সূফি সম্রাট দেওয়ানবাগী(শুধু কি তার দোষ)

হঠাৎ করেই অনলাইন নিউজ সাইট গুলো খুব বেশি মাখামাখি শুরু করেছে দেওয়ানবাগীর পীরকে নিয়ে। আর,সাথে যুক্ত হয়েছে বিপুল সংখ্যক সাধারণ মুসলিম। মনে হয় বাংলাদেশের মধ্যে তিনি-ই একজন ভূয়া পীর কিংবা ধর্ম ব্যবসায়ী। আমি ব্যক্তিগতভাবে দেওয়াবাগী-কে অনেক কাছ থেকে দেখেছি এবং তার অনেক মুরিদদের সাথে আমার সম্পর্ক খুব ভাল ছিল। আমরা যারা ধর্মের সরাসরি সমালোচনা করি তাদের লেখা দ্বারা খুব কম মানুষ -ই আকৃষ্ট হয়। কারণ,আমাদের কাজটা কিছুটা,
“ধর তক্তা মার পেরেক টাইপের”
কিন্তু,দেওয়ানবাগীর মত পীরেরা অনেক সূক্ষভাবে প্রথমে মুহাম্মদ এর হিংস্রতাকে বাদ দিয়ে অন্য এক শান্তির ইসলাম বোঝাতে তারা সক্ষম হয়েছেন। এতে আমি দোষের কিছু দেখি না। দেওয়ানবাগী নাস্তিকদের ব্যাপারে অতি সহনশীল ভাবে তার এক ওয়াজে বলে ছিলেন,
“নাস্তিকরা বুদ্ধিমান,কারণ তারা জেনেশুনে সিদ্ধান্ত নেন”
আবার বলেছিলেন,
“নাস্তিক কইলে দোষ, হাদিসে কইলে দোষ নাই”
তিনি অনেক সুন্দরভাবে তার মুরিদদের সহিংসাতা থেকে দূরে থাকার শিক্ষাদেন। এবং তাদের সহনশীলতা অনেক বেশি। কমপক্ষে,তার মুরিদের কাছ থেকে সাধারণ মানুষ এবং সাধারণ মুসলিমরাও নিরাপদ। যারা তার সমলোচনা করেন তাদের দাবি তিনি ব্যবসা করেন। কিন্তু,মোল্লা কাক্কু ব্যবসা করে নাই কে!ধর্মের নামে। ডা.সাহেব হাজার হাজার টাকা চ্যানেলের নামে হাতাইলে সমস্যা নাই কিন্তু দেওয়ানবাগী গরু নিলে সমস্যা। এইসব ছাগু মার্কা, জুম্মাপার্টীদের সমস্যা কিছু জানি না, শুনি না,বুঝি না স্লোগান শুরু,
“ইসলামের শত্রুরা হুসিয়ার সাবধান”
মূল আলোচনার আগে দেওয়ানবাগী সম্পর্কে জেনে নেওয়া দরকারঃ
*জন্ম ১৪-ই ডিসেম্বর,সালঃ১৯৪৯।
*তার নাম মাহবুবে-খোদা রাখেন মাওলানা তাজুল হক,
*বীর মুক্তিযোদ্ধা।
*১৯৭৪ সালে বায়াত গ্রহন করেন চন্দ্রপুরীর কাছে।
*তার ৪র্থ কন্যাকে তিনি বিয়ে করেন।
★দাবিসমূহঃ
*জামানার মোজাদ্দেদ -ডিসেম্বর-১৬,সাল-১৯৮৩।
*হাদী গনের ইমাম -আগস্ট, ২৪,১৯৮৮।
*মোহাম্মদী ইসলাম জামাত এর প্রতিষ্টিত করেন-এপ্রিল,৫,১৯৮৯।
*আম্বিয়াগনের বেলায়েত লাভকারী -অক্টবর ২,১৯৯৬।
*চাদে দেখে তাকে তার মুরিদরা- অক্টোবর ১০,২০০৮।

