আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ, মূল – আলি সিনা , ভাষান্তর-দুরের পাখি ; পর্ব-৯

বোরকাপড়া যুবতীর চাইতেও লাজুক ছিলো সে জীবনভরই । ভীতু এবং আত্নবিশ্বাসহীন, যেই বোধকে সে চাপা দিতে চাইছিলো নিজেকে ফাঁপিয়ে, রাশভারীতা, আত্নম্ভরীতা দিয়ে ।

মোহাম্মদ কখনো কোন গুরুত্বপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত ছিলো না । মাঝে মাঝে সে ভেড়া চড়াতো, যা আরবদের মাঝে মূলত মেয়ে এবং মেয়েলি ছেলেদের জন্য বরাদ্দ ছিলো । তার উপার্জন ছিলো সীমিত আর তাই ভরণপোষনের জন্য তাকে দরিদ্র চাচা আবু তালেবের উপর নির্ভর করতে হতো ।

খাদিজার সাথে বিয়ে

শেষমেশ পঁচিশ বছর বয়সে আবু তালেব মোহাম্মদের জন্য একটা চাকুরির ব্যাবস্থা করেন । খাদিজা নামের এক ধণাঢ্য ব্যবসায়ী আত্নীয়র ব্যাবসার দেখভাল করার লোক হিসাবে । খাদিজা, চল্লিশ বছর বয়েসী সুন্দরী বিধবা, সফল ব্যাবসায়ী । খাদিজার কর্মচারী হিসাবে মোহাম্মদ সিরিয়াতে একবার বাণিজ্যে যায় , পণ্য বিক্রি করতে এবং খাদিজার নির্দেশমত প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে আনতে । সিরিয়া থেকে ফেরার পর খাদিজা মোহাম্মদের প্রেমে পড়ে যান এবং কাজের বুয়ার মাধ্যমে মোহাম্মদের কাছে বিয়ের প্রস্তাব তোলেন ।

মোহাম্মদের অভাব ছিলো, অর্থনৈতিক এবং মানসিক । খাদিজার সাথে বিয়ে তার জন্য আশীর্বাদের চাইতেও বেশি কিছু । তার মধ্যে সে পেয়েছিলো শৈশবের সেই না পাওয়া মাকে আর পেয়ছিলো অর্থনৈতিক স্থিরতা যাতে আর কোনদিন চাকুরি না করতে হয় ।

কচি স্বামীর সমস্ত আবদার পূরণ করতে খাদিজার কোনই আপত্তি ছিলো না । যত্নে, দানে, আত্ন-ত্যাগে সে নিজের শান্তি খুঁজে পেয়েছিলো ।

মোহাম্মদ কাজ পছন্দ করতো না । দুনিয়াদারী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজের ভাবনায় ডুবে যাওয়াই তার কাছে পছন্দের ছিলো । এমনকি শৈশবেও সে অন্য বাচ্চাদের সাথে না খেলে নিজের মত থাকতো, একা । প্রায়ই সে একা একা দ্বিবাস্বপ্ন দেখে দিন কাটাতো । কিভাবে আনন্দ করতে হয় তা সে জানতো না । কখনো কখনো যদিওবা সে হাসতো, তাও মুখ ঢেকে । এই কারণে মোহাম্মদের ঐতিহ্য রক্ষা করতে গিয়ে মুসলিমরা প্রাণখোলা হাসিকে পছন্দ করে না ।

তার নির্জনতার ভাবের দুনিয়ায় সে আর শৈশবের সেই অনাকাংখিত শিশুটি ছিলো না । বরং কাম্য, সম্মানিত, প্রশংশিত, এমনকি সমীহজাগানিয়া কেউ একজন ছিলো । দুনিয়ার তিক্ত সত্য এবং নিঃসংগতা যখন অসহ্য হয়ে উঠতো তখন সে ডুবে যেতে পারতো তার ভাবের দুনিয়ায়, যে দুনিয়ায় সে যা খুশি তা-ই হতে পারে । এই ভাবের দুনিয়া সম্ভবত সে জীবনের বেশ প্রাথমিক পর্যায়েই , যখন সে তার পালক পরিবারের সাথে নির্জন মরুতে থাকতো, তখনি আবিষ্কার করে থাকবে । এই ধীরস্থির মনোরম ভাবনার দুনিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তার আশ্রয়স্থল ছিলো । এই দুনিয়া তার কাছে সত্যিকার দুনিয়ার চাইতেও সত্য কিন্তু আরো বেশী শান্তিময় ছিলো । বাড়িতে নয় নয়টা ছেলেমেয়েকে খাদিজার কাছে রেখে মোহাম্মদ মক্কার আশেপাশের গুহায় নিজের ভাবনার দুনিয়ায় ডুবে থাকতে চলে যেতো ।

ভুতুড়ে অভিজ্ঞতা

চল্লিশ বছর বয়সে একদিন , দীর্ঘ কয়েকদিন যাবৎ গুহায় কাটিয়ে মোহাম্মদ এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা লাভ করে । তার মাংসের ভিতর ছন্দময় সংকোচন প্রসারণ চলতে থাকে , সাথে পেটের ব্যাথা । যেন কেউ থাকে প্রবলভাবে চিপে মারতে চাচ্ছে । এর সাথে যোগ হয় মাংসপেশীর নিয়ন্ত্রণবিহীন নড়াচড়া , মাথা এবং ঠোঁটের নড়াচড়া এবং হৃদস্পন্দনের গতি বেড়ে যাওয়া । এই অসহনীয় অবস্থার মধ্যে সে ভুতজাতীয় কিছু দেখতে পায় এবং কিছু একটা শুনতে পায় ।

ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে কাঁপতে কাঁপতে এবং ঘর্মাক্ত হয়ে সে বাড়ি পৌঁছায় দৌরে । স্ত্রীকে অনুরোধ করে , “আমাকে ঢেকে দাও, ঢেকে দাও” বলে । ইয়া খাদিজা, আমার কি হলো । খাদিজাকে সে সবিস্তার তার অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করে এবং বলে, “ভয় হয়, আমার কিছু না কিছু একটা হয়েছে “ । সে ভেবেছিলো তাকে আবার ভুতে ধরেছে । খাদিজা তাকে আশ্বস্ত করেন, ভয় পেতে নিষেধ করে এবং বলে তার কাছে আসলে ফেরেশতা এসেছিলো, এবং সে নবী হিসাবে মনোনীত হয়েছে ।

আগের পর্বগুলোঃ পর্ব-২ , পর্ব-৩ , পর্ব-৪ , পর্ব-৫ , পর্ব-৬ , পর্ব-৭ , পর্ব-৮

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৮ thoughts on “আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ, মূল – আলি সিনা , ভাষান্তর-দুরের পাখি ; পর্ব-৯

    1. নরসুন্দর মানুষ আমার কাজটি করে
      নরসুন্দর মানুষ আমার কাজটি করে ইস্টিশনের ইবুক কর্নারে আপলোড করে দিয়েছে দেখলাম। pdf-archive.com এ যে সত্য বলা হয়নি যেটা ঘুরছে, ওটা আমার তৈরিকৃত ভার্সন।

      1. মুশারফ হোসেন সৈকত সাহেব,
        মুশারফ হোসেন সৈকত সাহেব,

        লেখকের অনুমতি ছাড়া আমি কোনো কাজ করি না,
        লেখক/অনুবাদক, প্রকাশক, এবং স্বত্ত্বধারীর অনুমতি পাবার পর, আমি কাজ ধরি;
        এবং সকল ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখি।
        অনুমতি পাইনি বলে এখনও ১০০ টি ইবুক লাইনে পড়ে আছে।
        আমি নিজে কোনও ইবুক সাইটে আপলোড করি না; এটা লেখক এবং প্রকাশকের দায়িত্বে থাকে।

        মুক্তচিন্তার জগতে আমাদের হাজার হাজার ইবুক দরকার; তারমানে এই নয় আমি লেখক/প্রকাশকের অনুমতি ছাড়া
        ফেসবুক/ ব্লগ থেকে লেখা কপি করে যেকোনো সাইটে আপলোড করার অধিকার রাখি!

        ইবুক করার জন্য কাউকে বারবার বিরক্ত করা আমার ধরণ নয়; আমি সবিনয়ে অনুমতির অপেক্ষায় থাকি;
        আর এ কারনেই আমার হাতে এখন ৩৫ টি ইবুক করার অনুমতি আছে; অপেক্ষায় থাকুন!

        আপনি ইবুক করতে চান, তার জন্য স্বাগতম; তবে লেখক/প্রকাশকের বিরক্তির কারণ হয়ে দাড়াবেন না।
        কাজ করুন; নিজেকে অযথা প্রকাশের বিরক্তিকর চেষ্টা করবেন না।
        সূর্য উঠলে সবাই এমনিতেই আলো পাবে, ডেকে ডেকে দেখানোর প্রয়োজন নেই।
        ধন্যবাদ

        1. মন্তব্যের লেখাগুলোর
          মন্তব্যের লেখাগুলোর প্রাসঙ্গিকতা অপরিষ্কার কারন আমার আপলোডকৃত ভার্সনটি ছিলো মুক্তমনা ব্লগে আকাশ মালিকের প্রকাশিত ভার্সনটিই, যেটি তিনি সেখান থেকে যেকোনো জায়গায় কৃতজ্ঞতা স্বীকার সহকারে অনুলিপি বিতরন (mirroring) এর অনুমতি রেখেছিলেন। আপনি কারিগর সাইটে যে ভার্সনটি আপলোড করেছেন, ওটাতে “নরসুন্দর মানুষ” নির্মিত লেবেল দেওয়া, যেটা বইটির মেধাসত্ব (copyright) অনুযায়ী অসত্য। একই কথা অন্যান্য ইবুকগুলোর ক্ষেত্রেও সত্য। আর দূরের পাখি আমার অনুরোধে বিরক্ত হচ্ছে নাকি হচ্ছেনা, আইন অনুযায়ী সে কথাটি কেবল সে বলার অধিকার রাখে। অন্যের হয়ে বলা (proxying) এর বিরুদ্ধে আইন আছে।

          1. এ বিষয়ে নতুন কিছু বলতে চাচ্ছি
            এ বিষয়ে নতুন কিছু বলতে চাচ্ছি না অার!
            সচেতন পাঠক সব বুঝে নেবার অধিকার রাখেন।
            কেবল একটি কথা অাবার বলি;
            অামি কখনই কোনো ইবুক নিজে অাপলোড করি না,
            অামি কেবল লেখক/প্রকাশকের অনুরোধে অথবা অনুমতি নিয়ে
            নতুন করে কাজটি করে দেই;
            লেখক/প্রকাশক তার ইচ্ছামত যেখানে খুশী তা অাপলোড করতে পারেন।

            অাপনি অামার অাগের মন্তব্য পড়েছেন, কিন্তু বোঝেননি হয়ত।

            বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত; এ বিষয়ে অামরা অার তিক্ততা না বাড়াই!

            অাপনি অাপনার কাজ করুন, অামি অামারটা করি।

            ধন্যবাদ।

    1. বইটির অনুবাদক যদি অনুবাদ
      বইটির অনুবাদক যদি অনুবাদ সমাপ্তকরনের দিকে মনোযোগ দেয় সবার আগে, তাহলে পিডিএফ পাওয়া দ্রুত সহজ হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 1 =