পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের পটভূমিঃ ধর্মীয় অনুভূতি ও উস্কানি প্রচারণা

ছবিঃ প্রতীকী ছবি

পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সংঘাত চিরাচরিত পাহাড়ে স্থিতিশীল পরিস্থিতি উতপ্ত করার একটি প্রক্রিয়া। কিছুদিন পর পর পাহাড়ে কান্নার রোল উঠে এই সাম্প্রদায়িক সংঘাতের কারনেই। আর সংঘাতের নেপথ্যে থাকে সাগর হোসাইনদের মত উস্কানিদাতারা। আর এখন প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে এই প্রযুক্তির অপব্যবহারে অনলাইনে সেসব উস্কানি ছড়ানোও খুব সহজ পন্থা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পাহাড়ে দীর্ঘদিনের পাহাড়ি বাঙালির যে ভূমি বিরোধ সমস্যা ছিল তা নিরসনে কার্যকরি পদক্ষেপ হিসেবে পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন সংশোধনের মাধ্যমে এর কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ভূমি কমিশনের গণআবেদনের নোটিশের প্রেক্ষিতে জমা পরা আবেদন পত্রের গণনা, যাচাই বাছাই করে ভুক্তভোগীদের মালিকানা ফেরত ও পুনর্বহালের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর ঠিক সে মুহূর্তেই ইন্দোনেশিয়ার একটি সাইট হতে ছবি সংগ্রহ করে ছাত্রদলের নেতা মো: সাগর হোসাইন নামক জৈনেক ব্যাক্তি পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সেক্রেটারি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের উস্কানি তুলে ফেইসবুকে ছবি পোষ্ট করে পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সংঘাত তৈরির অপচেষ্টা চালিয়েছে। কারন মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করে উগ্র করে তোলার খুব সহজ মাধ্যম হচ্ছে ধর্ম।

মো: সাগর হোসাইন একটা ক্যারেক্টার মাত্র। এরকম শত শত ক্যারেক্টার ছাত্রদল, ছাত্রলীগ, বাঙালি গণপরিষদ, বাঙালি ছাত্র পরিষদের, সমঅধিকার আন্দোলন পরিষদের ব্যানারের অন্তরালে আছে। যাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একটি সাম্প্রদায়িক উস্কানির মাধ্যমে বাঘাইছড়ি, বগাছড়ির মত রাতের অন্ধকারে পাহাড়ি গ্রামে আগুন দিয়ে পাহাড়িদের বিতারিত করে সমতলের বাঙালিদের(সেটেলার) পুনর্বাসিত করা। গত কয়েক দশকে পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানি, দাঙ্গার নেপথ্যে থাকে এই পূনর্বাসন প্রক্রিয়া। যখনি পাহাড়ে সমতলের বাস্তুহারা বাঙালিদের পূনর্বাসনের প্রয়োজন পরে বাস একটা সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে পাহাড়ি বাঙালি দাঙ্গা লাগিয়ে একটা গ্রাম পুড়িয়ে দাও, নিরাপত্তার নামে জীপের সারি নিয়ে সেনাবাহিনী উপস্থিত হয়ে ১৪৪ ধারা জারি করে সে এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করে রাতের মধ্যেই চারটা খুঁটির উপর টিনের চালা লাগিয়ে কয়েকটা গরীব বাঙালি দাঁড় করিয়ে তাদের দিয়ে মাতম তোল, দিনকয়েক পরে পরিস্থিতি শান্ত হলেই বাস হয়ে গেল সেটা ইসলামপুর নামের নতুন পাড়ার উৎপত্তি। তাই প্রশাসন আজকে ঐ মো: হোসেনকে আইনের আওতায় আনতে পারলে কি হবে বাকি ক্যারেক্টারগুলো এখনো ধরাছোওয়ার বাইরে।

ছবিঃ ফেইসবুকে উস্কানি প্রচারণা

ইন্দোনেশিয়ার একটি সাইট হতে ছবি সংগ্রহ করে মো: সাগর হোসাইন উস্কানিমূলকভাবে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সেক্রেটারির ছবি বলে প্রচারের যে অপচেষ্টা তা হয়তো অনলাইন এক্টিভিস্ট, সাংবাদিক, সচেতন মহলের হস্তক্ষেপে প্রতিরোধ করা গেছে। কিন্তু নাজমুল হোসাইন হৃদয় এর মত এমন অনেক ক্যারেক্টারও আছে যারা পার্বত্য চট্টগ্রাম কে বাংলাদেশের ভূখন্ড হতে বিভক্ত করে জুম্মল্যান্ড ভূখন্ড প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা করছে বলে প্রতিনিয়ত অনলাইনে মাতম তোলে থাকে। আর অতি অনুভূতিশীল সমতলের বাঙালি সমাজও তাই ভেবে রক্তচাপ বাড়িয়ে হা হুতাশ করতে থাকে। কিন্তু আদোতে আমরা পার্বত্যবাসী কি চায় তা জানার চেষ্টাও করেনা। আমরা পার্বত্যবাসী কখনো আলাদা ভূখন্ডের দাবি করিনা, আমরা দাবি করি একটি স্বাধীন গণতান্ত্রীক দেশের একটি ভূখন্ড হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামেও সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা হোক। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে পার্বত্যবাসী পাহাড়ি জনগোষ্ঠীও অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের নিশ্চয়তা চাই। একটি স্বাধীন ভূখন্ডে সমতলের ন্যায় পাহাড়েও সেনাশাসন হতে মুক্তি চাই। একদেশ, এক রাষ্ট্র, এক গণতন্ত্রে সমতল ও পার্বত্য এলাকার শাসন কায়েমে যে দ্বিচারিতা তার অবশান চাই। আর এসব চাওয়া যদি আমাদের অগণতান্ত্রিক দাবি হয় তবে সেটা হবে বিংশ শতাব্দীর বর্ণ বৈষম্যের বহি:প্রকাশ।

পার্বত্য ভূমি কমিশন আইন সংশোধনের পর হতে পাহাড়ে যখন একটি গোষ্ঠী এর বিরোধিতা করে যাচ্ছে প্রসাশনের বুঝা উচিত পাহাড়ে এতদিনের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন পণ্ড করতে এই বিরোধি চক্র পাহাড়ে সাম্প্রদায়িকতার মত স্পর্শকাতর ঘটনার জন্ম দিবে। আর এর ভুক্তভোগী হবে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীই। তাই নিরাপত্তার তাগিতে আগেই কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। যাতে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কোন পাহাড়ি গ্রাম যেন আগুনের লেলিহান শিখায় পরিণত না হয়।

ছবিঃ নিচের ছবিটি ব্যবহার করে ফেইসবুকে মো: সাগর হোসাইন উস্কানি ছড়িয়েছিল

বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুণ

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

82 − 76 =