আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ, মূল – আলি সিনা , ভাষান্তর-দুরের পাখি ; পর্ব-১১

ইসলাম গ্রহণের অপরাধে নিজ পরিবারের সদস্যদের দ্বারা নির্যাতিত হওয়ার কাহিনীও আছে । একটা হাদিসে পাওয়া যায়, ইসলাম গ্রহণের আগে ওমর তার বোনকে বেঁধে রেখেছিলো, তাকে ইসলামে ত্যাগে বাধ্য করার জন্য । ওমর কঠোর এবং নৃশংস মানুষ ছিলো, ইসলাম গ্রহণের আগে এবং পরেও । এই গল্পগুলাকে ঠিক পুরোপুরি ধর্মের কারণে নির্যাতনের ঘটনা বলা চলে না । মধ্যপ্রাচ্য ব্যাক্তিস্বাতন্ত্র একটি অকল্পনীয় চিন্তা । তুমি কি বিশ্বাস করবা কি করবা সেটা অন্য সকলের মাথা ব্যাথার কারণ । বিশেষভাবে নারীরা তাদের ইচ্ছামত স্বিদ্ধান্ত নিতে পারতো না কোন কিছুতেই । এমনকি আজকের দুনিয়াতেও , পরিবারের অমতে নিজের পছন্দের পুরুষকে বিয়ে করার ‘অপরাধে’ অনেক মুসলিম নারী সম্মানরক্ষা-হত্যার (honor-killing) শিকার হন ।

সুমাইয়া নামে এক নারীর একটি ঘটনা পাওয়া ধর্মীয় নির্যাতনের । আবু সা’দই একমাত্র ঐতিহাসিক যিনি বলেন সুমাইয়া আবু জাহেলের হাতে নিহত হন । ইবনে সাদের বর্ণনার ভিত্তিতে আল-বায়হাকি বলেন , “আবু জাহেল তাকে যৌনাঙ্গে ছুরি দিয়ে আঘাত করে “ (টীকা ২৭) । এই নির্যাতনের ঘটনা যদি সত্য সত্যই ঘটতো তাহলে সব ইসলামিক ঐতিহাসিকেরই এটাকে গুরুত্ব সহকারে বর্ণনা করার কথা । শুরু থেকেই মুসলিমরা সবকিছুতে অতিরঞ্জনের যে ধারাবাহিকতা তৈরী করেছে এই ঘটনাকি তার একটা ছোট উদাহরণ ।

আদতে এই একই ঐতিহাসিক অন্য জায়গায় বলেছেন বিল্লাল হচ্ছে ইসলামের প্রথম শহীদ । বিল্লাল এইসব কথিত ধর্মীয় নির্যাতনের পরেও অনেক বছর বেঁচে ছিলো বলে জানা যায় । এমনকি মোহাম্মদের মক্কা বিজয়ের পরে মক্কায় ফিরে মক্কার মসজিদে সে আজান দিতো । তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয় বলে জানা যায় ।

কিছু ইসলামিক সোর্সে পাওয়া যায় সুমাইয়া, তার স্বামী ইয়াসির এবং তাদের সন্তান আম্মার মক্কায় নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন । কিন্তু Muir নামক ঐতিহাসিক দেখিয়েছেন যে সুমাইয়ার স্বামী ইয়াসিরের স্বাভাবিক মৃত্যুর পরে তিনি গ্রিক দাস আযরাককে বিয়ে করেন এবং তাদের সালমা নামের এক সন্তানও ছিলো । সেক্ষেত্রে ধর্মীয় নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করার কারণ নেই । আযরাক ছিলো তায়েফের লোক । মোহাম্মদের তায়েফ আক্রমণের সময় (পনের বছর পর) যেসব দাস পালিয়ে মোহাম্মদের শিবিরে চলে এসেছিলো সে তাদের মধ্যে ছিলো । সুমাইয়া তার স্বামী ইয়াসিরের মৃত্যুর পর আযরাককে বিয়ে করে তায়েফে বাস করছিলেন এটা ধরে নেয়াই স্বাভাবিক । এবং এর থেকে বুঝা যায়, তার নির্যাতন এবং মৃত্যুর ইতিহাস সম্ভবত মিথ্যা ।

