যীশু সম্পর্কে কোরান স্ববিরোধী বক্তব্য দিয়ে , কোরান কি নিজেই নিজের পতন ঘটিয়েছে?

মুসলমান মাত্রই বিশ্বাস করে ঈশা বা যীশু হলো একজন নবী। যীশুর শিক্ষা তার অনুসারীরা ঠিক মত অনুসরন না করাতে আরবের মরুভূমিতে নবী মুহাম্মদের আগমন ঘটে , আর সে দাবী করে , সে হলো শেষ নবী।পক্ষান্তরে খৃষ্টানরা বিশ্বাস করে , যীশু হলো ঈশ্বরের পূত্র রূপে স্বয়ং ঈশ্বর। অর্থাৎ মুসলমানরা যখন যীশুকে শুধুই একজন মানুষ রূপে বিশ্বাস করছে , খৃষ্টানরা তখন যীশুকে স্বয়ং ঈশ্বরের মানব রূপ হিসাবে বিশ্বাস করে। এখন দেখা যাক , কোরান যীশুকে নিয়ে কি বলছে।

মুসলমান মাত্রই বিশ্বাস করে ঈশা বা যীশু হলো একজন নবী। যীশুর শিক্ষা তার অনুসারীরা ঠিক মত অনুসরন না করাতে আরবের মরুভূমিতে নবী মুহাম্মদের আগমন ঘটে , আর সে দাবী করে , সে হলো শেষ নবী।পক্ষান্তরে খৃষ্টানরা বিশ্বাস করে , যীশু হলো ঈশ্বরের পূত্র রূপে স্বয়ং ঈশ্বর। অর্থাৎ মুসলমানরা যখন যীশুকে শুধুই একজন মানুষ রূপে বিশ্বাস করছে , খৃষ্টানরা তখন যীশুকে স্বয়ং ঈশ্বরের মানব রূপ হিসাবে বিশ্বাস করে। এখন দেখা যাক , কোরান যীশুকে নিয়ে কি বলছে।

সুরা মরিয়াম- ১৯:৩০ : সন্তান বললঃ আমি তো আল্লাহর দাস। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন।

এটা হলো মরিয়াম যখন তার শিশু পুত্রের জন্ম দেয় তখন কোরান মোতাবেক আল্লাহ উক্ত কথাই বলেছিল , যার অর্থ যীশু একজন নবী মাত্র। এবার একটা বিষয় পরিস্কার হওয়া দরকার।

সংজ্ঞা অনুযায়ী আল্লাহ হবে চিরন্তন। আর তাই তার বানীও হবে চিরন্তন। দুনিয়াতে একমাত্র আল্লাহই হলো চিরন্তন। বাকী সবই নশ্বর। সব কিছুর ধ্বংস আছে কিন্তু আল্লার কোন ধ্বংস নেই। আল্লাহর বানীও যেহেতু চিরন্তন , তাই তার বানীরও কোন ধ্বংস নেই। ইসলামী মতে আদম থেকে শুরু করে মুহাম্মদ পর্যন্ত সব নবী যেহেতু মানুষ , তাই তারাও নশ্বর ও মরনশীল আর সেই হেতু যীশুও নশ্বর ও মরনশীল হবে। উদাহরন স্বরূপ , আল্লাহর সবচাইতে প্রিয় নবী, সর্বশ্রেষ্ট নবী সেই মুহাম্মদ পর্যন্ত মরে ভুত হয়ে গিয়ে মাটির সাথে মিশে গেছে। তার কোন অস্তিত্ব নেই। এবার দেখা যাক , যীশু সম্পর্কে কোরান কি বলছে –

সুরা নিসা – ৪: ১৭১: হে আহলে-কিতাবগণ! তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর শানে নিতান্ত সঙ্গত বিষয় ছাড়া কোন কথা বলো না। নিঃসন্দেহে মরিয়ম পুত্র মসীহ ঈসা আল্লাহর রসূল এবং তাঁর বাণী যা তিনি প্রেরণ করেছেন মরিয়মের নিকট এবং রূহ-তাঁরই কাছ থেকে আগত। অতএব, তোমরা আল্লাহকে এবং তার রসূলগণকে মান্য কর। আর একথা বলো না যে, আল্লাহ তিনের এক, একথা পরিহার কর; তোমাদের মঙ্গল হবে। নিঃসন্দেহে আল্লাহ একক উপাস্য। সন্তান-সন্ততি হওয়াটা তাঁর যোগ্য বিষয় নয়। যা কিছু আসমান সমূহ ও যমীনে রয়েছে সবই তার। আর কর্মবিধানে আল্লাহই যথেষ্ট।

উক্ত আয়াত বলছে যীশু তিনটা গুরুত্বপূর্ন কথা বলছে – ১। যীশু হলো রসুল বা নবী, ২। যীশু হলো আল্লাহর বানী বা শব্দ আর ৩। যীশু হলো আল্লাহর নিজের আত্মা।

