মিরাকেল অব কুরান

“মিরাকেল অব কুরান” মুসলমান সমাজ মুখে ফ্যানা তুলে ফ্যালে এই কথা বলতে বলতে। কি যে মিরাকেল তা আজ পর্যন্ত অন্য জাতি তো দূরে থাক মুসলমানদেরই আজ পর্যন্ত বোধগম্য হয় নি। এতো জ্ঞান-বিজ্ঞানে ভরপুর এই কুরান থাকতেও তার আজ প্রযুক্তিতে কত পিছনে। যাইহোক আগে আপনাকে বুঝতে হবে ধর্মীয় ভাবে মিরাকেল কাকে বলে?

★”মিরাকেল” অর্থ এমন কিছু যা গড কর্তৃক তাৎক্ষনিক ঘটানো হয় তার প্রেরিত নবি-রাসূলের উপর যাতে অবিশ্বাসীরা তার উপর বিশ্বাস আনে।
মিরাকেল সেটাই যেটা তৎক্ষনাক সম্পাদিত হয় আল্লাহর মাধ্যমে। কিছু প্রমান দেয়া হলোঃ
★মুহাম্মদ এর চাঁদ ভাগ।
★ইসা নবির মৃতকে জীবিত করা।
★আগুনের কুণ্ডলী থেকে ইব্রাহিমকে রক্ষা।
★মূসার নদী ভাগ করা (ইত্যাদি)
তাহলে বুঝা গেল মিরাকেল মানেই দ্রুত কাজ সম্পাদন। কিন্ত,কুরানের ক্ষেত্রে পুরাই উলটা। ২৩ বছর ধরে আল্লাহর এই মিরাকেল চলতে থাকে। এক আজব মিরাকেল। যাই হোক একটু ক্যালকুলেশন করে দেখা যাক প্রতিদিন গড়ে ঠিক কি পরিমান মিরাকেল নাযিল হত।
★কুরান নাযিলের সময়=২৩ বছর
=(২৩*৩৬৫)দিন
=৮৩৯৫দিন
★আয়াত সংখ্যা=৬২৩৬ আয়াত
=(৮৩৯৫/৬২৩৬)আয়াত
=১.৩৫ আয়াত
তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি গড়ে প্রতিদিন ১.৩৫ অংশ মিরাকেল নাযিল হতো । এই হাস্যকর মিরাকেল দেখে আল্লামা সূয়তী বলেছিলেন,
“আল্লাহ প্রদত্ত সকল আসমানি কিতাব একসাথে নাযিল হয়েছিল, খন্ডিতভাবে নয়। কেবল কুরান শরিফ-ই এই ব্যতিক্রমভাবে নাযেল হয়। (বুখারি শরীফ এর মুখবন্ধ)
★কুরান নিয়ে ২য় দাবি ইহা নাকি নাযেল এর আগ থেকেই লাওয়ে মাফুজে সংরক্ষিত ছিল অতঃপর তা ধীরে ধীরে নাযেল হয়। এখন প্রশ্ন এসে দাঁড়ায় লাওয়ে মাফুজের কুরান আর আমাদের কুরান কি একই? আসুন দেখা যাকঃ
★সূরা সজ্জিতঃ লাওহে মাফুজ এর কুরান শুরু হয়েছে সূরা আলাক দিয়ে আর আমাদের ফাতিহা দিয়ে। কারন,প্রথম নাযিল হয় সূরা আলাক।
★আয়াত পরিবর্তনঃ লাওহে মাফুজ থেকে কুরানের আয়াত নাযিল হওয়ার পরে তা এক অন্ধ সাহাবীর কথায় পরিবর্তন করা হয়। সূরা নিসার ৯৫ নম্বর আয়াত নিয়ে এই কাজ করা হয় (সূত্রঃ বুখারি হা/৪৬২২)। প্রশ্ন হলো আগে থেকেই যদি লেখা থাকে তবে প্রথমে ভূল বলার দরকার কি ছিল?
★কুরান নাযিলঃ কুরান নাযিল কি শুধু নবিজির উপর হয়ে ছিল। উত্তরঃ না, কারন,সহীহ হাদিস থেকে প্রমানিত যে ওমরের উপর ৫ এর অধিক আয়াত হয়েছিল।(সূত্রঃমুসলিম হা/১৭৬৩,বুখারি হা/৪০২)।এমনকি নবিজির ওফাতের পরও ওমরের কাছে এলহাম আসতো। (সুত্রঃবুখারি হা/৩৪১৭)
এছাড়াও আরও বিস্তারিত জানার জন্য বুখারির কুরান সংকলের আয়াত গুলো পড়তে পারেন।
★আল্লাহর মিথ্যা প্রতিশ্রুতিঃকুরান হেফাযতের দায়িত্ব আল্লাহ নিজে গ্রহন করেন। কিন্তু,ইতিহাস দেখলে বোঝা যায় নবি মারা যাবার প্রায় ১৫ বছর পর কুরান সংকলন করেন ওসমান। এরজন্যই, ওমর যখন প্রথমে আবু বকর কে কুরান সংকলন করতে বলে, তিনি চমকে যান এবং বলেন,এ দায়িত্ব তো আল্লাহ নিয়েছেন (বুখারি হা/৪৬১৯)

উপরিক্ত,আলোচনা থেকে ইহা পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় যে কুরান কোন মিরাকেল নিয় বরঞ্চ নবি মুহাম্মদ প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নিজের সুবিধামত আল্লাহর নামে আয়াত নাযিল করতো।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “মিরাকেল অব কুরান

  1. আপনি আসলে কোরানের কিছুই জানেন
    আপনি আসলে কোরানের কিছুই জানেন না। গোটা কোরানটাই একটা মিরাকল , আর সেটা তখনই বোঝা যাবে যখন আপনি বিনা শর্তে বিনা প্রশ্নে কোরানের ওপর পূর্ন ইমান আনবেন। এমন কি কোরানের সেই দুধপান ও রজমের আয়াত যে ছাগলে খেয়ে হজম করে ফেলেছিল ,( সুনান ইবনে মাজা , হাদিস -১৯৪৪) সেটাও ছিল এক মহা মিরাকল। কারন এরপরেও মুসলমানরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে , কোরান নাকি সম্পূর্ন বিশুদ্ধ আকারে সংরক্ষিত। আল্লাহ কোরান সংরক্ষনে ফেইল মারলেও কোটি কোটি মানুষ যে সেটা অবিশ্বাস করে , কোরান বিশুদ্ধ হিসাবে বিশ্বাস করে , এর চাইতে মিরাকল আর কিছু আছে ?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

18 − 15 =