জংগিবাদের উত্থানে রাজনীতি দায়ী

আমরা যারা নিজেদেরকে তথাকথিত প্রগতিশীল এবং উদারপন্থি বলি তারা সবাই জংগিদের দোষ দেই এবং তাদেরকে খুবই ঘৃনা করি। কিন্তু আমাদের মধ্যে অধিকাংশই ভীষন স্বার্থপর। আমাদের মধ্যে অনেকেই রাজনীতি করি এবং সারাক্ষন হালুয়া-রুটির ভাগ-বন্টনের চিন্তায়র ব্যস্ত! কি করে কর্মী থেকে পাতিনেতা, পাতিনেতা থেকে মন্ত্রী বা প্রধান মন্ত্রী হওয়া যায় তাই মুলত আমাদের টার্গেট। তার জন্য যাকে যেভাবে হোক তৈল মর্দন করা, তোষামদ করা ইত্যাদির প্রয়োজন হয় তা করে থাকি নির্লজ্জভাবে!

জংগিরা তো জংগি হয়ে জন্ম নেইনি! তারা হটাৎ করে কেন জংগি হল, এটা কি আমরা ভেবে দেখেছি? শুধু জংগিদের দোষ দিয়ে লাভ নাই। জংগিরা এমন সব জঘন্য অপরাধ সারা বিশ্বব্যাপি করছে যে নিজেকে মুসলমান বলে বিশেষত বিদেশে পরিচয় দিতেই লজ্জাই লাগে। মুসলমান নাম শুনলেই বিমানে ওঠার আগে নিরাপত্তা কর্মীরা বেশি করে দেহ তল্লাশি করে; বিব্রতকর অবস্থা। নিরাপত্তা কর্মীদের দোষ দিয়ে তো লাভ নাই। যাহোক, হালুয়া-রুটি নিয়ে প্রায় সারাক্ষন ব্যস্ত আমাদের রাজনীতিবিদদের কয়জন প্রকৃত ইসলাম বা প্রকৃত ধর্ম নিয়ে গবেষনা করেছে? তাদের কয়জন কোনটি সঠিক ইসলাম আর কোনটি বিকৃত ইসলাম এটা যুক্তি প্রমান সহ প্রচারের কাজে নিয়জিত রয়েছে? জংগিদের জংগিবাদের পিছনে যুক্তি কোথায় এবং ওসব যুক্তি- প্রমানের অসারতা কোথায় তা আপনাকে বিভিন্নভাবে কোরআন- হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা দিতে হবে, প্রচার করতে হবে তাহলে সমাজে জংগিবাদের আগাছা কক্ষনও হালে পানি পাবে না। এর জন্য প্রচুর পড়াশুনা এবং গবেষনার দরকার বছরের পর বছর ধরে যার সময় এবং ধৈর্য ওসব ভন্ড রাজনীতিবিদদের নেই। ওসব ধান্দাবাজ রাজনীতিবিদদের কয়জন এই ধরনের মহত কাজ করছে? এ ধরনের জরুরী কাজে ওনাদের পাওয়া যায় না কারন এই কঠিন কাজের বিনিময়ে হালুয়া-রুটি পাওয়া যায় না। তবে আমরা সৎ, যোগ্য, বিনয়ী, জনদরদী, নিঃস্বার্থ, নিরংহকারী, অসামপ্রদায়িক রাজনীতিবিদদের ভালবাসি এবং শ্রদ্ধা করি। ঐরুপ কিছু ব্যক্তিকে রাজনীতির ময়দানেও তো থাকতে হবে কারন রাজনীতিও একটি গুরুত্বপুর্ন কাজ।

আমাদের অধিকাংশ রাজনীতিবিদ, তা সে আওয়ামীলীগ থেকে হোক বা বিএনপি থেকে বা অন্য কোন দল থেকে, জংগিবাদের উত্থানের জন্য বহুলাংশে দ্বায়ী। জংগিদের ফাঁসি দিতে ওনাদের খুব ভাল লাগে কিন্তু জংগিরা কেন জংগি হল তার প্রকৃত কারন খুজে বের করে তার প্রতিকারের জন্য চেস্টা সাধনা করতে ওনাদের ভাল লাগে না! কারন এই মহত কাজে আপাতত কোন ফায়দা তো নেইই অধিকন্ত এটা বেশ ঝুঁকিপুর্ন কাজ যা ওসব ধুর্ত রাজনীতিবিদরা ভাল করেই জানে। কাজেই আমাদের অধিকাংশ রাজনীতিবিদদের ভন্ডামী এখানে দিবালোকের ন্যায় পরিস্কার! পুলিশ প্রটেকশনে থেকে জংগিবাদের বিরুদ্ধে ফাকা কিছু বুলি তাদের মুখে একদম সোভা পায় না। কিছু মহত ব্যক্তি যাঁরা নিঃস্বার্থভাবে জংগিবাদের বিরুদ্ধে ইনটেলেকচুয়ালী অবদান রাখছেন তাদেরকেও ওসব রাজনীতিবিদরা কোন সহযোগিতা করেন না বরং উলটো তাঁরা অনেক সময় ওসব রাজনীতিবিদদের হয়রানীও শিকার হন। সমাজে যখন অধিকাংশ মানুষ অন্যায়ের প্রতিবাদ করে না তখন অন্যায়ই শেষ পর্যন্ত সমাজে শিকড় গেড়ে বসে যার মারাত্বক পরিনতির শিকার সবাইকে হতে হয়।

