আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ, মূল – আলি সিনা , ভাষান্তর-দুরের পাখি ; পর্ব-১০

বছরের পর বছর ধরে মক্কার লোকজনকে বিরক্ত করে, তাদের ধর্ম নিয়ে উপহাস করার পরে মক্কার লোকজন মোহাম্মদ এবং তার লোকজনকে একঘরে করে দেয় । মোহাম্মদের সাথীরা তখন তার নির্দেশে আবিসিনিয়ায় হিজরত করে । শেষতক, মক্কার লোকজনকে সন্তুষ্ট করতে মোহাম্মদ কিছুটা ছাড় দেয়ার চিন্তা করে । ইবনে সাদের বর্ণনায়,

“ একদিন নবী কাবার পাশে লোকজনকে সুরা আন-নাজম (সুরা -৫৩ ) শোনাচ্ছিলেন । যখন তিনি আয়াত ১৯-২০ এ পৌঁছালেন , ‘ তোমরা কি লাত এবং উজ্জার কথা এবং মানাত তৃতীয় এবং সর্বশেষ জন ?’ শয়তান নবীর মুখ থেকে এই দুটি আয়াত বের করে আনে, ‘তারা সুন্দর , আর তাদের উপাসনাতে কল্যাণ আছে’ (টীকা-২৪) “

মক্কাবাসী এই আয়াতগুলোতে খুশি হয়ে মোহাম্মদের সাথে তাদের শত্রুতা এবং বয়কটে ইতি আনে । আবিসিনিয়াতে হিজরত করা মোহাম্মদের সাথীদের কাছে এ খবর পৌঁছার পর তার আনন্দের সাথে মক্কায় ফিরে আসে ।

কিছুসময় পরে মোহাম্মদ বুঝতে পারে, আল্লাহর কণ্যাদের স্বীকার করার মাধ্যমে মোহাম্মদ মূলত আল্লাহ এবং মানুষের মাঝখানে মধ্যস্ততাকারী হিসাবে নিজের নিরংকুশ এবং একচ্ছত্র আধিপত্যের ক্ষতি করে ফেলেছে । ফলস্বরুপ তার নতুন ধর্ম আসলে নিজের চরিত্র হারিয়ে পৌত্তলিকদের ধর্মের সাথে একই রকম হয়ে গেছে । সে পিছুটান দেয় এবং বলে যে আল্লাহর কণ্যাদের নিয়ে নাযিল করা আয়াতগুলো আসলে শয়তানি আয়াত । সেগুলো আসল কোরানের আয়াত না । সেই আয়াতগুলোর জায়গায় সে নতুন আয়াত নিয়ে আসে এইরকম যে, “ কি ! তোমাদের জন্য পূত্রসন্তান আর তার(আল্লাহ) জন্য কণ্যা ! এটা অতি অবশ্যই জুলুমপূর্ণ কথা ! “ এর অর্থ দাঁড়ায় এরকম যে কত সাহস তোমাদের তোমরা আল্লাহর জন্য কণ্যাসন্তানের কথা বলো আর নিজেদের বেলায় পুত্রসন্তান নিয়ে গর্ব কর । নারীরা কম বুদ্ধিমত্তার , তাই আল্লাহর পক্ষে কণ্যাসন্তান জন্ম দেয়া মানায় না । এই বিভাজন মানায় না ।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মোহাম্মদের কিছু সাথী তাকে ত্যাগ করে । এই উল্টাপাল্টা আচরণের ব্যাখ্যা দিতে এবং সাথীদের আস্থা অর্জনের জন্য মোহাম্মদ দাবী করে অন্য সব নবীদেরও শয়তানের দ্বারা প্রতারিত হওয়ার নজির আছে ।

“ আমি আপনার পূর্বে যে সমস্ত রাসূল ও নবী প্রেরণ করেছি, তারা যখনই কিছু কল্পনা করেছে, তখনই শয়তান তাদের কল্পনায় কিছু মিশ্রণ করে দিয়েছে। অতঃপর আল্লাহ দূর করে দেন শয়তান যা মিশ্রণ করে। এরপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সু-প্রতিষ্ঠিত করেন এবং আল্লাহ জ্ঞানময়, প্রজ্ঞাময়।

এ কারণে যে, শয়তান যা মিশ্রণ করে, তিনি তা পরীক্ষাস্বরূপ করে দেন, তাদের জন্যে, যাদের অন্তরে রোগ আছে এবং যারা পাষাণহৃদয়। গোনাহগাররা দূরবর্তী বিরোধিতায় লিপ্ত আছে।” (কোরান, সুরা ২২ , আয়াত ৫২-৫৩)

