প্রধানমন্ত্রীর প্রেস ব্রিফিং সম্পর্কে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

গতকাল ৩/৫/২০১৩ শুক্রবার ৬টার দিকে শুরু হয় বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন। পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে সাভারের দুর্ঘটনা আর ১৩ দফা দাবিতে হেফাজতের অবরোধ কর্মসূচি নিয়ে কথা বলেন তিনি। আমরা আপাত দৃষ্টিতে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও নবম জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের বক্তৃতাকে চারটি ভাগে ভাগ করতে পারি।

১. হতাশা এবং দেউলিয়াত্ব।

২. অপব্যখ্যা ও অসত্যপ্রবণতা।

৩. নমনীয়তা ও আপোষপ্রবণতা।

৪. রাজনৈতিক দূরদর্শিতা।

১. হতাশা ও দেউলিয়াত্ব :

আমরা মনে করতে পারি, ৬মার্চ ২০১৩ হেফাজতে ইসলামের লংমার্চ এবং ১৩ দফা নিয়ে শেখ হাসিনা বিবিসিকে সাক্ষাৎকারে হেফাজতের ১৩ দফাকে পাত্তা দিতে চাননি। উল্টো তিনি অযৌক্তিকতা তুলে ধরার অপপ্রয়াস চালিয়ে ছিলেন। গতকাল সিএনএনের সাথে সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় একজন নিরিহ নারীকে প্রধানমন্ত্রীর বেশে দেখেছিলাম। সিএনএনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক প্রধান প্রতিবেদক ক্রিস্টিয়ান আমানপোর সাথে সাক্ষাৎকারের সময় প্রধানমন্ত্রী ধরাশায়ী হচ্ছিলেন বারবার। গতকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীকে একটু নমনীয় দেখা যাচ্ছে। কেন ? উত্তরটা আমাদের জানা নেই। আজ বিটিভিতে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অসহায়ত্ব আমাকে ছুঁয়ে গেছে। আমি বারবার ভাবছিলাম কেন নিজের স্বভাবজাত রক্তারক্তি আর রূঢ় আচরণ থেকে তিনি নমনীয় আচরণে ফিরে আসছেন ? উত্তর পাচ্ছিলাম না। তবে ধারণা করছি সবকিছুর পর তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং রাজনীতিবিদ ফলে হয়তো নিজের অবস্থান উনার কাছে পরিস্কার হয়ে উঠছে দিনে দিনে তাই তিনি স্বভাবজাত ব্যাপারটাকে তিনি আড়াল করছেন। যাই হোক হতাশাগ্রস্থ এবং দেউলিয়া শেখ হাসিনাকে দেখে অনেক কিছুই শেখার আছে। আজ তিনি উগ্রতা- উগ্র শব্দবলী উচ্চারণ করেন নি। তিনি অনুরোধের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন। পাশে ছিলেন, সৈয়দ আশরাফ এবং সাজেদা চৌধুরী।

২. অপব্যখ্যা ও অসত্যপ্রবণতা :

হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা নিয়ে যখন তিনি আলোচনা শুর করেন তখন তাকে দুটি অবস্থায় আমরা দেখতে পেয়েছি। ক. হেফাজতের কাছে অনুরোধ যাতে তারা ৫ তারিখের অবরোধ স্থগিত করে। খ. হেফাজতের ১৩ দফার অসারতা প্রমাণ করতে অপচেষ্টা।

ক. একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হেফাজতের কাছে তিনি অনুরোধ করতে পারেন অবরোধ স্থগিত করবার জন্যে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর এমন সৌহাদ্যপূর্ণ আচরণের জন্য সত্যিকারর্থে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি। এখন হেফাজত কী করবে সেটা তাদের ব্যাপার। হেফাজত কিন্তু এই অনুরোধ প্রত্যখ্যান করেছে। এক্ষেত্রে আমরা কাউকে দোষী কিংবা আলোচনার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।

