং ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থের অপরাজনীতি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। আর প্রতিনিয়ত ধর্মের অপব্যাখ্যা করতে ব্যস্ত। এরা পবিত্র ধর্মের চিহ্নিত-শয়তান মাত্র।

এরা আমাদের ধর্মের ভিতরে অনুপ্রবেশকারী। আর এরা ধর্মের ভিতরে ঢুকে পড়ায় ধর্মের চেহারা আজ বদলে যাচ্ছে। ধর্মের নামে এরা সন্ত্রাসকে জায়েজ ঘোষণা করে মানুষহত্যাকে জীবনের একমাত্র পেশা ও নেশা হিসাবে নির্বাচন করেছে। যারা আজ ইসলামের নামে মানুষহত্যার কথা বলছে তাদের কোনো পারমিশন নাই। কেউই এদের ইসলামকায়েমের দায়িত্বপ্রদান করেনি। এরা ইসলামের নামে ধর্মের ভিতরে সম্পূর্ণ স্বঘোষিত মোড়ল। আর এরা ধার্মিক নয়—এরা সবসময় আপদমস্তক ভণ্ডশয়তান। এই শয়তানগুলোর জন্যই আজ সাধারণ ধার্মিক-মানুষগুলো বিভ্রান্ত হচ্ছে।

যেকোনো ধর্মের ধার্মিক মানুষ সারাপৃথিবীর জন্য আশীর্বাদ। কিন্তু ধর্মব্যবহারকারী আর ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থের মানুষহত্যাকারী নরপশুগুলো এই দুনিয়ার সবচেয়ে বড় শয়তান। আর এই শয়তানগুলো ধর্মের ভিতরে, ইসলামের ভিতরে আজ ঢুকেছে শুধুই শয়তানী করার জন্য। ধর্মের সঙ্গে মানুষের কোনো সংঘাত নেই। ধর্ম মানুষের জন্য ঐচ্ছিক বিষয়। অর্থাৎ, যার ইচ্ছে সে ধর্মপালন করবে, আর যার ইচ্ছে করবে না সে ধর্মপালন করবে না। এখানে, কারও কিছু বলার নাই। মহান আল্লাহ বা ঈশ্বর এই পৃথিবীতে মানুষের জন্য ধর্মপালনকে ঐচ্ছিক বিষয় হিসাবে ঘোষণা করেছেন। কাউকে জোর করে ধর্মপালনের কথা পবিত্র কুরআনে কিংবা পৃথিবীর অন্য যেকোনো ধর্মগ্রন্থে লেখা হয়নি। কিন্তু একশ্রেণীর শয়তান এখন নিজেরা ধার্মিক না হয়ে, ধর্মপালন না করে ভণ্ডশয়তান হয়েও ধর্মের মোড়ল সেজে, নিজেদের গায়ের জোরে আলেম দাবি করে ধর্মের নামে এখন যাবতীয় শয়তানীকর্মকাণ্ড পরিচালনা করে যাচ্ছে। আর নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থে মানুষকে নাস্তিক, কাফের, মুরতাদ ইত্যাদি বলে সমাজে-রাষ্ট্রে ফিতনা-ফাসাদসৃষ্টি করে চলেছে। আমাদের ধর্মের ভিতরে অনুপ্রবেশকারী এই শয়তানগুলোই এখনও পর্যন্ত ধর্মের সবচেয়ে বড় শয়তান।

ধর্মীয় অনুশাসন মেনে যিনি ধার্মিক হবেন তিনি সকল মানুষের বন্ধু হবেন। আর যে বা যারা ধর্মের নামে নিজের স্বার্থহাসিলের জন্য মানুষহত্যা থেকে শুরু করে নিজেদের লাভের রাজনীতি করে বেড়াবে তারা মানবজাতির চিরঅভিশাপ। ধর্ম আসলেই ভালো আর পবিত্র বিষয়। আর তাই, ধর্ম মানুষের জন্য, শয়তানের জন্য নয়। আমাদের ধর্ম থেকে শয়তানগুলো বেরিয়ে গেলে পৃথিবীর সকল দুঃখ-দুর্দশার অবসান ঘটবে।

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
২৮/১০/২০১৬

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 87 = 90