উপরের ৪টা দাবির পিছনে যথেষ্ট কুরান-হাদিসের সহীহ দলিল আছে। আর, তিনি যা দাবি করেন তা কুরান-হাদিস দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন তার কিতাব গুলোতে। এখন সমস্যা হলো শেষের দাবিটি নিয়ে, এটা নিয়ে সমস্যার তো কিছু দেখছি না। কারণ,তার মুরিদরা হিপনোটাইজ হয়ে ইহা দেক্ষতেই পারে যেমনটা কিছুদিন আগে মানুষ চাদে সাঈদীকে দেখেছিল। অবশ্য তার এসব দাবি নিয়ে তেমন একটা সমস্যা দেখা যায় না আলেম-ওলামাদের মধ্যে। সমস্যা তার অন্যকিছু দাবি নিয়ে ধীরে ধীরে পয়েন্ট আকারে তার উত্তর দিব। তার আগে জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশের মুসলিমদের জন্য তার অবদানঃ
*জিহাদের নামে মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে তিনি অবস্থান নিয়ে এখনো দাওয়াত চালিয়ে যাচ্ছেন।
*পাঠ্যপুস্তকে কুরানের সঠিক আয়ার লিপিবদ্ধকরাতে বাধ্য করেন। যার ফলে এখনকার বইতে কুরানের আয়াত সংখ্যার ব্যপারে লেখে, ৬২৩৬ মতান্তরে ৬৬৬৬ আয়াত।
*মিলাদুন্নবি তে সরকারি ছুটি দেওয়ার ব্যপারে তিনি প্রথম আবেদন করেন এবং পরে তা গ্রহন করা হয়।
মূলত অনলাইনে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার পরিচালনা করছেন কিছু হিংস্র দরবার শরীফ, আহলে হাদিস এবং জামাতী ভাইজানরা। তার বিরুদ্ধে যেসব দরবার শরীফের অবস্থানঃ
*চরমনাই।
*জৌনপুরী।
*সরষীনা।
*সোনাকান্দা।
*ফুরফুরা।
সালটা খেয়াল নাই দেওয়ানবাগীর মুরিদদের সাথে উপরিক্ত দরবার গুলোরা মুরিদরা সরাসরি সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এইসব দরবার এর সাথে দেওয়ানবাগীর মূল সমস্যা শুরু হয়,
“আল্লাহ আকার নাকি নিরাকার”
দেওয়ানবাগীর দাবি আল্লাহ আকার, এর স্বপক্ষে তিনি বিশাল গ্রন্থ রচনা করেছে “তাফসিরে সূফি সম্রাট দেওয়ানবাগী” বইটি আমি পড়েছি এবং আছে। অত্যন্ত অথেনটিক হাদিস, যুক্তি এবং কুরানের আয়াত দিয়ে তিনি তার কথার সত্যতা প্রমান করেছেন। এখন আপনি তাফসির পড়ে যদি বলেন অপব্যাখা। তাহলে আপনার জেনে রাখা উচিত সূরা লোকমান এর ২৭ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, “কুরানের তাফসির লিখে সমাপ্ত করা পসিবল না “।তাই তার তাফসির গ্রহনযোগ্য বা অগ্রহণযোগ্য কিনা তা একমাত্র আল্লাহ জানেন।
তার,সবচেয়ে বিতর্কিত বই হলো, “আল্লাহ কোন পথে” বইটা নিয়ে মোল্লা বাহিনী কেচ করলেও তারা অবশেষে হেরে যায়। বলাবাহুল্য যে, এই কেচের বিচারপতি শেষে দেওয়ানবাগীর মুরিদ হন।
সমস্যাঃ২
★তিনি আল্লাহ দেখেছেন।
চরম সমস্যা এটা নিয়ে। ভাই হাদিস-কুরান,সূফিদের ইতিহাস,তাবেঈনদের ইতিহাস একটু মন দিয়ে পড়ে তারপর পকপক করতে আসবেন। এই দাবির মালিক তিনি একা নন, তার পূর্বে অনেক হাই ভোল্টেজ লোকজন এসব কথা বলে গেছেন। যাদের নাম শুনলে মুসলমানরা ১০ বার সুভানাল্লাহ কয়। এ দাবির কারনে দেওয়ানবাগী যদি কাফের হন তবে পূর্বে যারা বলেছেন তারাও কাফের। আসুন কাফের এর লিস্টট দেখে নেইঃ
*ইমাম আবু হানিফা (৯৯ বার আল্লাহ দেখেছেন)
*শামস তাবরিজ।
*আব্দুল কাদের জীলানি।
*ইবনুল আরাবী।