আমরা তাই আওয়ামীলীগ ও বিএনপি সহ অন্যান্য দলের রাজনীতিবিদদের আহবান জানাব জংগিবাদের প্রকৃত কারন কি তা কোরআন-হাদিসের আলোকে গবেষনা করুন এবং এবং প্রচারনা চালান। একজন, দুই জন না, লক্ষ লক্ষ রাজনীতিবিদদের এই কাজে সামিল হতে হবে। যদি নিজের নাম প্রকাশ করতে অশুবিধা লাগে বা ভয় লাগে তাহলে ছদ্দনামে হলেও এই মহতি কাজ শুরু করুন। ইন্টারনেটের এই যুগে ঘরে বসেই আপনি এই অতি জরুরি কাজটি করতে পারেন। মনে রাখবেন পুলিশ-র্যাব দিয়ে কক্ষনও জংগিবাদ দমন করা যায় না যদি না আমরা উপোরুল্লেখিত কাজগুলি করি। পাকিস্থান, আফগানিস্থান, ইরাক, সিরিয়া ইত্যাদি দেশে অনেক পুলিশ- আর্মিও ছিল কিন্তু তারা কি ISIS, তালেবান, আল-কায়েদা, বোকো-হারাম ইত্যাদি সন্ত্রাসী সংগঠনের উত্থান ঠেকাতে পেরেছে?! ওসব দেশে জংগিবাদ শিকড় গেড়ে বসেছে কারন ওসব দেশে যথেস্ট সংখ্যাক মানুষ জংগিবাদের বিরুদ্ধে কোরআন-হাদিসের আলোকে বিরামহীনভাবে প্রচার- প্রচারনা চালাইনি ফলে শেষ পর্যন্ত জংগিবাদের আগাছা তাদের সবাইকে গ্রাস করে ফেলেছে! প্রকৃত ফসলের তুলনায় আগাছার বাড় খুবই বেশি; যারা কৃষিকাজের সাথে কিছুটা পরিচিত তারা সবাই এটা জানে! যথেস্ট সংখ্যক যোগ্য ব্যক্তি যদি আমাদের দেশে জংগিবাদের বিরুদ্ধে কোরআন-হাদিসের আলোকে যুক্তি সহকারে প্রচার-প্রচারনা চালাই তাহলে জংগিবাদ আমাদের দেশে কোন দিনই ইনশাল্লাহ পাত্তা পাবে না।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

২ thoughts on “জংগিবাদের উত্থানে রাজনীতি দায়ী

  1. আপনি ঠিকই বলেছেন , ইসলামের
    আপনি ঠিকই বলেছেন , ইসলামের সাথে জঙ্গিবাদের কোনই সম্পর্ক নাই।কোরান ও হাদিসে খালি শান্তির বানী যেমন —————–

    সুরা তাওবা-৯:৫:অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

    সূরা তাওবা -৯:২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিযিয়া প্রদান করে।

    উক্ত দুটি আয়াতের ব্যখ্যা স্বয়ং মুহাম্মদ যা দিয়ে গেছে তা নিম্নরূপ , মানে যে প্রেক্ষাপট সেটা ,=======

    কিতাবুল ঈমান অধ্যায় ::সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩০
    আবু তাহির, হারমালা ইবন ইয়াহইয়া ও আহমাদ ইবন ঈসা (র)……আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই – এ কথার সাক্ষ না দেওয়া পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আমি আদিষ্ট হয়েছি । সূতরাং যে কেউ আল্লাহ ছাড়া ইলাহ নেই স্বীকার করবে, সে আমা হতে তার জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে; তবে শরীআতসম্মত কারণ ব্যতীত । আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে ।

    কিতাবুল ঈমান অধ্যায় ::সহিহ মুসলিম :: খন্ড ১ :: হাদিস ৩১
    আহমাদ ইবন আবদ আয-যাবিব (র)………আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই,-এ কথার সাক্ষ্য না দেওয়া পর্যন্ত এবং আমার প্রতি ও আমি যা নিয়ে এসেছি তার প্রতি ঈমান না আনা পর্যন্ত লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি । এগুলো মেনে নিলে তারা তাদের জানমালের নিরাপত্তা লাভ করবে, তবে শরীআতসম্মত কারণ ছাড়া ।আর তাদের হিনাব-নিকাশ আল্লাহর কাছে ।

    নবী মুহাম্মদ কিভাবে ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করেছেন সেটাও বলা আছে হাদিসে ———–

    জিহাদ অধ্যায় ::সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ২২০
    ইয়াহ্ইয়া ইব্ন বুকাইর (র)……………আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, অল্প শব্দে ব্যাপক অর্থবোধক বাক্য বলার শক্তি সহ আমি প্রেরিত হয়েছি এবং শত্রুর মনে ভীতির সঞ্চারের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে।

    আর জান্নাত প্রকৃত পক্ষে কোথায় , সেটা বলে গেছেন স্বয়ং নবী মুহাম্মদ যেমন –

    সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ৭৩
    আব্দুল্লাহ ইব্ন মুহাম্মদ (র)…………উমর ইব্ন উবায়দুল্লাহ (র)-এরাযাদকৃত গোলাম ও তার কাতিব আবূন নাযর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইব্ন আবূ আওফা (রা) তাঁকে লিখেছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা জেনে রাখ, তরবারীর ছায়ার নীচেই জান্নাত।

    এত শান্তির বানী থাকতে কিছু লোক যে কেন মারামারি কাটাকাটি , সন্ত্রাসী হামলা , আত্মঘাতী হামলা করছে সেটাই বিস্ময়কর। কেন আই এস , তালেবান , আল কায়েদা , বোকোহারাম , জামাত , আল নুসরা ,জে এম বি , এসব সংগঠন তৈরী হচ্ছে আর তারা সর্বত্র সন্ত্রাস বিস্তার করছে , সেটাই বোঝা দুস্কর।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 + 7 =