মোহাম্মদ এই আয়াতগুলো নিয়ে আসে এ কারণে যে , তার কিছু সাথী যখন বুঝতে পারে যে মোহাম্মদ মূলত যখন যে অবস্থায় পড়ে তার ভিত্তিতে, তখন তার তার সংগ ত্যাগ করে । সোজা কথায় বলতে গেলে এই আয়াতগুলোর মূল কথা এইযে, যখন তোমরা আমাকে ভুলের জন্য হাতেনাতে ধরে ফেলো, সেটাও আসলে আমার ভুলের জন্য না, বরং তোমার অন্তরের ভিতরেই কলুষতা আছে, সেজন্য ।

তের বছর কেটে যাবার পরেও সাকূল্যে সত্তর থেকে আশি জনের মত মোহাম্মদের দাবীতে বিশ্বাস আনে । তার স্ত্রী, যে শুধু তার জাগতিক প্রয়োজনই মিটায় নি, বরং তাকে ভালোবাসা দিয়েছে, নিজের সম্পর্কে বিশ্বাস দিয়েছে এবং প্রায় পূজা করেছে, সে-ই ছিলো মোহাম্মদের প্রথম মুরিদ । তার সামাজিক অবস্থানের কারণে আরো কিছু গড়পড়তা লোক তার অনুসারী হয় , যেমন আবু বকর, ওসমান এবং ওমর । এই কয়জন ছাড়া মোহাম্মদের বাদ-বাকী অনুসারীরা ছিলো হয় ক্রীতদাস অথবা কিছু অল্পবয়স্ক টাউট ।

নির্যাতনের মিথ

মক্কাতে মোহাম্মদের বাণী কোন পাত্তা পায় নি । বর্তমানের প্রায় অন্যসব অমুসলিমদের মতই মক্কার লোকজন সবার ধর্মবিশ্বাস নিয়ে সহনশীল ছিলো । ধর্মের কারণে নির্যাতন ঐ অঞ্চলে অপরিচিত ছিলো । বহুঈশ্বরবাদী সমাজগুলো সাধারণত ধর্মীয় বিষয়ে সহনশীল হয় । মোহাম্মদ যখন তাদের দেবতাদের অপমান করেছিলো , তারা আহত হয়েছে কিছু মোহাম্মদের তেমন কোন ক্ষতি করে নি ।

পৌত্তলিক দেবদেবীদের নিয়ে মোহাম্মদের অপমান মাত্রাতীত হয়ে পড়লে মক্কাবাসীরা মোহাম্মদ ও তার সহচরদের একঘরে করে দেয় । তারা মোহাম্মদের লোকজনের সাথে বেচা-কেনা বন্ধ করে দেয় । এই বয়কট সম্ভবত দুই বছর ধরে চলেছিলো । মুসলিমদের জন্য এটা কষ্টকর ছিলো ঠিক, কিন্তু একঘরে করে দেয়া আর মেরে ফেলা এক জিনিস না । তাই মূলত এই একঘরে করে দেয়াকে কঠিন অত্যাচার বলা চলে না । মুসলিমরা বাহাইদের সাথে যা করেছে তাকে বলা যায় অত্যাচার । ইরানে গত দুই শতাব্দীতে হাজার হাজার বাহাইদের উপর নির্যাতন চালানো হয়েছে , কসাইয়ের মত তাদের হত্যা করা হয়েছে । অথচ তারা কোনদিন ইসলাম, মোহাম্মদ বা কোরানকে অপমান করেনি ।

মোহাম্মদ তার অনুসারীদের মক্কা ত্যাগের জন্য উদ্বুদ্ধ করে । যেসব মক্কাবাসীর সন্তান অথবা দাসেরা ইসলামে দীক্ষা নিয়েছে, তারা এতে অসন্তুষ্ট হয় । কিছু দাস পালানোর সময় ধরা পড়ে এবং মালিকের হাতে শারিরীক নির্যাতনের শিকার হয় । এখানে উল্লেখযোগ্য এটাকে ধর্মীয় কারণে নির্যাতন বলা যায় না । মক্কার লোকজন দাসদের নিজেদের সম্পত্তি বলে মনে করতো, তাই স্বভাবতই তারা তাদের সম্পত্তি রক্ষার চেষ্টা বলেই মনে করেছিলো এ কাজকে । উদাহরণস্বরুপ , যখন বিল্লাল ধরা পড়ে, তার মালিক তাকে পিটিয়ে শিকলে বেঁধে রাখে । আবুবকর বিল্লালকে কিনে মুক্ত করে । বিল্লালকে ধরা হয়েছিলো পালানোর চেষ্টা করার কারণে, যেহেতু সে তার মালিকের সম্পত্তি, তার ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্য না ।

আগের পর্বগুলোঃ পর্ব-২ , পর্ব-৩ , পর্ব-৪ , পর্ব-৫ , পর্ব-৬ , পর্ব-৭ , পর্ব-৮ , পর্ব-৯

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ, মূল – আলি সিনা , ভাষান্তর-দুরের পাখি ; পর্ব-১০

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

73 − 63 =