অবিলম্বে করণীয়

কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম অনুসঙ্গ জনগণের মৌলিক অধিকার সমূহের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার তার আন্তরিকতা আর নিষ্ঠায় এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অনেকদূর অগ্রসর হয়েছে – তারই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলেছে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের বিষ্ময়কর অগ্রগতিতে। এখন সময় এসেছে জনগণের মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রে সরকারের অবিলম্বে করণীয় আরও কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণের। আমরা জানি, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সর্বত্র সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেও সর্বত্র হাসপাতাল ও ক্লিনিক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু বেসরকারি পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসার উচ্চব্যয়ের কারণে দেশের ৯০ শতাংশ জনগণেরই সুষ্ঠু চিকিৎসা সেবা গ্রহণ সম্ভব হয় না। তবে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর ম্যানেজমেন্টের উন্নতি, চিকিৎসকের উপস্থিতি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করে জনগণের জন্য উন্নত চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা সম্ভব। চিকিৎসা সেক্টরের বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরকে চিকিৎসা সেবার মানবিকতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের অতি মুনাফালোভী মানসিকতার লাগাম টানার পাশাপাশি সামাজিক-নৈতিক-ধর্মীয় মূল্যবোধ উজ্জীবিত জনবান্ধব কার্যক্রম সম্প্রসারণে আগ্রহী করে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি সম্প্রসারণের আওতায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্যান্সার, হার্টের বাইপাস, কিডনির ডায়ালিসিসের মতো ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকারের বহন করা আবশ্যক। যে দেশে বর্তমানে তিন লাখ কোটি টাকার বাজেট হয় সেখানে সুষ্ঠু পরিকল্পনায় এ ধরণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। না হলে এ জাতীয় উচ্চমূল্যের চিকিৎসা সেবা নিতে ফতুর হয়ে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সরকারের ঘোষিত দারিদ্র্যমুক্তি কার্যক্রমের জন্য অচিরেই চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিবে। চিকিৎসাকে সহজলভ্য করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রাইভেট সেক্টরে অন্তত ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে ফ্রি চিকিৎসা, ফ্রি টেস্ট ও ফ্রি ওষুধের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট সকল মহলের ইতিবাচক মানসিকতা প্রসূত সমন্বিত উদ্যোগই চিকিৎসাসেবায় নিয়ে আসতে পারে জনবান্ধব পরিবর্তন, কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সাফল্যেই নিশ্চিত হবে দেশের টেকসই উন্নয়ন।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 8