*খাজা বাবা(৯০ লাক্ষ মুসলমান করেছেন, এটা বললাম কেউ তাকে পাত্তাই দেন না)
*জালাল উদ্দিন রুমি।
*খাজা গঞ্জেশেখর।
*বু-আলি-শাহ-কলন্দর।
*বায়জিদ বুস্তামী। (ইত্যাদি)
বিলিভ না হলে কষ্ট করে পরিশ্রম করে তাদের জীবনী কিংবা তাদের লিখিত কিতাব পড়ে দেখবেন।
★সমস্যাঃ৩
*আল্লাহ তার সাথে কথাবলে।
মোল্লা কাক্কু আল্লাহ যে তার সাথে কথা কইতে পারবো তার প্রমান বুখারির হাদিসেই আছে, হযরত ওমর এর কাছে এলহাম আসতো নবি মারা যাবার পরে (বুখারি হাঃ৩৪১৭)।এছাড়াও বুখারির কুরান সংকলেনের অধ্যায় গুলা পড়তে পারেন। এছাড়া, তার আগে এসব দাবি উপরে উল্লেখিত ব্যক্তিরাও করেছেন।
★সমস্যাঃ৩
*নিজেকে আল্লাহ দাবি।
না তিনি নিজেকে আল্লাহ দাবি করেন নি। যারা সূফিদের সাধনার স্তর নিয়ে জীবনে পড়েন নাই তাদের মাথায় এগুলা ঢুকবে না। যাইহোক যদি দাবি করেই থাকেন তবে এই দাবি প্রথম করেন বাবা মনসূর হাল্লাজ। তার বাক্যই ছিল “আনাল হক”। উনি কিন্ত আবার সুন্নি মুসলমানদের নয়নমনি। আর,দেওয়ানবাগী কইলেই দোষ। সূফিদের একটা স্তর আছে যার নাম ফানাফিল্লা। এই স্তরে আসলে স্রষ্টার রুহ আর বান্দার রুহ হুলুল হয়ে যায়। যার ফলে তখন তিনি বলে ওঠেন “আনাল হক”। মূলত ইহা আল্লাই বলছেন বান্দার মুখ দিয়ে। আর এর স্বপক্ষে প্রচুর দলিল আছে।
★সমস্যাঃ৫
*নিজের চেহারা আল্লাহর চেহারা।
এই কথাটাও তার ওয়াজ থেকে খানিকটা কেটে অপ-প্রচার শুরু করেছে। এখানে আপনাকে প্রথমে পীর-মুরিদের সাধনার ধাপ জানতে হবে, প্রথম ধাপই হলো গুরুর ধ্যান করা বা ফানাফিল সায়েখ। এর ফলে মুরিদদের কনসিয়াস, সাব-কন্সিয়াস মাইন্ডে ওস্তাদ এর ছবি রেকর্ড হয়ে যায়। তাই যারা পরবর্তিতে যে স্তরেই যান গুরুর ছবি-ই দেখন।
মোদ্যাকথা, বলতে গেলে তো মানুষ-ই আল্লাহ, কারন,
“আমি ছাড়া আল্লাহর দলিল নাই ”
আর,এসব কান্ড-কারখানার পক্ষে দলিল আছে। তার কিতাব গুলো পড়লে বুঝতে পারবেন।
★সমস্যাঃ৬
*তিনি ব্যবসায়ী।
জি,এটা সত্য। কিন্ত,চিন্তার বিষয় তিনি কতটুকু ব্যবসায়ী।
আসুন দেখে নেই বাংলাদেশের টপ পীরদের বার্ষরিক ইনকামঃ
*মাইজভাণ্ডারী-৬০০ কোটি
*চরমনাই-৪০০কোটি
*সরষিনা-৩০০ কোটি
*জৌনপুরী-২০০ কোটি (পীর সাহেব হেলিকাপ্টার ছাড়া কোথাও জান না)
*সোনাকান্দা-১০০ কোটি (সূত্রঃমারেফত এর গোপন কথা, বাবা ইমান আল সুরেশ্বরী)
এর মধ্যে কিন্ত দেওয়ানবাগীর নাম নাই। তার,ইনকাম এদের তুলনাই অনেক কম ৫০ কোটি মত হবে।
আরও কিছু তার দাবি নিয়ে পোলাপাইন কাওবাও করে। তবে,সব গুলোরেই উত্তর আছে। একটু পড়াশুনা কর নাস্তিকদের গালি দিয়ে সময় নষ্ট না করে।
সর্বপরী এটাই বলতে চাই সবাই ব্যবসায়ী। কিন্তু,এর মধ্যে অনেক কম ক্ষতিকর ব্যবসায়ী দেওয়ানবাগী।। বলতে যাদি হয়, আগে টপ গুলারে নিয়া বল। আর,সরষিনার পীর সাহেব তো নগদ রাজাকার। তারে নিয়া তো নিউজ পোর্টাল গুলার ফালাফালি দেখি না। আর,জৌনপুরির পীর আব্বাস হুজুর তো পুরা ওসমান এর পক্ষে জিহাদ করতে নারায়ণগঞ্জ চলে গেছিল। যেখানে শ্যামল কান্তির ব্যপারে দেওয়ানবাগী তিব্র নিন্দা জানিয়ে ছিল ওসমান ফ্যামিলির উদ্দেশ্যে।।
শেষকথা, “ধর্ম মানেই ব্যবসা”

