বাংলাদেশে গণতন্ত্র হত্যার অভিযোগের তীর ভারতের দিকে


বাংলাদেশের গণতন্ত্র হত্যায় ভারত সহযোগিতা করছে’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। ২৫ অক্টোবর দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এই অভিযোগ করেন।

কাশ্মির ইস্যু এবং দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা শীর্ষক এ মানববন্ধনে তিনি বলেন, ‘ভারত যেমন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগিতা করেছিল, ঠিক একইভাবে গণতন্ত্র হত্যার জন্য সহযোগিতা করছে।’

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘কাশ্মিরের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ভারতের পক্ষ নিয়েছে; কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ কাশ্মিরের সঙ্গে রয়েছে। এ কথা ভারতের মনে রাখা উচিত, সরকারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বের মতো গণঅভ্যুত্থানেও বিএনপি নেতৃত্ব দিবেন’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারকে উদ্দেশ করে দুদু বলেন, ‘আগে গণতন্ত্র, এরপর সকল আলোচনা। তাই আসুন, দেশে গণতন্ত্র ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আলোচনায় বসি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম আওয়ামী লীগের কাউন্সিল থেকে গণতন্ত্রের পক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত ও ঘোষণা আসবে; কিন্তু তা আসেনি।’

জনাব দুদু কিছু কথা বলেছেন। আগে অনেকে ভারতের ব্যাপারে বলতেন। বলতেন না কেবল, হুঙ্কার দিতেন। ইদানীং তাদের আওয়াজ খুব একটা শোনা যায় না। কেন জানি তারা জিমিয়ে পড়েছেন। বিএনপিও ভারতের ব্যাপারে হালে খুব একটা উচ্চবাচ্য করে না। তার পরও সাবেক ছাত্রনেতা দুদু বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে ভারতকে জড়িয়ে যা বলেছেন, তাতে দেশপ্রেমিকরা যারপরনাই খুশি।

যে যা বলুক না কেন, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতের একটা খ্যাতি ছিল। সেটা দীর্ঘদিনের। কিন্তু বাংলাদেশের ৫ জানুয়ারির (২০১৪) নির্বাচনকে পৃথিবীর কেউ সমর্থন দেয়নি। যদিও ভারত আগ বাড়িয়ে এটাকে স্বাগত জানিয়েছে। একমাত্র ভারত এটা করেছে।

দেশ-বিদেশে ধীকৃত ও প্রত্যাখ্যাত সে নির্বাচনকে ভারত সমর্থন দিয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মনে করছে দেশপ্রেমিক বাংলাদেশীরা।

বাংলাদেশের কঠিন সংকটকালে অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত অস্ত্র, অর্থ ও আশ্রয় দিয়ে আমাদের কৃতজ্ঞতাবদ্ধ করেছে। সে জন্য আমরা তা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। তাই বলে বিপদে আশ্রয় দেয়ার বিনিময়ে আমাদের আত্মমর্যাদা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেবে না। এ দেশের মানুষের চাওয়া-পাওয়ার প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবে না!

একটি দেশে অনেক দল ও মত থাকে। তাই বলে একটি দেশের একটিমাত্র দলকে বেছে নেয়া এবং তাদের জন্য যাচ্ছেতাই করা তো গণতান্ত্রিক আচরণ হতে পারে না। হতে পারে না সঠিক মূল্যায়ন।

একপেশে নির্ভরতা হলে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসে প্রশ্ন জাগে। আর দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিতর্কিত অবস্থানের সঙ্গে সুর মিলালে যা হয়, সেটারই সাহসী উচ্চারণ করেছেন দুদু।

দুদু নিজ থেকে এমন কিছু বলেননি, যেটা অসত্য। তিনি সত্যি কথাটাই বলেছেন, যা দেশের মানুষ শতভাগ বিশ্বাস করে সেটাকে তিনি তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সামনে এনেছেন মাত্র।

দেশকে ভালোবাসলে এমনটা বলা যায়। দেশের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকলে যা সহজেই পারা যায়। আজকের প্রেক্ষাপটে দেশে দেশপ্রেমিকদের তীব্র অভাব বোধ করছে সচেতন জনগোষ্ঠী।

ভারত আমাদের দুঃসময়ের পরীক্ষিত বন্ধু। সে বন্ধুদের কাছে আমাদের ঋণ আছে বটে; তবে সেটা নিশ্চয়ই সীমাহীন নয়।

সে সুবাদে ভারত যা করছে, সেটা অতিরঞ্জিত মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তাদের বিগ ভ্রাদারসুলভ আচরণ ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়ে গেছে। খবরদারির অনেক বদহজমের বিষয় অনেক আগেই জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। এটা শুভ লক্ষণ নয়।

এসব অশুভ কাজ থেকে বিরত হয়ে বন্ধুসুলভ আচরণে ফিরে আসা এবং গণতন্ত্র অবারিত করার বিষয়ে সহযোগিতার প্রত্যক্ষ নজির দেখতে চায় গণতন্ত্রমনা দেশপ্রেমিক জনতা।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রকৃত বিশ্বাসীরা একটি মহলে ভারত বন্দনা এবং ভারতের মাত্রাতিরিক্ত বাড়াবাড়িতে অতিষ্ঠ। তারা বন্ধুত্বের সীমায় থেকে পরস্পরের প্রতি সমান শ্রদ্ধা প্রদর্শনে যত্নবান দেখার অপেক্ষায়।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 2 = 6