বাঁচতে হলে ঠেকাও

আগামী ৫মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচী। অবরোধ কারা করবে, জামাত নাকি হেফাজত তা এখন পুরাই পরিষ্কার। কিন্তু পরিষ্কার না একটা ব্যাপার। সেটি হচ্ছে, আমরা অবরোধ করতে দিবো কেন? হেফাজতে ইসলামীর কাজ কারবার পুরাই ঘোরতর সাম্প্রদায়িক। ইসলাম কে রক্ষা করা তাদের মূল উদ্দেশ্য নয়। তাদের উদ্দেশ্য ইসলাম কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আস্তিক নাস্তিক সংঘাত সৃষ্টি করা। সারা পৃথিবীতে যত ধর্ম আছে, তার মধ্যে আমার জানামতে এবং ইতিহাস মতে ইসলাম সবচেয়ে সংবেদনশীল ধর্ম। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও শোনা যায় যে ইসলাম অবমাননা হচ্ছে। আসল সমস্যা টা কোথায়? আসল সমস্যা হচ্ছে মুসলিমদের মধ্যেই। কে বা কারা ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করলো বা মহানবীকে অবমাননা করলো, তা এতো ফলাও করে জানান দেওয়ার দরকার কি? ধর্ম যার যার কাছে সত্য। কেউ যদি না মানে তাহলে সেইটা তার নিজস্ব ব্যাপার। কিছু মুসলিম আছে, যাদের সমস্যা হচ্ছে তারা কথায় কথায় ধর্ম গেল গেল বলে হাঁক মারা শুরু করে। তার প্রতিহিংসা সইতে হয় সংখ্যালঘুদের। আপনারা যতই এই বিষয় গুলো নিয়ে চিৎকার করবেন, ততই জিনিসটা পচতে শুরু করবে। তাতে অনেকেই উৎসাহিত হবে এবং মনে মনে বলবে, “ইসলাম বুঝি আসলেই ফালতু ধর্ম, সবাই তারে পচায়, চল আমরাও পচাই”। এভাবেই সবার মধ্যে একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় এবং ইসলাম রক্ষার্থে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নেমে পরে। হেফাজতে ইসলাম ও ঠিক একই কাজটি করেছে এবং সাধারন শান্তিপ্রিয় মুসলিমদের খেপিয়ে তুলছে। যারা হেফাজতে ইসলামকে সমর্থন করেন, তারা মোটেই মুসলিম নন। কারন তারা ইসলাম এবং মহানবী কে নিয়ে অবমাননাকর কথা প্রচার করছে। হেফাজতে ইসলাম যাদের নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে, তাদের অধিকাংশই মূর্খ, আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের সাথে মোটেই পরিচিত নয়। কেবল টুপি পরে, দাড়ি রেখে প্রকৃত মুসলিম হওয়া যায় না। ইসলামের কোথাও নেই যে আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানের সংস্পর্শ থেকে দূরে থেকে মূর্খ হয়ে থাকা। আল্লাহর দুনিয়ায় সব কিছু দেয়া আছে, তা গ্রহন করে নিজেকে সমৃদ্ধ কর। হয়ত তৎকালীন আরব সমাজে আধুনিকতার ছোঁয়া ছিল না বলেই তাদের নিয়ম কানুন গুলাও সেইরকম। তাই বলে এই বিজ্ঞান প্রযুক্তির যুগে হেফাজতের ১৩ দফা অবাস্তব দাবী মেনে নেওয়া আর তৎকালীন অন্ধকার যুগে ফিরে যাওয়া একই কথা বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশ কোন মুসলিমদের দেশ নয়, এটা হিন্দুদের দেশও হতে দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশ বাঙালীর দেশ। এই দেশ অসাম্প্রদায়িক। এই দেশকে ইসলামিক দেশ ঘোষণা দেওয়া আর পাশ্চাত্য আগ্রাসনকে আমন্ত্রন জানানো একই কথা, এই কথা টা আমরা মধ্যপ্রাচ্যের দিকে তাকালেই বুঝতে পারি। তাই কোনভাবেই হেফাজতকে সুযোগ দেওয়া যাবে না। ৫মে যেখানেই তারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে, সেখানেই ওদের প্রতিরোধ করতে হবে। এতে যদি প্রাণ যায়, তাহলে বাঙালি হিসেবেই মরবো। তবুও সাম্প্রদায়িকতার লজ্জা মাথায় নিবো না।
লেখাটি পরে যদি আপনারা আমাকে ইসলাম বিদ্বেষী, নাস্তিক, কাফের, মুরতাদ ভাবতে পারেন। আমি কেয়ার করি না। কারন আমি মানুষ। মানুষের জন্যই কাজ করে যাব। মানবতাই আমার ধর্ম।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১১ thoughts on “বাঁচতে হলে ঠেকাও