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১১ thoughts on “সূফি সম্রাট দেওয়ানবাগী(শুধু কি তার দোষ)

      1. দেওয়ানবাগী যা করছে এসব আসলেই
        দেওয়ানবাগী যা করছে এসব আসলেই মুল ইসলামে নাই। মুল ইসলাম হল আইএস বা আল কায়েদা যা করছে তা। এটা যতই অস্বীকার করেন লাভ নাই। জিহাদটাই মুল ইসলাম। যুদ্ধের মাধ্যমে সাম্রাজ্য বিস্তারই মুল ইসলাম। পৃথিবীর সকল মানুষকে মুসলিম বানানোই মুল ইসলাম। ইসলাম বিরোধী ও ইসলামের সমালোচনাকারীদের কতল করাই মুল ইসলাম। এসব ঢেকে রাখতে পারবেন কত দিন?

        1. উনি অফিসিয়ালি তার কিতাবে
          উনি অফিসিয়ালি তার কিতাবে এসবের বিরোধিতা করেছেন। আমি আমার লেখার মধ্যে দিয়েছি উনি অন্য ইসলাম শিক্ষা দিচ্ছেন। আর,উনি যে সঠিক তা কিন্তু আমি বলি নাই!

          1. উনি যুক্তি দ্বার করিয়ে
            উনি যুক্তি দ্বার করিয়ে সফলভাবে ঘটনা ঘুরিয়ে নিয়েছন, ইকরাস ভাই।। যেমনভাবে কুরানে বিজ্ঞান পাওয়া যায় হা হা

  1. সর্বপরী এটাই বলতে চাই সবাই
    সর্বপরী এটাই বলতে চাই সবাই ব্যবসায়ী।
    কিন্তু,এর মধ্যে অনেক কম ক্ষতিকর
    ব্যবসায়ী দেওয়ানবাগী।।
    ছোট চোর বড় চোর বলে কিছু নাই,চোর চোরই।

    1. চোর, চোর-ই কিন্তু লেখাটা ওইসব
      চোর, চোর-ই কিন্তু লেখাটা ওইসব বড় চোর, আর তাদের পিছনের আবালদের জন্য যারা এসব ছোট চোরদের দোষ খুজে বেরায়। সূফিবাদ নামক ভূয়াবাদের পছনে অনেক ছিলাম দেখছি সব। লোকটাকে নিয়ে একচেটিয়াভাবে লেখা হচ্ছে।। ফেবুর কিছু বন্ধুর অনুরোধে লিখলাম।।

  2. ইসলাম যদি হয় শান্তির ধর্ম,
    ইসলাম যদি হয় শান্তির ধর্ম, তাহলে অবশই সবাই যারা ইস্লামের নামে মানুস হত্যা করছে তারা ভুল পথে আছে, কারন মুস্লমানের অন্যতম বৈশিষট, এক মুস্লমানের হাত এবং মুখের থেকে অন্য মুস্লমান নিরাপদ হতে হবে। আর যে ব্যক্তি এই শিক্ষা দিবে সে অবশ্যই সঠিক

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

79 − = 69