খ. প্রধানমন্ত্রী হেফাজতের ১৩ দফা নিয়ে বিস্তারিত বলেছেন। আমরা ধারাবাহিকভাবে আলোচনার প্রয়াশ চালিয়ে যাব। যদিও হেফাজতে ইসলাম বিভ্রান্তি নিরসনে আগেই ১৩ দফার ব্যাখ্যা প্রকাশ করেছে। আমার ধারণা প্রধানমন্ত্রী ব্যাখ্যা সম্পর্কে অবগত। তারপরও তিনি এসব আলোচনা করে নিজের হিনমন্যতা এবং হতাশা প্রকাশ করতে কুণ্ঠাবোধ করেন নি। এমনকি তিনি চাতুর্যের আশ্রয় নিয়ে ১৩ দফাকে ভিন্ন ব্যাখ্যায় নিতে গিয়ে বেকায়দায় পড়ে গিয়েছিলেন। বারবার তিনি আড়ষ্ট হচ্ছিলেন। এমনকি “আল্লাহর ওপর আস্থা” সংক্রান্ত বিষয়টিকে তিনি “বিসমিল্লাহ” বলে পার পেতে চাইছেন। রাসূল সা. এর কুৎসা রটনার ব্যাপারে তিনি আইন বিদ্যমানের কথা বললেও মৃত্যুদন্ডের আইন পাশ করতে রাজী হননি। পাশাপাশি নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তির ব্যাপারে তিনি কথিত চারজন ব্লগার গ্রেফতার করার কথা বলেছেন। আমরা সবাই জানি এই চারজন ব্লগার যতটা ইসলাম বিদ্বেষ তারচে’ বেশি সরকারের সমালোচনার জন্য কারাগারে আছেন। পাশাপাশি তিনি নারীনীতি নিয়ে কথা বলেছেন যে এতে নতুন সংযোজন হয়েছে “কুরআন সুন্নাহ বিরোধী কিছু করা হবে না”। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো নারীনীতিতে ১৭টি জায়গায় সরাসরি কুরআনের বিরোধীতা আছে।

ফলে প্রধানমন্ত্রী নিজেকে আবারো কী প্রমাণ করলেন? একটা প্রশ্ন উত্থাপন করলে ভুল হবে না। পুরো বক্তব্যটা খবরের কাগজে আসলে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব।

৩. নমনীয়তা ও আপোষপ্রবণতা :

সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যে শেখ হাসিনাকে বারবার আপোস এর ইঙ্গিত দিতে দেখা গেছে। বেশ নমনীয়তার সাথে এবং নিজের অসহায়ত্বকে আড়াল করে মানুষের প্রতি দরদী রাজনীতির কারণ দেখিয়ে তিনি বিরোধী দলের প্রতি সংলাপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। আমরা শেখ হাসিনার এই আচরণে মুগ্ধ না হয়ে পারি না। তবে ঠিক জায়গা মত যে ধরণের বিভ্রান্তি ছড়ানো যায় কিংবা নিজের অবস্থানে মজবুত থাকা যায় সে চেষ্টা তিনি করেছেন।

৪. রাজনীতৈক দূরদর্শিতা :

পুরো সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে চিরায়ত অভ্যাস ত্যাগ করে নমনীয় থেকে তিনি তার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিতে ভুলেন নি। তিনি সংবাদ কর্মীদের সাথে প্রশ্নোত্তর পর্বে আচ্ছামত সবাইকে ধুইতেও ভুল করেন নি। বিরোধীদল এবং হেফাজতকে তিনি সমালোচনার তীরে বিদ্ধ করেছেন। যদিও জাতি ব্যাপারটা বুঝতে পেরে মুচকি হেসেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি পেরেছেন। আপনার রাজনীতি আমরা এখনো বুঝে উঠতে পারি নি। আমরা আসলেই খুব অভাগা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১০ thoughts on “প্রধানমন্ত্রীর প্রেস ব্রিফিং সম্পর্কে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

  1. ইচ্ছা ছিলো ত্যানামু, কিন্তু
    ইচ্ছা ছিলো ত্যানামু, কিন্তু বালছালদের সাথে আজকাল ত্যানানি ছাইড়া দিছি। সে যাই হোক, কথা হইলো হাসিনা যাই করুক না কেন সবই খ্রাফ অনলি গুলাপি আফা যা করে তাই সহীহ।
    ফিনফিনে শাড়ী পড়ে মোল্লাদের সাথে বৈঠকে বসলেও সমস্যা হয় না কিন্তু হাসিনা জামদানী পইড়া গেলেও সমস্যা।

  2. যুক্তিবাদী নাম লইসেন। কিন্তু
    যুক্তিবাদী নাম লইসেন। কিন্তু দেখি না তো প্রতিমন্তব্য করতে। ইচ্ছা হইল পোস্ট দিলেন আর পাঠকদের কোন প্রশ্নের জবাব দিলেন না! কি পাইসেন মিয়া?
    ভন্ড কোথাকার!!

  3. আপনি এটাকে ৪ ভাগে ভাগ করেছেন
    আপনি এটাকে ৪ ভাগে ভাগ করেছেন , আমি ১ টা ভাগ ই করলাম , রাজনৈতিক দূরদর্শিতা । :কেউরেকইসনা:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 3 = 7