মুহাম্মদ দাস প্রথার বিরোধী ছিলো না । পরবর্তী জীবনে সে যখন ক্ষমতায় আসে তখন সে হাজার হাজার মানুষকে দাসত্বে বাধ্য করে । কিন্তু তার অনুসারী দাসদের মক্কা ত্যাগের নির্দেশে মক্কায় সামাজিক বিশৃংখলার তৈরী হয় । এই কারণে এবং মক্কার লোকজনের ধর্মকে নিরবচ্চিন্ন আক্রমণের কারণে তার নিজ গোত্রের লোকদের কাছেই সে অবাঞ্চিত ছিলো । কিন্তু কখনো তাকে অথবা তার অনুসারীদের ধর্মের কারণে নির্যাতন করা হয়নি । মুসলিমরা এরকম অনেক ভিত্তিহীন দাবী করে । পৌত্তলিক বহুঈশ্বরবাদীরা অন্যের ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথা ঘামায় না । তার স্বভাবগতভাবেই ভিন্নধর্মের সাথে সহাবস্থান করে । কাবাতে ৩৬০ টা মূর্তি ছিলো । প্রত্যেকটা একেকটা গোত্রের নিজস্ব দেবতা । সেখানে ৩৬১ টা হওয়া নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যাথা হওয়ার কথা না । আরবে ইহুদি, খ্রিস্টান, সাবেই (একটি বিলুপ্ত একেশ্বরবাদী ধর্ম ) এবং আরো হরেক রকমের ধর্মের লোকজন স্বাধীনভাবে নিজেদের ধর্মকর্ম করতো । অন্য নবীরা ছিলো যারা নিজেদের ধর্ম প্রচার করতো । আরবে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার সূত্রপাত হয় ইসলামের মাধ্যমে ।

মোহাম্মদ এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় নির্যাতনের স্বপক্ষে তেমন কোন শক্ত প্রমাণ নেই । তারপরও মুসলিমরা এইসব দাবী করে কারণ মোহাম্মদ এই দাবী করে গিয়েছে । আশ্চর্যজনকভাবে, কিছু অমুসলিম ঐতিহাসিক যাদের ইসলাম নিয়ে কোন আলাদা ভালোবাসা নেই তারাও এই প্যাঁচে পড়ে এই অসত্য দাবীর প্রতিধ্বনি করে গেছেন । মোহাম্মদ নিজেকে নির্যাতিত দাবী করেছে, যেখানে আসলে সে নিজেই ছিলো নির্যাতনকারী । মুসলিমরাও তাই করে । দুনিয়ার সব জায়গাতেই হত্যা, নির্যাতন এবং অবিচার করে চলছে মুসলিমরা অথচ তারাই নির্যাতিত হচ্ছে বলে সবচে বেশি গলা বাড়িয়ে চিৎকার করে । এই ঘটনা বুঝার জন্য আমাদের মোহাম্মদ এবং তার অনুসারীদের মনস্তত্ত বুঝতে হবে । পরবর্তী অধ্যায়ে আমরা তা করবো ।

আদতে মোহাম্মদই মূলত ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা প্রচার করে, এমনকি যখন মক্কায় ছিলো তখনো । মুসলিমরা প্রায়ই কোরানের সুরা ১০৯ দেখিয়ে দাবী করে যে মোহাম্মদ ধর্মীয় সহিষ্ণুতার প্রচার করছিলো । সুরাটি এইরকম

১- বলুন, হে কাফেরকূল,
২- আমি এবাদত করিনা, তোমরা যার এবাদত কর।
৩- এবং তোমরাও এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি
৪- এবং আমি এবাদতকারী নই, যার এবাদত তোমরা কর।
৫- তোমরা এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি।
৬- তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

৫ thoughts on “আন্ডারস্ট্যান্ডিং মুহাম্মদ, মূল – আলি সিনা , ভাষান্তর-দুরের পাখি ; পর্ব-১১

    1. পর্বের ভাগগুলো অনেক আগে করা ।
      পর্বের ভাগগুলো অনেক আগে করা । ফেইসবুকে যেভাবে দিয়েছিলাম সেভাবে । এখন আলাদা করতে গেলে অনেকখানি উলোটপালট হয়ে যায় । আর দুই তিনটা পর্বের পর থেকে , মোটামুটি একই পরিমাণে আসবে । এই সময়ের পর্বগুলো একটু ছোট ছোট । ফেইসবুকে প্রথম যখন শুরু করি তখনকার এগুলো ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 59 = 63