  1. মানবতাই আমার ধর্ম।
    প্রত্যেক

    মানবতাই আমার ধর্ম।

    প্রত্যেক ধর্মেই কিন্তু সবার উপরে মানবতা এবং সত্যকে স্থান দেয়া হয়েছে; অথচ দেখা যায়; এই ধর্ম নিয়ে চরম বাড়াবাড়ির ফলে; মানবতারই ক্ষতিসাধিত হয় সবচাইতে বেশি। একসময়; হিন্দু ধর্মের চরম কট্টরতাই কিন্তু; এ ধর্মকে আজ এতো অসহায় করে দিয়েছে বাংলাদেশে।

  2. সহমত!!
    রাজীব হত্যার পর কেউ

    সহমত!!
    রাজীব হত্যার পর কেউ এইভাবে সাহসী লিখা লিখে নাই!!
    যা হোক, আমাদের ধর্ম ইসলাম এখন লজ্জাবতী লতা থেকেও বেশী সংবেদনশীল!!
    এতটাই জে,খোলা আকাশ ডেকে আজ বৃষ্টি থেকেও ওই পাতা রক্ষা করতে হয়…
    আজ এইসব ধর্ম বেশ্যা পাপী শফিরাই ধর্মটার ১৩ টা বাজাচ্ছে!!

  3. সাহসী লেখার টাইম নাই। যা সত্য
    সাহসী লেখার টাইম নাই। যা সত্য তাই লিখবো। হেফাজত চোদার টাইম নাই। মারলে মারুক। রাজীব ভাই থামে নাই, আমরাও থামবো না।

  4. অন্যের মন্তব্যের উপর যদি
    অন্যের মন্তব্যের উপর যদি বিশ্বাস নির্ভর করে তবে এই বিশ্বাস যে কতোটা ঠুনকো তার জন্য আর কোন প্রমান লাগে না।
    ধর্ম নিয়ে কে কি বলল সেটা নিয়ে তারাই মাথা ঘামায় যাদের ধর্মের প্রতি সত্যিকার অর্থে বিশ্বাস নেই।
    আমার স্বাধীন দেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ। কোন সাম্প্রদায়িকতা মেনে নিবো না। যতদিন প্রান থাকবে ততদিন লড়ে যাবো।

  5. হেফাজতিরা যতই ইসলামের
    হেফাজতিরা যতই ইসলামের হেফাজতের কথা বলুন না কেন, তাদের কার্যক্রমে কি মনে হয় তারা ইসলামের হেফাজতে মাঠে নেমেছে? যে কেউ বিবেক থেকে এই একটি প্রশ্নের উত্তর দিলেই সব পরিস্খার হয়ে যাবে। আর কিছু বলার দরকার বোধ করি হবে না….

  6. আজ যদি এই দেশের মানুষ বুঝতে
    আজ যদি এই দেশের মানুষ বুঝতে না পারে কিসের সাথে তাল দিয়ে যাচ্ছে ধর্মের নাম করে, তবে এই দেশের কপালেও খারাবি আছে।

  7. ওই ছাগল গুলারে বুঝায় কুনু লাভ
    ওই ছাগল গুলারে বুঝায় কুনু লাভ নাইক্কা। :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট:

  8. এবার দ্বিমত পোষণ করছি
    আমার

    এবার দ্বিমত পোষণ করছি :কনফিউজড:
    আমার একটা বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করি, স্কুলে পড়তাম যখন তখন আমাদের প্রায়ই দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত রোদের মাঝে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হতো! কারণ ওইদিন কোন মন্ত্রী অই পথে যাবেন!!
    যেতে না চাইলেও উপায় ছিল না, বেত হাতে তাড়া করতো স্যার!
    আমার ধারনা, মাদ্রাসার বাচ্চাদের সঙ্গেও একই কাহিনী করা হয়!!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 5