ধর্মের ভিত্তিতে দেশ স্বাধীন হয় নি

মন্দির ভেঙে আল্লাহ্‌র কী লাভ হয়? মসজিদ ভেঙে ভগবানের কী লাভ হয়? মসজিদ ও মন্দির ভেঙে মানুষ কি উপকৃত হয়? ধর্ম পরিচয়কে প্রাধান্য দিতে গিয়ে মানুষ শুধু হিংসাত্মক, ধ্বংসাত্ম্‌ক ও সাম্প্রদায়িক হিসেবে পরিচিত লাভ করে। পৃথিবীতে শুধু রক্তই ঝড়তে থাকে। এতে আল্লাহ্‌ ভগবান ঈশ্বরের যেমন কোন লাভ হয় না, তেমনই মানুষেরও কোন লাভ হয় না বরং মানুষের ক্ষতি।

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি চলে ধর্মকে কেন্দ্র করে। ক্ষতিগ্রস্থ হয় শুধু সাধারণ মানুষ। এবং সাধারণ মানুষের সাধারণ চিন্তাধারাকে হিংসাত্মক করে তোলে সুবিধাবাদী ধর্মান্ধগোষ্ঠী।

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলমান এত পার্থক্য কীসের? সবাই তো মানুষ। সব মানুষের রক্তই লাল। লালের মধ্যেই কেনো এত পার্থক্য, এত ভেদাভেদ? পৃথিবী জুড়ে মুসলমানেরা কেনো এত আক্রমণাত্মক? হিন্দুরাই বা কেনো ভারতে এত আক্রমণাত্মক? ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করা, বাড়িঘর লুট করা, জমি দখল করা, ধর্মান্তরিত করা, মসজিদ ও মন্দির ভাঙা ক্ষমতাশালী, অসৎ ধর্মান্ধের স্বার্থসিদ্ধির চক্রান্ত। মানুষ কি তা বোঝে না?

আল্লাহ্‌ ভগবান ঈশ্বর এই অদৃশ্য কাল্পনিক শক্তির সন্মানহানি কীসের মাধ্যমে ঘটে? হাজার বছর ধরে-যে মানুষ অদৃশ্য শক্তির প্রার্থনা করে আসছে তা কি তাহলে এতই ক্ষুদ্র? আল্লাহ্‌ ভগবানের ক্ষেত্রে কেউ যদি অশ্রাব্য শব্দ ব্যবহার করে থাকে তাহলে কি আল্লাহ্‌ ভগবানের মর্যাদা কমে যায়? আল্লাহ্‌ ভগবান কি এতই নগণ্য? নাকি আল্লাহ্‌ ও ভগবানের নাম ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে শত শত মন্দির ও মসজিদ ভাঙলে আল্লাহ ভগবান প্রশংসিত হয়?

১৯৭১ সালে লক্ষ লক্ষ রক্তের বিনিময়ে যে স্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ বাঙলা আমরা পেয়েছিলাম; সে রক্ত বিসর্জনের সম্মান আমরা দিতে পারি নি। আমাদের রক্ত আজ দূষিত, সাম্প্রদায়িকতায় মস্তিস্ক বিষাক্ত। এই বাঙলাদেশ ধর্ম দিয়ে মানুষকে বিবেচনার জন্য জন্ম নেয় নি, সকল মানুষকে একত্রিত করে ভালোবাসা, সম্মান, শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে আগলে রাখার জন্য জন্ম নিয়েছিল।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 38 = 41