তো ২ নং পয়েন্ট হলো যীশু হলো আল্লাহর বানী। অর্থাৎ যীশু ছিল আল্লাহর বানীর মানব রূপ। যে কারনে গসপেলে দেখা যায় , যীশুর কাছে কোনদিন কোন ফিরিস্তা আসে নি আল্লাহর বানী নিয়ে। যীশু নিজে যা বলত , সেটাকেই খৃষ্টানরা তাদের ঈশ্বরের বানী রূপে বিশ্বাস করেছিল। কোরানও সেটা সাক্ষী দিচ্ছে , কারন কোরান বলছে যীশু হলো আল্লাহর বানী , তার অর্থ যীশু যাই বলেছিল সবই ছিল আল্লাহর বানী। পক্ষান্তরে মুহাম্মদের কাছে জিব্রাইল নামক ফিরিস্তা নিয়মিত যাতায়াত করে আল্লাহর বানী পৌছে দিয়ে যেত।

এখন , আল্লাহ যদি চিরন্তন হয় , তার বানীও চিরন্তন হবে। যীশু হলো আল্লাহর বানী , তার মানে যীশুও চিরন্তন। যীশু যেহেতু চিরন্তন , তার অর্থ হলো যীশু নিজেই আসলে আল্লাহর মানবরূপ, কারন আল্লাহই একমাত্র চিরন্তন। বলা বাহুল্য , এখনই মুসলমানরা খেপে যাবে, এই আল্লাহর মানবরূপ বাক্যটা দেখে। কিন্তু কিছুই করার নেই , এটা কোরানেরই বক্তব্য।
কোরান সরাসরি যীশুকে আল্লাহ হিসাবে প্রকাশ করে নি , কিন্তু কোরান যীশুর যে বর্ননা দিচ্ছে , তাতে কোরান যীশুকে স্বয়ং আল্লাহর মানব রূপ হিসাবেই প্রমান করছে। কোন নারীর সাথে, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে তার সাথে যৌন সঙ্গম করলে , সেটা ধর্ষন হয়। আদালতে সেটাকে ধর্ষন বলেই গন্য করা হয়। যৌন সঙ্গম কারী লোককে আর বলতে হয় না যে আমি ধর্ষন করেছি। ঠিক তেমনিই , কোরান সরাসরি যীশুকে আল্লাহ হিসাবে বর্ননা করে নি , কিন্তু যীশুর যে বৈশিষ্ট্য বর্ননা করেছে , তাতে কোরান যীশুকে আল্লাহর মানব রূপ হিসাবেই স্বীকার করছে।

ঠিক এভাবেই মুমিনরা কোরানের বানীকে চিরন্তন বলেই বিশ্বাস করে , কারন সেটা আল্লাহর বানী। যুক্তিটা একই , আল্লাহ যেহেতু চিরন্তন , তাই তার বানীও চিরন্তন। সুতরাং কোরান যেহেতু আল্লাহর বানী তাই তার বানীও আল্লাহর মতই চিরন্তন। এখন এই একই যুক্তিতে যীশুও চিরন্তন হবে , যা তাকে স্বয়ং ঈশ্বর বা আল্লাহর মানব রূপ হিসাবেই প্রতিষ্ঠিত করে।

আর এখানেই গন্ডগোলটা । কোরান একবার যীশুকে বলছে সে স্রেফ একজন নশ্বর মানুষ ও নবী , আবার সেই একই কোরান আবার যীশুকে এমনভাবে বর্ননা করছে যা তাকে ঈশ্বর বা আল্লাহ বলে প্রমান করছে। তার মানে আসলে কোরান বুঝতেই পারছে না যীশু আসলে কে ? মানুষ নাকি ঈশ্বর ? সুতরাং তাহলে সমস্যাটা কোথায় ? সমস্যাটা কোরানে নাকি যীশুতে ?

গসপেলে যেখানে যীশু বার বার নিজেকে ঈশ্বরের পুত্র হিসাবে পরিচয় দিয়ে তার পিতা তথা ঈশ্বরের সমকক্ষ বলে নিজেকে দাবী করছে , যে কারনে এক পর্যায়ে তার অনুসারীরেও যীশুকে স্বয়ং ঈশ্বর হিসাবেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল , যা আজও খৃষ্টানরা করে থাকে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে যীশু সম্পর্কে খৃষ্টানরাই সঠিক সিদ্ধান্তে আছে , কিন্তু মুহাম্মদ বা কোরান আসলে কোন চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে না পেরে , স্ববিরোধী বক্তব্য দিয়েছে।

যীশু সম্পর্কে এরকম পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়ে , কোরান কি নিজেই নিজের পতন ঘটায় নি ?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “যীশু সম্পর্কে কোরান স্ববিরোধী বক্তব্য দিয়ে , কোরান কি নিজেই নিজের পতন ঘটিয়েছে?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

78 + = 82