ঢাকাতেই পাতালপথ

জীবনের চাহিদা মেটাতে রাজধানীতে হু হু করে বাড়ছে মানুষের চাপ। রাস্তায় বের হলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে যানজটে। ঢাকা সিটিতে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ লোক স্থায়ীভাবে বসবাস করলেও প্রতিদিন আরো ৫০ লাখ মানুষ আসেন। এতে যানজটে ভয়াবহ আকার ধারণ করায় বছরে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা। তা থেকে রক্ষা পেতে মেট্রো রেলের পর এবার সিটি কর্পোরেশন এলাকাতে সাবওয়ে (আন্ডাগ্রাউন্ড মেট্রো) বা মাটির নিচে পাতাল পথ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এরই অংশ বিশেষ চারটি রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। তাতে বিদ্যমান ফুটপাতে চলাচলকারী যাত্রীর সংখ্যা ছয় গুণ বেড়ে প্রতি ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। ঢাকার সড়কের ঘনত্ব ৯ দশমিক ০১ শতাংশ। অথচ আদর্শমান হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। আর ফাঁকা জায়গা রয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ০৯ শতাংশ। যেখানে থাকার প্রয়োজন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। তাই সড়কের চাপ কমাতে মেট্রোরেলের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার ঢাকা মহানগরীতে সাবওয়ে বা মাটির নিচে রাস্তা স্থাপনের নির্দেশের পর নড়েচড়ে বসেছে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়। সাবওয়ে নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে চারটি রুট চিহ্নিত করা হয়েছে। তা হচ্ছে টঙ্গী-বিমানবন্দর-কাকলি-মহাখালী-মগবাজার-পল্টন-শাপলা চত্বর-সায়েদাবাদ-নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড রুট। রুটটির দৈর্ঘ্য হবে ৩২ কিলোমিটার। আমিন বাজার-গাবতলী-আসাদগেট-নিউমার্কেট-টিএসসি-ইত্তেফাক ও সায়েদাবাদ রুটের দৈর্ঘ্য ১৬ কিলোমিটার। তৃতীয় রুটের আওতায় থাকবে গাবতলী-মিরপুর-১-মিরপুর-১০-কাকলি-গুলশান-২-নতুনবাজার-রামপুরা টিভি ভবন-খিলক্ষেত-শাপলা চত্বর-জগন্নাথ হল ও কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত। চতুর্থটি হচ্ছে রামপুরা টিভি ভবন-নিকেতন-তেজগাঁও-সোনারগাঁও-পান্থপথ-ধানমণ্ডি ২৭-রায়েরবাজার-জিগাতলা-আজিমপুর-লালবাগ ও সদরঘাট পর্যন্ত। এসব রুটে ১০০ বাস প্রতি ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। যেখানে বিদ্যমান রাস্তায় ১০০ বাস ১ ঘণ্টায় মাত্র ১০ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারে। মাটির নিচে সাবওয়ে নির্মাণ হলে জনসংখ্যার একটি বড় অংশ মাটির নিচ দিয়ে চলাচল করতে পারবে। ফলে ভূমির ওপর জনসংখ্যার চাপ কমবে। এতে যানজটও কমে যাবে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

72 − = 67