জাবিতে র‍্যাগিং বন্ধ হোক (প্রসঙ্গ প্রীতি)

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বড় ভাই ফেসবুকে পোষ্ট করেছেন,” ক্যাম্পাসের নতুন গালি, ‘ তুই প্রীতির বয়ফ্রেন্ড ‘ “। তার পোষ্টটি ছিল একজন তরুন লেখিকার বিরুদ্ধে।লেখিকার নাম জান্নাতুন নাঈম প্রীতি।চারুকলা বিভাগ, ৪৫ তম আবর্তন। অতি সাম্প্রতিক সময়ে প্রীতি উইমেন চ্যাপ্টারে প্রীতিলতা হলে অবস্থানকালে তার সাথে ঘটে যাওয়া কিছু নির্যাতনের বর্ননা দিয়েছেন। পোষ্টটি ইতিমধ্যে ৬৫০০০+ বার পড়া হয়েছে।ক্যাম্পাসে ইতিমধ্যে লেখাটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে গেছে। অনেকের কাছে এটি ক্যাম্পাসের সন্মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।এজন্য প্রায় সবাই প্রীতির বিপক্ষে। আমিও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বনামধন্য এক ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্ট। আমার শিক্ষাজীবন শেষের দিকে। সেখানে প্রীতির কেবল শুরু। প্রীতিকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না।তবে প্রীতির লেখা অনেক পড়েছি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে র্যাগ নেই বললেই চলে। সামান্য র্যাগিং শুধুমাত্র আবাসিক হল গুলোতে চলে।এদিকে ডিপার্টমেন্টে র্যাগিং নেই বললেই চলে। আর সেখানে মেয়েদের হলে র‍্যাগিং খুব বড় করে দেখার মত না। ব্যক্তিগতভাবে আমি র্যাগিং বিরোধী। প্রীতির লেখায় উল্লেখিত স্নেহা এবং এশা আপুকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি।দুজনই ৪০ তম আবর্তনের। এনারা ভাল মেয়ে এব্যাপারে সন্দেহ নেই। আর ক্যাম্পাসের নিয়ম অনুসারে ৪০ তম আবর্তনের কেউ ৪৫ তম আবর্তনেরমেয়েকে র্যাগিং করবে এটা অসম্ভব। সুতরাং প্রীতির ঘটনাগুলো অবশ্যই ৪৪ তম ব্যাচ কর্তৃক ঘটিত।ক্যাম্পাসের ট্রাডিশন অনুযায়ী জুনিয়র ব্যাচগুলো বিপদে পড়লে সিনিয়রদের কাছে যায়।সেই সূত্রে স্নেহা ও এশা আপু হয়ত প্রীতির কাছে গেছিল।

প্রীতি তার লেখায় অনেকবার প্রতিবাদের কথা বলেছে। সিনিয়র হিসেবে এতটুকু বলতে পারি কেউ যদি আপনার সাথে কেউ পরিচিত হতে না চায় তবে আপনি জোর করবেন কেন? বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট হিসেবে অন্যের সমালোচনা হজম করার মানসিকতা না থাকলে তাকে হেয় করার অধিকার আপনার নেই। প্রীতি আমাদের ছোট বোন। তার কাছে ক্যাম্পাসটা নতুন।সে বিভিন্ন যায়গায় অভিযোগ করার পরও আপনারা তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করলেন কেন? এখন আপনারা আবার তাকে মানসিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করতেছেন কেন? তবে এখন কি ধরে নিব প্রীতি ঠিক না আপনারা ঠিক? দয়া করে ঘটনাটা এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ রাখুন না।জুনিয়রের দোষ ক্ষমা করে,জুনিয়রকে সঠিক পথ দেখানোই তো সিনিয়রের কাজ। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ ক্যাম্পাসে র্যাগিং পুরোপুরি বন্ধ করতে সবরকমের পদক্ষেপ নেয়া হোক।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

85 − 81 =